সহনশীলতা—বাইবেল যেভাবে সাহায্য করতে পারে
“সহনশীলতা হল এমন একটা গুণ, যা শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।”—সহনশীলতার নীতির বিষয়ে ইউনেসকো-র করা ঘোষণা, ১৯৯৫.
আমরা যদি সহনশীলতার মনোভাব না দেখাই, তা হলে আমরা অন্যদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারব না, এমনকী তাদের ঘৃণা করতেও শুরু করব। অনেক বার লোকেরা অন্যদের প্রতি আঘাতদায়ক কথা বলে, পক্ষপাত করে অথবা হিংসা করে।
সহনশীলতা আসলে কী, সেই বিষয়ে লোকদের ভিন্ন ভিন্ন ধারণা রয়েছে। কিছু লোকের ধারণা হল, একজন সহনশীল ব্যক্তি সমস্ত প্রকারের অভ্যাস অথবা আচরণকে সঠিক বলে মনে করে। কিন্তু, যারা বাইবেলের উপর বিশ্বাস করে, তারা মনে করে, একজন সহনশীল ব্যক্তি বোঝেন যে, প্রত্যেকের নিজের পছন্দমতো জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে, যদিও তিনি নিজে তাদের মানের সঙ্গে একমত হন না এবং সেগুলো মেনে চলেন না।
বর্তমানে, বাইবেলের সাহায্যে কি লোকেরা সত্যিই একজন সহনশীল ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে?
বাইবেলে সহনশীলতার বিষয়ে কী লেখা আছে?
বাইবেল উৎসাহিত করে যেন আমরা সহনশীলতা গড়ে তুলি। এটি বলে: “তোমাদের যুক্তিবাদিতা যেন সবার কাছে প্রকাশ পায়।” (ফিলিপীয় ৪:৫) বাইবেল শিক্ষা দেয়, আমরা যেন সব ধরনের লোকের প্রতি সম্মান দেখাই, তাদের প্রতি যুক্তিবাদিতা দেখাই এবং সবাইকে সমান চোখে দেখি। যে-ব্যক্তি এই পরামর্শ মেনে চলেন, তিনি অন্যদের তাদের পছন্দমতো কাজ করতে বাধা দেন না, যদিও তিনি নিজে তাদের মানের সঙ্গে একমত হন না এবং সেগুলো মেনে চলেন না।
বাইবেল থেকে জানা যায়, ঈশ্বর মানুষের জন্য কিছু মান স্থির করেছেন। এটি বলে: “হে মনুষ্য, যাহা ভাল, তাহা [ঈশ্বর] তোমাকে জানাইয়াছেন।” (মীখা ৬:৮) ঈশ্বর চান, আমরা যেন সর্বোত্তম উপায়ে জীবন উপভোগ করি। কীভাবে আমরা তা করতে পারি, তা তিনি বাইবেলে লিখিয়েছেন।—যিশাইয় ৪৮:১৭, ১৮.
অন্যদের বিচার করার অধিকার ঈশ্বর আমাদের দেননি। বাইবেল বলে: “কেবল এক জন আইনদাতা ও বিচারক রয়েছেন, … তুমি কে যে, তোমার প্রতিবেশীর বিচার কর?” (যাকোব ৪:১২) ঈশ্বর আমাদের বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন আর আমরা যেটাই বেছে নিই না কেন, সেটার জন্য আমাদের নিকাশ দিতে হবে।—দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১৯.
বাইবেলে সম্মান দেখানোর বিষয়ে কী লেখা আছে?
বাইবেলে লেখা আছে, “সব লোককে সম্মান কর।” (১ পিতর ২:১৭, কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন) যারা বাইবেলের মান মেনে চলে, তারা সবার প্রতি সম্মান দেখায়, তা তাদের বিশ্বাস অথবা জীবনধারা যা-ই হোক না কেন। (লূক ৬:৩১) কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তারা অন্যদের প্রতিটা মতামতের সঙ্গে একমত হবে অথবা অন্যদের নেওয়া প্রতিটা সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে। তারা অন্যদের সঙ্গে রূঢ়ভাবে আচরণ করে না কিংবা অন্যদের নীচু চোখে দেখে না বরং তারা যিশুর মতো অন্যদের প্রতি আচরণ করে।
উদাহরণ স্বরূপ, একবার যিশু একজন মহিলার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, যিনি এমন এক ধর্ম পালন করতেন, যেটাকে যিশু সমর্থন করতেন না। এ ছাড়া, সেই মহিলা এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকছিলেন, যিনি তার স্বামী নন। আসলে, সেই মহিলা এমন জীবনযাপন করছিলেন, যেটার সঙ্গে যিশু একমত ছিলেন না। তা সত্ত্বেও, যিশু তার প্রতি সম্মানের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।—যোহন ৪:৯, ১৭-২৪.
যিশুর মতো বর্তমানে খ্রিস্টানেরা সেই সমস্ত ব্যক্তির কাছে নিজেদের বিশ্বাস সম্বন্ধে জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকে, যারা শুনতে চায়। তবে, তারা “গভীর সম্মানের সঙ্গে” তা জানিয়ে থাকে। (১ পিতর ৩:১৫) বাইবেল খ্রিস্টানদের এই পরামর্শ দেয়, তারা যেন নিজেদের বিশ্বাস অন্যদের উপর চাপিয়ে না দেয়। এটিতে লেখা আছে, “একজন দাসের পক্ষে বিবাদে জড়িত হওয়া উপযুক্ত নয়, বরং তাকে সকলের প্রতি কোমল … হতে হবে,” তা তাদের চিন্তাভাবনা আমাদের চেয়ে আলাদা হোক না কেন।—২ তীমথিয় ২:২৪.
বাইবেলে ঘৃণার বিষয়ে কী লেখা আছে?
বাইবেলে লেখা আছে, “সকল লোকের সঙ্গে শান্তিতে থাকার চেষ্টা করো।” (ইব্রীয় ১২:১৪) যারা শান্তিতে থাকার চেষ্টা করে, তারা অন্যদের ঘৃণা করে না। তারা নিজেদের মানের সঙ্গে আপোশ না করে অন্যদের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করে। (মথি ৫:৯) বাইবেল খ্রিস্টানদের উৎসাহিত করে, তারা যেন সেই লোকদের প্রতিও ভালোবাসা দেখায়, যারা তাদের শত্রু এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।—মথি ৫:৪৪.
এটা ঠিক যে, বাইবেল জানায়, ঈশ্বর এমন কাজগুলো “ঘৃণা” করেন অথবা “জঘন্য” হিসেবে দেখেন, যেগুলো অন্যদের ক্ষতি করে কিংবা তাদের অযোগ্য বলে মনে করায়। (হিতোপদেশ ৬:১৬-১৯) তবে, এখানে বাইবেলে উল্লেখিত “ঘৃণা” শব্দটা খারাপ কাজগুলোর প্রতি করা ঘৃণাকে বোঝায়। বাইবেল স্পষ্টভাবে জানায়, যারা নিজেদের পরিবর্তন করতে চায় এবং ঈশ্বরের মান অনুযায়ী জীবনযাপন করতে চায়, ঈশ্বর তাদের ক্ষমা করার জন্য এবং সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।—যিশাইয় ৫৫:৭.
সহনশীলতা এবং সম্মান দেখানোর বিষয়ে বাইবেলের কিছু পদ
তীত ৩:২: ‘যুক্তিবাদী হও এবং সমস্ত মানুষের প্রতি মৃদুতা দেখাও।’
একজন যুক্তিবাদী ব্যক্তি অন্যদের মতামত মন দিয়ে শোনেন এবং মৃদুতার সঙ্গে উত্তর দেন। এভাবে, তিনি সবার প্রতি সম্মান দেখান।
মথি ৭:১২: “অতএব, সমস্ত ক্ষেত্রে লোকেরা তোমাদের প্রতি যা করুক বলে তোমরা চাও, তোমরাও তাদের প্রতি তা-ই কোরো।”
অন্যেরা যখন আমাদের প্রতি সম্মান দেখায় এবং মন দিয়ে আমাদের কথা শোনে, তখন আমাদের খুব ভালো লাগে। আপনি যদি জানতে চান যে, আপনি কীভাবে যিশুর বলা এই বিখ্যাত উপদেশ মেনে চলতে পারেন, তা হলে “What Is the Golden Rule?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।
যিহোশূয়ের পুস্তক ২৪:১৫: “আজই বেছে নাও যে, তোমরা কার সেবা করবে।”
আমরা যখন বুঝতে পারি যে, প্রত্যেকের বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে, তখন আমরা শান্তি বজায় রাখতে পারি।
প্রেরিত ১০:৩৪: “ঈশ্বর পক্ষপাতিত্ব করেন না।”
ঈশ্বর লোকদের সংস্কৃতি, লিঙ্গ, দেশ, জাতি অথবা পটভূমি অনুযায়ী তাদের সঙ্গে আচরণ করেন না। যারা ঈশ্বরকে অনুকরণ করতে চায়, তারা সবার প্রতি সম্মান দেখায়।
হবক্কূক ১:১২, ১৩: ‘দুষ্কার্য্যের প্রতি ঈশ্বর দৃষ্টিপাত করিতে পারেন না।’
ঈশ্বরের সহ্যের সীমা রয়েছে। তিনি মন্দ লোকদের মন্দ কাজগুলো সবসময় করতে দেবেন না। এই বিষয়ে আরও জানার জন্য কেন ঈশ্বর দুঃখকষ্ট থাকতে দিয়েছেন? শিরোনামের ভিডিওটা দেখুন।
রোমীয় ১২:১৯: “ঈশ্বরকেই ক্রোধ প্রকাশ করতে দাও; কারণ লেখা আছে: ‘যিহোবাa বলেন, “প্রতিশোধ নেওয়া আমারই কাজ; আমিই প্রতিফল দেব।”’”
যিহোবা ঈশ্বর কাউকে প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার দেননি। তিনি এই বিষয়টা নিশ্চিত করবেন যেন তাঁর নির্ধারিত সময়ে ন্যায়বিচার হয়। এই বিষয়ে আরও জানার জন্য “Will the Cry for Justice Be Heard?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।
a যিহোবা হল ঈশ্বরের ব্যক্তিগত নাম। (গীতসংহিতা ৮৩:১৮) “যিহোবা কে?” শিরোনামের প্রবন্ধটা দেখুন।