ভুল তথ্য থেকে সাবধান থাকুন!
বর্তমানে, তথ্য খুঁজে পাওয়া আগের থেকে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। কিছু তথ্য আমাদের সুরক্ষার জন্য আর সেইসঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। তবে, আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে কারণ ভুল তথ্য চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। যেমন,
মিথ্যা খবর
ভুল তথ্য
উদাহরণ হিসেবে, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ইউনাইটেড নেশন্স-এর মহা সচিব বলেন যে, ভুল তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আর এগুলোর উপর বিশ্বাস করা খুবই বিপদজনক। তিনি এও বলেন, “স্বাস্থ্যের সম্বন্ধে ভুল তথ্য এক সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেজাল ওষুধের ব্যাবসা এবং জাল ডাক্তারদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। টিভি হোক অথবা রেডিও, সব জায়গায় শুধু মিথ্যেই শোনা যাচ্ছে। ইন্টারনেটে মিথ্যে গল্প দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। মিডিয়ার কারণে লোকদের মধ্যে ঘৃণার মনোভাব বেড়েই চলেছে, কিছু সম্প্রদায়ের লোককে বদনাম করা হচ্ছে অথবা তাদের নামের উপর কলঙ্ক আনা হচ্ছে।”
আজ চারপাশে যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে রয়েছে, সেটা কোনো নতুন বিষয় নয়। কিন্তু, বাইবেলে অনেক আগে থেকেই বলা ছিল যে, আমাদের সময়ে “দুষ্ট লোকেরা ও প্রতারকেরা মন্দ থেকে মন্দতর হবে। তারা অন্যদের ভ্রান্ত করবে এবং নিজেরাও ভ্রান্ত হবে।” (২ তীমথিয় ৩:১, ১৩) ইন্টারনেটের এই যুগে মিথ্যা খবর খুব সহজেই এবং নিমেষের মধ্যেই পাওয়া যায় আর ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো আমরা এই খবরগুলো সঠিক বলে মনে করি আর অজান্তেই অন্যদের পাঠিয়ে দিই। ফলাফল? আমাদের ই-মেল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফোনে এমন খবরগুলো ভরে যেতে পারে, যেগুলো অর্ধসত্য অথবা যেগুলো ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভুল তথ্য এবং মিথ্যে গল্প থেকে বাঁচার জন্য আপনি কী করতে পারেন? বাইবেলে কিছু ভালো পরামর্শ আছে, যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
আপনি যা দেখেন এবং শোনেন, সেইসমস্ত কিছু বিশ্বাস করবেন না
বাইবেল যা বলে: “যে বোকা, সে প্রতিটা কথায় বিশ্বাস করে, কিন্তু সতর্ক ব্যক্তি প্রতিটা পদক্ষেপের আগে চিন্তা করে।”—হিতোপদেশ ১৪:১৫.
আমরা যদি সতর্ক না থাকি, তা হলে আমরা ভুল তথ্যের ফাঁদে পড়তে পারি। উদাহরণ স্বরূপ, মীম (memes)। এগুলো হল কিছু সেকেন্ডের ভিডিও অথবা ছবি, যেগুলোর মধ্যে কিছু কথা লেখা থাকে। এগুলো মজা করার জন্য তৈরি করা হয়। এগুলো অনলাইনের মাধ্যমে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফর্ওয়াড করা হয়। তবে, এই ভিডিও ও ছবিগুলো খুব সহজেই বদলে দেওয়া যেতে পারে কিংবা এগুলোর আগে ও পরের তথ্য না দিয়ে পুরো মানেটাই পালটে দেওয়া যেতে পারে। লোকদের এমন ভিডিও তৈরি করা হয়, যেখানে দেখানো হয় যে, তারা কিছু বলছে অথবা কিছু করছে, যা তারা আদৌ করেনি।
“গবেষকেরা দেখেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া বেশিরভাগ ভুল তথ্যের মধ্যে এমন ভিডিও অথবা ছবি রয়েছে, যেগুলোর আগে ও পরের তথ্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেমন মীম।”—Axios Media.
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি যা দেখি কিংবা শুনি, তা কি সত্য খবর না কি শুধুমাত্র একটা মীম?’
তথ্য কোথা থেকে এসেছে আর তাতে কী রয়েছে, তা পরীক্ষা করে দেখুন
বাইবেল যা বলে: “সমস্ত কিছু পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নাও।”—১ থিষলনীকীয় ৫:২১.
কোনো কিছুর উপর বিশ্বাস করার আগে অথবা সেটা অন্যদের পাঠানোর আগে এই বিষয়টা নিশ্চিত করুন যে, সেটা সত্য কি না। সেইসময়ও এটা করুন, যখন কোনো খবর আপনার কাছে খুবই পরিচিত কিংবা সেটা বার বার নিউজ চ্যানেলে দেখানো হয়। কীভাবে আপনি তা করতে পারেন?
সেই তথ্যটা কোথা থেকে এসেছে অথবা সেটা কে আপনাকে পাঠিয়েছে, তা পরীক্ষা করুন। আপনি কি তার উপর নির্ভর করতে পারেন? বিভিন্ন মিডিয়া কিংবা সংগঠন কোনো খবরকে এমনভাবে তুলে ধরে, যাতে এতে তাদের লাভ হয়। অথবা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের মতামতের উপর জোর দেওয়ার জন্য তারা সেভাবে খবর বানায়। তাই, একই খবরের বিষয়ে আলাদা আলাদা নিউজ চ্যানেল কী বলছে, তা পরীক্ষা করুন। অনেকসময়, আপনার বন্ধু চিন্তাভাবনা না করেই হয়তো কোনো ভুল তথ্য সবাইকে পাঠিয়ে দেয় অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেয়। তাই, যতক্ষণ না আপনি নিশ্চিত হচ্ছেন যে, সেই তথ্য আপনি যেখানে থেকে পেয়েছেন কিংবা যে আপনাকে পাঠিয়েছে, তার উপর নির্ভর করা যায় কি না, ততক্ষণ সেটা বিশ্বাস করবেন না।
এটাও মাথায় রাখুন যে, তথ্যে কী বলা হয়েছে। সেটা কি লেটেস্ট ও সত্য? কোনো ঘটনা কি এমনি বলা হয়েছে, না কি তারিখ সমেত বলা হয়েছে? এটা কি কোনো কিছুর উপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে? সেটার উপর বিশ্বাস করার মতো কোনো প্রমাণ কি রয়েছে? কোনো কোনো প্রবন্ধে অথবা ভিডিওতে একটা জটিল বিষয়কে খুবই সহজসরলভাবে বোঝানো হয়। কিংবা কোনো তথ্যকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যাতে লোকেরা আবেগের বশে কিছু করে ফেলে। এইরকম খবর থেকে আরও বেশি করে সাবধান থাকুন।
“বার বার হাত ধোয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, কোনো তথ্য সঠিক না ভুল, তা পরীক্ষা করা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”—শ্রীধর ধর্মপুরী, ইউনাইটেড নেশনস্এর খাদ্যের সুরক্ষা ও পুষ্টির সিনিয়ার অফিসার।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘এই খবরে কি বিভিন্ন মতামত এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যেটা থেকে মনে হতে পারে, সেই সব কিছুই সত্য? এতে কি একতরফা ঘটনা বলা হয়েছে?’
আপনার পছন্দের বিষয়ে নয় বরং যা সত্য, তা বিশ্বাস করুন
বাইবেল যা বলে: “যে নিজের হৃদয়ের উপর আস্থা রাখে, সে মূর্খ।”—হিতোপদেশ ২৮:২৬.
আমরা প্রায়ই সেই খবরগুলোর উপর বিশ্বাস করে নিই, যেগুলো আমরা মানতে চাই। এ ছাড়া, আমরা যেগুলো পছন্দ করি অথবা যে-বিষয়গুলো অনলাইনে দেখি, বেশিরভাগ সময়ই আমাদের ফোন, কম্পিউটার বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত খবর ভেসে ওঠে। তবে, এর মানে এই নয়, আমরা যা শুনতে চাই, সেটাই সত্য কিংবা আমাদের জন্য উপকারজনক।
“মানুষ হিসেবে আমাদের ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তারপরও, প্রায়ই আমরা আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আমাদের ইচ্ছা, আশা, ভয় এবং যে-বিষয়গুলো আমাদের প্রভাবিত করে, সেগুলোর কারণে আমরা এমন খবরগুলোর উপর বিশ্বাস করে নিই, যেগুলো আমরা পছন্দ করি।”—পিটার ডিট্টো, সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘আমি কি এই খবরটা পছন্দ করি বলেই এর উপর বিশ্বাস করি?’
ভুল তথ্য ছড়াবেন না
বাইবেল যা বলে: “মিথ্যা গুজব রটাবে না।”—যাত্রাপুস্তক ২৩:১ (বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারশন)।
মনে রাখবেন, আপনি অন্যদের সঙ্গে যে-তথ্য শেয়ার করেন, সেটা তাদের চিন্তাভাবনা ও কাজের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আপনি যদি অজান্তেও কারো সঙ্গে ভুল তথ্য শেয়ার করেন, তা হলে সেটারও অনেক খারাপ পরিণতি হতে পারে।
“কারো সঙ্গে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে একটু থামুন আর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি কি পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত যে, এই তথ্যটা সঠিক?’ যদি সবাই এই কাজটা করে, তা হলে অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া অনেকটা কমে যাবে।”—পিটার অ্যাডামস্, a senior vice president of the News Literacy Project.
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: ‘কেন আমি অন্যদের এই তথ্য শেয়ার করছি? আমি কি জানি, এটা সত্য কি না?’