কীভাবে আমরা অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়া এড়াতে পারি?
অতিরিক্ত চিন্তা করলে আপনার স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে আর এর পাশাপাশি আপনার মানসিক চাপ ও দুঃখ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে, আপনার সমস্যা আরও বেড়ে যাবে।
চিন্তা কম করার জন্য পরামর্শ
খারাপ খবর বেশি শুনবেন না। যখন খারাপ কিছু ঘটে, তখন সেই বিষয়ে আপনার সব কিছু জানার প্রয়োজন নেই। খারাপ খবর সম্বন্ধে বেশি তথ্য জানা আপনার ভয় ও উদ্বিগ্নতা বাড়িয়ে তুলবে।
বাইবেলের নীতি: “চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া মন শক্তি শুষে নেয়।”—হিতোপদেশ ১৭:২২.
“আমরা যদি টিভি অথবা ইন্টারনেটে সবসময় নতুন নতুন আতঙ্কজনক খবর শুনি, তা হলে এটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হবে। এই অভ্যাস অনেক খারাপ। যখন আমি খারাপ খবর কম শুনি, তখন আমার চিন্তাও কম হয়।”—জন।
চিন্তা করার মতো বিষয়: কোনো নতুন খবর আপনার কত দিন পর পর শোনা উচিত?
একটা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা, সঠিক সময়ে খাওয়া, ঘরের কাজ করা ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার একটা রুটিন তৈরি করুন আর সেই অনুযায়ী চলুন। সমস্ত কিছু সময়মতো করলে আপনার জীবন ভালোভাবে কাটবে আর আপনার চিন্তাও কম হবে।
বাইবেলের নীতি: “পরিশ্রমী ব্যক্তির পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবেই সফল হবে।”—হিতোপদেশ ২১:৫.
“যখন কোভিড-১৯ অতিমারি শুরু হয়, তখন আমি সমস্ত কিছু রুটিন অনুযায়ী করতাম না। যখন যা ইচ্ছা করত, তা-ই করতাম। এ ছাড়া, বেশিরভাগ সময় বিনোদনের পিছনে সময় ব্যয় করতাম। এরপর আমি ভাবি, এটা ঠিক করছি না। আমি এভাবে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না। তাই আমি ঠিক করি, প্রতিদিন কোন কাজ কোন সময়ে করব।”—জোসেফ।
চিন্তা করার মতো বিষয়: আপনিও কি কোন কাজ কখন করবেন, তার একটা রুটিন তৈরি করেছেন? এটা করলে আপনি দিনের শেষে খুবই খুশি হবেন কারণ আপনি অনেক কিছু করতে পেরেছেন।
জীবনের ভালো বিষয়গুলোর উপর মনোযোগ দিন। অতীতে করা ভুলগুলো নিয়ে এইরকম চিন্তা করবেন না, ‘যদি আমি এটা না করতাম, তা হলে কতই-না ভালো হত!’ অথবা ভবিষ্যতের বিষয়ে চিন্তা করে ভয় পাবেন না যে, ‘যদি আমরা সঙ্গে এমনটা ঘটে, তা হলে?’ এমনটা করলে আপনার চিন্তা বাড়তেই থাকবে। নিরুৎসাহিত করার মতো বিষয়গুলো চিন্তা করার পরিবর্তে জীবনের কিছু ভালো বিষয় নিয়ে চিন্তা করুন।
বাইবেলের নীতি: “তোমরা যে কৃতজ্ঞ, তা দেখাও।”—কলসীয় ৩:১৫.
“যখন আমি বাইবেল পড়ি, তখন আমি আমার মনকে ভালো বিষয় দিয়ে ভরতি করি। এর ফলে, আমি ভালো বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারি এবং আমরা চিন্তাও কমে যায়। কেউ কেউ হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘চিন্তা কি এত সহজে কমে যেতে পারে?’ অবশ্যই কমে যেতে পারে।”—লিসা।
চিন্তা করার মতো বিষয়: আপনার কোন অভ্যাস রয়েছে? আপনার জীবনে যে-খারাপ বিষয়গুলো ঘটে, আপনি কি সেগুলো মনে রাখেন, কিন্তু যে-ভালো বিষয়গুলো ঘটে, সেগুলো ভুলে যান?
অন্যদের বিষয়ে চিন্তা করুন। যদি আপনি সবসময় চিন্তায় ডুবে থাকেন, তা হলে আপনার কারো সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা হবে না। এটা করার পরিবর্তে সেই ব্যক্তিদের সাহায্য করুন, যাদের সত্যিই সাহায্যের প্রয়োজন।
বাইবেলের নীতি: “কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।”—ফিলিপীয় ২:৪.
“আমি সবসময় অন্যদের জন্য কিছু-না-কিছু করার চেষ্টা করি। আর তাই, আমি খুশিতে থাকি। আমি তাদের জন্য এমন কিছু করি, যা তাদের আনন্দিত করে। এর ফলে আমার চিন্তা কম হয়। আমি অন্যদের সাহায্য করার জন্য এতটাই ব্যস্ত থাকি যে, চিন্তা করার মতো সময়ই আমার হাতে থাকে না।”—মারিয়া।
চিন্তা করার মতো বিষয়: আপনি যে-লোকদের জানেন, তাদের মধ্যে কার কার সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে? আর আপনি তাদের জন্য কী করতে পারেন?
সুস্থ থাকুন। এক্সারসাইজ করুন, পর্যাপ্ত পরিমাণে রেস্ট করুন এবং পুষ্টিকর খাবার খান। নিজের শরীরের যত্ন নিলে আপনার মন ভালো থাকবে আর আপনি অতিরিক্ত চিন্তাও করবেন না।
বাইবেলের নীতি: “শরীরচর্চা … উপকারজনক।”—১ তীমথিয় ৪:৮.
“আমি আর আমার ছেলে বাইরে গিয়ে এক্সারসাইজ করতে চাই ঠিকই, কিন্তু আমরা বাইরে যেতে পারি না। তাই আমরা ঘরের ভিতরেই এক্সারসাইজ করা শুরু করি। এটা আমাদের উপর অনেক ভালো প্রভাব ফেলেছে। আমরা আনন্দে থাকতে শুরু করি, একে অন্যের প্রতি ভালো আচরণ করি আর একটুতেই রেগে যাই না।”—ক্যাটরিন।
চিন্তা করার মতো বিষয়: আপনার কি খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু রদবদল করার প্রয়োজন রয়েছে অথবা এক্সারসাইজ শুরু করার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে আপনি সুস্থ থাকতে পারেন?
এখন পর্যন্ত আমরা যে-বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, তা কাজে লাগানোর ফলে অনেকের চিন্তা কমে গিয়েছে। আর তারা যখন বাইবেল থেকে জানতে পেরেছে যে, ভবিষ্যতে মানুষ এক পরিতৃপ্তিদায়ক জীবন পাবে, তখন তারা অনেক সান্ত্বনা পেয়েছে। “ঈশ্বরের রাজ্য কী সম্পাদন করবে?” শিরোনামের প্রবন্ধটা পড়ুন।