যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাস্য
কীভাবে আমি কথা বলার দক্ষতা বাড়াতে পারি?
এই প্রবন্ধে জানা যাবে
সামনাসামনি কথা বলা কেন ভালো?
অনেকে মনে করে সামনাসামনি কথা বলা বেশ কঠিন, এর চেয়ে টেক্সট ম্যাসেজ করে কথা বলা আরও বেশি সহজ।
“সামনাসামনি কথা বলাটা বেশি কঠিন লাগে কারণ একবার কিছু বলে ফেললে, সেটাকে আর এডিট বা ডিলিট করা যায় না, যা টেক্সট ম্যাসেজে সহজেই করা যায়।”—অ্যানা।
“টেক্সট ম্যাসেজ করা, আগে থেকে রেকর্ড করা একটা অনুষ্ঠানের মতো। অন্যদিকে, সামনাসামনি কথা বলা হল, লাইভ শো-এর মতো। তাই, কথা বলার সময় আমি সারাক্ষণ ভাবতে থাকি, আমি যেন কোনো গণ্ডগোল করে না ফেলি।”—জিন।
আজ না হয় কাল, তোমাকে সামনাসামনি কথা বলার দক্ষতা গড়ে তুলতেই হবে। যেমন, নতুন বন্ধু পেতে, একটা চাকরি খুঁজে পেতে অথবা বয়স হলে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে, কথা বলার এই দক্ষতা তোমাকে সাহায্য করবে।
আসলে, কথা বলতে গিয়ে তুমি যদি লজ্জা পাও বা তোমার যদি আটকে যায়, তবুও কীভাবে সেটা ম্যানেজ করবে, তা তোমার পক্ষে শেখা সম্ভব। তাই, সামনাসামনি কথা বলার বিষয়ে ভয় পাওয়ার কোন দরকার নেই।
“এটা ঠিক যে, কখনো কখনো কথা বলার সময় আমরা সবাই কিছু-না-কিছু ভুল বলেই ফেলি আর লজ্জায় পড়ে যাই। তাই, তোমারও কোনো-না-কোনো ভুল হয়ে যেতে পারে আর এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করার দরকার নেই।”—নিল।
কথা বলা যেভাবে শুরু করা যায়
প্রশ্ন জিজ্ঞেস করো। লোকেরা কোন বিষয়ে আগ্রহী, প্রথমে সেটা নিয়ে চিন্তা করো, তারপর প্রশ্ন করে কথা বলা শুরু করতে পারো। যেমন, তুমি জিজ্ঞেস করতে পারো:
“গত বছরের ছুটিতে, তুমি কি কোথাও ঘুরতে গিয়েছিলে?”
“এই ওয়েবসাইটটা তো দারুণ! তুমি কি এটা দেখেছ?”
“তুমি কি শুনেছ …?”
আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, তুমি এমন বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারো, যেটা নিয়ে তোমার আর তার মধ্যে মিল আছে বা দু-জনেই করতে ভালোবাসো। যেমন, তোমরা কি একই স্কুলে পড়ো বা একই জায়গায় কাজ করো? এরপর, কথা শুরু করার জন্য সেই বিষয়টা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতে পারো।
“তোমার আগ্রহ রয়েছে, এমন বিষয়ে তুমি কিছু প্রশ্ন চিন্তা করতে পারো আর তুমি সত্যিই জানতে চাও যে, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরে অন্যেরা কী বলে।”—মারটিজা।
সতর্কতা: তদন্ত করার মতো একের-পর-এক প্রশ্ন করতে থেকো না আর একেবারে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো জানতে চেও না। যেমন, “কোন বিষয়টাতে তুমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাও?” বা “তুমি কেন সবসময় নীল রঙের জামাকাপড় পর?” এক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রশ্নটা শুনে মনে হচ্ছে যেন তুমি তার সমালোচনা করছ।
তোমার প্রশ্নগুলো যাতে তদন্তকারীর মতো না শোনায়, সেজন্য সেই ব্যক্তি উত্তর দেওয়ার আগে বা পরে, কেন তুমি সেই প্রশ্নটা করেছ, সেই বিষয়ে তোমার চিন্তা ও অনুভূতি তাকে বলতে পারো। অন্যভাবে বলতে গেলে, এটা সাক্ষাৎকারের মতো না হয়ে যেন, একে অন্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলার মতো হয়।
তুমি যেভাবে প্রশ্ন করো, তাতে কি তোমাকে একজন তদন্তকারী বলে মনে হয়?
বাইবেলের নীতি: “মানুষের হৃদয়ের চিন্তাভাবনা গভীর জলের মতো, কিন্তু বিচক্ষণ ব্যক্তি তা তুলে আনে।”—হিতোপদেশ ২০:৫.
উত্তম শ্রোতা হও। তোমাদের কথাবার্তা ভালোভাবে এগিয়ে যাবে কি না, সেটা তুমি কতটা দক্ষতার সঙ্গে কথা বলছ, সেটার উপর নয় বরং তুমি কতটা ভালোভাবে শুনছ, সেটার উপর নির্ভর করে।
“আমি যার সঙ্গে কথা বলি, তার সম্পর্কে দু-একটা নতুন বিষয় জানার চেষ্টা করি। তারপর সে যেটা বলে, আমি মনে রাখতে চাই, যেন পরে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমি সেই বিষয়েই একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি।”—তামারা।
সতর্কতা: কথা শুরু হলে, এরপর কী বলবে, সেটা নিয়ে বেশি চিন্তা কোরো না। অপর ব্যক্তি যা বলছে, তা যদি তুমি ভালো করে শোনো, তা হলে এরপর কী বলতে হবে তা তুমি নিজেই বুঝতে পারবে।
বাইবেলের নীতি: “শোনার ব্যাপারে ইচ্ছুক এবং কথা বলার ব্যাপারে ধীর হও।”—যাকোব ১:১৯.
সত্যিকারের আগ্রহ দেখাও। যার সঙ্গে তুমি কথা বলছ, তার প্রতি যদি তুমি সত্যিকারের আগ্রহ দেখাও, তা হলে তুমি আরও বেশি আনন্দের সঙ্গে কথা বলতে পারবে।
“যার সঙ্গে তুমি কথা বলছ, সে যখন বুঝতে পারবে যে, সে যা বলছে সেটা নিয়ে তুমি সত্যিই চিন্তিত, তখন তোমাদের কথার মাঝে যদি অস্বস্তিকর কোনো মুহূর্ত চলেও আসে, তবুও তোমাদের কথাবার্তা বেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে।”—মারি।
সতর্কতা: বেশি ব্যক্তিগত প্রশ্ন কোরো না। প্রশংসা করতে গিয়ে তুমি যদি তাকে এভাবে জিজ্ঞেস করো, “তোমার কোটটা তো বেশ দারুণ! কত দিয়ে কিনলে?” তা হলে এটা তাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
বাইবেলের নীতি: “কেবল নিজেদের বিষয়ে চিন্তা কোরো না, কিন্তু অন্যের প্রতিও চিন্তা দেখাও।”—ফিলিপীয় ২:৪.
কীভাবে তুমি কারো সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করবে? জর্ডান নামের এক যুবক এভাবে বলে, “তোমার লক্ষ্য থাকবে, যাতে ভালো কিছু বলে তুমি কথা শেষ করতে পারো। যেমন, ‘তোমার সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লাগল’ বা ‘আশা করি তোমার দিনটা ভালো কাটবে,’ এইরকম কিছু বলে শেষ করলে, পরে তার সঙ্গে আবার কথা বলার একটা রাস্তা খোলা থাকবে।”