পাঠকদের কাছ থেকে প্রশ্ন
কখন মানুষের সরকারগুলো “শান্তি ও নিরাপত্তা” ঘোষণা করবে?
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রহরীদুর্গে a “পাঠকদের কাছ থেকে প্রশ্ন” প্রবন্ধে, আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম যে, খুব শীঘ্রই যিহোবা “দশটা শিং”এর (সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি) হৃদয়ে তাঁর “ইচ্ছা” দেবেন, যাতে তারা তাদের “শাসন করার ক্ষমতা সেই হিংস্র পশুকে” অর্থাৎ ইউনাইটেড নেশন্সকে দিয়ে দেয়। এ ছাড়া, এই পশুকে “হিংস্র পশুর মূর্তি” বলা হয়। (প্রকা. ১৩:১৪, ১৫; ১৭:৩, ১৬, ১৭) এরপর, “দশটা শিং” এবং নতুন ক্ষমতায় আসা হিংস্র পশু পৃথিবী থেকে সমস্ত মিথ্যা ধর্মকে সরিয়ে দেবে। এখন প্রশ্ন হল, মানুষের সরকারগুলো “শান্তি ও নিরাপত্তা”b কখন ঘোষণা করবে? মিথ্যা ধর্ম ধ্বংস হওয়ার আগে না পরে?—১ থিষল. ৫:৩.
সহজভাবে বললে, আমরা সত্যিই জানি না “শান্তি ও নিরাপত্তা” কখন ঘোষণা করা হবে। আমরা যদি সমস্ত তথ্য জানতাম, তা হলে আমাদের সজাগ থাকার কোনো প্রয়োজন থাকত না। তাই, যিশু বার বার তাঁর শিষ্যদের ‘জেগে থাকতে’ বলেছিলেন। (মথি ২৪:৪২; ২৫:১৩; ২৬:৪১) আসুন, আমরা আরও ভালোভাবে থিষলনীকীয় মণ্ডলীর উদ্দেশে লেখা প্রেরিত পৌলের এই অনুপ্রাণিত ভবিষ্যদ্বাণীটা লক্ষ করি।
পৌল লিখেছিলেন: “যখনই লোকেরা বলে, ‘শান্তি ও নিরাপত্তা!’ তখনই . . . তাদের উপর হঠাৎ বিনাশ আসবে।” (১ থিষল. ৫:২, ৩) পৌলের এই কথাগুলোকে আমাদের প্রকাশনায় সাধারণত এইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, ‘শান্তি ও নিরাপত্তার’ ঘোষণা মহাক্লেশ শুরু হওয়ার অর্থাৎ মহতী বাবিল বা মিথ্যা ধর্মের বিশ্বসাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঠিক আগে হবে। আমাদের প্রকাশনায় এটাও বলা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে এই ঘোষণার পরই আমরা সবাই বুঝতে পারব, মহাক্লেশ শুরু হতে চলেছে।
এই বিষয়ে আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করার পর আমাদের মনে হয়েছে যে, এই ভবিষ্যদ্বাণীকে আমরা অন্যভাবেও ব্যাখ্যা করতে পারি, যে-সম্ভাবনাকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। হতে পারে, মিথ্যা ধর্ম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে ‘শান্তি ও নিরাপত্তার’ ঘোষণা করা হবে।এমনটা চিন্তা করার পিছনে কোন যুক্তিগুলো রয়েছে? আসুন, আমরা কয়েকটা প্রশ্ন নিয়ে বিবেচনা করে দেখি।
পৃথিবীতে যে-যুদ্ধগুলো হচ্ছে, সেগুলোর পিছনে মিথ্যা ধর্মের কতটা হাত রয়েছে? বাইবেল বলে, “তারই মধ্যে [“মহাবেশ্যা,” মহতী বাবিল] . . . পৃথিবীতে হত্যা করা হয়েছে এমন সমস্ত লোকের রক্ত পাওয়া গিয়েছে।” (প্রকা. ১৭:১, ৫; ১৮:২৪) ইতিহাস দেখায় যে, প্রথম থেকেই সমস্ত ধরনের যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের জন্য এই মহাবেশ্যাই দায়ী। তাই, শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবর্তে এই মহাবেশ্যা শুধু যুদ্ধ ও দৌরাত্ম্যের ইন্ধন জুগিয়েছে। এই কারণে একটা প্রশ্ন ওঠে, মানুষের সরকারগুলো মহতী বাবিলকে ধ্বংস করে দেওয়ার পরই কি ‘শান্তি ও নিরাপত্তার’ ঘোষণা করবে? এটা হতে পারে, কিন্তু সেটা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না।
“শান্তি ও নিরাপত্তা” ঘোষণা হওয়ার পর কী হবে? পৌল বলেছিলেন, “তখনই . . . তাদের উপর হঠাৎ বিনাশ আসবে।” (১ থিষল. ৫:৩) পৌল এখানে ইঙ্গিত করেছেন যে, “শান্তি ও নিরাপত্তা” ঘোষণা হওয়ার এবং বিনাশ আসার মধ্যে খুব কমই বা একেবারেই কোনো সময় থাকবে না। এটা হঠাৎ হবে এবং কোনোভাবেই এটাকে এড়ানো যাবে না। তাই, মানুষের সরকারগুলো যদি মিথ্যা ধর্ম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর “শান্তি ও নিরাপত্তা” ঘোষণা করে, তা হলে তাদের উপর বিনাশ হঠাৎ করে আসবে।
ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা ঘটনাগুলো ঘটতে দেখে যিহোবার লোকেরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে? পৌল বলেছিলেন: “ভাইয়েরা, তোমরা অন্ধকারে নও যে, সেই দিন হঠাৎ করে তোমাদের উপর এসে পড়বে, যেমনটা দিনের আলো চোরের উপর এসে পড়ে।” (১ থিষল. ৫:৪) চিন্তা করুন: ‘শান্তি ও নিরাপত্তার’ ঘোষণা যদি মিথ্যা ধর্ম ধ্বংস হওয়ার পর করা হয়, তা হলে যিহোবার লোকেরা এটা জানবে যে, জাতিগুলোর ধ্বংস অনিবার্য। তবে, জগতের সরকারগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, তাদের ধ্বংস একটা চোরের মতো হঠাৎই আসবে।
আমরা তাহলে কী আশা করতে পারি? নিকট ভবিষ্যতে “দশটা শিং” এবং অতি শক্তিশালী হিংস্র পশু মিথ্যা ধর্মকে ধ্বংস করবে। এভাবে, মহাক্লেশ শুরু হবে। আমরা এটাও জানি যে, কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে জগতের সরকারগুলো “শান্তি ও নিরাপত্তা” ঘোষণা করবে। এটা কখন ঘটবে? আমরা দুটো সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। একটা সম্ভাবনা হল: এই ঘোষণাটা মিথ্যা ধর্ম ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগে হবে আরেকটা সম্ভাবনা হল: এই ঘোষণাটা হয়তো সেই সময়ে হবে, যখন জগতের সরকারগুলো মিথ্যা ধর্মকে পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দেবে। সেইসময়ে কী ঘটবে, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। বেশিরভাগ সময়ে আমরা বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো তখনই পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারি, যখন সেগুলো পরিপূর্ণতা লাভ করে বা ইতিমধ্যেই পরিপূর্ণতা লাভ করেছে।—তুলনা করুন, যোহন ১২:১৬.
এই সময়ে এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, কখন ‘শান্তি ও নিরাপত্তার’ ঘোষণা করা হবে বরং এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, ঈশ্বরের প্রতি আমরা বিশ্বস্ত রয়েছি কি না। আমাদের অবশ্যই ‘জেগে থাকতে এবং সচেতন থাকতে’ হবে, যাতে ভবিষ্যতে যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা যেন সেটার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারি।—১ থিষল. ৫:৬.
a ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রহরীদুর্গ পত্রিকায় দেওয়া “পাঠকদের কাছ থেকে প্রশ্ন” দেখুন।
b প্রেরিত পৌল এখানে যে-শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন, সেগুলো সম্ভবত একটা অথবা ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে নির্দেশ করতে পারে।