মার্চ ৩০-এপ্রিল ৫, ২০২৬
গান ৭৬ কেমন লাগে তোমার?
সত্য জানানোর সময় সদয়ভাবে কথা বলুন
“ যিহোবা, সত্যের ঈশ্বর।”—গীত. ৩১:৫, NW.
আমরা কী শিখব?
আমরা জানব যে, কীভাবে আমরা সত্য জানাতে পারি, যাতে সকলে এর দ্বারা উপকৃত হয়।
১. যিহোবার পরিবারের অংশ হওয়ার জন্য আমাদের কী করতে হবে?
প্রথম বার আমাদের যখন কোনো ভাই বা বোনের সঙ্গে দেখা হয়, তখন আমরা প্রায়ই তাদের জিজ্ঞেস করি, “আপনি কীভাবে সত্যে এসেছেন?” কিছু লোক হয়তো বলে যে, আমি ছোটো থেকেই “সত্যে বড়ো হয়েছি” আবার কেউ হয়তো বলে, আমি মাত্র কিছু বছর আগেই “সত্যে এসেছি।” কেন আমরা এইভাবে উত্তর দিয়ে থাকি? কারণ বাইবেলের সত্য আমাদের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে আর এটা আমাদের জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আমরা যিহোবার পরিবারের অংশ হতে চেয়েছিলাম আর তাই বাইবেলের সত্যগুলোর প্রতি আমরা আমাদের ভালোবাসা বাড়িয়ে তুলেছিলাম এবং সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করতে শুরু করেছিলাম। যেমন, আমরা সত্যি কথা বলতে এবং সমস্ত কাজ সততার সঙ্গে করতে শুরু করেছিলাম।—গীত. ১৫:১-৩.
২. (ক) লোকেরা যিশু সম্বন্ধে কী মনে করত? (খ) যিশু যে-সত্যগুলো শিখিয়েছিলেন, সেগুলো লোকদের উপর কেমন প্রভাব ফেলেছিল?
২ যিশু সবসময় সত্যি কথা বলতেন আর এটা তাঁর শত্রুরাও জানত। যদিও তারা যিশুর কথাগুলো পছন্দ করত না, তবে তারা জানত, যিশু যা-কিছু বলেন, সেটা সত্যি। (মথি ২২:১৬) যিশু যে-সত্যগুলো শেখাতেন, সেগুলো লোকদের উপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সেই সম্বন্ধে তিনি বলেছিলেন: “আমি বাবা ও ছেলের মধ্যে, মা ও মেয়ের মধ্যে এবং শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে বিভেদ জন্মাতে এসেছি।” (মথি ১০:৩৫) এখানে যিশু একটা বাস্তব ঘটনা তুলে ধরেছিলেন, যেটা দেখায় যে, সত্য শেখার ফলে কী হতে পারে। কিন্তু, তিনি এটা চাননি, লোকেরা তাঁর এবং তাঁর শিষ্যদের বার্তার প্রতি বিরোধিতা করুক। (মথি ২৩:৩৭) যিশু জানতেন যে, তাঁর বার্তা একেক জনের উপর একেক রকম প্রভাব ফেলবে। কিছু লোক সত্যকে ভালোবাসবে এবং তা গ্রহণ করবে, আবার কিছু লোক সেটা প্রত্যাখ্যান করবে।—২ থিষল. ২:৯-১১.
৩. এই প্রবন্ধে আমরা কী জানব?
৩ যিশুর মতো আমরাও সৎ থাকার এবং সত্যি কথা বলার চেষ্টা করি, সেটা লোকেরা পছন্দ করুক বা না-ই করুক। শুধু তা-ই নয়, আমরা লোকদের কাছে প্রচার করি এবং তাদের বাইবেলের সত্যগুলো শেখানোর চেষ্টা করি, হতে পারে কিছু লোক সেটা পছন্দ করে, আবার কিছু লোক করে না। কিন্তু, এর মানে এই নয় যে, আমরা লোকদের বিষয়ে একেবারেই চিন্তা করব না। এই প্রবন্ধে আমরা এই বিষয়ে আরও আলোচনা করব। প্রথমে আমরা দেখব, কোথায় আমরা সত্য খুঁজে পেতে পারি। এরপর আমরা জানব যে, আমাদের কেন, কীভাবে এবং কখন লোকদের কাছে সত্য জানানো উচিত। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানলে আমরা সত্য জানানোর সময় সদয়ভাবে কথা বলতে পারব অর্থাৎ আমরা ভেবে-চিন্তে কথা বলতে পারব এবং সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলতে পারব।
কোথায় আমরা সত্য খুঁজে পেতে পারি?
৪. কেন আমরা বলতে পারি, যিহোবা হলেন সত্যের উৎস?
৪ যিহোবা হলেন সত্যের উৎস। তিনি সবসময় সত্যি কথা বলেন। যেমন, তিনি আমাদের বলে দিয়েছেন, কোনটা ঠিক এবং কোনটা ভুল। আর এই বিষয়ে তাঁর বলা কথাগুলো সত্য। (গীত. ১৯:৯; ১১৯:১৪২, ১৫১) যিহোবা ভবিষ্যতের বিষয়ে যা-কিছু বলেন, সেগুলো সত্যি হয়। (যিশা. ৫৫:১০, ১১) তিনি যা-কিছু প্রতিজ্ঞা করেন, সেগুলো সবসময় পূরণ করেন। (গণনা. ২৩:১৯) বাইবেলে লেখা আছে, যিহোবা মিথ্যা বলতে পারেন না! (ইব্রীয় ৬:১৮) তাই, যিহোবাকে “সত্যের ঈশ্বর” বলা হয়।—গীত. ৩১:৫, NW.
৫. সত্যের ঈশ্বরকে খোঁজা কেন কঠিন নয়? বুঝিয়ে বলুন। (প্রেরিত ১৭:২৭)
৫ কিছু লোক মনে করে, ঈশ্বরকে জানা খুব কঠিন। কিন্তু, এটা সত্য নয়। আমরা “সত্যের ঈশ্বর” যিহোবাকে অবশ্যই জানতে পারি। আমরা আমাদের চারপাশে যা-কিছু দেখতে পাই, সেখান থেকে বুঝতে পারি যে, ঈশ্বর আছেন এবং আমরা তাঁর সম্বন্ধে অনেক কিছু শিখতে পারি। (রোমীয় ১:২০) প্রেরিত পৌল যখন এথেন্সের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তিনি তাদের বলেছিলেন, ঈশ্বর চান যেন আমরা তাঁকে “খোঁজার চেষ্টা” করি এবং “তিনি আমাদের কারো কাছ থেকে দূরে নন।” (পড়ুন, প্রেরিত ১৭:২৭.) আর নম্র লোকেরা যখন ঈশ্বর সম্বন্ধে সত্য জানার চেষ্টা করে, তখন ঈশ্বর তাদের তাঁর দিকে আকর্ষণ করেন।—যোহন ৬:৪৪.
৬. বাইবেল আমাদের কোন সত্যগুলো জানায় এবং কেন আমরা এর জন্য কৃতজ্ঞ?
৬ যিহোবাকে খোঁজার একটা উপায় হল, বাইবেল অধ্যয়ন করা। যে-ব্যক্তিরা বাইবেল লিখেছিলেন, ঈশ্বর তাদের তাঁর পবিত্র শক্তি দিয়েছিলেন। (২ পিতর ১:২০, ২১) তাই, বাইবেলে যা-কিছু লেখা আছে, সেগুলো সত্য এবং নির্ভরযোগ্য। যেমন বাইবেল জানায়, এই নিখিলবিশ্ব এবং পৃথিবীতে জীবন কীভাবে শুরু হয়। (আদি. ১:১, ২৬) এটিতে এও বলা আছে, কেন আমরা পাপ করি, কেন আমাদের জীবনে এত দুঃখকষ্ট রয়েছে এবং কেন আমরা মারা যাই। (রোমীয় ৫:১২; ৬:২৩) এ ছাড়া, বাইবেল এও বলে, “মিথ্যার পিতা” শয়তানের কারণে যে-ক্ষতি হয়েছে, যিহোবা তাঁর পুত্রের মাধ্যমে সেগুলো পূরণ করে দেবেন। (যোহন ৮:৪৪; রোমীয় ১৬:২০) ঈশ্বর তাঁর বাক্যে এও বলেছেন যে, যিশু সমস্ত মন্দতাকে শেষ করে দেবেন, মৃত ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন, পৃথিবীকে আবারও পরমদেশে পরিণত করবেন এবং আমাদের এক নিখুঁত জীবন দেবেন। (যোহন ১১:২৫, ২৬; ১ যোহন ৩:৮) বাইবেলে দেওয়া এই সত্যগুলোর উপর আমরা সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারি। এটা কতই-না বড়ো এক বিষয় যে, যিহোবা আমাদের এই সত্যগুলো শিখিয়েছেন এবং এই সুযোগ দিয়েছেন যেন আমরা অন্যদেরও তা শেখাই!—মথি ২৮:১৯, ২০.
কেন আমরা সত্যি কথা বলব?
৭-৮. এটা জানা কি গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে সত্যি কথা বলছি? একটা উদাহরণ দিন। (মার্ক ৩:১১, ১২)(ছবিগুলোও দেখুন।)
৭ আমরা যেমনটা আগে দেখেছি, যিহোবার পরিবারের অংশ হওয়ার জন্য আমাদের সবসময় সত্যি কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, যিহোবাকে খুশি করার জন্য এটাই যথেষ্ট নয়। যিহোবার জন্য এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা কেন সত্যি কথা বলছি অর্থাৎ সত্যি কথা বলার পিছনে আমাদের কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। একটু চিন্তা করুন, যিশু যখন পৃথিবীতে ছিলেন, তখন কী ঘটেছিল। (পড়ুন, মার্ক ৩:১১, ১২.) একবার যিশু গালীল সাগরের তীরে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন অনেক লোক তাঁর কাছে এসে ভিড় করে। এদের মধ্যে কিছু লোকের উপর মন্দ স্বর্গদূত ভর করেছিল। তারা যিশুর সামনে লুটিয়ে পড়ে এবং চিৎকার করে বলে, “আপনিই ঈশ্বরের পুত্র।” মন্দ স্বর্গদূতেরা যিশুর বিষয়ে একেবারে সত্যি কথা বলেছিল। কিন্তু, এর পিছনে তাদের কোন উদ্দেশ্য ছিল? এই মন্দ স্বর্গদূতদের আসল উদ্দেশ্য ছিল, লোকদের বিশ্বাস অর্জন করা এবং পরে তাদের যিহোবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই মন্দ স্বর্গদূতেরা সত্যি কথা বলেছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য ভালো ছিল না। যিশু সেই মন্দ স্বর্গদূতদের উদ্দেশ্য জানতেন, তাই তিনি তাদের কথায় খুশি হননি। এর পরিবর্তে, যিশু তাদের কড়াভাবে আদেশ দেন, তারা যেন কারো কাছে তাঁর পরিচয় না দেয়।
৮ এই ঘটনা থেকে আমরা কী শিখি? যিহোবা এই বিষয়টার উপর মনোযোগ দেন যে, সত্যি কথা বলার পিছনে আমাদের কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা যেন লোকদের সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে সত্য শেখাই। তাই, আমরা সত্য শেখাই বলে, কেউ যদি আমাদের প্রশংসা করে, তা হলে সেই সমস্ত প্রশংসা আমরা যিহোবাকেই দেব!—মথি ৫:১৬; তুলনা করুন, প্রেরিত ১৪:১২-১৫.
সত্য শেখানোর সময় আপনি কার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করান? (৭-৮ অনুচ্ছেদ দেখুন)
৯. কোন বিষয়টা থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত এবং কেন?
৯ আরও একটা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করুন, যেখানে আমরা লোকদের প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করব না। ধরুন, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাই আমাদের এমন কোনো কথা বলেছেন, যেটা আমাদের গোপন রাখতে হবে। কিন্তু, আমরা সেই কথাটা অন্যদের বলে দিয়েছি। পরে যখন লোকেরা দেখবে, আমরা যা বলেছি, সেটা সত্যি হয়েছে, তখন চিন্তা করুন কী হতে পারে। এই গোপন বিষয়টা আমরা আগে থেকে জানতাম বলে, লোকেরা হয়তো আমাদের বাহবা দিতে পারে এবং ভাবতে পারে, আমাদের কাছে অনেক গোপন তথ্য রয়েছে। এর ফলে, হয়তো লোকদের চোখে আমাদের সুনাম বেড়ে যাবে, কিন্তু যিহোবার চোখে আমরা নীচে নেমে যাব। (হিতো. ১১:১৩) কেন? কারণ আমরা গোপন কথা প্রকাশ করে দিয়েছি এবং সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে সত্যি কথা বলিনি।
কীভাবে আমরা লোকদের সত্য জানাব?
১০. আমাদের কথাবার্তা “সদয়” হওয়ার অর্থ কী? (কলসীয় ৪:৬)
১০ কলসীয় ৪:৬ পদ পড়ুন। প্রেরিত পৌল কলসীর খ্রিস্টানদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তাদের কথাবার্তা যেন “সবসময় সদয় হয়।” এর অর্থ কী? যে-গ্রিক শব্দকে “সদয়” হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে, সেটার অর্থ হল, এমনভাবে কথা বলা, যা সামনের ব্যক্তিকে উপকৃত করবে আর সেইসঙ্গে সেটা প্রেমের সঙ্গে বলা হবে এবং তার হৃদয়কে স্পর্শ করবে।
১১-১২. বাইবেলের সত্যগুলো শেখানোর সময় আমাদের কোন বিষয়টা খেয়াল রাখা উচিত? একটা উদাহরণ দিন। (ছবিগুলোও দেখুন।)
১১ বাইবেলের সত্যগুলো অন্যদের শেখানোর সময় আমাদের কথাবার্তা সদয় হওয়া উচিত। বাইবেলের সত্যগুলো একটা ধারালো তলোয়ারের মতো, যেটা একজন ব্যক্তির ভিতরের ও বাইরের অবস্থা প্রকাশ করে। অন্যভাবে বললে, এটা একজন ব্যক্তিকে তার ভিতরের অনুভূতি এবং আসল উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করে। (ইব্রীয় ৪:১২) কিন্তু, অন্যদের শেখানোর সময় আমরা যদি সঠিকভাবে বাইবেল ব্যবহার না করি, তা হলে অযথা আমরা একজন ব্যক্তিকে দুঃখ দিয়ে ফেলতে পারি এবং তর্কে জড়িয়ে পড়তে পারি। কীভাবে এটা হতে পারে?
১২ চিন্তা করুন, প্রচার করতে গিয়ে আপনার এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়, যিনি ঈশ্বরকে খুব বিশ্বাস করেন। তিনি প্রতিদিন মূর্তির সামনে প্রার্থনা করেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে বড়োদিন এবং ইস্টার উদ্যাপন করতে খুব ভালোবাসেন। এইরকম পরিস্থিতিতে আপনি কী করবেন? আপনি কি তাকে সরাসরি বাইবেল থেকে দেখাবেন যে, নিষ্প্রাণ মূর্তির সামনে প্রার্থনা করা ভুল এবং আপনি কি এটা বলবেন, বড়োদিন বা ইস্টার মিথ্যা ধর্ম থেকে এসেছে? (যিশা. ৪৪:১৪-২০; ২ করি. ৬:১৪-১৭) আপনি যদি প্রথম সাক্ষাতেই এগুলো বলেন, তা হলে আপনি তাকে সত্যি কথা বলছেন ঠিকই, কিন্তু আপনি সঠিক উপায়ে বাইবেল ব্যবহার করছেন না।
সত্য শেখানোর সময় আপনি কীভাবে সঠিক উপায়ে বাইবেল ব্যবহার করতে পারেন? (১১-১২ অনুচ্ছেদ দেখুন)a
১৩. আমাদের কথাবার্তা যেন লবণ দিয়ে স্বাদযুক্ত করা খাবারের মতো হয়, সেইজন্য আমরা কী করতে পারি?
১৩ পৌল খ্রিস্টানদের এও বলেছিলেন, তাদের কথাবার্তা যেন লবণ দিয়ে স্বাদযুক্ত করা খাবারের মতো হয়। তিনি এটা বলতে চাননি যে, আমরা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে সত্যকে লুকিয়ে রাখব। এর পরিবর্তে, পৌল আমাদের অনুরোধ করেছেন, আমাদের কথাবার্তা যেন লবণ দিয়ে “স্বাদযুক্ত হয়” অর্থাৎ আমরা যখন অন্যদের বাইবেলের সত্য শেখাব, তখন সেটা যেন তাদের “স্বাদ” অনুযায়ী হয় এবং তাদের ভালো লাগে। (ইয়োব ১২:১১) এটা করা কঠিন হতে পারে। আমরা যখন কারো জন্য খাবার বানাই, তখন আমরা এটা আশা করি,খাবারের স্বাদ যেন তার ভালো লাগে। ঠিক একইভাবে, আমাদের মনে হতে পারে যে, আমাদের কথা বলার ধরন প্রত্যেকের ভালো লাগবে, কিন্তু সেটা সত্যি না-ও হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, কোনো কোনো দেশে লোকেরা সরাসরি নিজেদের মতামত প্রকাশ করে থাকে, এমনকী তাদের সামনে কোনো বয়স্ক ব্যক্তি থাকলেও। অপর দিকে আবার এমন কিছু দেশ রয়েছে, যেখানকার লোকেরা এইভাবে কথা বলা পছন্দ করে না এবং তাদের খারাপও লাগতে পারে। পৌল বলেছিলেন, ‘কাকে কীভাবে উত্তর দেব’ সেটা আমাদের জানা উচিত। এর অর্থ হল, আমরা যা বলি, সেটা আমাদের স্বাদ বা পছন্দ অনুযায়ী নয় বরং আমাদের সামনে যিনি রয়েছেন, তার স্বাদ বা সংস্কৃতি অনুযায়ী হওয়া উচিত।
কখন সত্য জানানো ঠিক হবে?
১৪. যিশু যে-বিষয়গুলো জানতেন, সেগুলো কি তিনি তাঁর শিষ্যদের একবারেই বলে দিয়েছিলেন? বুঝিয়ে বলুন।
১৪ যিশু সবসময় সদয়ভাবে কথা বলতেন এবং তিনি তাঁর শিষ্যদের অনেক কিছু শিখিয়েছিলেন। (মার্ক ৬:৩৪) কিন্তু, তবুও এমন অনেক বিষয় ছিল, যেগুলো তাদের শিখতে হত। যিশু চাইলে তাদের সবকিছু একবারেই শেখাতে পারতেন, কিন্তু তিনি এমনটা করেননি। কারণ তিনি তাঁর শিষ্যদের সীমাবদ্ধতা জানতেন। যিশু জানতেন, এমন কিছু সত্য রয়েছে, যেগুলো জানানোর উপযুক্ত সময় এখন নয়। আর তিনি যদি সেগুলো তাদের বলেও দেন, তা হলে তারা সেগুলো বুঝতে পারবে না। (যোহন ১৬:১২) এখান থেকে আমরা কী শিখি?
১৫. আমাদের বাইবেল ছাত্রকে কি সমস্ত কিছু একবারেই বলা উচিত? বুঝিয়ে বলুন। (হিতোপদেশ ২৫:১১) (ছবিও দেখুন।)
১৫ যিশুর কাছ থেকে আমরা এটাই শিখি, যদিও আমরা সমস্ত সত্য জানি, তবুও আমরা যেন অন্যদের সব কিছু একবারেই বলে না দিই। তাই, যিশুর মতো আমরা কোন বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারি? আমাদের লোকদের বিষয়ে এবং তাদের পরিস্থিতির বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। আরও একবার সেই ব্যক্তির কথা চিন্তা করুন, যিনি তার পরিবারের সঙ্গে বড়োদিন এবং ইস্টার উদ্যাপন করতে খুব ভালোবাসেন। আমরা জানি যে, এই উৎসবগুলো মিথ্যা ধর্ম থেকে এসেছে এবং ঈশ্বর এগুলো পছন্দ করেন না। কিন্তু ধরুন, আপনি বড়োদিনের ঠিক এক বা দু-সপ্তাহ আগে, সেই ব্যক্তির সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেছেন। এইরকম অবস্থায়, আপনি কি তাকে বলবেন, এই উৎসব সম্বন্ধে বাইবেল কী বলে এবং আপনি কি এটা আশা করবেন যে, সেই ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে বড়োদিন উদ্যাপন করা বন্ধ করে দেবেন? এটা করলে আপনার কথা বলার ধরন কি সদয় হচ্ছে? এটা ঠিক যে, কিছু ব্যক্তি বাইবেল অধ্যয়ন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আবার কিছু লোকের পক্ষে, তাদের চিন্তাভাবনা বদলাতে এবং মন্দ কাজগুলো ছাড়তে সময় লাগে। তাই, আমরা যদি চাই আমাদের বাইবেল ছাত্র উন্নতি করুক, তা হলে আমাদের এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যে, আমরা তাকে কখন ও কোন বিষয়গুলো বলব এবং সেগুলো সে বুঝতে পারবে কি না।—পড়ুন, হিতোপদেশ ২৫:১১.
যিশুর মতো চিন্তা করুন যে, আপনি কখন সত্য জানাবেন এবং কতটা জানাবেন (১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৬. ‘সত্যে চলার’ জন্য আমরা কীভাবে আমাদের বাইবেল ছাত্রদের সাহায্য করতে পারি?
১৬ আমরা লোকদের যিহোবার বিষয়ে সত্য শেখাতে পেরে খুবই খুশি হই। এই প্রবন্ধে আমরা জেনেছি যে, ‘সত্যে চলার’ জন্য আমরা কীভাবে অন্যদের সাহায্য করতে পারি? আমরা তাদের কাছে এক উত্তম উদাহরণ রাখতে পারি। (৩ যোহন ৩, ৪) আমাদের জীবনধারার মাধ্যমে অন্যদের শেখাতে পারি যে, বাইবেলের সত্যগুলোর উপর এবং প্রতিজ্ঞার উপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সত্যি কথা বলার সময় আমাদের উদ্দেশ্য যেন সৎ হয়। আমাদের কথাবার্তা সদয় হওয়া উচিত অর্থাৎ আমাদের ভেবে-চিন্তে কথা বলা উচিত এবং সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলা উচিত। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আমরা যেন সমস্ত গৌরব যিহোবাকেই দিই। আমরা যদি এগুলো করি, তা হলে আমরা দেখাতে পারব যে, আমরা সত্যের ঈশ্বর যিহোবার উপাসনা করছি।
গান ১৬০ “সুসংবাদ”!
a ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা,: প্রথম ছবিতে দেখানো হয়েছে, এক ভাই লক্ষ করেন যে, একজন ব্যক্তির ঘরে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো আছে এবং তিনি সেই ব্যক্তিকে একটা প্রবন্ধ থেকে দেখান যে, বড়োদিন কোথা থেকে এসেছে। দ্বিতীয় ছবিতে দেখানো হয়েছে, ভাই সেই ব্যক্তিকে এমন একটা প্রবন্ধ দেখাচ্ছেন, যেটাতে বাবাদের জন্য উত্তম পরামর্শ রয়েছে। আপনার কি মনে হয়, এই দুটো উপায়ের মধ্যে কোনটা বেশি কার্যকরী?