অধ্যয়ন প্রবন্ধ ৪৩
গান ৪১ শোনো যিহোবা এই প্রার্থনা
অন্যদের জন্য প্রার্থনা করতে ভুলবেন না
“একে অন্যের জন্য প্রার্থনা করো . . . একজন ধার্মিক ব্যক্তির বিনতির জোরালো প্রভাব রয়েছে।”—যাকোব ৫:১৬.
আমরা কী শিখব?
একে অন্যের জন্য প্রার্থনা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে আমরা তা করতে পারি?
১. কীভাবে আমরা জানতে পারি যে, আমাদের প্রার্থনা যিহোবার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ?
প্রার্থনা হল এক চমৎকার ব্যবস্থা। একবার চিন্তা করে দেখুন, যিহোবা কিছু কাজ স্বর্গদূতদের দিয়েছেন। (গীত. ৯১:১১) তিনি এমনকী তাঁর পুত্রকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। (মথি ২৮:১৮) কিন্তু, প্রার্থনা শোনার বিষয়ে কী বলা যায়? প্রার্থনা শোনার অধিকার শুধুমাত্র যিহোবারই আছে। যিহোবা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের প্রার্থনা শোনেন কারণ বাইবেল যিহোবা সম্বন্ধে বলে, “তুমিই প্রার্থনা শুনে থাক।”—গীত. ৬৫:২, NW.
২. অন্যদের জন্য প্রার্থনা করার বিষয়ে প্রেরিত পৌল কোন উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন?
২ যদিও আমরা নির্দ্বিধায় যিহোবাকে আমাদের চিন্তাভাবনার কথা জানাতে পারি, কিন্তু অন্যদের জন্যও আমাদের প্রার্থনা করা উচিত। প্রেরিত পৌল ঠিক এটাই করেছিলেন। উদাহরণ স্বরূপ, তিনি ইফিষীয় মণ্ডলীর উদ্দেশে লিখেছিলেন: “প্রার্থনা করার সময় আমি সবসময় তোমাদের বিষয়ে উল্লেখ করি।” (ইফি. ১:১৬) পৌল ব্যক্তি-বিশেষের জন্যও আলাদা করে প্রার্থনা করেছিলেন। যেমন, তিনি তীমথিয়কে বলেছিলেন: “আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে, দিনরাত বিনতি করার সময় আমি তোমার কথা স্মরণ করি।” (২ তীম. ১:৩) এটা ঠিক যে, পৌল তার নিজের সমস্যার জন্য প্রার্থনা করতেন। (২ করি. ১১:২৩; ১২:৭, ৮) কিন্তু, তা সত্ত্বেও তিনি অন্যদের বিষয়ে প্রার্থনা করার জন্য সময় করে নিতেন।
৩. কেন আমরা অনেকসময় অন্যদের জন্য প্রার্থনা করতে ভুলে যাই?
৩ অনেকসময় আমরা হয়তো অন্যদের জন্য প্রার্থনা করতে ভুলে যাই। কেন? এর একটা কারণ সম্বন্ধে সাবরিনাa নামে একজন খ্রিস্টান বোন বলেন: “আমাদের দৈনন্দিন জীবন খুবই ব্যস্ততায় কাটে। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো নিয়ে এতটাই বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ি যে, প্রার্থনার করার সময় আমরা শুধু নিজেদের প্রয়োজনগুলোর কথাই বলি।” আপনারও কি এমনটা হয়? যদি তা-ই হয়, তা হলে এই প্রবন্ধটা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে? (১) এই প্রবন্ধ থেকে আপনি জানতে পারবেন, অন্যদের জন্য প্রার্থনা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং (২) কীভাবে আপনি তা করতে পারেন।
কেন অন্যদের জন্য প্রার্থনা করবেন?
৪-৫. আমাদের প্রার্থনা কীভাবে অন্যদের উপর এক “জোরালো প্রভাব” ফেলতে পারে? (যাকোব ৫:১৬)
৪ অন্যদের জন্য প্রার্থনা করার একটা “জোরালো প্রভাব রয়েছে।” (পড়ুন, যাকোব ৫:১৬.) অন্যদের জন্য প্রার্থনা করলে সত্যিই কি তাদের পরিস্থিতি বদলাতে পারে? হ্যাঁ, অবশ্যই পারে। যিশু জানতেন, প্রেরিত পিতর তাঁকে অস্বীকার করবেন আর তাই তিনি পিতরকে বলেছিলেন: “আমি তোমার জন্য বিনতি করেছি, যেন তোমার বিশ্বাস দুর্বল হয়ে না পড়ে।” (লূক ২২:৩২) পৌলও এটা জানতেন, প্রার্থনা একজন ব্যক্তির পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে। তাকে যখন অন্যায়ভাবে রোমে বন্দি করা হয়েছিল, তখন তিনি ফিলীমনকে লিখেছিলেন: “আমি আশা করছি, তোমাদের প্রার্থনার ফলে আমি তোমাদের কাছে ফিরে যাব।” (ফিলী. ২২) আর এটাই হয়েছিল, পৌল খুব তাড়াতাড়ি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আবার প্রচার কাজ শুরু করতে পেরেছিলেন।
৫ তবে, এর মানে এই নয় যে, প্রার্থনা করার মাধ্যমে আমরা যিহোবাকে কোনো কিছু করার জন্য জোর করব। যিহোবা জানেন, তাঁর সেবকেরা কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে আর তারা যা চায়, অনেকসময় যিহোবা তাদের প্রার্থনা শুনে পদক্ষেপ নেন। এই বিষয়টা আমরা উপলব্ধি করি আর এটা আমাদের তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করতে সাহায্য করে এবং আমরা নিশ্চিতভাবে সব কিছু তাঁর হাতে ছেড়ে দিতে পারি।—গীত. ৩৭:৫; ২ করি. ১:১১.
৬. অন্যদের জন্য প্রার্থনা করা কীভাবে দেখায় যে, আমরা তাদের জন্য চিন্তা করি? (১ পিতর ৩:৮)
৬ অন্যদের জন্য প্রার্থনা করা আমাদের “কোমল সমবেদনা” গড়ে তুলতে সাহায্য করে। (পড়ুন, ১ পিতর ৩:৮.) সমবেদনার অর্থ হল, একজন ব্যক্তির কষ্ট বুঝতে পারা এবং তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যাওয়া। (মার্ক ১:৪০, ৪১) মাইকেল নামে একজন প্রাচীন বলেন: “আমি যখন অন্যদের জন্য প্রার্থনা করি, তখন আমি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি যে, তারা কোন ধরনের সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করছে আর এর ফলে তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা আরও গভীর হয়ে ওঠে এবং আমি তাদের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠি, সেটা তারা বুঝতে পারুক বা না-ই পারুক।” অন্যদের জন্য প্রার্থনা করার আর একটা উপকার সম্বন্ধে রিচার্ড নামে একজন প্রাচীন বলেন: “আমরা যখন কারো জন্য প্রার্থনা করি, তখন আমাদের মনে তাকে সাহায্য করার জন্য ইচ্ছা বেড়ে যায়।” তিনি আরও বলেন: “যে-ব্যক্তির জন্য আমরা প্রার্থনা করছি, তাকে যদি আমরা সাহায্য করি, তা হলে এক অর্থে যিহোবা আমাদের মাধ্যমেই সেই ব্যক্তির প্রার্থনার উত্তর দিচ্ছেন।”
৭. অন্যদের জন্য প্রার্থনা করা কীভাবে আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোর প্রতি এক সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে সাহায্য করে? (ফিলিপীয় ২:৩, ৪) (ছবিগুলোও দেখুন।)
৭ অন্যদের জন্য প্রার্থনা করার ফলে আমরা ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পারি। (পড়ুন, ফিলিপীয় ২:৩, ৪.) শয়তানের এই জগতে আমাদের প্রত্যেককে কোনো-না-কোনো কষ্টের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়। (১ যোহন ৫:১৯; প্রকা. ১২:১২) আমরা যখন ক্রমাগত অন্যদের জন্য প্রার্থনা করি, তখন আমরা এটা মনে রাখার চেষ্টা করি যে, আমাদের “সমস্ত ভাইয়েরাও একই ধরনের কষ্ট ভোগ করছে।” (১ পিতর ৫:৯) ক্যাথরিন নামে একজন অগ্রগামী বোন বলেন: “অন্যদের জন্য আমি যখন প্রার্থনা করি, তখন সেটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, প্রত্যেক মানুষেরই সমস্যা রয়েছে আর তাই আমি নিজের সমস্যাকে বড়ো করে দেখি না।”
অন্যদের জন্য যখন আমরা প্রার্থনা করি, তখন আমাদের নিজেদের সমস্যাগুলোকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পারি (৭ অনুচ্ছেদ দেখুন)d
আমাদের প্রার্থনা তাদের জন্য খুবই প্রয়োজন
৮. কাদের জন্য আমরা প্রার্থনা করতে পারি, এর কিছু উদাহরণ দিন।
৮ কাদের জন্য আমরা প্রার্থনা করতে পারি? আমরা সেই সমস্ত ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে পারি যারা অসুস্থ আর সেই অল্পবয়সিদের জন্য, যাদের নিয়ে স্কুলের বন্ধুরা হাসিঠাট্টা করে এবং খারাপ কাজ করার জন্য প্রলোভিত করে। এ ছাড়া, সেই বয়স্কদের জন্যও আমরা প্রার্থনা করতে পারি, যারা বার্ধক্যের কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে আর এমন ভাই-বোনদের জন্য, যারা তাদের নিজেদের পরিবারের কাছ থেকে অথবা সরকারের কাছ থেকে আসা বিরোধিতা সহ্য করছে। (মথি ১০:১৮, ৩৬; প্রেরিত ১২:৫) অনেক ভাইদের আবার রাজনৈতিক দাঙ্গার কারণে নিজেদের ঘর-বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। অনেকে আবার প্রাকৃতিক দুযোর্গেরও শিকার হয়েছে। আমরা হয়তো এই ভাই-বোনদের ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কিন্তু, আমরা যখন তাদের জন্য প্রার্থনা করি, তখন আমরা যিশুর দেওয়া এই আজ্ঞা পালন করি, “পরস্পরকে প্রেম করো।”—যোহন ১৩:৩৪.
৯. কেন আমাদের সেই ভাইদের জন্য এবং তাদের স্ত্রীদের জন্য প্রার্থনা করা উচিত, যারা যিহোবার সংগঠনে নেতৃত্ব নিচ্ছে?
৯ এ ছাড়া, আমরা সেই সমস্ত ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে পারি, যারা যিহোবার সংগঠনে নেতৃত্ব নিচ্ছেন। এদের অন্তর্ভুক্ত হল, পরিচালকগোষ্ঠী এবং তাদের সাহায্যকারীরা, শাখা কমিটি, শাখা অফিসে সেবা করেন এমন কিছু দায়িত্ববান অধ্যক্ষ, সীমা অধ্যক্ষ, মণ্ডলীর প্রাচীন ও পরিচারক দাসেরা। এই ভাইদের মধ্যে অনেকেরই ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা আমাদের সাহায্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। (২ করি. ১২:১৫) যেমন, মার্ক নামে একজন সীমা অধ্যক্ষ বলেন: “আমার বয়স্ক বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকা হল, আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয়। তাদের দু-জনেরই স্বাস্থ্য খুবই খারাপ। যদিও আমার বোন ও তার স্বামী তাদের দেখাশোনা করছে, তবুও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাদের জন্য বেশি কিছু করতে পারি না বলে, আমার খুব কষ্ট হয়।” আমরা এই সমস্ত ভাইয়ের সমস্যার কথা জানি বা না জানি, তাদের জন্য আমাদের প্রার্থনা করা উচিত। (১ থিষল. ৫:১২, ১৩) এ ছাড়া, আমরা এই ভাইদের স্ত্রীদের জন্যও প্রার্থনা করতে পারি কারণ তাদের সহযোগিতার ফলে ভাইয়েরা ক্রমাগত তাদের কার্যভার পালন করতে পারছে।
১০-১১. আমরা যখন একসঙ্গে অনেক ভাই-বোনের জন্য প্রার্থনা করি, তখন কি যিহোবা খুশি হন? বুঝিয়ে বলুন।
১০ আমরা যেমন এই প্রবন্ধে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি যে, সাধারণত আমরা সব ভাই-বোনের জন্য প্রায়ই প্রার্থনা করে থাকি। যেমন, কোনো ব্যক্তির নাম আলাদাভাবে উল্লেখ না করে, আমরা সেই সমস্ত ভাইয়ের জন্য যিহোবার কাছে সাহায্য চাইতে পারি, যারা জেলে রয়েছে। অথবা যারা মৃত্যুতে তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আমরা যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতে পারি। ডোনাল্ড নামে একজন প্রাচীন বলেন, “বর্তমানে আমাদের অনেক ভাই-বোন বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করছে। তাই, আমরা অনেকসময় তাদের প্রত্যেকের জন্য একসঙ্গে প্রার্থনা করে থাকি। আমরা যিহোবাকে বলি, তিনি যেন তাদের সবাইকে সাহায্য করেন।”
১১ এই ধরনের প্রার্থনা শুনে, যিহোবা কি খুশি হন? অবশ্যই, হন! আমরা ব্যক্তিগতভাবে জানি না যে, আমাদের সমস্ত ভাই-বোনের কী প্রয়োজন। তাই, একসঙ্গে কিছু ভাই-বোনের জন্য প্রার্থনা করা ভুল হবে না। (যোহন ১৭:২০; ইফি. ৬:১৮) আর এই ধরনের প্রার্থনা থেকে বোঝা যায় যে, আমাদের “সমগ্র ভ্রাতৃসমাজের প্রতি প্রেম” রয়েছে।—১ পিতর ২:১৭.
যখন কোনো ব্যক্তি-বিশেষের জন্য আমরা প্রার্থনা করি
১২. সব বিষয়ে ভালোভাবে লক্ষ করলে এটা আমাদের কী করতে সাহায্য করবে?
১২ ভালোভাবে লক্ষ করুন। একসঙ্গে অনেক ভাই-বোনের জন্য প্রার্থনা করা ছাড়াও, আমরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভাই বা বোনের নাম নিয়ে প্রার্থনা করতে পারি। আপনার মণ্ডলীতে কি এমন কেউ আছে, যে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে? এমন কোনো অল্পবয়সি কি আছে, যাকে স্কুলে মন্দ কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে? “যিহোবার শাসনে ও উপদেশে” সন্তানকে বড়ো করে তোলার জন্য কোনো একক বাবা অথবা মা কি কঠোর পরিশ্রম করছে? (ইফি. ৬:৪) আপনি যদি এই সব বিষয় ভালোভাবে লক্ষ করেন, তা হলে আপনি ভাই-বোনদের কষ্ট ভালোভাবে বুঝতে পারবেন এবং তাদের প্রতি আপনার ভালোবাসা আরও গভীর হবে। এর ফলে, আপনি তাদের জন্য আরও বেশি করে প্রার্থনা করতে চাইবেন।b—রোমীয় ১২:১৫.
১৩. কীভাবে আমরা সেই ভাই-বোনদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি, যাদের সঙ্গে আমাদের কখনো দেখা হয়নি?
১৩ নির্দিষ্টভাবে কারো নাম নিয়ে প্রার্থনা করুন। আমরা তাদের জন্য প্রার্থনা করতে পারি, যাদের সঙ্গে আমাদের কখনো দেখা হয়নি। যেমন, সেই সমস্ত ভাই ও বোন যারা তাদের বিশ্বাসের জন্য ক্রাইমিয়া, এরিট্রিয়া, রাশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের জেলে বন্দি রয়েছে। আপনি তাদের নাম jw.org ওয়েবসাইটে পেতে পারেন।c ব্রায়েন নামে একজন সীমা অধ্যক্ষ বলেন: “যে-সমস্ত ভাই-বোন জেলে আছে, তাদের নাম লিখে রাখা এবং জোরে জোরে তাদের নাম উচ্চারণ করা আমাকে ব্যক্তিগত প্রার্থনার সময় তাদের নাম মনে রাখতে সাহায্য করেছে।”
১৪-১৫. কীভাবে আমরা ভাই-বোনদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে প্রার্থনা করতে পারি?
১৪ নির্দিষ্টভাবে অনুরোধ জানান। মাইকেল, যার কথা আমরা আগে উল্লেখ করেছি, তিনি বলেন: “jw.org ওয়েবসাইটে, আমি যখন সেই সমস্ত ভাইয়ের বিষয়ে পড়ি যারা জেলে রয়েছে, তখন আমি ভাবি আমি যদি তাদের পরিস্থিতিতে থাকতাম, তা হলে আমি কী করতাম। আমি হয়তো আমার স্ত্রীর জন্য চিন্তা করতাম আর ভাবতাম সে ঠিক আছে কি না আর এটাই আমাকে নির্দিষ্টভাবে বিবাহিত ভাইদের জন্য প্রার্থনা করতে সাহায্য করেছিল।”—ইব্রীয় ১৩:৩, পাদটীকা।
১৫ জেলের মধ্যে ভাইয়েরা কীভাবে জীবন কাটাচ্ছে, এই বিষয়ে যখন আমরা চিন্তা করব, তখন আমরা নির্দিষ্টভাবে সেই সমস্ত ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করার অনেক কারণ খুঁজে পাব। যেমন ধরুন, আমরা প্রার্থনা করতে পারি, কারারক্ষীরা যেন আমাদের ভাইদের প্রতি সদয় হয় আর আধিকারিকেরা যেন আমাদের ভাইদের শান্তিতে উপাসনা করার সুযোগ দেয়। (১ তীম. ২:১, ২) এ ছাড়া, জেলে বন্দি রয়েছে এমন ভাইদের স্থানীয় মণ্ডলীর জন্য আমরা প্রার্থনা করতে পারি, যাতে তাদের উত্তম উদাহরণ সেই মণ্ডলীর ভাই-বোনদের উৎসাহিত করতে পারে। অথবা আমরা এও প্রার্থনা করতে পারি যে, সেই ভাইদের উত্তম আচার-আচরণ দেখে সাক্ষি নয় এমন লোকেরাও যেন আমাদের বার্তা শুনতে আগ্রহ দেখায়। (১ পিতর ২:১২) ঠিক একইভাবে, আমরা সেই সব ভাই ও বোনের জন্য প্রার্থনা করতে পারি, যারা অন্য ধরনের পরীক্ষা সহ্য করছে। আমরা যদি সব বিষয়ে ভালোভাবে লক্ষ করি, প্রার্থনা করার সময় ভাই-বোনদের নাম নিই এবং যিহোবার কাছে নির্দিষ্টভাবে অনুরোধ জানাই, তা হলে এটা আমাদের ভাইদের প্রতি ‘আরও বেশি প্রেম দেখাতে সাহায্য করবে।’—১ থিষল. ৩:১২.
প্রার্থনার বিষয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা
১৬. কীভাবে আমরা প্রার্থনা করার বিষয়ে এক সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে পারি? (মথি ৬:৮)
১৬ আমরা যেমন ইতিমধ্যেই দেখেছি যে, যখন আমরা কারো জন্য নির্দিষ্টভাবে প্রার্থনা করি, তখন হয়তো তার পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কিন্তু, এই বিষয়ে আমাদের একটা সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। তাই, প্রার্থনা করার সময় আমরা মনে রাখব যে, আমরা যিহোবাকে এমন কিছু জানাচ্ছি না, যেটা তিনি ইতিমধ্যে জানেন না, কিংবা কোনো সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়, সেই বিষয়ে আমরা তাঁকে কোনো পরামর্শ দিচ্ছি না। আমরা নিজেরা না জানলেও, যিহোবা জানেন তাঁর সেবকদের বা আমাদের কী প্রয়োজন। (পড়ুন, মথি ৬:৮.) তাহলে, অন্যদের জন্য আমরা কেন প্রার্থনা করব? এই প্রবন্ধে আমরা প্রার্থনা করার যে-কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলো ছাড়াও আরও একটা বড়ো কারণ হল, প্রার্থনা করার মাধ্যমে আমরা দেখাতে পারি যে, আমরা অন্যদের কতটা ভালোবাসি। এই ভালোবাসাই আমাদের অন্যদের জন্য প্রার্থনা করতে অনুপ্রাণিত করে আর যিহোবা যখন দেখেন তাঁর সেবকেরা একে অপরের প্রতি প্রেম দেখাচ্ছে, তখন তিনি খুবই খুশি হন।
১৭-১৮. কেন আমরা ভাই-বোনদের জন্য প্রার্থনা করি এবং এটা দেখে যিহোবার কেমন লাগে? একটা উদাহরণ দিন।
১৭ আমাদের প্রার্থনার ফলে অন্যদের পরিস্থিতি যদি না-ও বদলায়, তবুও এটা দেখায় যে, আমরা আমাদের ভাই-বোনদের কতটা ভালোবাসি আর যিহোবা এই বিষয়টা লক্ষ করেন। এই বিষয়টা, আমরা এভাবে দেখতে পারি: চিন্তা করুন, একটা পরিবারে দুটো বাচ্চা রয়েছে—একটা ছেলে ও একটা মেয়ে। ছেলেটা অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে রয়েছে আর তার ছোট্ট বোন বাবাকে বলছে: “বাবা তুমি কিছু করো, দাদা খুব কষ্ট পাচ্ছে!” বাবা ইতিমধ্যেই জানেন যে, তাকে কী করতে হবে এবং তিনি তার ছেলেকে খুবই ভালোবাসেন ও তার যত্ন নিচ্ছেন। কিন্তু, যখন তিনি দেখেন তার ছোট্ট মেয়ে দাদার জন্য চিন্তা করছে এবং তাকে সাহায্য করতে চাইছে, তখন সেটা দেখে তিনি খুব খুশি হন।
১৮ যিহোবা আমাদের এটাই করতে উৎসাহ দেন, আমরা যেন একে অপরের জন্য চিন্তা করি এবং প্রার্থনা করি। যখন আমরা অন্যদের জন্য প্রার্থনা করি, তখন সেটা দেখায় যে, আমরা কতটা নিঃস্বার্থভাবে আমাদের ভাই-বোনদের ভালোবাসি আর সেটা যিহোবা লক্ষ করেন। (২ থিষল. ১:৩; ইব্রীয় ৬:১০) এ ছাড়া, আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করেছি, কীভাবে আমাদের প্রার্থনা অনেকসময় অন্যদের পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে। তাই, আসুন আমরা যেন কখনো একে অপরের জন্য প্রার্থনা করতে ভুলে না যাই।
গান ১০১ একতায় সেবা করি
a কিছু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
b jw.org ওয়েবসাইট থেকে তাকেশি শিমিযু: যিহোবা হলেন “প্রার্থনা-শ্রবণকারী” শিরোনামের ভিডিওটা দেখুন।
c যে সমস্ত ভাই-বোন বিশ্বাসের কারণে জেলে রয়েছে, তাদের নাম জানার জন্য jw.org ওয়েবসাইট-এ যান এবং “Jehovahs Witnesses Imprisoned for Their Faith—By Location-এ খুঁজুন।”
d ছবি সম্বন্ধে বর্ণনা: ভাই-বোনেরা, নিজেরা সমস্যায় থাকা সত্ত্বেও, অন্যদের জন্য প্রার্থনা করে থাকে।