অধ্যয়ন প্রবন্ধ ৩৮
গান ১২০ যিশুর মতো মৃদুশীল হই
অন্যদের প্রতি সম্মান দেখান
“সোনা ও রুপোর চেয়ে সম্মান লাভ করা আরও ভালো।”—হিতো. ২২:১, NW.
আমরা কী শিখব?
আমরা শিখব যে, কেন আমাদের অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও কীভাবে আমরা সম্মান দেখাতে পারি।
১. লোকদের প্রতি যখন সম্মান দেখানো হয়, তখন তারা কেন খুশি হয়? (হিতোপদেশ ২২:১)
কেউ যখন আপনাকে সম্মান করে, তখন কি আপনি খুশি হন? অবশ্যই আপনি খুশি হন। প্রত্যেক মানুষই চায়, অন্যেরা যেন তাদের সম্মান করে। যখন কেউ আমাদের সম্মান করে, তখন আমাদের খুব ভালো লাগে। তাই, এটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয় কারণ বাইবেল বলে, “সোনা ও রুপোর চেয়ে সম্মান লাভ করা আরও ভালো!”—পড়ুন, হিতোপদেশ ২২:১, NW.
২-৩. কোন কোন পরিস্থিতিতে অন্যদের প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো উচিত?
২ সকলের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের পক্ষে অনেকসময় সহজ না-ও হতে পারে। এর একটা কারণ হল, আমরা বেশিরভাগ সময়ে অন্যদের ভুলগুলোর দিকে বেশি নজর দিই। এ ছাড়া, আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন লোকেরা একে অপরকে সম্মান করে না। কিন্তু, আমরা তাদের চেয়ে একেবারে আলাদা। কেন? কারণ যিহোবা চান, আমরা যেন ‘সকলকে সমাদর করি।’—১ পিতর ২:১৭.
৩ এই প্রবন্ধে আমরা জানতে পারব, অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানোর মানে কী এবং কীভাবে আমরা (১) পরিবারের সদস্যদের প্রতি, (২) সহউপাসকদের প্রতি এবং (৩) যারা মণ্ডলীর বাইরে আছে, তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারি। এ ছাড়া, আমরা বিশেষভাবে এটাও জানতে পারব, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে সম্মান দেখানো যায়।
অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানোর মানে কী?
৪. অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানোর মানে কী?
৪ আপনি সম্মান শব্দটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? কোনো কোনো ভাষায়, “সম্মান” ও “সমাদর,” এই দুটো শব্দ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কীভাবে? “সম্মান” শব্দটা সাধারণত এটা বোঝায় যে, আমরা একজন ব্যক্তিকে কোন দৃষ্টিতে দেখি। হতে পারে, কোনো ব্যক্তির গুণ, সফলতা অথবা পদমর্যাদার ভিত্তিতে আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু, আমরা অন্যদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি, সেই ক্ষেত্রে “সমাদর” শব্দটা ব্যবহার করা হয়। তাই, কাউকে যখন আমরা সমাদর করি, তখন সেটার মানে হল, আমরা তাকে মূল্যবান বলে মনে করি, তার প্রতি উপলব্ধি দেখাই এবং তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিই। তাই, আমরা যখন কাউকে সম্মান করব, তখন সেটা যেন আমরা হৃদয় থেকে করি।—মথি ১৫:৮.
৫. কোন বিষয়টা আমাদের অন্যদের প্রতি সম্মান দেখাতে সাহায্য করবে?
৫ যিহোবা চান, আমরা যেন অন্যদের সম্মান করি, এমনকী তিনি চান আমরা যেন,“ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের” প্রতিও সম্মান দেখাই। (রোমীয় ১৩:১, ৭) কিন্তু, কেউ কেউ হয়তো বলতে পারে, “আমি শুধু তাদেরই সম্মান করব, যারা সঠিক কাজ করবে।” এই যুক্তিটা কি ঠিক? যিহোবার একজন সেবক হিসেবে আমরা জানি, মানুষকে আমরা শুধুমাত্র তাদের কাজের জন্য নয়, কিন্তু আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণের জন্য সম্মান করি আর সেটা হল, যিহোবার প্রতি আমাদের ভালোবাসা এবং তাঁকে খুশি করার ইচ্ছা।—যিহো. ৪:১৪; ১ পিতর ৩:১৫.
৬. কোনো ব্যক্তি যদি আপনাকে অসম্মান করে, তা হলে আপনার পক্ষে কি তার প্রতি সম্মান দেখানো সম্ভব? বুঝিয়ে বলুন। ( ছবিও দেখুন।)
৬ অনেকে হয়তো ভাবতে পারে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি আপনাকে অসম্মান করে, তা হলে আপনার পক্ষে কি তার প্রতি সম্মান দেখানো সম্ভব?’ হ্যাঁ, সম্ভব। আসুন, আমরা কয়েকটা উদাহরণ দেখি। রাজা শৌল সবার সামনে তার ছেলে যোনাথনকে অপমান করেছিলেন। (১ শমূ. ২০:৩০-৩৪) কিন্তু তা সত্ত্বেও, যোনাথন তার বাবা শৌলের মৃত্যুদিন পর্যন্ত তাকে যুদ্ধে সমর্থন করেছিলেন। (যাত্রা. ২০:১২; ২ শমূ. ১:২৩) মহাযাজক এলি হান্নাকে মাতাল বলে অভিযোগ করেছিলেন। (১ শমূ. ১:১২-১৪) কিন্তু, তা সত্ত্বেও হান্না এলির প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন, যদিও একজন বাবা ও মহাযাজক হিসেবে ইজরায়েলে এলির তেমন কোনো সুনাম ছিল না। (১ শমূ. ১:১৫-১৮; ২:২২-২৪) এ ছাড়া, এথেন্সের কিছু লোক পৌলকে ‘বাচাল’ বলে অপমানিত করেছিল। (প্রেরিত ১৭:১৮) কিন্তু, তারপরও পৌল তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন। (প্রেরিত ১৭:২২) তাই, এর থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যিহোবার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সশ্রদ্ধ ভয় আমাদের ভালো বা খারাপ, যেকোনো পরিস্থিতিতে সকলের প্রতি সম্মান দেখাতে অনুপ্রাণিত করবে। আসুন, এখন আমরা আলোচনা করি, কারা আমাদের সম্মান পাওয়ার যোগ্য এবং কেন?
যোনাথনের বাবা যদিও যোনাথনকে অপমান করেছিলেন, তবুও তিনি তার বাবাকে একজন রাজা হিসেবে ক্রমাগত সমর্থন ও রক্ষা করে গিয়েছিলেন (৬ অনুচ্ছেদ দেখুন)
পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখান
৭. কোন কোন কারণে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে?
৭ কেন এটা করা কঠিন? সাধারণত, আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনেক সময় কাটাই। এর ফলে, আমরা তাদের ভালো গুণ এবং দুর্বলতা দুটোই জানি। আমাদের পরিবারে কেউ হয়তো এমন কোনো অসুস্থতায় ভুগছে, যার যত্ন নেওয়া আমাদের জন্য কঠিন হতে পারে অথবা এমন কেউ আছে, যে-অতিরিক্ত মানসিক চাপের সঙ্গে লড়াই করছে। এ ছাড়া, আমরা হয়তো কারো কথাবার্তা ও আচরণের কারণে দুঃখ পেতে পারি। পরিবারে এমন সদস্যেরাও থাকতে পারে, যারা অন্যদের একেবারে সম্মান করে না এবং পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি করে। ফলে, পরিবারের একতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক যেমন, কোনো রোগ হলে আমাদের শরীর সঠিকভাবে কাজ করে না, একইভাবে পরিবারের সদস্যেরা যদি একে অপরকে অসম্মান করে, তা হলে পরিবারও একতাবদ্ধভাবে কাজ করতে পারবে না। তবে, কিছু রোগের যেমন চিকিৎসা করা সম্ভব, ঠিক তেমনই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পক্ষে একে অপরকে সম্মান করাও সম্ভব।
৮. কেন পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ? (১ তীমথিয় ৫:৪, ৮)
৮ কেন সম্মান দেখানো উচিত? (পড়ুন, ১ তীমথিয় ৫:৪, ৮.) তীমথিয়ের উদ্দেশে লেখা তার প্রথম চিঠিতে, পৌল বলেছিলেন, কীভাবে পরিবারের সদস্যেরা একে অপরের প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখতে পারে। তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, পরিবারের মধ্যে একে অপরের দেখাশোনা করা, শুধুমাত্র আমাদের কর্তব্য নয়, এটা হল আমাদের “ঈশ্বরীয় ভক্তির” একটা প্রকাশ। এর মানে হল, আমরা যিহোবাকে ভালোবাসি এবং পরিবারের দেখাশোনা করাকে আমাদের উপাসনার এক অংশ হিসেবে দেখি। যিহোবা পারিবারিক ব্যবস্থার সূত্রপাত করেছিলেন। (ইফি. ৩:১৪, ১৫) তাই, যখন আমরা আমাদের পরিবারের কোনো সদস্যকে সমাদর করি, তখন আসলে আমরা যিহোবাকেই সমাদর করি, যিনি হলেন পরিবারের উদ্যোক্তা। (১ তীম. ৫:৪) তাই, পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখানোর এটা কতই-না এক গুরুত্বপূর্ণ কারণ!
৯. কীভাবে একজন স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের প্রতি সম্মান দেখাতে পারে? (ছবিগুলোও দেখুন।)
৯ অন্যদের প্রতি কীভাবে আমরা সম্মান দেখাব? একজন স্বামী যখন একা থাকার সময় বা অন্যদের সামনে তার স্ত্রীকে সমাদর করেন, তখন তিনি দেখান যে, তার স্ত্রী তার কাছে কতটা মূল্যবান। (হিতো. ৩১:২৮; ১ পিতর ৩:৭) একজন স্বামী কখনো তার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলবেন না, তাকে অপমান করবেন না অথবা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবেন না। এরিয়েলa নামে একজন ব্যক্তি যিনি আর্জেন্টিনায় থাকেন, তিনি বলেন: “যেহেতু, আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিল, তাই অনেকসময় সে এমন কিছু বলত, যেটা শুনে আমার খুব খারাপ লাগত। কিন্তু, আমি জানতাম যে, এটা তার মনের কথা নয়। সেইসময় আমি ১ করিন্থীয় ১৩:৫ পদের কথা মনে করতাম, যেটা আমাকে আমার স্ত্রীর সঙ্গে রূঢ়ভাবে নয় বরং সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে সাহায্য করত।” (হিতো. ১৯:১১) অপর দিকে, একজন স্ত্রীর কর্তব্য হল, অন্যদের কাছে তার স্বামীর সুনাম করা। (ইফি. ৫:৩৩) তিনি কখনো তার স্বামীর সমালোচনা অথবা তাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা বা তাকে অপমান করবেন না, কারণ তিনি বোঝেন যে, এই ধরনের আচরণ একটা বিয়ের সম্পর্ককে ভেঙে দিতে পারে। (হিতো. ১৪:১) ইতালির একজন বোনের স্বামী সবসময় দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতেন, তার বিষয়ে বোন বলেন: “অনেকসময় আমার মনে হত যে, আমার স্বামী বিনা কারণে অতিরিক্ত চিন্তা করছে। আর এই কারণে আমার কথাবার্তা ও হাবভাবের মধ্যে প্রায়ই বিরক্তি প্রকাশ পেত। কিন্তু, পরে আমি এটা বুঝতে পারি, যত আমি সেই সমস্ত ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা করব, যারা একে অপরকে সম্মান করে, ততই আমি আমার স্বামীর প্রতি সম্মান দেখাতে পারব।”
পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের পরিবারের মস্তক যিহোবাকে সম্মান দেখাই (৯ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১০. কীভাবে অল্পবয়সিরা তাদের বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে পারে?
১০ অল্পবয়সিরা, তোমরা পরিবারের নিয়মগুলো মেনে চলার চেষ্টা কর, যেগুলো তোমাদের বাবা-মা তোমাদের জন্য স্থির করেছেন। (ইফি. ৬:১-৩) বাবা-মাকে সম্মান দিয়ে কথা বল। (যাত্রা. ২১:১৭) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের হয়তো তোমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হবে। তাদের খুব ভালোভাবে যত্ন নেওয়ার চেষ্টা কর। উদাহরণ স্বরূপ, মারিয়ার কথা একবার ভেবে দেখো। তার বাবা যিহোবার সাক্ষি ছিলেন না। কিন্তু, তিনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন মারিয়ার পক্ষে তার দেখাশোনা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। মারিয়া বলেন: “আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতাম, যেন আমি আমার বাবাকে সম্মান করতে পারি এবং কাজের মাধ্যমে তা দেখাতে পারি। আমি নিজেকে বলতাম, যিহোবা যদি চান আমি আমার বাবা-মাকে সম্মান করি, তা হলে তিনি অবশ্যই সেটা করার জন্য আমাকে শক্তি দেবেন। আমি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিলাম, আমার বাবার স্বভাবের কোনো পরিবর্তন না হলেও আমার সবসময় তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা উচিত।” তাই, আমাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও, আমি যদি তাদের সম্মান করি, তা হলে আমি আসলে যিহোবার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখাচ্ছি।
মণ্ডলীর ভাই-বোনদের প্রতি সম্মান দেখান
১১. কেন মণ্ডলীর ভাই-বোনদের প্রতি সম্মান দেখানো কঠিন হতে পারে?
১১ কেন এটা করা কঠিন? আমাদের মণ্ডলীর ভাই-বোনেরা বাইবেলের মান মেনে চললেও মাঝে মাঝে তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে পারে, আমাদের ভুল বুঝতে পারে অথবা এমন কিছু করতে পারে, যার জন্য আমরা রেগে যেতে পারি। আমাদের যদি কোনো ভাই বা বোনের বিরুদ্ধে ‘অভিযোগ করার কারণ’ থাকে, তা হলে তাকে সম্মান করা আমাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। (কল. ৩:১৩) এই ক্ষেত্রে কোন বিষয়টা আমাদের সাহায্য করবে?
১২. কেন মণ্ডলীর ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ? (২ পিতর ২:৯-১২)
১২ কেন সম্মান দেখানো উচিত? (পড়ুন, ২ পিতর ২:৯-১২.) পিতর তার দ্বিতীয় চিঠিতে লিখেছিলেন যে, প্রথম শতাব্দীর খ্রিস্টীয় মণ্ডলীতে কিছু লোক “কর্তৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের” অর্থাৎ প্রাচীনদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক কথা বলছিল। যে-বিশ্বস্ত দূতেরা এই সমস্ত কিছু দেখছিলেন, তাদের কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছিল? “যিহোবার প্রতি সম্মানের কারণে” তারা সেই অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে একটাও খারাপ কথা উচ্চারণ করেননি। একবার চিন্তা করে দেখুন, স্বর্গদূতেরা সেই উদ্ধত লোকদের সঙ্গে রূঢ়ভাবে কথা বলেননি। এর পরিবর্তে, সেই লোকদের বিচার করা ও শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারটা স্বর্গদূতেরা যিহোবার উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। (রোমীয় ১৪:১০-১২; তুলনা করুন, যিহূদা ৯.) এই স্বর্গদূতদের কাছ থেকে আমরা শিখতে পারি যে, আমাদের যদি সেই সমস্ত ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখাতে হয়, যারা আমাদের বিরোধিতা করে, তা হলে মণ্ডলীর ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের কতই-না বেশি সম্মান দেখানো উচিত। তাই, আমাদের “নিজে থেকে এগিয়ে” গিয়ে তাদের সমাদর করা উচিত। (রোমীয় ১২:১০) এটা করার মাধ্যমে আমরা দেখাব যে, আমরা যিহোবাকে সম্মান করছি।
১৩-১৪. কীভাবে আমরা মণ্ডলীর ভাই-বোনদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারি? কিছু উদাহরণ দিন। (ছবিগুলোও দেখুন।)
১৩ অন্যদের প্রতি কীভাবে আমরা সম্মান দেখাব? প্রাচীনেরা, আপনারা প্রেমের সঙ্গে অন্যদের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করুন। (ফিলী. ৮, ৯) যদি কাউকে পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা হলে সেটা সদয়ভাবে দিন, এমন সময়ে দেবেন না যখন হয়তো আপনার মন অস্থির হয়ে আছে। বোনেরা, আপনারা সবসময় এই বিষয়টা খেয়াল রাখবেন যে, মণ্ডলীতে যেন সবাই একে অপরকে সম্মান করে। তাই, কারো বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো বা কাউকে অপবাদ দেওয়া এড়িয়ে চলুন। (তীত ২:৩-৫) আমরা সবাই প্রাচীনদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারি। কীভাবে? তারা যখন সভা পরিচালনা করে, প্রচার কাজে নেতৃত্ব নেয় এবং যারা “ভুল পদক্ষেপ” নিয়েছে, তাদের সাহায্য করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, তখন আমরা তাদের এই কাজগুলোর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারি।—গালা. ৬:১; ১ তীম. ৫:১৭.
১৪ একজন প্রাচীন ভাইয়ের পরামর্শ পেয়ে রোজিও নামে একজন বোনের মনে হয়েছিল যে, তিনি সেই ভাইকে সম্মান করতে পারবেন না। বোন বলেন, “সেই প্রাচীন ভাই আমার সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছিলেন, তাতে আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। বাড়িতে আমি তাকে নিয়ে সমালোচনাও করতাম। যদিও আমি আমার এই অনুভূতি সরাসরি প্রকাশ করিনি, কিন্তু মনে মনে ভাবতাম, এই ভাই আমার জন্য একেবারেই চিন্তা করেন না। আর এর ফলে, আমি তার দেওয়া কোনো পরামর্শ শুনিনি।” কোন বিষয়টা রোজিওকে সাহায্য করেছিল? তিনি বলেন: “আমি বাইবেল থেকে ১ থিষলনীকীয় ৫:১২, ১৩ পদ পড়ি আর যখন আমি বুঝতে পারি যে, এই প্রাচীন ভাইয়ের প্রতি আমি সম্মান দেখাচ্ছি না, তখন আমার বিবেক আমাকে দোষী করতে থাকে। আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করি এবং আমাদের প্রকাশনা থেকে সেই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করি, যেগুলো আমাকে আমার মনোভাব পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে। এটা করার মাধ্যমে আমি বুঝতে পারি, আসল সমস্যাটা সেই ভাই নয় বরং আমার মধ্যে নম্রতার অভাব। এখন আমি এটা বুঝি যে, কারো প্রতি সম্মান দেখাতে হলে আমাকে আগে নম্র হতে হবে। আর এই ক্ষেত্রে আমাকে আরও উন্নতি করতে হবে। তবে, আমি যত অন্যদের সম্মান করব, ততই যিহোবার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।”
মণ্ডলীর প্রাচীনদের সঙ্গে সহযোগিতা করার এবং তাদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি উপলব্ধি দেখানোর মাধ্যমে আমরা সবাই তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে পারি (১৩-১৪ অনুচ্ছেদ দেখুন)
মণ্ডলীর বাইরে যারা রয়েছে, তাদের প্রতি সম্মান দেখান
১৫. মণ্ডলীর বাইরে যারা রয়েছে, তাদের প্রতি সম্মান দেখানো কেন কঠিন হতে পারে?
১৫ কেন এটা করা কঠিন? প্রচারে আমাদের প্রায়ই এমন লোকদের সঙ্গে দেখা হয়, যারা বাইবেলকে সম্মান করে না। (ইফি. ৪:১৮) কেউ কেউ আবার এমন পরিবেশে বড়ো হয়ে উঠেছে, যার ফলে তারা আমাদের কোনো কথাই শুনতে চায় না। আমরা যাদের সঙ্গে কাজ করি অথবা স্কুলের শিক্ষক বা বন্ধুরা হয়তো আমাদের প্রচার কাজকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এর ফলে, তাদের প্রতি আমাদের সম্মান ক্রমশ কমে যেতে পারে আর আমরা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করে ফেলতে পারি।
১৬. যারা এখনও পর্যন্ত যিহোবার সেবা শুরু করেনি, তাদের প্রতি সম্মান দেখানো কেন গুরুত্বপূর্ণ? (১ পিতর ২:১২; ৩:১৫)
১৬ কেন সম্মান দেখানো উচিত? মনে রাখবেন, সাক্ষি নয় এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে আমরা কীভাবে আচরণ করি, সেটা যিহোবা লক্ষ করেন। প্রেরিত পিতর, খ্রিস্টানদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাদের উত্তম কাজ অনেক ব্যক্তিকে “ঈশ্বরের গৌরব” করতে অনুপ্রাণিত করবে। আর ঠিক এই কারণে, তিনি তাদের বলেছিলেন যে, তারা যেন “মৃদুতা এবং গভীর সম্মানের সঙ্গে” তাদের বিশ্বাসের পক্ষসমর্থন করে। (পড়ুন, ১ পিতর ২:১২; ৩:১৫.) উদাহরণ স্বরূপ, একজন খ্রিস্টান কোনো বিচারক, আধিকারিক কিংবা প্রতিবেশীর সামনে এমনভাবে তার বিশ্বাসের পক্ষসমর্থন করবেন, যেন তিনি যিহোবার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এটা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে, আমরা কী বলছি এবং কীভাবে বলছি, সেটা যিহোবা দেখছেন ও শুনছেন। তাই, যারা মণ্ডলীর বাইরে রয়েছে, তাদের প্রতি সম্মান দেখানোর এটা কতই-না জোরালো এক কারণ!
১৭. মণ্ডলীর বাইরে যারা রয়েছে, তাদের প্রতি আমরা কীভাবে সম্মান দেখাতে পারি?
১৭ কীভাবে আমরা সম্মান দেখাব? বাইবেল সম্বন্ধে যাদের অল্প জ্ঞান রয়েছে বা যারা কিছুই জানে না, এমন ব্যক্তিদের কাছে প্রচার করার সময় আমরা কখনো তাদের ছোটো করব না। এর পরিবর্তে, আমরা মনে রাখব, তারা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে মূল্যবান এবং আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (হগয় ২:৭; ফিলি. ২:৩) যদি কেউ আপনাকে আপনার বিশ্বাসের জন্য অপমান করে, তা হলে কোনো ধরনের রূঢ় শব্দ ব্যবহার করে তাকে পালটা অপমান না করেন। (১ পিতর ২:২৩) আপনার যদি মনে হয়, আপনি এমন কিছু বলেছেন, যেটা আপনার বলা উচিত হয়নি, তা হলে সঙ্গেসঙ্গে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। যাদের সঙ্গে আপনি কাজ করেন, তাদের প্রতি আপনি কীভাবে সম্মান দেখাতে পারেন? একজন পরিশ্রমী কর্মী হয়ে উঠুন এবং যাদের সঙ্গে বা যাদের অধীনে আপনি কাজ করেন, তাদের মধ্যে ভালো গুণগুলো দেখার চেষ্টা করুন। (তীত ২:৯, ১০) আপনি যখন সৎ ও পরিশ্রমী হবেন এবং মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করবেন, তখন আপনি সবসময় হয়তো অন্যদের খুশি করতে পারবেন না, তবে অবশ্যই যিহোবাকে খুশি করতে পারবেন।—কল. ৩:২২, ২৩.
১৮. অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
১৮ আমাদের কাছে অন্যদের সম্মান করার কতই-না উত্তম কারণ রয়েছে! আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি যে, যখন আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান দেখাই, তখন আমরা পরিবারের মস্তক যিহোবাকেই সম্মান করি। ঠিক একইভাবে, আমরা যখন আমাদের মণ্ডলীর ভাই-বোনদের সম্মান করি, তখন আমরা আমাদের স্বর্গীয় পিতাকে সমাদর করি। আর যারা মণ্ডলীর বাইরে রয়েছে, তাদের প্রতি আমরা যখন সম্মান দেখাই, তখন তাদের আমরা মহান ঈশ্বর যিহোবাকে সম্মান করার সুযোগ করে দিই। কিছু লোক যদি আমাদের সম্মান না-ও করে, তবুও তাদের প্রতি আমাদের সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কেন? কারণ যিহোবা আমাদের আশীর্বাদ করবেন এবং তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন: “যারা আমাকে সমাদর করে, আমি তাদের সমাদর করব।”—১ শমূ. ২:৩০, NW.
গান ১২৯ শেষ পর্যন্ত থাকব স্থির
a কিছু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।