পাঠকদের কাছ থেকে প্রশ্ন
সুসমাচার প্রচার করা কখন শেষ হবে?
যিশু বলেছিলেন, “সমস্ত জাতি যেন রাজ্যের সুসমাচার জানতে পারে, তাই পুরো পৃথিবীতে এই সুসমাচার প্রচার করা হবে এবং এরপর শেষ আসবে।” (মথি ২৪:১৪) এই পদে এবং ৬ ও ১৩ পদে, যে-গ্রিক শব্দকে “শেষ” হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে, সেটা হল টেলোস। এই শব্দের মানে হল, সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হওয়া। তাই, স্বাভাবিকভাবেই এই পদে আরমাগিদোনের কথা বলা হয়েছে, যখন শয়তানের জগৎ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে। (প্রকা. ১৬:১৪, ১৬) এর মানে হল, আমরা আরমাগিদোনের ঠিক আগে পর্যন্ত সুসমাচার প্রচার করে চলব। সেইজন্য এই বিষয়ে আগে আমরা যা জানতাম, তাতে রদবদল করা হয়েছে।
আগে আমরা এইরকমটা মনে করতাম যে, মহতী বাবিল ধ্বংসের মাধ্যমে যখন মহাক্লেশ শুরু হবে, তখন আমরা সুসমাচার প্রচার করা বন্ধ করে দেব। (প্রকা. ১৭:৩, ৫, ১৫, ১৬) আমরা মনে করতাম, এই ঘটনার মাধ্যমে এক অর্থে “যিহোবার অনুগ্রহের বছর” শেষ হয়ে যাবে। (যিশা. ৬১:২) আমরা এও বিশ্বাস করতাম, যারা মহাক্লেশ থেকে রক্ষা পাবে, তারা এই ঘটনার আগে এটা প্রমাণ করে দেবে যে, তারা যিহোবার প্রতি বিশ্বস্ত। আমরা এই ঘটনাকে খ্রিস্টপূর্ব ৬০৭ সালে জেরুসালেম থেকে রক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি যা-ঘটেছিল, সেটার সঙ্গে তুলনা করতাম। সেই লোকদের আগে থেকেই রক্ষা পাওয়ার জন্য চিহ্ন দেওয়া হয়েছিল, কারণ তারা যিহোবার উপাসনা করত এবং মন্দ কাজগুলোকে ঘৃণা করত। (যিহি. ৫:১১; ৯:৪) কিন্তু, এই বিষয়টা মথি ২৪:১৪ পদের সঙ্গে মেলে না, কারণ সেই পদে যিশুর কথাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, এই জগৎ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হওয়ার ঠিক আগেও হয়তো লোকদের কাছে সুসমাচার গ্রহণ করার সুযোগ থাকবে।
মথি ২৪:১৪ পদে আমাদের বোধগম্যতায় রদবদল হওয়ার কারণে প্রকাশিত বাক্য ১৬:২১ পদের বিষয়েও আমাদের বোধগম্যতায় রদবদল করার প্রয়োজন রয়েছে। এখানে সেই বার্তার বিষয়ে বলা রয়েছে, যেটা বড়ো বড়ো শিলার মতো। অনেক গবেষণা এবং অধ্যয়ন করার পর আমরা এটা বুঝতে পেরেছি যে, এই দুটো পদ একে অন্যের সঙ্গে মিলে যায়। কীভাবে? এর উত্তর আমরা এই বিষয়টা থেকে পাই যে, রাজ্যের বার্তার প্রতি লোকেরা কেমন মনোভাব দেখাবে। এই বিষয়ে প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন, এই বার্তা ‘যারা পরিত্রাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের কাছে জীবনের সুগন্ধের মতো।’ কিন্তু, ঈশ্বরের শত্রুদের জন্য এটা এমন ‘গন্ধ যা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।’ (২ করি. ২:১৫, ১৬) এই লোকেরা রাজ্যের বার্তাকে ঘৃণা করে, কারণ এই বার্তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা যে-জগতে রয়েছে, সেটা কতটা খারাপ আর এই জগতের শাসক হল শয়তান এবং খুব শীঘ্রই এই জগৎ ধ্বংস হতে চলেছে।—যোহন ৭:৭; ১ যোহন ২:১৭; ৫:১৯.
এই বিষয়টাও লক্ষ করুন যে, প্রকাশিত বাক্য ১৬:২১ পদে বলা এই রূপক শিলা বর্ষণ “খুবই ভয়ংকর” হবে। এটা ইঙ্গিত দেয় যে, মহাক্লেশের সময় প্রচার কাজ এবং মানুষের উপর এটার প্রভাব আরও জোরালো হবে। এই কারণে যিহোবার নাম পুরো পৃথিবীতে এমনভাবে জানানো হবে, যেটা আগে কখনো হয়নি। (যিহি. ৩৯:৭) মহতী বাবিল ধ্বংস হওয়ার পর যে-অল্প সময় বাকি থাকবে, তখন কিছু লোক কি আমাদের বার্তা শুনে যিহোবার প্রতি আকৃষ্ট হবে? এমনটা হতেও পারে। তাদের হয়তো মনে পড়তে পারে অথবা তারা অন্যদের কাছ থেকে শুনেছে, যিহোবার সাক্ষিরা বছরের-পর-বছর ধরে এই বিষয়ে ঘোষণা করে আসছে যে, মিথ্যা ধর্মের শেষ হবে।
এটা অনেকটা সেইরকম হবে, যেরকমটা প্রাচীন মিশরে ১০টা আঘাত আসার পর ঘটেছিল। যিহোবা যখন “মিসরের যাবতীয় দেবের বিচার করিয়া দণ্ড” দিয়েছিলেন, তখন তাঁর লোকদের সঙ্গে “মিশ্রিত লোকদের মহাজনতা” যোগ দিয়েছিল। (যাত্রা. ১২:১২, ৩৭, ৩৮) যখন এই বিদেশিরা দেখেছিল যে, মোশি দশ আঘাতের বিষয়ে যা বলেছিলেন, তা বাস্তবে ঘটেছে, তখন হয়তো তারা যিহোবার উপর বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল।
মহতী বাবিল ধ্বংস হওয়ার পর, যে-লোকেরা যিহোবার উপাসনা করতে শুরু করবে, তাদের কাছে খ্রিস্টের ভাইদের সমর্থন করার সুযোগ থাকবে, যারা তখনও পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। (মথি ২৫:৩৪-৩৬, ৪০) এই লোকদের মেষতুল্য ব্যক্তি হিসেবে গণনা করা হবে। কিন্তু, আরমাগিদোন আসার আগে এই সুযোগ তাদের কাছে শুধুমাত্র অল্পসময়ের জন্যই থাকবে অর্থাৎ সেই সময় পর্যন্ত, যতক্ষণ না অবশিষ্ট অভিষিক্ত খ্রিস্টানেরা তাদের স্বর্গীয় পুরস্কার লাভ করছে।
এই প্রবন্ধে আমরা যে-পদগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলো আমরা এখন আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। এর ফলে এই বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, যিহোবা লোকদের কতটা ভালোবাসেন এবং তিনি কতটা করুণাময়। সত্যিই, যিহোবা “চান না, কেউ ধ্বংস হয়ে যাক, বরং চান যেন সকলে অনুতপ্ত হয়।”—২ পিতর ৩:৯.