অধ্যয়ন প্রবন্ধ ১৩
সৃষ্টি থেকে সন্তানদের যিহোবার বিষয়ে শেখান
“ঐ সকলের সৃষ্টি কে করিয়াছে?”—যিশা. ৪০:২৬.
গান ১১ সৃষ্টি যিহোবার গৌরব করে
সারাংশa
১. বাবা-মায়েরা কী চায়?
বাবা-মায়েরা, আপনারা এটাই চান যেন আপনাদের সন্তানেরা যিহোবাকে জানে এবং তাঁকে ভালোবাসে। কিন্তু, ঈশ্বরকে তো আমরা দেখতে পাই না। তা হলে, কীভাবে আপনি আপনার সন্তানদের শেখাতে পারেন, যিহোবার মধ্যে কোন কোন গুণ রয়েছে, যাতে তারা তাঁকে আরও ভালোভাবে জানতে পারে এবং তাঁর নিকটবর্তী হয়?—যাকোব ৪:৮.
২. বাবা-মায়েরা কীভাবে তাদের সন্তানদের শেখাতে পারে, যিহোবার মধ্যে কোন কোন গুণ রয়েছে?
২ আপনার সন্তানদের যিহোবার বিষয়ে শেখানোর একটা উপায় হল, তাদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করা। (২ তীম. ৩:১৪-১৭) কিন্তু, বাইবেল আরেকটা উপায় সম্বন্ধে বলে, যেটার মাধ্যমে আপনার সন্তানেরা যিহোবাকে জানতে পারে এবং তাঁর নিকটবর্তী হতে পারে। হিতোপদেশ বইয়ের একটা অধ্যায়ে আমরা পড়ি, একজন বাবা তার ছেলেকে যিহোবার সেই গুণগুলোর বিষয়ে বলছেন, যেগুলো সৃষ্টি থেকে জানা যায় আর তিনি তাকে বলছেন, সে যেন সেগুলো কখনো না ভোলে। (হিতো. ৩:১৯-২১) এখান থেকে বোঝা যায়, যিহোবার সৃষ্টি থেকেও আমরা জানতে পারি, তাঁর মধ্যে কোন কোন গুণ রয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা জানতে পারব, বাবা-মায়েরা কীভাবে সৃষ্টি থেকে তাদের সন্তানদের শেখাতে পারে যে, যিহোবা কেমন ঈশ্বর।
সৃষ্টি থেকে সন্তানদের কীভাবে শেখাবেন?
৩. বাবা-মায়েদের তাদের সন্তানদের কী বোঝানো উচিত?
৩ বাইবেলে ঈশ্বরের বিষয়ে লেখা আছে, “জগৎ সৃষ্টির পর থেকেই তাঁর অদৃশ্য গুণাবলি অর্থাৎ তাঁর অনন্ত শক্তি ও ঈশ্বরত্ব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, কারণ এগুলো তাঁর সৃষ্ট বিষয়গুলো থেকে উপলব্ধি করা যায়।” (রোমীয় ১:২০) বাবা-মায়েরা, আপনাদের নিশ্চয়ই সন্তানদের সঙ্গে কোথাও বাইরে গিয়ে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগে। সেইসময়ে আপনারা তাদের এটা বোঝাতে পারেন, যিহোবার সৃষ্টি থেকে তাঁর কোন অসাধারণ গুণ সম্বন্ধে জানা যায়। আসুন দেখি, এই বিষয়ে আপনারা যিশুর কাছ থেকে কী শিখতে পারেন।
৪. যিশু কীভাবে যিহোবার সৃষ্টি থেকে তাঁর শিষ্যদের শিখিয়েছিলেন? (লূক ১২:২৪, ২৭-৩০)
৪ লক্ষ করুন, যিশু কীভাবে যিহোবার সৃষ্টি থেকে দৃষ্টান্ত ব্যবহার করার মাধ্যমে তাঁর শিষ্যদের শিখিয়েছিলেন। একবার, তিনি তাদের বলেছিলেন যেন তারা দাঁড়কাক ও লিলি ফুলের উপর মনোযোগ দেয়। (পড়ুন, লূক ১২:২৪, ২৭-৩০.) যিশু চাইলে যেকোনো জীবজন্তু অথবা গাছের দৃষ্টান্ত ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু, তিনি এমন এক পাখি এবং ফুলের বিষয়ে বলেছিলেন, যেটা সম্বন্ধে তাঁর শিষ্যেরা খুব ভালোভাবে জানত। একটু চিন্তা করুন, যিশু যখন তাঁর শিষ্যদের এই দৃষ্টান্তগুলো দিচ্ছিলেন, তখন কীভাবে তিনি তাঁর আঙুল দেখিয়ে সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। তাঁর শিষ্যেরাও হয়তো আকাশে দাঁড়কাকগুলোকে উড়তে এবং মাঠে লিলি ফুলগুলোকে দুলতে দেখেছিল। এরপর যিশু কী করেছিলেন? তিনি তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন, যেভাবে যিহোবা দাঁড়কাকগুলোকে খাবার জোগান এবং লিলি ফুলগুলোকে সজ্জিত করেন, একইভাবে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সেবকদেরও নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জোগাবেন। এভাবে যিশু তাদের বুঝিয়েছিলেন, যিহোবা তাঁর সেবকদের উদারভাবে দান করেন এবং তাদের জন্য অনেক চিন্তা করেন।
৫. কীভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সৃষ্টি থেকে যিহোবার বিষয়ে শেখাতে পারেন?
৫ বাবা-মায়েরা, আপনারা যিশুর মতো আপনাদের সন্তানদের কীভাবে শেখাতে পারেন? আপনারা তাদের যিহোবার সৃষ্টির এমন কোনো বিষয় সম্বন্ধে বলতে পারেন, যেটা আপনাদের খুব ভালো লাগে। যেমন তাদের বলতে পারেন, আপনাদের কোন কোন জীবজন্তু অথবা কোন কোন গাছপালা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আর সেগুলো থেকে আপনারা যিহোবা সম্বন্ধে কী জানতে পেরেছেন। এরপর সন্তানদের জিজ্ঞেস করুন, তাদের কোন কোন জীবজন্তু অথবা গাছপালা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। তারপর, আপনারা যখন তাদের বলবেন, তাদের পছন্দের জীবজন্তু অথবা গাছপালা থেকে যিহোবার কোন কোন গুণ সম্বন্ধে জানা যায়, তখন তারা হয়তো আপনাদের কথা আরও মনোযোগ দিয়ে শুনবে।
৬. আমরা ভাই ক্রিস্টোফারের মায়ের কাছ থেকে কী শিখতে পারি?
৬ বাবা-মায়েরা, আপনারা যখন সন্তানদের কোনো জীবজন্তু অথবা গাছপালা থেকে যিহোবা সম্বন্ধে শেখাতে চান, তখন কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে? না, তা করার প্রয়োজন নেই। যিশু তাঁর শিষ্যদের এই বিষয়ে কোনো লম্বা-চওড়া বক্তৃতা দেননি যে, দাঁড়কাকেরা কী খায়, কীভাবে খায় অথবা লিলি ফুলগুলো কীভাবে বেড়ে ওঠে। হতে পারে, আপনাদের সন্তানদের প্রকৃতির বিষয়ে শিখতে ভালো লাগে। কিন্তু, সবসময় তাদের এই বিষয়ে অনেক কিছু বলার প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো তাদের পছন্দের জীবজন্তু ও গাছপালা সম্বন্ধে অল্প কথা বলা অথবা ছোটো একটা প্রশ্ন করাই যথেষ্ট। ক্রিস্টোফার নামে একজন ভাই বলেন, তিনি যখন ছোটো ছিলেন, তখন কীভাবে তার মা তাকে এবং তার অন্য ভাই-বোনকে শেখাতেন। তিনি বলেন: “আমাদের আশেপাশে প্রকৃতির যে-বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো সম্বন্ধে আমার মা অল্প কথা বলতেন, যাতে সেগুলোর প্রতি আমরা আমাদের উপলব্ধি আরও বাড়াতে পারি। যেমন, আমরা যখন পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেতাম, তখন মা বলতেন, ‘দেখো! পাহাড়টা কত বড়ো, কত সুন্দর। যিহোবা কত মহান, তাই না?’ কিংবা আমরা যখন সমুদ্রের তীর দিয়ে হেঁটে যেতাম, তখন মা বলতেন, ‘ওই বড়ো বড়ো ঢেউগুলো দেখো। যিহোবা কত শক্তিশালী, তাই না?’” ভাই বলেন: “আমার মা কোনো একটা বিষয়ে অল্প কথা বলতেন আর আমরা সেই বিষয় নিয়ে আরও বেশি চিন্তা করতে শুরু করতাম। এভাবে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।”
৭. আপনি কীভাবে আপনার সন্তানদের শেখাতে পারেন, তারা যেন যিহোবার সৃষ্টির উপর মনোযোগ দেয়?
৭ আপনার সন্তানেরা যখন বড়ো হতে থাকে, তখন তাদের শেখান, তারা যেন যিহোবার সৃষ্টির উপর মনোযোগ দেয় এবং তা নিয়ে চিন্তা করে যে, এখান থেকে তারা যিহোবা সম্বন্ধে কী জানতে পেরেছে। আপনি তাদের প্রকৃতির কোনো একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করতে পারেন, ‘তুমি এখান থেকে যিহোবা সম্বন্ধে কী জানতে পেরেছ?’ আপনি হয়তো তাদের উত্তর শুনে অবাক হয়ে যাবেন।—মথি ২১:১৬.
সৃষ্টি থেকে সন্তানদের কখন শেখাবেন?
৮. “রাস্তায় চলার সময়” ইজরায়েলীয়েরা তাদের সন্তানদের কী শেখাতে পারত?
৮ অতীতে ইজরায়েলীয়দের বলা হয়েছিল, তারা যেন “রাস্তায় চলার সময়” তাদের সন্তানদের যিহোবার আজ্ঞাগুলো সম্বন্ধে শেখায়। (দ্বিতীয়. ১১:১৯, NW) ইজরায়েল দেশে অনেক রাস্তা ছিল আর সেগুলো দিয়ে যাওয়া-আসা করার সময়ে বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু, পাখি এবং ফুল দেখতে পাওয়া যেত। তাই, কোনো পরিবার যখনই সেই রাস্তা দিয়ে যেত, তখন বাবা-মায়েরা যিহোবার সেই সৃষ্টি নিয়ে তাদের সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে পারত, যাতে তাদের সৃষ্টি সম্বন্ধে আরও জানতে ইচ্ছা করে। আজও বাবা-মায়েরা যখন তাদের সন্তানদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যায়, তখন তাদের সঙ্গে যিহোবার সৃষ্টি নিয়ে তারা কথা বলতে পারে। আসুন দেখি, কিছু বাবা-মা কীভাবে তা করেছে।
৯. আপনি বোন পুনিতা এবং বোন কাটেয়ার কাছ থেকে কী শিখতে পারেন?
৯ পুনিতা নামে একজন বোন ভারতের একটা বড়ো শহরে থাকেন। তিনি বলেন: “আমরা যখনই আমাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য গ্রামে যাই, তখন আমরা যিহোবার সৃষ্টির বিভিন্ন সুন্দর বিষয় দেখতে পাই এবং সেগুলো নিয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে সবসময় কথা বলি। আমার মনে হয়, সন্তানেরা যখন শহরের ভিড়ভাড় এবং গাড়ির আওয়াজ থেকে দূরে থাকে, তখন তারা যিহোবার সৃষ্টির উপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে।” বাবা-মায়েরা, আপনারা যখন আপনাদের সন্তানদের সঙ্গে কোনো সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যান, তখন তারা হয়তো আপনাদের সঙ্গে কাটানো সেই সময়টা কখনো ভুলবে না। কাটেয়া নামে একজন বোন, যিনি মলডোভাতে থাকেন, বলেন: “ছোটোবেলায় আমি যখন আমার বাবা-মায়েরা সঙ্গে গ্রামে ছিলাম, তখন তাদের সঙ্গে কাটানো সেই সময়টা আমার আজও মনে আছে। তারা আমাকে শিখিয়েছে যেন আমি একটু থেমে যিহোবার সৃষ্টির উপর মনোযোগ দিই এবং সেগুলো থেকে যিহোবা সম্বন্ধে আরও ভালোভাবে শিখি। এরজন্য আমি তাদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ।”
আপনার শহরেই আপনি যিহোবার বিভিন্ন সৃষ্টি দেখতে পাবেন, যেগুলো থেকে আপনি আপনার সন্তানদের তাঁর সম্বন্ধে শেখাতে পারেন (১০ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১০. আপনার পরিবার যদি শহর থেকে দূরে কোথাও যেতে না পারে, তা হলে আপনি কী করতে পারেন? (“বাবা-মায়ের জন্য পরামর্শ” শিরোনামের বাক্সটা দেখুন।)
১০ কিন্তু, আপনি যদি আপনার শহর থেকে অন্য কোথাও যেতে না পারেন, তা হলে আপনি কী করতে পারেন? ভারতে থাকা ভাই অমল বলেন: “আমাদের এখানে সবাইকে সারাদিন কাজ করতে হয় আর যদি শহর থেকে অন্য কোথাও যেতে হয়, তা হলে অনেক খরচ হয়ে যায়। কিন্তু, আপনার দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার বাড়ির ছাদে অথবা কোনো একটা ছোটো পার্কে গিয়ে যিহোবার সৃষ্টি দেখতে পারেন এবং তাঁর বিভিন্ন গুণ নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।” আপনি যদি ভালো করে লক্ষ করেন, তা হলে আপনি আপনার বাড়ির আশেপাশেই এমন অনেক বিষয় দেখতে পাবেন, যেগুলো থেকে আপনি সন্তানদের শেখাতে পারবেন। যেমন ছোটো ছোটো পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, গাছপালা ও পাখি। (গীত. ১০৪:২৪) জার্মানিতে থাকা বোন কারিনা বলেন: “আমার মা ফুল খুব ভালোবাসে। তাই, আমি যখন ছোটো ছিলাম আর মায়ের সঙ্গে কোথাও বেড়াতে যেতাম, তখন মা সবসময় আমাকে বিভিন্ন ধরনের সুন্দর ফুল দেখাত।” বাবা-মায়েরা, আপনারা আপনাদের সন্তানদের সংগঠনের সেই ভিডিও এবং প্রবন্ধ থেকেও শেখাতে পারেন, যেখানে সৃষ্টির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, আপনি আপনাদের সন্তানদের শেখাতে পারেন, তারা যেন যিহোবার সৃষ্টির উপর মনোযোগ দেয়। এখন আসুন, যিহোবার কিছু গুণ নিয়ে আলোচনা করি, যেগুলোর বিষয়ে আপনি আপনার সন্তানদের সৃষ্টি থেকে শেখাতে পারেন।
যিহোবার ‘অদৃশ্য গুণাবলি স্পষ্টভাবে দেখা যায়’
১১. বাবা-মায়েরা কীভাবে তাদের সন্তানদের এটা বুঝতে সাহায্য করতে পারে, যিহোবা আমাদের ভালোবাসেন?
১১ বাবা-মায়েরা, আপনারা কীভাবে আপনাদের সন্তানদের এটা বুঝতে সাহায্য করতে পারেন, যিহোবার আমাদের ভালোবাসেন? আপনারা তাদের দেখাতে পারেন, অনেক জীবজন্তু কীভাবে তাদের বাচ্চাদের খুব ভালোভাবে যত্ন নেয়। (মথি ২৩:৩৭) এ ছাড়া, তাদের এও দেখাতে পারেন যে, প্রকৃতিতে কত ধরনের বিষয় দেখতে পাওয়া যায় আর যেগুলো দেখে আমাদের খুব ভালো লাগে। বোন কারিনা, যার বিষয়ে আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বলেন: “আমি এবং আমার মা যখন বেড়াতে যেতাম, তখন আমরা একটু থেমে ফুল দেখতাম। মা বলত, ‘দেখো, একটা ফুল অন্য ফুলগুলোর চেয়ে কত আলাদা আর প্রত্যেকটা কত সুন্দর। এখান থেকে বুঝতে পারি, যিহোবা আমাদের কত ভালোবাসেন।’ এটা অনেক বছর আগের কথা, কিন্তু আজও আমি যখন কোনো ফুল দেখি, তখন আমি চিন্তা করি, সেই ফুল দেখতে কেমন, সেটা কীভাবে অন্য ফুলগুলোর চেয়ে আলাদা এবং সেটার রং কী। প্রতি বার আমি যখন ফুলগুলো দেখি, তখন আমি বুঝতে পারি, যিহোবা আমাদের কতটা ভালোবাসেন।”
আপনি যদি আপনার সন্তানদের শেখাতে চান, যিহোবা কত প্রজ্ঞাবান, তা হলে আপনি তাদের বলতে পারেন, আমাদের কত অসাধারণ উপায়ে সৃষ্টি করা হয়েছে (১২ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১২. বাবা-মায়েরা কীভাবে তাদের সন্তানদের এটা বুঝতে সাহায্য করতে পারে, যিহোবা কতটা প্রজ্ঞাবান? (গীতসংহিতা ১৩৯:১৪) (ছবিও দেখুন।)
১২ যিহোবা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি প্রজ্ঞাবান। (রোমীয় ১১:৩৩) কীভাবে আপনি এই বিষয়টা আপনাদের সন্তানদের বোঝাতে পারেন? আপনি চাইলে তাদের মেঘের বিষয়ে বলতে পারেন। জল আকাশে গিয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং এরপর খুব সহজেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে আর বৃষ্টি হয়ে মাটিতে পড়তে পারে। (ইয়োব ৩৮:৩৬, ৩৭) আপনি তাদের এও বলতে পারেন, মানুষকে কত অসাধারণ উপায়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। (পড়ুন, গীতসংহিতা ১৩৯:১৪.) লক্ষ করুন, ভ্লাদিমির নামে একজন ভাই কীভাবে তার ছেলেকে এই বিষয়টা বুঝিয়েছিলেন। তিনি বলেন: “একদিন আমাদের ছেলে সাইকেল চালাতে গিয়ে পড়ে যায় এবং ওর আঘাত লাগে। কিছুদিন পর সেটা সেরে ওঠে। তখন আমি আর ওর মা ওকে বোঝাই, যিহোবা আমাদের শরীর এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, আঘাত লাগার পর সেটা আপনা-আপনি সেরে ওঠে। এরপর আমরা ওকে বলি, মানুষও অনেক জিনিস তৈরি করে, কিন্তু সেগুলো আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যায় না। যেমন, কোনো অ্যাক্সিডেন্টের পর একটা গাড়ি আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যায় না। এভাবে আমাদের ছেলে বুঝতে পারে, যিহোবা কতটা প্রজ্ঞাবান।”
১৩. বাবা-মায়েরা কীভাবে তাদের সন্তানদের এটা বোঝাতে পারে, যিহোবা খুবই শক্তিশালী? (যিশাইয় ৪০:২৬)
১৩ যিহোবা আমাদের বলেন, আমরা যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে তারাগুলো দেখি আর এটা চিন্তা করি, তাঁর শক্তির সাহায্যে কীভাবে তারাগুলো সঠিক জায়গায় রয়েছে। (পড়ুন, যিশাইয় ৪০:২৬.) আপনি আপনার সন্তানদের বলতে পারেন, তারা যেন আকাশের দিকে তাকায় এবং যিহোবা যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো নিয়ে চিন্তা করে। তাইওয়ানে থাকা বোন শিয়োং-শিয়োংয়ের মা তাকে এমনটা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। তার ছোটোবেলার একটা ঘটনা আজও মনে আছে। তিনি বলেন: “একবার আমি আর মা শহর থেকে অনেক দূরে ঘুরতে গিয়েছিলাম এবং সেখানে একটা তাঁবুতে ছিলাম। সেই এলাকায় শহরের মতো এত আলো ছিল না, তাই আমরা রাতের খোলা আকাশে অনেক তারা দেখতে পেয়েছিলাম। সেইসময় আমার এই বিষয়ে খুবই চিন্তা হচ্ছিল যে, ক্লাসের অন্য ছেলে-মেয়েদের কথা শুনে আমি যেন কখনো যিহোবার আজ্ঞা ভেঙে না ফেলি। মা আমাকে বলেছিল, যিহোবা এই তারাগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তাই তাঁর নিশ্চয়ই প্রচুর শক্তি আছে। তিনি আমাকেও শক্তি দিতে পারেন, যাতে আমি যেকোনো সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি। সেই ছুটিতে আমি যিহোবার সৃষ্টির উপর মনোযোগ দিতে পেরেছিলাম এবং আমি তাঁকে আরও ভালোভাবে জানতে চেয়েছিলাম। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন আমি সবসময় তাঁর উপাসনা করে চলব।”
১৪. বাবা-মায়েরা সৃষ্টি থেকে কীভাবে তাদের সন্তানদের বলতে পারে, যিহোবা সবসময় আনন্দে থাকেন?
১৪ যিহোবা যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে এটাও বোঝা যায়, তিনি আনন্দে থাকেন আর তিনি চান যেন আমরাও আনন্দে থাকি। বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছে, বেশিরভাগ জীবজন্তু, এমনকী পাখি এবং মাছেরাও খেলা করে। (ইয়োব ৪০:২০) আপনাদের সন্তানেরা কি কখনো বাঁদরদের লাফালাফি করতে বা তাদের অদ্ভুত ধরনের আচরণ করতে দেখেছে? কিংবা কুকুরছানাদের একে অন্যের সঙ্গে খেলা করতে দেখেছে? ওদের দেখে আপনাদের সন্তানেরা কি হেসে ফেলেছে? তাই, এখন থেকে আপনি যখন দেখবেন যে, আপনাদের সন্তানেরা কোনো জীবজন্তুকে লাফালাফি কিংবা খেলা করতে দেখে আনন্দ পাচ্ছে, তখন তাদের এটা মনে করিয়ে দিন, আমরা যে-ঈশ্বরের সেবা করি, তিনিও সবসময় আনন্দে থাকেন।—১ তীম. ১:১১.
সন্তানদের সঙ্গে মিলে যিহোবার সৃষ্টি উপভোগ করুন
আপনি যখন আপনার সন্তানদের সঙ্গে প্রকৃতি উপভোগ করেন, তখন তাদের মনমেজাজ হয়তো ভালো থাকে এবং তারা তাদের মনের কথা খুলে বলতে পারে (১৫ অনুচ্ছেদ দেখুন)
১৫. বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের মনের কথা কীভাবে জানতে পারে? (হিতোপদেশ ২০:৫) (ছবিও দেখুন।)
১৫ কখনো কখনো বাবা-মায়েরা এটা বুঝতে পারে না যে, তারা কীভাবে কথা বললে সন্তানেরা মন খুলে তাদের সমস্যার বিষয়ে বলতে পারবে। আপনার ক্ষেত্রেও যদি এমনটা হয়, তা হলে আপনি কী করতে পারেন? এটা জানার চেষ্টা করুন, আপনার সন্তানদের মনে কী চলছে এবং তারা কীভাবে চিন্তা করে। (পড়ুন, হিতোপদেশ ২০:৫.) অনেক বাবা-মা দেখেছে, তারা যখন বাইরে গিয়ে তাদের সন্তানদের সঙ্গে প্রকৃতির বিষয়গুলো দেখে উপভোগ করে, তখন তারা সহজেই সন্তানদের মনের কথা জানতে পারে। কারণ সেখানে বিক্ষিপ্ত করার মতো বিষয়গুলো খুব বেশি থাকে না আর বাবা-মায়েরা এবং সন্তানেরা মন খুলে কথা বলতে পারে। তাইওয়ানে থাকা ভাই মাসাহিকো বলেন, সন্তানদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানোর আরেকটা উপকার রয়েছে। তিনি বলেন: “আমরা যখন সন্তানদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটাই, সেটা পাহাড়ে কিংবা সমুদ্রের তীর যেখানেই হোক না কেন, সেইসময় সন্তানদের মনমেজাজ খুব ভালো থাকে। তাই, আমরা তাদের সঙ্গে ভালো করে কথা বলতে পারি এবং জানতে পারি, তাদের মনে কী চলছে।” কাটেয়া নামে যে-বোনের বিষয়ে আগে উল্লেখ করা হয়েছিল, তিনি বলেন: “প্রতিদিন স্কুলের পর মা আমাকে একটা সুন্দর পার্কে নিয়ে যেতেন। ওখানে গিয়ে আমার খুব ভালো লাগত। আমি মাকে খুব সহজেই বলতে পারতাম, সেই দিন স্কুলে কী কী হয়েছে আর আমার মনে কী চলছে।”
১৬. বাবা-মায়েরা সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর ও সেইসঙ্গে সৃষ্টি উপভোগ করার জন্য কী করতে পারে?
১৬ পরিবারের প্রত্যেকে যখন একসঙ্গে মিলে যিহোবার সৃষ্টি দেখে এবং সেগুলো উপভোগ করে, তখন তাদের খুব ভালো লাগে আর একে অন্যের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। বাইবেলও জানায়, “হাস্য করিবার; . . . ও নৃত্য করিবার” অথবা খেলাধুলা করারও সময় আছে। (উপ. ৩:১, ৪) যিহোবা এমন অনেক কিছু সৃষ্টি করেছেন, যেগুলো দেখে আমরা খুব আনন্দ পাই। যেমন পাহাড়পর্বত, সমুদ্র এবং বনজঙ্গল। কোনো কোনো পরিবার এইরকম জায়গায় গিয়ে সময় কাটাতে ভালোবাসে। কিছু সন্তানের পার্কে গিয়ে খেলা করতে, পশুপাখিদের দেখতে এবং নদী, পুকুর অথবা সমুদ্রে সাঁতার কাটতে ভালো লাগে। সত্যিই, যিহোবা কত সুন্দর সুন্দর জায়গা সৃষ্টি করেছেন, যেখানে আমরা পরিবারের সঙ্গে গিয়ে আনন্দ করতে পারি!
১৭. কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ যেন বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের যিহোবার সৃষ্টির প্রতি উপলব্ধি দেখাতে শেখায়?
১৭ নতুন জগতে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে যিহোবার সৃষ্টি আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে। তখন আমরা জীবজন্তুকে ভয় পাব না এবং ওরাও আমাদের ভয় পাবে না। (যিশা. ১১:৬-৯) সেইসময় যিহোবার সৃষ্টি মনোযোগ দিয়ে দেখার এবং সেগুলো উপভোগ করার জন্য আমাদের কাছে প্রচুর সময় থাকবে। (গীত. ২২:২৬) তবে বাবা-মায়েরা, সেই সময়টা আসার জন্য অপেক্ষা করবেন না। এখন থেকেই আপনাদের সন্তানদের শেখান যেন তারা যিহোবার সৃষ্টি উপভোগ করে এবং সেগুলো থেকে তাঁর সম্বন্ধে আরও শেখে। তখন তারাও রাজা দায়ূদের মতো অনুভব করবে, যিনি বলেছিলেন: “হে প্রভু, . . . তোমার কর্ম্ম সকলের তুল্য কিছুই নাই।”—গীত. ৮৬:৮.
গান ১৩৪ সন্তানেরা যিহোবার দেওয়া উপহার
a অনেক ভাই-বোনের আজও মনে আছে, যখন তারা ছোটো ছিল, তখন কীভাবে তাদের বাবা-মা প্রকৃতির বিষয়গুলো দেখিয়ে তাদের যিহোবার বিষয়ে শিখিয়েছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সেই সময় এবং মধুর স্মৃতিগুলো তারা আজও ভোলেনি। আপনার যদি সন্তান থাকে, তা হলে আপনি তাদের প্রকৃতির বিষয়গুলো দেখিয়ে কীভাবে বোঝাতে পারেন যে, যিহোবার মধ্যে কোন কোন গুণ রয়েছে? এই প্রবন্ধে আমরা এই বিষয়ে জানতে পারব।