ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়া
১ “যারা সত্যকে বিভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে দিতে অভিজ্ঞ তারা স্বীকার করবে যে, বর্তমান সময়ে সহস্র বছরের ভোর (ইংরেজি) বইটি নিয়ে ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযানই হচ্ছে, এ পর্যন্ত সত্য প্রচার করার সবচেয়ে কার্যকর এক উপায়।” ১৮৯৩ সালের ১লা জুলাই সংখ্যার জায়ন্স ওয়াচ টাওয়ার থেকে নেওয়া এই উক্তিটি ঘরে ঘরে পরিচর্যার গুরুত্ব সম্বন্ধে তুলে ধরেছিল। পৃথিবীব্যাপী লোকেরা এটাকে যিহোবার সাক্ষিদের এক অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখে থাকে। এই পদ্ধতি কি এখনও কার্যকর, যেহেতু কিছু কিছু দেশে লোকেদের ঘরে পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে?
২ শাস্ত্রীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ: ঘরে ঘরে সাক্ষ্যদানের এক শাস্ত্রীয় ভিত্তি রয়েছে। যিশু ৭০ জন শিষ্যকে দুজন দুজন করে লোকেদের ঘরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। (লূক ১০:৫-৭) যিশুর মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পর বাইবেল তাঁর শিষ্যদের সম্বন্ধে বলে: “তাঁহারা প্রতিদিন ধর্ম্মধামে ও বাটীতে উপদেশ দিতেন, এবং যীশুই যে খ্রীষ্ট, এই সুসমাচার প্রচার করিতেন, ক্ষান্ত হইতেন না।” (প্রেরিত ৫:৪২) প্রেরিত পৌলও উদ্যোগের সঙ্গে ঘরে ঘরে শিক্ষা দিয়েছিলেন।—প্রেরিত ২০:২০.
৩ ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়া আজকে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে অব্যাহত রয়েছে। এটা আমাদেরকে সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত উপায়ে যোগ্য ব্যক্তিদের ‘অনুসন্ধান করিতে’ সাহায্য করে। (মথি ১০:১১) লোকেরা সাধারণত ঘরে অধিক স্বচ্ছন্দবোধ করে। তাদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলা—তাদের মুখের কথা শোনা, তাদের মৌখিক অভিব্যক্তিগুলো দেখা এবং তাদের আশেপাশের পরিবেশকে লক্ষ করা—আমাদেরকে তাদের আগ্রহ ও চিন্তার বিষয়গুলো বোঝার সুযোগ করে দেয়। এটা আমাদেরকে সাধারণত বিস্তারিত আলোচনায় জড়িত হওয়ার সর্বোত্তম সুযোগ প্রদান করে।
৪ ব্যক্তিগত রদবদলগুলো করুন: প্রেরিত পৌল “সুসমাচারের জন্য” ব্যক্তিগত রদবদলগুলো করতে ইচ্ছুক ছিলেন। (১ করি. ৯:২৩) যখন খুব সম্ভবত বেশির ভাগ লোক ঘরে থাকে, যেমন সন্ধ্যের দিকে, শনিবার ও রবিবারে বা ছুটির দিনগুলোতে, সেই সময়ে হয়তো আমরা প্রচার করার জন্য আমাদের তালিকাকে রদবদল করতে পারি। ঘরে পাওয়া যায়নি এমন ব্যক্তিদের বাড়িগুলোর রেকর্ড রাখুন এবং সেই সপ্তাহেরই অন্য কোনো দিনে বা সেই দিনের অন্য কোনো সময়ে আবারও ফিরে আসার চেষ্টা করুন।
৫ এমনকি যাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকে না, তারাও হয়তো ঘরে ঘরে প্রচারে অংশ নিতে পারে। সম্ভবত আমরা আমাদের নিজেদের সঙ্গে এই ধরনের ব্যক্তিদের সেই ঘরগুলোতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারি, যেগুলোতে সহজেই যাওয়া যায় আর এর ফলে এটা তাদেরকে ধীরেসুস্থে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। একজন বোনের শ্বাসকষ্ট ছিল বলে তিনি প্রতি আধ ঘন্টা পর পর কেবল একটা ঘরে যেতে পারতেন। তা সত্ত্বেও, তিনি কত আনন্দিত ও পরিতৃপ্তিই না বোধ করেছিলেন, যখন তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল!
৬ ঘরে ঘরে প্রচার কাজ করে অনেক মেষতুল্য ব্যক্তিকে পাওয়া যাচ্ছে। একজন প্রকাশক যখন একটা দরজায় কড়া নেড়েছিলেন, তখন তাকে বলা হয়েছিল: “ভিতরে আসুন। আমি জানি আপনি কে। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে আসছি যেন আমাকে সাহায্য করার জন্য তিনি কাউকে পাঠান আর এরপরই আমি দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ শুনি। ঈশ্বর আমার কথা শুনেছেন ও আপনাকে পাঠিয়েছেন।” ফলাফল প্রমাণ দেয় যে, যিহোবা প্রচারের এই পদ্ধতিকে আশীর্বাদ করছেন। (মথি ১১:১৯) ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়ার কাজকে আপনার পরিচর্যার এক নিয়মিত বৈশিষ্ট্য করার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হোন।
[অধ্যয়ন প্রশ্নাবলি]
১. ঘরে ঘরে পরিচর্যার বিষয়ে কোন প্রশ্ন ওঠে এবং কেন?
২. ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্ত্রীয় ভিত্তি কী?
৩. ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়ার কিছু উপকার কী?
৪. কীভাবে আমরা ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়ার কাজকে আরও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারি?
৫. যাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকে না এমন ব্যক্তিদেরও হয়তো কীভাবে ঘরে ঘরে প্রচার কাজে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে?
৬. কেন ঘরে ঘরে সাক্ষ্য দেওয়ার কাজকে আমাদের পরিচর্যার এক নিয়মিত বৈশিষ্ট্য করে তোলা উচিত?