“প্রশস্ত হও”
১ খ্রিস্টীয় ভ্রাতৃসমাজে, মণ্ডলীতে উষ্ণ অনুভূতি বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকেরই এক দায়িত্ব রয়েছে। (১ পিতর ১:২২; ২:১৭) এইরকম উষ্ণ অনুভূতি উদ্ভূত হয়, যখন আমরা একে অপরের প্রতি আমাদের কোমল স্নেহে ‘প্রশস্ত হই।’ (২ করি. ৬:১২, ১৩) আমাদের ভাইবোনদেরকে ভাল করে জানা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
২ বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় হয়: আমরা যখন সহবিশ্বাসীদের সঙ্গে আরও ভালভাবে পরিচিত হই, তখন আমরা তাদের বিশ্বাস, ধৈর্য এবং অন্যান্য উত্তম গুণগুলোকে আরও পূর্ণরূপে উপলব্ধি করি। তাদের ভুলত্রুটিগুলোকে আমাদের কাছে তুচ্ছ বিষয় বলে মনে হয় আর বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে। একে অন্যকে ভালভাবে জানায় আমরা একে অপরকে গেঁথে তোলার এবং সান্ত্বনা দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও ভাল অবস্থানে থাকি। (১ থিষল. ৫:১১) আমরা শয়তানের জগতের ক্ষতিকর প্রভাবগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য একে অপরের কাছে “সান্ত্বনাজনক” বা শক্তিবর্ধক হয়ে উঠতে পারি। (কল. ৪:১১) এই চাপপূর্ণ শেষকালের কথা চিন্তা করলে, ঈশ্বরের লোকেদের মাঝে উত্তম বন্ধুবান্ধব থাকায় আমরা কতই না কৃতজ্ঞ!—হিতো. ১৮:২৪.
৩ ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা শক্তি ও সান্ত্বনার এক বিশেষ উৎস হতে পারে, যখন আমরা চরম পরীক্ষাগুলোর মুখোমুখি হই। (হিতো. ১৭:১৭) একজন খ্রিস্টান, যিনি নিজেকে অযোগ্য মনে করার মনোভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন, তিনি স্মরণ করে বলেন: “আমার কিছু বন্ধু ছিল, যারা আমাকে আমার নিজের সম্বন্ধে ইতিবাচক বিষয়গুলি তুলে ধরত, যাতে করে নেতিবাচক চিন্তাধারাকে আমি কাটিয়ে উঠতে পারি।” এই ধরনের বন্ধুরা যিহোবার কাছ থেকে এক আশীর্বাদ।—হিতো. ২৭:৯.
৪ অন্যদের প্রতি আগ্রহ দেখান: কীভাবে আমরা সহবিশ্বাসীদের প্রতি আমাদের কোমল স্নেহের ক্ষেত্রে প্রশস্ত হতে পারি? খ্রিস্টীয় সভাগুলোতে অন্যদেরকে সম্ভাষণ জানানো ছাড়াও, তাদেরকে অর্থপূর্ণ কথাবার্তায় জড়িত করার জন্য প্রচেষ্টা করুন। তাদের একান্ত নিজস্ব বিষয়গুলো সম্বন্ধে কৌতূহলী না হয়ে বরং তাদের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখান। (ফিলি. ২:৪; ১ পিতর ৪:১৫) অন্যদের প্রতি আগ্রহ দেখানোর আরেকটা উপায় হল, খাবারের জন্য তাদেরকে নিমন্ত্রণ করা। (লূক ১৪:১২-১৪) অথবা আপনি হয়তো ক্ষেত্রের পরিচর্যায় তাদের সঙ্গে কাজ করার ব্যবস্থা করতে পারেন। (লূক ১০:১) আমরা যখন আমাদের ভাইবোনদের আরও ভালভাবে জানার জন্য নিজে থেকে এগিয়ে যাই, তখন আমরা মণ্ডলীতে একতা বৃদ্ধি করি।—কল. ৩:১৪.
৫ আমরা কি কেবলমাত্র তাদের মধ্যে থেকে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব বাছাই করি, যারা আমাদের সমবয়সী অথবা যাদের আমাদের মতো একই আগ্রহ রয়েছে? মণ্ডলীতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে আমাদের নিয়ন্ত্রিত হতে দেওয়া উচিত নয়। দায়ূদ ও যোনাথন আর সেইসঙ্গে রূৎ ও নয়মী বয়স এবং পটভূমির পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, বন্ধুত্বের এক দৃঢ় বন্ধন গড়ে তুলেছিল। (রূৎ. ৪:১৫; ১ শমূ. ১৮:১) আপনি কি আপনার বন্ধুত্বকে প্রসারিত করতে পারেন? তা করা এমন অনেক আশীর্বাদ নিয়ে আসতে পারে, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।
৬ অন্যদের প্রতি আমাদের কোমল স্নেহে প্রশস্ত হওয়ার দ্বারা আমরা একে অপরকে শক্তিশালী এবং মণ্ডলীতে শান্তি বৃদ্ধি করি। এ ছাড়া, আমরা আমাদের ভাইবোনদের প্রতি যে-ভালবাসা দেখাই তার জন্য যিহোবা নিজে আমাদের আশীর্বাদ করেন। (গীত. ৪১:১, ২; ইব্রীয় ৬:১০) তাই, যত জনের সঙ্গে সম্ভব আরও ভালভাবে পরিচিত হওয়াকে আপনার লক্ষ্য করুন না কেন?
[অধ্যয়ন প্রশ্নাবলি]
১. আমাদের প্রত্যেকের কোন দায়িত্ব রয়েছে?
২. সহবিশ্বাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
৩. কীভাবে আমরা অন্যদের কাছে শক্তিবর্ধক হতে পারি?
৪. কীভাবে আমরা মণ্ডলীতে অন্যদের আরও ভালভাবে জানতে পারি?
৫. আমাদের বন্ধুত্বকে প্রসারিত করার একটা উপায় কী?
৬. আমাদের ভাইবোনদের প্রতি আমাদের কোমল স্নেহে প্রশস্ত হওয়ার কয়েকটা উপকার কী?