কশলতার সঙ্গে—সুসমাচার জানানো
১ বেশ কিছু রাজ্যে সাম্প্রদায়িক চাপের সৃষ্টি হওয়ায় আমরা হয়তো লক্ষ করেছি যে, লোকেদের সঙ্গে অন্য ধর্ম নিয়ে আলোচনা করলে তারা খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। এটা হল ‘শেষ কাল’ আর পৌল এটাকে এই বলে বর্ণনা করেছিলেন যে, লোকেরা “ক্ষমাহীন [“সম্মত হতে রাজি নয়,” NW] . . . অজিতেন্দ্রিয়, প্রচণ্ড, . . . দুঃসাহসী” হবে। (২ তীম. ৩:১-৪) তাই, এটা স্পষ্ট যে যিহোবার লোকেরা যখন সুসমাচার জানান, তখন এই সময়গুলোতে তাদের কৌশল হওয়ার দরকার আছে।
২ কৌশল কী? একটা অভিধানের সংজ্ঞা হল: “এক কঠিন অথবা নাজুক পরিস্থিতিতে অন্যদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখতে অথবা অন্যদের অসন্তুষ্ট করা এড়াতে কী করব বা বলব সে বিষয়ে এক সূক্ষ্ম বোধ।” খ্রীষ্টান হিসেবে আমরা অবশ্যই সমাজের সমস্ত লোকেদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং অহেতুকভাবে অসন্তুষ্ট করা এড়াতে চাই। তাই, ‘আমাদের যত দূর হাত থাকে, মনুষ্যমাত্রের সহিত কথায় ও কাজে আমরা শান্তিতে থাকিব।’—রোমীয় ১২:১৮.
৩ একজন কৌশলী খ্রীষ্টান সাক্ষি হিসেবে পৌল এক উত্তম উদাহরণ ছিলেন। মনে করে দেখুন যে, আথেয়নীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তাদের প্রতিমাপূজার এবং অনেক মিথ্যা দেবতার উপাসনা করার জন্য তাদেরকে ভর্ৎসনা অথবা নিন্দা করেননি, এমনকি যদিও সেই বিষয়গুলো তার আত্মাকে উত্তপ্ত করেছিল। (প্রেরিত ১৭:১৬) এথেন্সের লোকেদের কাছে বক্তৃতা দেওয়ার সময় পৌল বহু দেবতাকে উপাসনা করার তাদের আগ্রহকে এক ভাল ভূমিকা হিসেবে কৌশলতার সঙ্গে ব্যবহার করেছিলেন।—প্রেরিত ১৭:২২-৩১.
৪ আমাদেরও এমন লোকেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে যারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্বন্ধে গোঁড়া মনোভাব রাখে এবং তা আমাদের কাছে বলবে। আমাদের কী করা উচিত? আমাদের কৌশলী হতে হবে। আমাদের জোর করে বোঝানো, তর্ক অথবা সমালোচনা করা উচিত নয়। বরং, সম্ভব হলে আমাদের এমন বিষয়গুলো খুঁজে নেওয়া উচিত যেগুলোতে তারা একমত হবে আর সেগুলো আলোচনা করা উচিত। আমাদের বার্তার সঙ্গে একমত হন না এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা উত্থিত প্রত্যেকটা আপত্তিকে খণ্ডণ করার অথবা প্রশ্ন তোলার দরকার নেই।
৫ একজন ভাল শ্রোতা হওয়া: কৌশলী হওয়া এটাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সব কথা আমরা বলব সেটাই হয়তো আমরা সহজ মনে করতে পারি কিন্তু গৃহকর্তাকে তার চিন্তা ও মতামত জানানোর জন্য কৌশলতার সঙ্গে উৎসাহিত করলে আমরা জানব যে তিনি কী চিন্তা করছেন। বিভিন্ন প্রশ্ন করা সাহায্যকারী কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যে, সেগুলো যেন গৃহকর্তাকে অপদস্ত অবস্থায় না ফেলে। বরং, সেগুলো যেন তাকে আকৃষ্ট করে এবং তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করে।
৬ আমাদের কথা ও মুখের ভাব যদি সকলের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ, দয়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবকে প্রকাশ করে, তা হলে অধিকাংশ লোকই এটা লক্ষ করবে আর প্রায়ই ভাল সাড়া দেবে। পৌলের পরামর্শ মনে রাখুন: “তোমাদের বাক্য সর্ব্বদা অনুগ্রহ সহযুক্ত হউক, লবণে আস্বাদযুক্ত হউক, কাহাকে কেমন উত্তর দিতে হয়, তাহা যেন তোমরা জানিতে পার।”—কল. ৪:৬.