আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে শক্তিশালী পরিবার—কীভাবে?
১ ‘নিজ বাটীর লোকদের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করিবার’ জন্য খ্রীষ্টীয় পরিবারগুলোকে প্রশংসা করা যায়। (১ তীম. ৫:৪) কিন্তু, আমাদের চারপাশের প্রভাব এতই খারাপ যে, সেগুলো আমাদের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দিতে পারে, তাই আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে শক্তিশালী থাকার জন্য পরিবারগুলোর কঠোর পরিশ্রম করা জরুরি। কীভাবে এটা করা যেতে পারে?
২ খ্রীষ্টের মতো মস্তক ব্যবস্থা অনুশীলন করে: পরিবারকে শক্তিশালী করতে পরিবারের মস্তকদের নিজেদের দায়িত্বগুলো পালন করার সময় যীশু খ্রীষ্টকে অনুকরণ করা দরকার। তাঁর বলিদানমূলক মৃত্যুর মাধ্যমে একবারের মতো আমাদের প্রতি তাঁর প্রেম দেখানো ছাড়াও, যীশু সবসময় মণ্ডলীকে “ভরণ পোষণ ও লালন পালন” করে চলেছেন। (ইফি. ৫:২৫-২৯) প্রেমময় বাবামারা তাদের পরিবারের প্রতিদিনের আধ্যাত্মিক চাহিদাগুলোর প্রতি মনোযোগ দিয়ে কোমল যত্নের এই উদাহরণকে অনুসরণ করেন। এর অন্তর্ভুক্ত হল প্রতি সপ্তায় পারিবারিক বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করা, যখনই সম্ভব গভীর ও কার্যকারী আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো আলোচনা করা এবং সমস্যা দেখা দিলে সেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া।—দ্বিতী. ৬:৬, ৭.
৩ ক্ষেত্রের পরিচর্যায়: পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের উপলব্ধি করা উচিত যে, অন্যদের কাছে যিহোবা ও তাঁর উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেওয়া হল তাদের উপাসনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। (যিশা. ৪৩:১০-১২) বাবামারা, আপনারা যদি চান যে ছেলেমেয়েরা যিহোবার বিশ্বস্ত সাক্ষি হোক, তা হলে আপনাদের একেবারে শিশুকাল থেকেই পরিচর্যার জন্য তাদের হৃদয়কে প্রস্তুত করা শুরু করতে হবে। পরিচর্যার জন্য কেন ত্যাগস্বীকারের দরকার এবং কেন প্রতি সপ্তায় তাতে অংশ নিতে হবে, তার কারণগুলো আলোচনা করুন। (মথি ২২:৩৭-৩৯) এরপর ক্ষেত্রের পরিচর্যায় আপনার সঙ্গে তাদের নিয়মিত অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
৪ সাপ্তাহিক পারিবারিক অধ্যয়নের সময়, কার্যকারী উপস্থাপনা প্রস্তুত করা ও মহড়া দেওয়ার জন্য সময় আলাদা করে রেখে প্রচার কাজের প্রতি উপলব্ধি গড়ে তুলুন। পরিচর্যায় আপনার ছেলেমেয়েকে আলাদা আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ দিন, তাদের বয়স ও ক্ষমতা অনুসারে তাদেরকে উন্নতি করতে সাহায্য করুন। পরিচর্যায় একসঙ্গে কাটানোর পর আলোচনা করুন যে, কীভাবে তারা সরাসরি যিহোবার মঙ্গলভাব দেখতে পেয়েছে। বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে এমন অভিজ্ঞতাগুলো বলুন। পরিবারগুলো যত বেশি ‘আস্বাদ পাইয়াছে যে, প্রভু মঙ্গলময়’ তত বেশি তারা যিহোবার নিকটবর্তী হবেন, যা তাদের ‘সমস্ত দুষ্টতাকে’ প্রতিরোধ করতে শক্তিশালী করবে।—১ পিতর ২:১-৩.
৫ সভাগুলোতে: পরিবারের সদস্যরা যখন মণ্ডলীর সমস্ত সভাগুলোতে উপস্থিত থাকার জন্য একে অন্যকে সাহায্য করে, বিশেষ করে তাদের কেউ যদি ক্লান্ত বোধ করে, নিরুৎসাহিত অথবা বিষণ্ণ থাকে, তখন তা কতই না উত্তম! একজন যুবতী বোন বলেছিল, ‘আমার বাবা যখন কাজ থেকে ঘরে ফিরেন, তখন তিনি ক্লান্ত থাকেন। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় সভাতে যে-ভাল বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে, সেগুলো আমি তাকে বলি আর সেটা তাকে সভায় আসতে উৎসাহ দেয়। তারপর আমি যখন ক্লান্ত বোধ করি, তখন তিনি আমাকে সভায় যেতে উৎসাহ দেন।’—ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫.
৬ একসঙ্গে কাজ করা: পরিবারগুলোর উচিত একসঙ্গে কাজ করা, যেমন গৃহস্থালীর কাজে সাহায্য করা। এ ছাড়া গঠনমূলক মনোরঞ্জনের জন্যও সময় আলাদা করে রাখা দরকার। বনভোজনে যাওয়া, সুদীর্ঘ পথ হেঁটে বেড়ানো, খেলাধূলা করা এবং আত্মীয়স্বজন অথবা বন্ধুবান্ধবদের দেখতে যাওয়া, মনে রাখার মতো সুখের মুহূর্ত এবং প্রিয় স্মৃতিগুলোর সুযোগ করে দিতে পারে।—উপ. ৩:৪.
৭ অটল খ্রীষ্টীয় পরিবারগুলো তাদের আধ্যাত্মিকতার পথে আসা প্রতিদিনের বাধাগুলোকে কাটিয়ে ওঠেন। যিহোবার আরও নিকটবর্তী হয়ে, তারা সেই শক্তি লাভ করেন যা তিনি জোগান।—ইফি. ৬:১০.