পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যার আনন্দ
১ কোন সন্দেহ নেই যে, একজন যুবক বা যুবতী হিসেবে তুমি তোমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু চিন্তা করেছ। হিতোপদেশ ২১:৫ পদ আমাদের বলে যে, “পরিশ্রমীর চিন্তা হইতে কেবল ধনলাভ হয়।” তোমার জীবনের লক্ষ্যগুলো সম্বন্ধে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করা তোমার জন্য ভাল হবে। ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করার সময়, পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যা বেছে নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা কর। কেন?
২ যুবক অবস্থায় অগ্রগামীর কাজ করেছিলেন এমন কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের তাদের অনুভূতির কথা জিজ্ঞেস কর আর নিশ্চিতভাবে তারা একই বিষয় বলবে: “সেই বছরগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভাল বছর ছিল!” একজন ভাই যিনি যুবক বয়স থেকে পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যার আনন্দ উপভোগ করেছিলেন তিনি পরবর্তীকালে বলেছিলেন: “যৌবনকালের বিষয়ে চিন্তা করা গভীর পরিতৃপ্তি এনে দেয় আর একজন বলতে পারে যে সে এই বিজ্ঞ পরামর্শে মনোযোগ দিয়েছে: ‘আর তুমি যৌবনকালে আপন সৃষ্টিকর্ত্তাকে স্মরণ কর।’” (উপ. ১২:১) যৌবনকালে তুমি যাতে এই আনন্দ লাভ করতে পার তার জন্য তোমার ও তোমার বাবামার, এখনই মনোযোগপূর্বক পরিকল্পনা করা দরকার।
৩ বাবামারা, পূর্ণ-সময়ের কাজ করতে উৎসাহ দিন: একজন যত্নশীল পিতা হিসেবে, যিহোবা আপনাদের সঠিকভাবে দেখান যে, কোন্ পথে চলা উচিত। (যিশা. ৩০:২১) এইরকম প্রেমময় নির্দেশনা জুগিয়ে, খ্রীষ্টান বাবামা হিসেবে আপনাদের জন্য তিনি এক উত্তম উদাহরণ রেখেছেন। ছেলেমেয়েদের জন্য কোন্ পথ সবচেয়ে ভাল সেটা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব তাদের ওপর ছেড়ে না দিয়ে, বিজ্ঞের সঙ্গে তাদের সেই পথের বিষয়ে শিক্ষা দিন যে-পথে তাদের চলা উচিত যাতে তারা যিহোবার আশীর্বাদ পেতে পারে। তা হলে, তারা যখন বড় হবে, তখন আপনাদের শিক্ষা তাদের “ন্যায়-অন্যায়কে পৃথক করতে” সাহায্য করবে। (ইব্রীয় ৫:১৪, NW) অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্তবয়স্করা জানেন যে, তারা তাদের নিজেদের মতামতের ওপর আস্থা রাখতে পারেন না; তাদের পথ সকল সরল করার জন্য তাদের যিহোবার ওপর অবশ্যই নির্ভর করতে হবে। (হিতো. ৩:৫, ৬) যুবক-যুবতীদের জন্য এটা আরও বেশি দরকার, জীবন সম্বন্ধে যাদের অভিজ্ঞতা খুব কম।
৪ বাবামারা, আপনাদের ছেলেমেয়েরা যখন কৈশোরে পা দেয় অথবা তারও আগে, তাদের বৃত্তি সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলোর বাস্তব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলুন। বিদ্যালয় উপদেষ্টা, শিক্ষক এবং সহপাঠীরা তাদেরকে জাগতিক, বস্তুগত লক্ষ্যগুলোকে বেছে নিতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে এমন বিষয়গুলোকে বেছে নিতে সাহায্য করুন, যা তাদেরকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ জোগাবে এবং রাজ্যের কাজগুলোকে বাদ না দিয়েই তাদের নিজেদের বস্তুগত চাহিদাগুলো মেটানোর জন্য তাদেরকে সজ্জিত করবে। (১ তীম. ৬:৬-১১) অনেক ক্ষেত্রে, নিয়মিত অগ্রগামীর পরিচর্যা শুরু করার সময় একজন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মেটানোর জন্য উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সেইসঙ্গে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অথবা কারিগরি শিক্ষা অনেক কাজে আসে।
৫ অবিবাহিত থাকার দানকে অনুসরণ করতে যুবক-যুবতীদের উৎসাহ দিন। পরে যদি তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে তখন তারা বিয়ের গুরু দায়িত্বগুলো গ্রহণ করতে আরও ভালভাবে তৈরি থাকবে। অগ্রগামীর ও যেখানে বেশি প্রয়োজন সেখানে কাজ করা এবং বেথেল পরিচর্যা সম্বন্ধে ইতিবাচক কথা বলে, যুবক-যুবতীদের মধ্যে এমনকি খুব অল্পবয়সেই, তাদের মধ্যে জীবনকে এমনভাবে ব্যবহার করার এক ইচ্ছা গেঁথে দিন যা যিহোবাকে খুশি করে, অন্যদের উপকার আনে এবং তাদের নিজেদের জন্য আনন্দ নিয়ে আসে।
৬ যুবক-যুবতীরা, পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যাকে প্রথমে রাখ: যুবক-যুবতীরা, অগ্রগামীর কাজ কেমন, সে নিয়ে তোমাদের চিন্তা করার দরকার নেই। স্কুলে পড়ার এবং ছুটির সময় যখনই সম্ভব কিছুটা সময় বের করে নিয়ে সহায়ক অগ্রগামীর কাজ করে তোমরা এটা করার চেষ্টা করতে পার। তা হলে তোমরা জানতে পারবে যে অগ্রগামীর কাজ আসলে কতটা পরিতৃপ্তিকর! এখন এবং স্কুল ছুটির শেষে অগ্রগামীর কাজ করার পরিকল্পনা কি তুমি আগে থেকে করতে পার?
৭ ঈশ্বরের সংগঠনে তুমি যদি একজন যুবক ভাই হও, তা হলে একজন পরিচারক দাসের যোগ্যতায় পৌঁছানোর বিষয়টাও গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করতে পার। (১ তীম. ৩:৮-১০, ১২) এ ছাড়া, একবার যখন তুমি বয়সের দিক দিয়ে যোগ্য হয়ে যাও, তখন স্থির করতে পার যে, তুমি বেথেলে সেবা করতে চাও অথবা মিনিস্টিরিয়াল ট্রেনিং স্কুলে যোগ দিতে চাও। অগ্রগামীর পরিচর্যায় তোমার অভিজ্ঞতা তোমাকে এইধরনের মূল্যবান শিক্ষাগুলো দেবে, যেমন কীভাবে তালিকা অনুসারে জীবনযাপন করতে হয়, নিজের ব্যক্তিগত কাজগুলোকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে উন্নতি করা যায়, অন্যদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয় এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হয়। এই সমস্তই পরবর্তীকালে তোমাকে আরও বড় সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে।
৮ পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যায় সফল হওয়ার একটা মুখ্য বিষয় হল ঐশিক কাজকর্মের প্রতি নিষ্ঠার মনোভাব থাকা। প্রেরিত পৌল এইধরনের মনোভাব থাকার বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং এর ফলে যে-আশীর্বাদগুলো আসে, সেই সম্বন্ধে বলেছিলেন: “যাহা কিছু কর, প্রাণের সহিত কার্য্য কর, . . . প্রভুরই [“যিহোবারই,” NW] কর্ম্ম বলিয়া কর; কেননা তোমরা জান, প্রভু [“যিহোবা,” NW] হইতে তোমরা . . . প্রতিদান পাইবে।” (কল. ৩:২৩, ২৪) পূর্ণ-সময়ের কাজে অনেক আনন্দ দিয়ে যিহোবা যেন তোমাদের আশীর্বাদ করেন!