রাজ্যকে প্রথম স্থানে রাখুন
১ আমরা যখন অর্থনৈতিক চাপ অথবা অন্যান্য সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হই, তখন ঈশ্বরের রাজ্যকে জীবনে প্রথম স্থানে রাখা এবং সেই মতো চলা সহজ নয়। যখন বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, তখন কীভাবে আমরা রাজ্যকে প্রথম স্থানে রাখি? আমরা যদি এমন একটা চাকরির প্রস্তাব পাই, যার ফলে সভাগুলোতে আসা বাদ দিতে হয় অথবা ক্ষেত্রের পরিচর্যায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে কী? সেই ক্ষেত্রে কি রাজ্যকে জীবনে দ্বিতীয় স্থানে রাখব?
২ দৃঢ় বিশ্বাসের প্রয়োজন: এইরকম পরিস্থিতিতে আমাদের বিশ্বাস যখন পরীক্ষিত হয়, তখন আমরা যিহোবার প্রতিজ্ঞা এবং রাজ্যকে প্রথমে রাখলে যে ঈশ্বরের কাছ থেকে সাহায্য আসবে সেই সম্বন্ধে যীশুর আশ্বাসকে কখনও ভুলে যাব না। (গীত. ৩৭:২৫; মথি ৬:৩১-৩৪) জগতের প্রভাব ও চাপগুলো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে অস্পষ্ট করে দিতে পারে এবং রাজ্যকে সবচেয়ে প্রথম স্থানে রাখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেউ কেউ চাকরিতে বড় পদ পাওয়া অথবা টাকাপয়সাকে জীবনের প্রধান বিষয় হতে দিয়েছেন। কিন্তু পৌলের মতো, আমাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে দেখা দরকার যে জীবনে কোন্ বিষয়টা সত্যিই মূল্যবান।—ফিলি. ৩:৭, ৮.
৩ বদবদলের দরকার আছে কি? আপনি কি পড়াশোনাকে নাকি আপনার সন্তানদের জীবনকে আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন? এখানে একজন কিশোর সাক্ষির অভিজ্ঞতা দেওয়া হল: জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছিলেন বলে তাকে হাইস্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। অনেকদিন আদালতে মামলা চলার পর সত্য উপাসনার উল্লেখযোগ্য জয় হয়েছিল এবং তিনি স্কুলে ফিরে গিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, কলেজের অনৈতিক পরিবেশ তার বিবেককে দংশন করত আর তাই তিনি প্রথম বছরেই কলেজ ছেড়ে দেন। এখন বারো বছর বেথেলে থাকার পর তিনি মনে করেন যে উচ্চশিক্ষা লাভ করার চেয়ে বেথেল পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে তিনি আরও বেশি উপকার পেয়েছেন। ঈশ্বরের আদেশ হল রাজ্যকে প্রথম স্থানে রাখা। যারা তা করেন, তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, “তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।”
৪ প্রশংসনীয় যে, অনেকেই চাকরি এবং আরও বেশি টাকাপয়সা উপার্জনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন, জীবনকে সাদাসিধে করেছেন এবং পূর্ণ-সময়ের কাজে যোগ দিয়েছেন। যে সমস্ত যুবক, অবিবাহিত পরিচারক দাস ও প্রাচীনরা মিনিস্টিরিয়াল স্কুলে যোগ দিয়েছেন, তারা তা করেছেন এবং পরিচর্যার অপূর্ব সুযোগগুলো উপভোগ করছেন। পৌলের অসাধারণ উদাহরণ অনুকরণ করে, তারা মৌলিক জিনিসগুলো পেয়েই সত্যিকারের সন্তুষ্ট।—১ করি. ১১:১; ১ তীম. ৬:৬-৮; ইব্রীয় ১৩:৫.
৫ যদিও জীবন সম্বন্ধে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি দেখে জগতের লোকেরা উপহাস করতে পারে কিন্তু আমাদের ওপর যিহোবার আশীর্বাদ রয়েছে। (১ করি. ১:২৬-৩১) এটা জানা কি উৎসাহজনক নয় যে, তিনি আমাদেরকে যতটা সম্ভব পুরোপুরি কাজে লাগাবেন এবং তাঁর কাজ সম্পাদন করার জন্য আমাদেরকে সাহায্য করবেন? ঈশ্বরের প্রতিষ্ঠিত রাজ্যের বিষয় ঘোষণা করার যে সুযোগ এখন আমাদের রয়েছে, তা আর কখনও আসবে না। তাই রাজ্যকে প্রথম স্থানে রাখার এখনই সময়।