প্রচার করার জন্য এটা কি কোন বাধা?
১ বেশির ভাগ লোকই ব্যস্ততার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। যিহোবার সাক্ষিরাও এইধরনের ব্যস্ত লোকেদের মধ্যে পড়েন। তারা ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করেন, মণ্ডলীর সভাগুলোতে যোগ দেন এবং ক্ষেত্রের পরিচর্যায় অংশ নেন। এছাড়া, আমাদেরকে চাকরি, সংসারের ও স্কুলের কাজকর্ম দেখাশোনা করার এবং অন্যান্য আরও অনেক দায়দায়িত্বের জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়, যেগুলো করার জন্য সময় দরকার। বিশেষ করে, পরিবারের কর্তাদের জন্য এটা এক কঠিন বিষয়।
২ বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার দরুন, পরিবারের কর্তাদের জীবিকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অতিরিক্ত সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। যে চাকরিগুলো বেশি সময় কাজ করার দাবি করে, সেই চাকরিগুলো করে যখন তাদের বেশির ভাগ সময় ও শক্তি চলে যায়, তখন প্রচার কাজের জন্য তাদের হাতে খুব কম সময়ই থাকে। যেহেতু তাদের সংসারের চাহিদাগুলো মেটানো হল তাদের একটা দায়িত্ব, তাই কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন যে, পরিচর্যায় তারা বেশি সময় দিতে পারবেন না। (১ তীম. ৫:৮) কোন সন্দেহ নেই যে, আজকে জীবনের চাহিদাগুলো জোগাড় করতে গিয়ে অনেক চাপের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু তাই বলে, একজনের চাকরি যেন সুসমাচার প্রচার করার কাজে এক বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। (মার্ক ১৩:১০) তাই আমাদের পরিস্থিতি আসলে কেমন, তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত।
৩ জগতের পরিস্থিতি দিন-দিন পালটানোর কারণে, এক পরিবারের কর্তা হঠাৎ করে আসা সমস্যাগুলোর সময়ে তার হাতে যাতে টাকাপয়সা থাকে, সেটা জোগাড় করার উদ্দেশ্যে হয়তো চাকরির পিছনে অনেক বেশি সময় কাটাতে পারেন। (১ করি. ৭:৩১) বেশি সময় ধরে চাকরি করা হয়তো অতিরিক্ত জিনিসপত্র অথবা মনোরঞ্জন ও চিত্তবিনোদনের জন্য বেশি সুযোগগুলো দেবে বলে মনে হতে পারে কিন্তু এগুলো কি পরিবারকে সুখী করবে ও বেশি সন্তুষ্টি এনে দেবে, যদি কিনা তা আধ্যাত্মিক কাজগুলোকে ও নিয়মিত সভায় আসা বাদ দিয়ে করা হয়? অবশ্যই, আমরা আমাদের আধ্যাত্মিকতাকে বিপদে ফেলতে পারে এমন কিছুকে এড়িয়ে চলতে চাইব। ‘স্বর্গে ধন সঞ্চয় করা’ এবং “ঈশ্বরের উদ্দেশে ধনবান্” হওয়া সম্বন্ধে যীশুর উপদেশকে কাজে লাগানো হল বুদ্ধিমানের কাজ।—মথি ৬:১৯-২১; লূক ১২:১৫-২১.
৪ প্রথমে রাজ্যের বিষয়ে চেষ্টা করুন: যীশু তাঁর অনুগামীদের আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোকে সমস্ত কিছুর আগে রাখতে শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি তাদের বলেছিলেন: “ইহা বলিয়া ভাবিত হইও না যে, ‘কি ভোজন করিব?’ বা ‘বা কি পান করিব?’ বা ‘কি পরিব?’” কেন তিনি এরকম বলেছিলেন? তিনি ব্যাখ্যা করেন: “তোমাদের স্বর্গীয় পিতা ত জানেন যে এই সকল দ্রব্যে তোমাদের প্রয়োজন আছে।” এই বিষয়টাতে যদি আমাদের সত্যিই বিশ্বাস থাকে, তাহলে এমন কোন বাধাই থাকবে না যা আমাদেরকে এর পরে যীশু যা বলেছিলেন সেটা করতে বাধা দেয়। তিনি বলেছিলেন: “কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল [প্রয়োজনীয় বস্তু] দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে।” ঈশ্বর তা নিশ্চয়ই দেবেন! (মথি ৬:৩১-৩৩) যে বিধিব্যবস্থা শীঘ্রিই ধ্বংস হবে সেখানে জীবনযাপন করার ব্যাপারে অত্যধিক চিন্তা করে অথবা আরামের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা রেখে বিঘ্নিত হওয়ার সময় এটা নয়।—১ পিতর ৫:৭; ১ যোহন ২:১৫-১৭.
৫ চাকরি করার প্রধান উদ্দেশ্য হল, একজনের বস্তুগত প্রয়োজনগুলোকে মেটানো। কিন্তু সেগুলো আমাদের কতখানি দরকার? প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “গ্রাসাচ্ছাদন পাইলে আমরা তাহাতেই সন্তুষ্ট থাকিব।” আমরা কি তার চেয়ে বেশি পাওয়ার চেষ্টা করছি? যদি তাই করি, তাহলে আমরা হয়তো সেই পরিণতি ভোগ করব যে সম্বন্ধে পৌল সাবধান করে দিয়েছিলেন যে: “যাহারা ধনী হইতে বাসনা করে, তাহারা পরীক্ষাতে ও ফাঁদে এবং নানাবিধ মূঢ় ও হানিকর অভিলাষে পতিত হয়, সে সকল মনুষ্যদিগকে সংহারে ও বিনাশে মগ্ন করে।” (১ তীম. ৬:৮, ৯; মথি ৬:২৪; লূক ১৪:৩৩) আমরা অত্যধিক আকাঙ্ক্ষাগুলোর মধ্যে ডুবে আছি কি না, তা আমরা কী করে বুঝতে পারি?
৬ জাগতিক কাজগুলোর জন্য যদি আমরা পরিচর্যায় খুব অল্প অংশ নিই অথবা সুসমাচারের জন্য যে ত্যাগস্বীকারগুলো করা দরকার সেগুলো বুঝতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের জন্য যে বিষয়গুলো বেশি জরুরি, সেগুলো করতে রদবদল করার দরকার আছে। (ইব্রীয় ১৩:১৫, ১৬) আমাদের প্রচারের পথে আসা এই বাধাকে সরানোর জন্য আরও সাদাসিধে জীবনযাপন করা খুবই সাহায্যকারী হবে। আমাদের সময় ও শক্তিকে কাজে লাগানোর সময়ে রাজ্যের কাজকে সবচেয়ে প্রথমে রাখা উচিত।
৭ যে পরিশ্রম নিষ্ফল নয়: পৌলের কথাগুলো আমাদেরকে সবসময় ‘প্রভুর কার্য্যে উপচিয়া পড়িতে’ উৎসাহিত করে, ‘কেননা [আমরা] জানি যে, প্রভুতে আমাদের পরিশ্রম নিষ্ফল নয়।’ (১ করি. ১৫:৫৮) “প্রভুর” প্রধান ‘কার্য্য’ হল, রাজ্যের প্রচার ও শিষ্য তৈরি করা। (মথি ২৪:১৪; ২৮:১৯, ২০) যতখানি পারা যায় ততখানি পূর্ণ মাত্রায় অংশ নিতে হলে, আমাদেরকে প্রত্যেক সপ্তায় ক্ষেত্রের পরিচর্যায় অংশ নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে রাখার এবং অন্য কাজে সেই সময়কে ব্যবহার না করার চেষ্টা করা দরকার। (ইফি. ৫:১৫-১৭) তাহলে, চাকরি অথবা অন্য কিছু আমাদের পরিচর্যায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
৮ অন্যদেরকে বাইবেলের সত্য জানানোর কাজে আমরা যখন নিজেদেরকে সঁপে দিই, তখন আমরা অফুরন্ত সুখ অভিজ্ঞতা করি, যা দান করার মাধ্যমে আসে। (প্রেরিত ২০:৩৫) রাজ্যের প্রচার কাজে অংশ নেওয়ার দ্বারা, আমরা আস্থা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারি, “কেননা ঈশ্বর অন্যায়কারী নহেন; [আমাদের] কার্য্য, এবং . . . তাঁহার নামের প্রতি প্রদর্শিত [আমাদের] প্রেম, এই সকল তিনি ভুলিয়া যাইবেন না।”—ইব্রীয় ৬:১০.