যুবক-যুবতীরা তোমরা সভাগুলো থেকে অনেক কিছু শিখতে পার
১ একজন কিশোরী বলে: “কখনও কখনও আমার মনে হয় যে আমাদের যুবক-যুবতীদেরই জীবনে সবচেয়ে বেশি কঠিন সময় ভোগ করতে হয়। যে দিকেই তাকানো যাক না কেন, জগৎ ব্যভিচার, ড্রাগ আর মদের নেশায় ডুবে আছে।” তোমারও কি তাই মনে হয় না? যদি হয়, তাহলে কীভাবে তুমি এই খারাপ অবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পার? তোমাকে তোমার বিশ্বাস মজবুত করা দরকার। যিহোবার চোখে যে কাজগুলো ঠিক তা করার জন্য তোমার সবসময় চেষ্টা করা দরকার কারণ তা ছাড়া ঈশ্বরের “প্রীতির পাত্র হওয়া কাহারও সাধ্য নয়।” (ইব্রীয় ১১:৬) আর তা তখনই হবে যদি তুমি মণ্ডলীর সভাগুলোকে কখনও বাদ না দাও। নিয়মিত সভাগুলোতে আসলে তোমার বিশ্বাস মজবুত হবে আর তুমি জগতের খারাপ অবস্থাকে এড়িয়ে চলতে পারবে।
২ সভাগুলোর থেকে তোমরা অনেক কিছু শিখতে পার: একটু ভেবে দেখুন যে সুস্বাদু খাবার খাওয়ার সময় যদি তোমার প্রিয় বন্ধু তোমার কাছে থাকে তাহলে সেই খাবারের স্বাদ কি আরও বেড়ে যায় না? অবশ্যই যায়। সত্যিকারের আনন্দ আমরা তখনই পাই যখন ভাল খাবারের সঙ্গে আমাদের বন্ধুবান্ধবেরা আমাদের সঙ্গে থাকে। ঠিক তেমনই সভাগুলোতে ভাইবোনদের সঙ্গে একসাথে, যিহোবার কাছ থেকে শিখে আমরা আনন্দ পাই।
৩ সভাগুলোতে যা আলোচনা করা হয় তা শুধুমাত্র আমাদের বিশ্বাসকেই গড়ে তোলে না বরং আমাদের প্রতিদিনের জীবনে যে সমস্যাগুলো আসে তা সমাধান করতে শেখায়। এছাড়া এই সভাগুলোতেই আমরা বাইবেলের বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীর বিষয় শিখতে পাই। অনেক বাস্তব পরামর্শ আমরা সভা থেকে পাই যা আমাদের জীবনকে আরও উন্নত মানের ও কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে শেখায়। সভাতে গিয়ে যে বন্ধুবান্ধবদের আমরা পাই তাদের চেয়ে আর ভাল বন্ধু আমরা কোথাও পাব না। আমরা নিশ্চিন্ত মনে তাদের মাঝে থেকে ও তাদের সঙ্গে কথা বলে আনন্দ পাই। (গীত. ১৩৩:১) তাই এক যুবতী বলে: “স্কুলে সারাদিন চাপগুলোর মোকাবিলা করতে করতে আমি একেবারে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু সভা যেন মরূদ্যানের মতো। সভায় গিয়ে আমি তরতাজা হয়ে উঠি আর পরের দিন স্কুলে গিয়ে চাপের মোকাবিলা করার শক্তি পাই। আর এক যুবতী বলে: “আমার মনে হয় যে যারা যিহোবাকে ভালবাসে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, আমি যিহোবার বন্ধু হতে পারি ও তাঁকে ভালবাসতে পারি।”
৪ ঐশিক বিদ্যালয়ে নাম লিখিয়ে তুমি অনেক কিছু শিখতে পার। বাইবেলের বিভিন্ন তথ্য জড় করে তার থেকে একটা বক্তৃতা তৈরি করে কিংডম হলে সেটাকে ভাইবোনদের সামনে কী করে স্বাভাবিকভাবে দেওয়া যায় তা এখানে শেখানো হয়। এইভাবে লোকেদেরকে বাইবেল থেকে এমন বিষয় শেখানোয় আমরা পটু হয়ে উঠি যা তাদের জীবন দেয়। যুবক-যুবতীরা তোমরা এই শিক্ষা আর কোথাও কি পাবে?
৫ সভাগুলো থেকে কীভাবে আরও বেশি শেখা যায়: এরজন্য আমাদের তিনটে বিষয় মাথায় রাখা দরকার। এগুলো হল সভার জন্য তৈরি করা, সভায় উত্তর দেওয়া আর সভাগুলো থেকে আমরা যা শিখি সেগুলো কাজে লাগান।
৬ সভার জন্য তৈরি করা: সভার জন্য তৈরি করতে আগে থেকে একটা সময় ঠিক করে রাখা খুবই জরুরি। কারণ কখনও কখনও হয়তো স্কুলের হোমওয়ার্ক, চাকরি বা খেলাধুলোয় এতখানি সময় চলে যায় যে সভার জন্য তৈরি করার সময় হয়ে ওঠে না। কিন্তু মনে রেখ যে প্রত্যেকটা সভায় যা আলোচনা করা হবে তা আগের থেকে তৈরি করতে তুমি যেন সময় করে নাও। আর তার জন্য তোমার একটা ভাল তালিকা থাকা দরকার। সবচেয়ে প্রথমে, ঐশিক পরিচর্যা বিদ্যালয় তালিকায় যে সপ্তাহিক বাইবেল পাঠ থাকে তা পড়ো। রোজ পড়ার জন্য যতটুকু দেওয়া আছে তা পড়তে ও তার ওপর চিন্তা করতে খুব বেশি সময় লাগে না। মণ্ডলীর বুকস্টাডি ও প্রহরীদুর্গ পাঠ তৈরি করার জন্য সময় করে নাও। কেউ কেউ এই সভাগুলো হওয়ার দু-তিন দিন আগে এর জন্য তৈরি করে। প্রত্যেক সপ্তার পরিচর্যা সভার জন্য তৈরি করতেও চেষ্টা কর।
৭ সভায় উত্তর দাও: বাইবেল বলে যে যীশুর যখন ১২ বছর বয়স ছিল তখন থেকেই তাঁকে ধর্মীয় গুরুদের সঙ্গে আলোচনা করতে, প্রশ্ন-উত্তর করতে দেখা যায়। (লূক ২:৪৬, ৪৭) এর মানে হল যে যীশু পুরোপুরিভাবে এই আলোচনাগুলোতে জড়িত হয়েছিলেন। তুমিও কি সভায় উত্তর দিয়ে সভাগুলোর থেকে আরও বেশি করে শেখ না?—হিতো. ১৫:২৩.
৮ সভাগুলোতে যা আলোচনা হয় তা মন দিয়ে শোন। অনেক সময় বক্তৃতা দেওয়া হয়তো সহজ কিন্তু বসে শোনা কঠিন। তার কারণ কী? অন্যে যখন কথা বলে তখন অন্যমনস্ক হয়ে পড়া খুব সহজ। কিন্তু কী করে তুমি সভাগুলোয় মন দিতে পার? নোট নিয়ে। বিশেষ বিষয়গুলোকে লিখে নাও, যাতে পরে তুমি সেগুলোকে মনে করতে পার। নোট নিলে তুমি অন্যমনস্ক হয়ে পড়বে না। এছাড়াও বক্তা যখন বাইবেলের কোন পদ খুলে পড়েন তখন তুমিও সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে নাও।
৯ প্রশ্ন-উত্তর সভাগুলোতে উত্তর দেবেই দেবে বলে ঠিক কর। তুমি কীভাবে প্রশ্নের উত্তর দেবে তা নিয়ে যদি আগে থেকে ভাব, তাহলে তুমি দেখবে যে তুমি আরও ভালভাবে তা বলতে পারছ। তাই হিতোপদেশ ১৫:২৮ পদ বলে: “ধার্ম্মিকের মন উত্তর করিবার নিমিত্ত চিন্তা করে।”
১০ যা শিখছ তা কাজে লাগাও: সব শেষে বলা যেতে পারে, যে তুমি যা কিছু শিখছ তা তোমার মধ্যে ‘কার্য্য সাধনও করছে’ কি না তা পরীক্ষা করে দেখ। (১ থিষল. ২:১৩) প্রত্যেক সপ্তায় সভা থেকে যে ভাল বিষয়গুলো তুমি শিখছ তা কাজে লাগিয়ে যিহোবার সঙ্গে এক ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারো। যিহোবাকে তখনই তুমি ভালভাবে চিনবে যখন তুমি ‘সত্যে চলবে’ ও সত্যকে নিজের করে নেবে আর এতে তোমার জীবন সুখের হবে।—৩ যোহন ৪.
১১ যুবক ভাইবোনেরা, তোমরা যদি সভার জন্য তৈরি কর, সভায় উত্তর দাও আর যা শিখছ তা জীবনে কাজে লাগাও, তাহলে সভাতে গিয়ে তোমরা আরও আনন্দ পাবে। আর তোমরা সভা থেকে অনেক কিছু শিখতেও পারবে। তোমার বিশ্বাস মজবুত হবে আর তুমি যিহোবার পথে চলতে থাকবে।—গীত. ১৪৫:১৮.