আপনি কি ধৈর্য ধরে সত্যে চলছেন?
১ প্রেরিত যোহন বলেছিলেন, “আমার সন্তানগণ সত্যে চলে, . . . তদপেক্ষা মহত্তর আনন্দ আমার নাই।” (৩ যোহন ৪) হ্যাঁ, প্রেরিত যোহন যাদেরকে সত্য শিখিয়েছিলেন তাদেরকে সত্যে চলতে দেখে তার মন খুশিতে ভরে গিয়েছিল। তাহলে একটু ভেবে দেখুন যে আমাদের স্বর্গীয় পিতা যিহোবা ঈশ্বর কতই না খুশি হন যখন তিনি দেখেন যে আমরা ‘সত্যে চলছি!’—হিতো. ২৩:১৫, ১৬; ২৭:১১.
২ যদিও ঈশ্বরের লোকেরা জোরকদমে তাঁর দেওয়া কাজ করে চলেছেন কিন্তু তবুও কিছু ভাইবোনেরা যেন ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়ছেন। অথচ প্রথম যখন তারা সত্য শিখেছিলেন তখন তারা খুবই উদ্যোগী ছিলেন। এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঝিমিয়ে পড়ছেন আর কখনও সখনও প্রচারে যাওয়া বা প্রচারে একেবারেই না যাওয়াটা তাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩ কিছু ভাইবোনেরা আবার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ায় বা বয়স হয়ে যাওয়ায় ততখানি প্রচার করতে পারেন না যতখানি কিনা তারা আগে করতেন। কিন্তু এই অসুবিধাগুলো সত্ত্বেও তারা ধৈর্য ধরে এখনও যতটুকু করে চলেছেন তার জন্য আমরা তাদের প্রশংসা করব। এইজন্য আমাদের ঈশ্বরের সমস্ত সেবকদের নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করা দরকার: ‘আমি কি আমার নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দকেই বড় করে দেখি যে প্রচারে যাওয়ার জন্য আমার একেবারেই সময় হয়ে ওঠে না? আমি কি “কদুষ্ণ” হয়ে পড়েছি নাকি ঈশ্বরের কাজের জন্য এখনও আমি “প্রাণপণ” করছি? (প্রকা. ৩:১৫, ১৬; লূক ১৩:২৪) আমাদের সবার বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখা ও প্রার্থনা করা দরকার। নিজেদেরকে পরীক্ষা করে দেখা দরকার যে ঈশ্বরের কাজে যতখানি আমাদের করা উচিত ততখানি আমরা করছি কি না। কারণ ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে “যারা ভাল কাজ করে তারা গৌরব, সম্মান ও শান্তি লাভ করবে।”—রোমীয় ২:১০ প্রে.বা.
৪ কীভাবে ধৈর্য ধরবেন: যীশু যখন পৃথিবীতে ছিলেন তিনি কীভাবে ধৈর্য ধরেছিলেন? পৌল বলেন: “তিনিই আপনার সম্মুখস্থ আনন্দের নিমিত্ত ক্রুশ সহ্য করিলেন, অপমান তুচ্ছ করিলেন, এবং ঈশ্বরের সিংহাসনের দক্ষিণে উপবিষ্ট হইয়াছেন।” (ইব্রীয় ১২:১-৩) হ্যাঁ, যীশুর সামনে যে আনন্দ ছিল, সেই আনন্দের কাছে অপমান, দুঃখকষ্ট, তাড়না কিছুই ছিল না। একইভাবে যিহোবা আমাদের যে আশীর্বাদ করেছেন ও আমাদের সামনে যে আশীর্বাদ রেখেছেন সে কথা যদি আমরা মনে রাখি, তাহলে আমরাও দুঃখকষ্ট সহ্য করতে পারব। (প্রকা. ২১:৪, ৭; ২২:১২) আজকে আমরা যদি ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করি, সভায় যাওয়া বন্ধ না করি এবং অনবরত প্রার্থনা করি, তাহলে যিহোবা আমাদের ধৈর্য ধরে সত্যে চলার শক্তি যোগাবেন।
৫ যিহোবা যখন দেখেন যে তাঁর দাসেরা ধৈর্য ধরে তাঁর দেওয়া কাজ করে চলেছেন তখন তিনি খুবই খুশি হন। তাই আসুন আমরা সবসময় ‘সত্যে চলে’ যিহোবার মনকে আনন্দিত করি।