একজন মুসলমানকে আপনি কী বলবেন?
১ আপনি কি কখনও কোন মুসলমান লোকের কাছে প্রচার করেছেন? যদি করে থাকেন, তাহলে আপনি জানেন যে মুসলমানরা মনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহ্কে বিশ্বাস করেন। কিন্তু প্রাচীন কালের যিহোবার ভাববাদীরা যে পরমদেশ পৃথিবী সম্বন্ধে বলতেন সে ব্যাপারে তারা খুব অল্পই জানেন আর তাই আমরা এই আশা সম্বন্ধে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। (১ তীম. ২:৩, ৪) নিচের তথ্য আপনাকে তাদের কাছে ভালভাবে সাক্ষ্য দিতে সাহায্য করবে।
২ মুসলমানরা আল্লাহ্ অথবা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন আর তারা এও বিশ্বাস করেন যে মুহম্মদ আল্লাহ্র নবী ছিলেন। তাদের পবিত্র শাস্ত্রের নাম কোরান আর তাদের ধর্মকে বলা হয় ইসলাম ধর্ম যার মানে হল “বশীভূত হওয়া।” কোরান বলে যে মিথ্যা বলা ও মূর্তিপূজা করা পাপ, আল্লাহ্ এক আর তিনি ত্রিত্ব নন। এছাড়া কোরান আত্মার অমরত্ব, অগ্নিময় নরক এবং স্বর্গীয় পরমদেশ সম্বন্ধে শেখায়। মুসলমানরা বাইবেলকে ঈশ্বরের বাক্য বলে মানেন কিন্তু তারা মনে করেন যে এতে লেখা কথাগুলোকে বদলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোরানে লেখা কথা প্রথমে যেমন ছিল তেমনই আছে, এর কোন পরিবর্তন হয়নি, তাই এটা এখনও পবিত্র রয়েছে।
৩ বন্ধুর মতো ব্যবহার করুন, বুদ্ধি করে ও ভেবেচিন্তে কথা বলুন: যখনই আপনি কোন মুসলমানের সঙ্গে কথা বলেন, তার সঙ্গে বন্ধুর মতো ব্যবহার করুন ও বুদ্ধি করে কথা বলুন। (হিতো. ২৫:১৫) আরেকটা কথাও মনে রাখুন যে মুসলমানরা খুবই রক্ষণশীল আর তাদের বেশির ভাগই শুধু শুনে ও মুখস্থ করে তাদের শাস্ত্র সম্বন্ধে শিখেছেন। তাই ধর্মীয় শিক্ষাগুলোকে নিয়ে যুক্তিতর্ক করে বোঝা বা পরীক্ষা করে দেখা যে প্রকৃতই ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে কী চান তা তারা শেখেন না। (রোমীয় ১২:২) তাই মুসলমানদের সাহায্য করতে হলে ধৈর্য ধরা ও তাদেরকে বোঝা খুব দরকার।—১ করি. ৯:১৯-২৩.
৪ কখনই এমন কোন কথা বলে বসবেন না যাতে তারা আপনাকে গির্জার লোক বলে ধরে নেন। তাকে স্পষ্ট করে বলে দিন যে আপনি ক্যাথলিক কিংবা প্রটেস্টান্ট কোন ধর্মেরই নন, আপনি তাদের থেকে একেবারে আলাদা। বলুন যে বাইবেল আল্লাহ্র বই। যেহেতু মুসলমানরা “ঈশ্বরের পুত্র” এই কথাটা পছন্দ করেন না, তাই সেটা না বলাই ভাল বা সে বিষয়ে আলোচনা না করাই ঠিক যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা আধ্যাত্মিকভাবে কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনি আল্লাহ্ তাঁকে পাঠিয়েছিলেন বা তিনি আল্লাহ্র নবী বলে যীশুর সম্বন্ধে কথা বলতে পারেন। তর্ক করবেন না। যদি দেখেন যে তিনি রেগে যাচ্ছেন, তাহলে কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ সেখান থেকে চলে আসুন।
৫ দলের সঙ্গে কথা না বলে একজনের সঙ্গে কথা বলাটাই ভাল। আর যদি বোনেরা মহিলাদের সঙ্গে আর ভাইরা পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে আরও ভাল হবে। তবে এটা ঠিক যে সবসময় এরকম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এরকম চেষ্টা করলে ভাল। এছাড়াও অনেক মুসলমানরা মহিলাদের পোশাক-আশাক ও বেশভূষার দিকে বেশি নজর রাখেন এইজন্য বোনেদের একটু ভেবেচিন্তে কাপড় পড়া দরকার।—১ করি. ১০:৩১-৩৩.
৬ যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন: ঈশ্বর যে মহান সেই বিষয়ে এবং তাঁর প্রেম সম্বন্ধে মন খুলে কথা বলুন। তাদের বলুন যে তাদের বিশ্বাসই সত্যি, ঈশ্বর এক (ত্রিত্ব নন) আর মূর্তিপূজা ভুল। জগতের দুষ্টতা, যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, জাতিভেদ এবং ভণ্ডামি যা বেশির ভাগ ধর্মের লোকেদের মধ্যে দেখা যায় এই বিষয়গুলো নিয়েও আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলুন।
৭ আল্লাহ্র হেদায়েত—আমাদের জন্য ফিরদৌসে যাওয়ার রাস্তা নামের ব্রোশার থেকে আপনি মুসলমানদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আরও বিষয়গুলো পাবেন। এই ব্রোশারটা সেই মুসলমানদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যারা এমন পরিবেশে বাস করেন যেখানে তারা বিনা বাধায় বাইবেল অধ্যয়ন করতে পারেন।
৮ আপনি এইভাবে শুরু করতে পারেন:
▪“আজ বিশেষ করে আমি মুসলমান লোকেদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। আমি আপনার ধর্ম সম্বন্ধে পড়েছি আর আমার মনে হয়, যদি আমি বলি যে মুসলমানরা একজন সত্য ঈশ্বরে ও সমস্ত নবীদের বিশ্বাস করেন, তাহলে আমি কিছু ভুল বলছি না। [উত্তরের জন্য সুযোগ দিন।] আমি প্রাচীন একটা ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। এই ভবিষ্যদ্বাণীটা বলে যে এই পৃথিবী এক পরমদেশে পরিণত হবে। নবী কী লিখেছিলেন আমি কি আপনাকে সেটা পড়ে শোনাতে পারি? [যিশাইয় ১১:৬-৯ পদ পড়ুন।] এই ভবিষ্যদ্বাণীটা আমাকে কোরানের একটা উদ্ধৃতি মনে করিয়ে দেয় আর সেটা এই ব্রোশারে রয়েছে।” আল্লাহ্র হেদায়েত ব্রোশারের ৯ পৃষ্ঠা খুলুন এবং মোটা অক্ষরে ছাপানো উদ্ধৃতিটা পড়ুন যেটা জানায় যে ধার্মিকেরা পৃথিবীর অধিকারী হবে। যদি ওই ব্যক্তি আগ্রহ দেখান, তাহলে তখনই তার সঙ্গে আলোচনা করে চলুন ও উল্টো পৃষ্ঠার ৭ থেকে ৯ অনুচ্ছেদ থেকে কথা বলুন। ব্রোশারটা তাকে দিন ও আবারও ফিরে আসার কথা বলুন।—অন্য আর কীভাবে শুরু করা যায় তা দেখার জন্য ১৯৯৮ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসের আমাদের রাজ্যের পরিচর্যা-র ৬ পৃষ্ঠার ২৩ অনুচ্ছেদ দেখুন।
৯ কাউকে আল্লাহ্র হেদায়েত ব্রোশারটা থেকে অধ্যয়ন করার কথা বলার সময় তাকে বলবেন না যে আমরা আপনার সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করব বরং বলুন যে আমরা এই ব্রোশারটা থেকে আপনার সঙ্গে আলোচনা করব। যখন আপনি এই ব্রোশারটা নিয়ে অধ্যয়ন শেষ করার মধ্যেই আপনার ছাত্রের চান ব্রোশার অথবা জ্ঞান বই নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্য তৈরি হয়ে যাওয়া দরকার। বিশেষ করে মুসলমানদের জন্য অন্য যে প্রকাশনাগুলো প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো হল কীভাবে পরমদেশের পথটি পাওয়া যায় (ইংরেজি) নামের ট্র্যাক্ট এবং ঈশ্বরের প্রতি প্রকৃত বশীভূত হওয়ার সময় (ইংরেজি) নামের পুস্তিকা।
১০ মুসলমানদের বিশ্বাস ও আচারব্যবহার জানা থাকলে, আমরা ভেবেচিন্তে ও বেছে তাদেরকে এমন সাহিত্য দিতে পারব যাতে তাদের কাছে ভালভাবে সাক্ষ্য দেওয়া যায়। যিহোবা আমাদের চেষ্টাকে আশীর্বাদ করুন যাতে আমরা সব জাতির লোকেদের তাঁর নামে ডাকতে ও জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারি।—প্রেরিত ২:২১.