একজন যিহুদিকে আপনি কী বলবেন?
১ প্রথম শতাব্দীতে “ইস্রায়েলসন্তানগণের” অনেকে যীশু ও তাঁর প্রেরিতদের প্রচার কাজে খুব খুশি হয়ে সাড়া দিয়েছিলেন। (প্রেরিত ১০:৩৬) তখনকার মতো আজকেও অনেক যিহুদিরা অন্তর থেকে সত্যকে নিজের করে নিচ্ছেন, আর তা শুধু ইস্রায়েলেই নয় কিন্তু ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশগুলোতেও। আপনিও কি যিহুদি লোকেদের কাছে আরও ভালভাবে সাক্ষ্য দিতে চান? নিচের পরামর্শগুলো মেনে আপনিও যিহুদিদের কাছে বুঝেশুনে সাক্ষ্য দিতে পারবেন তা সে তারা ধর্মপ্রাণ হোন বা না হোন।
২ ধর্মপ্রাণ যিহুদিদের কাছে সাক্ষ্য দেওয়া: এটা মনে রাখতে হবে যে ধর্মপ্রাণ যিহুদিরা সাধারণত ঈশ্বরের শিক্ষা মনে চলার বদলে বরং রব্বিদের পরম্পরাগত রীতিনীতিই মেনে চলতে চান। আসলে তারা পরম্পরাগত রীতিনীতিকে শাস্ত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে মেনে করেন। তাই তারা সচরাচর বাইবেলের গভীর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করেন না। এছাড়াও তারা বাইবেলকে খ্রীষ্টানদের বই বলে মনে করেন। তাই সবচেয়ে ভাল হয় যদি বাইবেল থেকে কথা বলার সময়ে বাইবেল শব্দের বদলে “ইব্রীয় শাস্ত্র,” “তোরাহ্” বা “শাস্ত্রাবলি” শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে যিহুদি লোকেদের কথা মাথায় রেখে একটা চমৎকার ব্রোশার তৈরি করা হয়েছে আর এর নাম যুদ্ধ বিহীন এক জগৎ কি কখনও সম্ভব? (ইংরেজি)।
৩ কোন্ বিষয়গুলো ধর্মপ্রাণ যিহুদিদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে পারে? তারা বিশ্বাস করেন যে মাত্র একজন ঈশ্বর আছেন আর তিনি মানুষের জন্য চিন্তা করেন। তারা এও বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বর মানুষের ব্যাপারগুলোতে হস্তক্ষেপ করেন। তাই এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনি কথা বলতে পারেন আর তাহলে তিনিও আগ্রহের সঙ্গে তা শুনবেন। এছাড়াও বেশির ভাগ যিহুদি জানেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাদের লোকেদের ওপর নির্মম অত্যাচার করা হয়েছিল। তারা এই ভেবে অবাক হন যে কেন ঈশ্বর এইরকম অবিচার হতে দিয়েছেন এবং কখন দুষ্টতার শেষ আসবে। আমরা খুব ভালভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারি, উদাহরণ হিসেবে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমাদের ভাইয়েদের যা ভোগ করতে হয়েছিল সে বিষয়েও আমরা বলতে পারি।
৪ আলোচনার শুরুতেই মশীহের শনাক্তিকরণ নিয়ে কথা না বলাই ভাল কারণ তাতে হয়তো গৃহকর্তা রেগে যেতে পারেন। বদলে আপনি হয়তো ইস্রায়েলের ইতিহাসে মোশির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং গৃহকর্তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন যে মোশির শিক্ষাগুলো কী আজকের দিনেও মানার মতো নয়, এই বিষয়ে তিনি কী মনে করেন। যখন আপনার মনে হবে যে মশীহের শনাক্তিকরণ নিয়ে কথা বলা ঠিক তখন আপনি হয়তো প্রথমে দ্বিতীয় বিবরণ ১৮:১৫ পদটা পড়তে পারেন, যেখানে লেখা আছে: “তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার মধ্য হইতে, তোমার ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে, তোমার জন্য আমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিবেন, তাঁহারই কথায় তোমরা কর্ণপাত করিবে।” গৃহকর্তাকে জিজ্ঞেস করুন যে মোশি যখন তার মতো এক ভাববাদীর কথা বলেছিলেন তখন তিনি কার কথা বুঝিয়েছিলেন বলে আপনার মনে হয়। এরপর যুদ্ধবিহীন এক জগৎ ব্রোশার থেকে ১৪ পৃষ্ঠার ১৭ এবং ১৮ অনুচ্ছেদের কিছু বিষয় বলুন।
৫ ধর্মপ্রাণ নন এমন যিহুদিদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা: যারা নিজেদেরকে যিহুদি বলেন তারা সবাই যে যিহুদি ধর্মের শিক্ষাগুলোকে পছন্দ করেন এমন নয়। অনেক যিহুদিরই ধর্মের ব্যাপারে কোন আগ্রহ নেই। যিহুদি ধর্ম পালন করার চেয়ে তারা বরং সংস্কৃতি, পরম্পরাগত রীতিনীতি এবং শিক্ষার দিক দিয়ে যিহুদিরা যে আলাদা সেই পরিচয় দিতেই বেশি আগ্রহী। কিছু কিছু যিহুদিদের ঈশ্বর আছেন কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে আর তাদের কিছুজন আবার নাস্তিক। তাই ইব্রীয় শাস্ত্র থেকে অনেক পদ দেখিয়ে কথা বলে খুব একটা লাভ হবে না। বরং ধর্মে বিশ্বাস নেই এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন, তার সঙ্গেও সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললে আরও ভাল ফল পাওয়া যাবে। উদাহরণ হিসেবে আপনি হয়তো বলতে পারেন যে আমাদের দিনে বাইবেল কীভাবে কাজে লাগে। গৃহকর্তা যদি বাইবেলকে ঈশ্বরের বাক্য বলে না মানেন, তাহলে যুদ্ধবিহীন এক জগৎ নামক ব্রোশারের বিশেষ করে ৩ পৃষ্ঠায় “বাইবেল কি ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণীত?” উপশিরোনামে যে বিষয়গুলো রয়েছে তা বলা ভাল হবে।
৬ যিহুদি লোকের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আপনি হয়তো বলতে পারেন:
◼ “আমরা জানি যে মৃত্যুতে প্রিয়জনদের হারানো কতখানি দুঃখের। আমরা যখন মারা যাই তখন আমাদের কী হয় বলে আপনি মনে করেন?” উত্তরের জন্য সুযোগ দিন। এরপর যুদ্ধবিহীন জগৎ ব্রোশারের ২২ পৃষ্ঠার “মৃত্যু এবং প্রাণ কী?” শিরোনামের বাক্সটা গৃহকর্তাকে দেখান। এই বাক্সটাতে মৃত্যুর পর জীবন সম্বন্ধে বাইবেল যা বলে তার সঙ্গে রব্বিদের শিক্ষাগুলোকে তুলনা করা হয়েছে। এরপর ২৩ পৃষ্ঠার ১৭ অনুচ্ছেদে যান এবং দেখান যে বাইবেল বলে পরমদেশ পৃথিবীতে মৃতেরা পুনরুত্থিত হবে। ব্রোশারটা তাকে নিতে বলুন। আবার ফিরে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করতে আপনি হয়তো বলতে পারেন যে কূলপতি ইয়োব পুনরুত্থানের আশা করতেন। ১৭ অনুচ্ছেদের শেষে যে পদ রয়েছে তা দেখিয়ে বলুন যে আপনি ফিরে এসে এই বিষয়ে আবার আলোচনা করবেন।
৭ মথি, মার্ক, লূক, যোহন এবং প্রেরিত পুস্তকে যেসব যিহুদিরা সত্য শুনে পালন করেছিল তাদের কথা বলা আছে। যিহোবা এখনও অনন্ত জীবনের পথ খোলা রেখেছেন। অনেক যিহুদিরা যারা সত্যিই জানতে চান তারা হয়তো এখনও সত্য ঈশ্বর যিহোবার বিষয়ে শিখতে পারেন, যাতে তারাও ঈশ্বরের নতুন জগতে অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারেন।—মীখা ৪:১-৪.