আমাদের ঈশ্বরের গৃহকে আমাদের অবহেলা করা উচিৎ নয়
১ “লোকদিগকে, পুরুষ, স্ত্রী, বালক-বালিকা ও তোমার নগর-দ্বারের মধ্যবর্ত্তী বিদেশী সকলকে একত্র করিবে, যেন তাহারা শুনিয়া শিক্ষা পায়, ও তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করে, এবং এই ব্যবস্থার সমস্ত কথা যত্নপূর্ব্বক পালন করে।” (দ্বি.বি. ৩১:১২) এমনকি আজকেও, প্রাচীন ইস্রায়েল জাতিকে দেওয়া এই উপদেশ যিহোবার সকল সত্য উপাসকদের প্রতি প্রযোজ্য কারণ নিয়মিতভাবে একত্রে সম্মিলিত হওয়ার জন্য ইব্রীয় ১০:২৫ পদে পৌল খ্রীষ্টানদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাই সভাগুলি আমাদের উপাসনার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্পষ্টতই, এইধরনের একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্য হল শোনা ও শেখা এবং যিহোবার দ্বারা শিক্ষিত হওয়া। (যিশা. ৫৪:১৩) এইধরনের সভাগুলি, প্রাচীন ইস্রায়েলে যেমন সেগুলি ছিল, এক আনন্দপূর্ণ অনুষ্ঠান যা আমাদের মধ্যে দায়ূদের মত এক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যিনি লিখেছিলেন: “আমি আনন্দিত হইলাম, যখন লোকে আমাকে বলিল, চল, আমরা সদাপ্রভুর গৃহে যাই।” (গীত. ১২২:১) যিহোবার গৃহের জন্য নহিমিয়ের উদ্যোগ তাকে বলতে চালিত করেছিল, “আমরা আপনাদের ঈশ্বরের গৃহ ত্যাগ করিব না।”—নহিমিয় ১০:৩৯.
২ খ্রীষ্টীয় জগতের গির্জার বিপরীতে, কখনও কখনও যেগুলি স্থাপত্যের দিক দিয়ে খুবই প্রভাববিস্তারকারী, যেখানে যিহোবার সাক্ষীরা উপাসনার জন্য মিলিত হয় সেই স্থানগুলি খুবই সাধারণ, তবুও এই জীবন্ত ও উষ্ণ স্থানগুলি কিংডম হল নামে পরিচিত। এই নামটি স্পষ্টভাবে ১৯৩৫ সালে সমিতির তৎকালীন সভাপতি জে. এফ. রাদারর্ফোড প্রথম ব্যবহার করেছিলেন, যখন তিনি হাওয়াই পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ও সেখানে একটি সভাস্থল নির্মাণের ব্যবস্থা করেছিলেন। নামটি আজকের দিন পর্যন্ত সমস্ত পৃথিবীতে স্থায়ীভাবে চলে আসছে। ১৯৬১ ওয়েবস্টার অ্যানাব্রিজড ডিক্সনারি এইভাবে কিংডম হলকে সংজ্ঞায়িত করে, “যিহোবার সাক্ষীদের স্থানীয় সভাস্থল যেখানে ধর্মীয় কার্যাবলী অনুষ্ঠিত হয়।” উপাসনার এক স্থান হিসাবে কিংডম হল অন্যদের প্রভাবিত করার জন্য প্রতারণাপূর্ণ অট্টালিকা হওয়া উচিত নয়। যদিও এর স্থাপত্য স্থান অনুযায়ী পরিবর্তনশীল, এর উদ্দেশ্য হল কর্মশীলতা।—প্রেরিত ১৭:২৪.
প্রত্যেক মণ্ডলীর কি নিজস্ব কিংডম হল থাকা উচিত?
৩ কোন স্থানীয় মণ্ডলীর নিজস্ব কিংডম হল থাকা উচিত অথবা উচিত নয় তা সমিতি স্থির করে না। এটি এমন একটি বিষয় যা স্থানীয় মণ্ডলীরই স্থির করা উচিত। কিছুজন তাদের নিজস্ব হল নির্মাণ করে, অন্যেরা তাদের সভার জন্য অট্টালিকা ভাড়া করে থাকে। বিষয়টি যাই হোক না কেন, এটি প্রয়োজনীয় যে সভাস্থল যেন মার্জিত, পরিষ্কার এবং যিহোবার উপাসনার উচ্চ মান প্রতিফলিত করে। যখন এটিকে ব্যবহার করা হয় তখন সেখানে এক লক্ষণীয় বন্ধুত্বপূর্ণ আবহাওয়া থাকা উচিত। একজন ইউনিয়ন মেথডিষ্ট পরিচারক আমাদের একটি কিংডম হলে যিহোবার সাক্ষীদের এক সভায় যোগদান করেছিলেন এবং বলেছিলেন, “এই ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমরা এক অকৃত্রিম যত্নের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু, কোন সময় আমরা তাদের কাছ থেকে কোনরকম চাপ অনুভব করিনি। আমাদের বিশ্রামকালে আমরা যে ২০টি মণ্ডলী পরিদর্শন করেছিলাম তার মধ্যে আমরা তাদের কাছ থেকে এক প্রকৃত স্বাগত পেয়েছিলাম। এটি ছিল একটি উষ্ণ হাসিখুশি মণ্ডলী, স্বচ্ছন্দ লোকেরা সেখানে ছিল যারা স্পষ্টতই গভীরভাবে একে অপরের এবং অপরিচিতদের যত্ন নেয় এমনকি ঠিক যেমন তারা একাগ্রভাবে ঈশ্বরের বাক্য বোঝার জন্য যত্ন করে।”
৪ এটি স্বীকার্য যে অনেক মণ্ডলীর অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে তাদের নিজস্ব হল তৈরি করার বিষয় বিবেচনা করতে অনুমতি দেয় না। এছাড়াও, কিছু অঞ্চলে একটি হল কেনা বা তৈরি করার চেয়ে ভাড়া নেওয়া অনেক বেশি সুবিধাজনক। যাইহোক, এক বৃহৎ সংখ্যক মণ্ডলীগুলি সম্পত্তি কেনা ও তাদের প্রয়োজনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে নিজস্ব কিংডম হল তৈরি করার বিষয়টি বেছে নিয়েছে। অথবা তারা একটি পুরনো অট্টালিকা কিনে তাকে পুনর্নবীকরণ করেছে। যদি প্রত্যেক মণ্ডলীর তাদের নিজস্ব কিংডম হল থাকে তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই সুবিধাজনক। উদাহরণস্বরূপ, কেরালার এক সীমা অধ্যক্ষ বিবৃতি দেন যে দুটি মণ্ডলী তাদের নিজস্ব কিংডম হল নির্মাণ করেছিল এবং প্রথম বছরের মধ্যেই উপস্থিতি এত বৃদ্ধি পেয়েছিল যে মণ্ডলীকে বিভিন্ন সময়ে দুটি পৃথক পৃথক সভার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। সাক্ষীরা কেবলমাত্র কিংডম হল প্রকল্পটিকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করাই নয় কিন্তু এর নির্মাণ প্রকল্পে স্বেচ্ছাকৃতভাবে কাজ করে এবং পরে এর রক্ষণাবেক্ষণ—এটিকে পরিষ্কার, উপস্থাপনযোগ্য এবং উত্তম অবস্থায় রাখাকে একটি সুযোগ হিসাবে বিবেচনা করেছিল। বাইরে এবং ভিতরে উভয় দিক দিয়েই কিংডম হল এমন হওয়া উচিত যা উপযুক্তভাবে যিহোবা এবং তাঁর সংগঠনকে প্রতিনিধিত্ব করে।
৫ যদি একটি মণ্ডলী মনে করে যে সেটি একটি নিজস্ব কিংডম হল তৈরি করার মত উপযুক্ত পরিস্থিতিতে আছে, সেক্ষেত্রে কী? সম্পত্তি ক্রয়, পরিকল্পনা এবং একটি হল নির্মাণ করা সম্বন্ধে সমিতির দ্বারা পরিলিখিত বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি আছে যা প্রথাসিদ্ধভাবে অনুসৃত হওয়া উচিত। এই বিষয়ে মণ্ডলীর জন্য প্রথম পদক্ষেপ হল বিষয়টি অনুমোদন করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা এবং তারপর আরও নির্দেশনার জন্য সমিতির কিংডম হল ডেক্সে যোগাযোগ করা। মণ্ডলীর সম্পত্তি কেনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিভিন্ন সাবধানতাগুলি অবশ্যই লক্ষ্য করা উচিত। আঞ্চলিক নিয়মাবলি, নির্মান সংক্রান্ত আইন, এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নির্মাণের অনুমতি হচ্ছে প্রাথমিক কিছু বিষয় যা পরীক্ষা করার প্রয়োজন।
আঞ্চলিক নির্মাণ কমিটির ভূমিকা
৬ সমিতি এক আঞ্চলিক নির্মাণ কমিটি (আর.বি.সি) স্থাপন করেছেন যেখানে আধ্যাত্মিকভাবে পরিপক্ক প্রাচীনেরা কিংডম হল নির্মাণের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়ে সাহায্য ও পরিচালনা দেওয়ার যোগ্য। পাঁচজন সদস্যের এই কমিটি আপনার এলাকার জন্য উপযুক্ত কিংডম হল কেনা ও নির্মাণ করা সম্বন্ধে নির্দেশনা দেবে মণ্ডলীর অর্থনৈতিক সম্পদ এবং প্রয়োজনীয় আকার বিবেচনা করে। আঞ্চলিক নির্মাণ কমিটি স্থানীয় কিংডম হল নির্মাণ কমিটিকে বাতিল করবে না কিন্তু নির্মাণ কার্যক্রমে এটিকে সাহায্য করবে। এটি পরামর্শজনক যে এমনকি সম্পত্তি কেনার আগে স্থানীয় নির্মাণ কমিটি আর.বি.সি-র সাথে পরামর্শ করবে। যেহেতু আর.বি.সি মূল্য নির্ধারণ এবং নির্মাণ সম্বন্ধীয় বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ, যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত তাই তাদের সাহায্য এইধরনের কর্মভারের পক্ষে খুবই মূল্যবান হবে।
৭ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যেখানে পূর্ব পরিকল্পনা জরুরী তা হল কিংডম হলের আকার—এর পরিকল্পনা ও বসার ব্যবস্থা। এক সহজ কিন্তু বাস্তব পরিকল্পনা সর্বোত্তম। আর.বি.সি-র এইধরনের অনেক পরিকল্পনা আছে কিন্তু মূলত তা তিন প্রকার বসার আবশ্যকতার প্রতি মনোযোগ দেয়: ১০০, ১৫০ এবং ২৫০ জন লোকের জন্য। হলের মেঝের আয়তন এই সূত্রের উপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয় যে যত সংখ্যক লোকেরা বসবে তাকে ১.৮ বর্গমিটার দিয়ে গুণ করা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন হলে ১০০ জন ব্যক্তির বসার ক্ষমতা থাকার ইচ্ছা করা হয় তবে ১৮০ বর্গমিটার জমি প্রয়োজন। এটি অন্যান্য প্রয়োজনগুলির জন্যও স্থান রাখবে, যেমন শৌচালয়, সাহিত্যাদি ও পত্রিকা বিভাগ, একটি দ্বিতীয় বিদ্যালয় ঘর ইত্যাদি। এইপ্রকার হিসাব ও পরিকল্পনা কিংডম হলটিকে আরামপ্রদ করবে এবং জায়গার জন্য কোন ঠাসাঠাসি হবে না। এছাড়াও আঞ্চলিক কমিটি একটি উপযুক্ত প্ল্যাটফরম, ধ্বনি ব্যবস্থার জন্য স্থান, আলো ও পাখাগুলি এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক জিনিসগুলি, জেনারেটর ঘর, প্লাম্বিং ও পয়ঃপ্রণালী ইত্যাদি সম্বন্ধেও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য।
৮ কোন কোন ক্ষেত্রে, একের অধিক মণ্ডলী একই কিংডম হল ব্যবহার করতে পারে এবং এইভাবে সুযোগসুবিধাগুলি পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হতে ও আর্থিক ভার অনেক বেশি ব্যক্তির মধ্যে ভাগ হয়ে যেতে পারে। দুই অথবা অধিক মণ্ডলীগুলির মধ্যে এইধরনের পরস্পর সহযোগিতা নির্মাণ কাজ সম্পাদনে আর্থিক কার্যকারিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। কিন্তু সমিতি অগ্রিম দেওয়া এবং অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়ে যে কোন একটি মণ্ডলীর সঙ্গেই আদানপ্রদান করে থাকে। মণ্ডলীগুলি কোন্ কোন্ সময়ে তাদের সভাগুলি করবে এই সম্বন্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়ে, অংশগ্রহণকারী মণ্ডলীর প্রাচীনগোষ্ঠীরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কিংডম হলের জন্য অর্থব্যবস্থা করা
৯ অবশ্যই এটি লক্ষ্য করতে হবে যে, সমিতি কোন কিংডম হলের জমির জন্য অর্থ প্রদান করে না, যদিও খুব কম ক্ষেত্রে যেখানে দুই বা অধিক মণ্ডলীগুলি একটি হল ব্যবহার করতে পারবে এবং সেই শহরগুলিতে ভালভাবে কাজের উন্নতি হয়ে চলেছে সেক্ষেত্রে সমিতি জমি কেনার জন্য অর্থসাহায্য দিয়ে থাকে। যিহোবার আধুনিক দিনের দাসগণ একই মনোভাব প্রদর্শন করে চলে যেহেতু ২ করিন্থীয় ৮:১৩-১৫ পদে পৌল দ্বারা তারা উৎসাহিত হয়: “কেননা একথা বলি না যে, অন্য সকলের আরাম ও তোমাদের যেন ক্লেশ হয়, বরং সাম্যভাবের নিয়মানুসারে হউক; এই বর্ত্তমান সময়ে তোমাদের উপচয়ে উহাদের অভাব পূর্ণ হউক, যেন আবার উহাদের উপচয়ে তোমাদের অভাব পূর্ণ হয়, এইরূপে যেন সাম্যভাব হয়; যেমন লেখা আছে, ‘যে অধিক সংগ্রহ করিল তাহার অতিরিক্ত হইল না; এবং যে অল্প সংগ্রহ করিল তাহার অভাব হইল না।’ ” নতুন কিংডম হলগুলি নির্মাণের সাহায্যার্থে আমাদের সময় এবং সম্পদ দান যিহোবাকে সম্মান করার এক উত্তম উপায়।—হিতোপদেশ ৩:৯.
১০ প্রায় ৩,৫০০ বছর পূর্বের সেই পরিস্থিতিটি সম্বন্ধে বিবেচনা করুন যখন উদারভাবে দান করার এক প্রয়োজনীয়তা উত্থাপিত হয়েছিল। যিহোবা তাঁর উপাসনায় ব্যবহৃত হবে এইরূপ এক সমাগম তাম্বু অথবা ‘আবাস তাম্বু’ নির্মাণের জন্য মোশিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঐশিকভাবে প্রদত্ত নক্সা বিভিন্ন বহুমূল্য বস্তুর প্রয়োজন সূচিত করেছিল। যিহোবা আদেশ দিয়েছিলেন: “তোমরা সদাপ্রভুর নিমিত্তে আপনাদের নিকট হইতে উপহার লও; যে কেহ মনে ইচ্ছুক, সে সদাপ্রভুর উপহারস্বরূপ এই সকল দ্রব্য আনিবে।” (যাত্রা. ৩৫:৪-৯) লোকেরা কিরূপ সাড়া দিয়েছিল? বিবরণটি আমাদের বলে যে “যাহাদের হৃদয়ে প্রবৃত্তি ও মনে ইচ্ছা হইল, তাহারা সকলে সমাগমতাম্বু নির্ম্মাণ জন্য এবং তৎসম্বন্ধীয় সমস্ত কার্য্যের ও পবিত্র বস্ত্রের জন্য সদাপ্রভুর উদ্দেশে উপহার আনিল।” এই স্বেচ্ছাকৃত দান ধীরে ধীরে এত বিরাটাকার ধারণ করেছিল যে যিহোবা যা আদেশ করেছিলেন তা সম্পাদনে যা প্রয়োজন ছিল তার চেয়ে “অতিরিক্ত অধিক” হয়েছিল। (যাত্রা. ৩৫:২১-২৯; ৩৬:৩-৫) লোকেরা কী অপূর্ব নিঃস্বার্থ, উদার মনোভাব দেখিয়েছিল।
১১ ইস্রায়েলীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৫০০ বছর পরে ঐ একইরূপ উদার দানের জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। রাজা দায়ূদের আকাঙ্ক্ষা ছিল যে যিরূশালেমে যিহোবার জন্য এক স্থায়ী গৃহ নির্মাণ করা যা তার পুত্র শলোমনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছিল। দায়ূদ স্বয়ং প্রয়োজনীয় বস্তুগুলির এক প্রধান অংশ একত্রিত এবং দান করেছিলেন। অন্যান্যেরাও যোগদান করেছিল যখন দায়ূদ “যিহোবার নিমিত্তে দান” নিয়ে আসার জন্য আহ্বান করেছিলেন। ফল কী হয়েছিল? “তাহাতে প্রজারা ইচ্ছাপূর্ব্বক দান করা হেতু আনন্দ করিল, কেননা তাহারা একাগ্রচিত্তে সদাপ্রভুর উদ্দেশে ইচ্ছাপূর্বক দান করিল, এবং দায়ূদ রাজাও মহানন্দে আনন্দ করিলেন।” (১ বংশাবলি ২২:১৪; ২৯:৩-৯) কেবলমাত্র স্বর্ণ ও রৌপ্যই ছিল বর্তমান মূল্যে ৫০ লক্ষ্য কোটি ডলার।—২ বংশাবলি ৫:১.
১২ বর্তমান সময়েও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের ভাইয়েরা একই মনোভাব প্রদর্শন করেছেন। এটি জানা কতই না উৎসাহজনক যে আমাদের সার্বভৌম প্রভু যিহোবার উপাসনার জন্য স্থান নির্মাণে ইচ্ছা, রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাগুলির দ্বারা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যা আমাদের ভাইয়েদের ‘একাগ্রচিত্ত ও ইচ্ছুক হৃদয়’ প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ, পোল্যাণ্ডের কিছু অংশে ভাইয়েরা জমি ভাড়া নেয়, শষ্যাদি চাষ করে, উৎপাদিত শষ্য বিক্রি করে অথবা ফল সংগ্রহ করে, অর্থ আয় করার জন্য যেন তারা কালক্রমে একটি কিংডম হল নির্মাণ করতে পারে। এইরূপ নির্মাণ প্রকল্পে কিছুজন অর্থ দিয়েছেন আবার কিছুজন অলংকার এবং সম্পত্তি দান করেছেন। অনেক যুবক ব্যক্তিরা নির্মাণ প্রকল্পের জন্য উপলব্ধিস্বরূপ তাদের স্বল্প ধন সমিতিকে পাঠিয়েছে—জাগতিক মূল্যের দিক থেকে এটি সামান্য পরিমাণ কিন্তু যিহোবার দৃষ্টিতে তা মহোত্তর।
১৩ অর্থনৈতিক সাহায্য দান শাস্ত্রসম্মত। যে ইব্রীয় শব্দটি “দান” হিসাবে অনুবাদিত হয়েছে তার অর্থ “পবিত্র অংশ।” (যাত্রা. ২৫:২ রেফারেন্স বাইবেল, ফুটনোট।) খ্রীষ্টানেরা রাজ্যের আগ্রহের অগ্রগতির জন্য উপযুক্তভাবে তাদের সময়, শক্তি এবং বস্তুগত সম্পদ দান করতে ইচ্ছুক। যখন একটি মণ্ডলী কিংডম হল নির্মাণের পরিকল্পনা করে, তখন কিছুজনের পক্ষে হয়ত তৎক্ষণাৎ ব্যক্তিগতরূপে ঐ নির্মাণ প্রকল্পে অর্থ দান অথবা বর্তমানে তাদের প্রয়োজন নেই সেই অর্থ ঋণস্বরূপ দেওয়া সম্ভবপর হয়। এছাড়াও সকলেই স্থির করতে পারেন যে প্রত্যেক মাসে নিয়মিতভাবে তারা কতখানি দান করবেন। যদিও এটি দশমাংশ অথবা বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছাকৃত, তাই প্রাচীনেরা তাদের পরিকল্পনায় সাহায্যের জন্য মণ্ডলীর সদস্যদের কাছ থেকে এই বিষয়টি জেনে নিতে পারেন। অসাক্ষরিত একটি কাগজে পরিমাণ লিখে দেওয়াই এই অনুমানের পক্ষে যথেষ্ট।
১৪ কিংডম হল নির্মাণের জন্য ফাণ্ড গড়ে তোলার একটি বাস্তব উপায় হল ‘নির্মাণ ফাণ্ড’ এই লেবেলযুক্ত একটি দান বাক্স কিংডম হলে রাখা এবং ভাইয়েদের এই উদ্দেশ্যে দান করতে উৎসাহিত করা। ১৯৯৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতের সব মণ্ডলীগুলিকে সমিতি এইধরনের একটি বাক্স রাখতে বলেছিল। যে সমস্ত মণ্ডলীগুলির ইতিমধ্যেই একটি কিংডম হল আছে ও তার জন্য পরিশোধ করেছে অথবা যে মণ্ডলীগুলি বর্তমানে তাদের কিংডম হল নির্মাণ প্রকল্পে জড়িত নয় এবং যারা নিকট ভবিষ্যতে এইরূপ একটি নির্মাণ কাজ করার জন্য বিবেচনা করছে না, তাদের ঐ বাক্সে পাওয়া অর্থ প্রত্যেক মাসে সমিতিকে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। এইরূপ প্রেরিত অর্থ ‘জাতীয় কিংডম হল ফাণ্ডের’ জন্য পৃথক করে রাখা হয়। এই এন.কে.এইচ.এফ একটি ‘আবর্তিত ফাণ্ড’ যেখান থেকে দেশের সব জায়গায় কিংডম হল প্রকল্পে অর্থব্যবস্থার জন্য মণ্ডলীগুলিকে অগ্রিম দিয়ে সাহায্য করা হয়। এই পরিশোধযোগ্য অগ্রিম অর্থ নূন্যতম তিনভাগ সুদসহ ফেরত দিতে হবে, যাতে আদানপ্রদানের খরচ ও অন্যান্য হলের জন্য অর্থব্যবস্থা করায় সমর্থ হওয়া যায়। স্থানীয় মণ্ডলীর খরচের জন্য তাদের স্বাভাবিক দান দেওয়া ব্যতীতও তাদের ক্ষমতা ও ইচ্ছা অনুয়ায়ী নিয়মিতভাবে এই ফাণ্ডে কিছু দেওয়ার জন্য পৃথক করে রাখাতে সকলে উৎসাহিত হতে পারেন। (তুলনা করুন ১ করি. ১৬:১-৪.) প্রাথমিক খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীগুলি সম্বন্ধে ইতিহাসবেত্তা টারটুলিয়ান লিখেছিলেন: “প্রত্যেক ব্যক্তি মাসে একবার কিছু মুদ্রা আনত—অথবা যখনই সে ইচ্ছা করেছে এবং কেবলমাত্র যখন সে ইচ্ছা করেছে ও দিতে সমর্থ; কাউকে বাধ্য করা হয়নি, এটি হল স্বেচ্ছাকৃত দান।” আজকের অনেক ধর্মের বিপরীতে, চাঁদা আদায়ের থালা ঘুরিয়ে চাঁদা দাবি করা নয়, খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতে সমস্ত বস্তুগত দান স্বেচ্ছাকৃতভাবে হৃদয় থেকে দেওয়া হয়েছে।—২ করি. ৯:৭.
১৫ আর.বি.সি-র পরামর্শগুলি সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাবার পরে যখন নির্মাণ পরিকল্পনাটি স্থানীয় প্রাচীনগোষ্ঠী দ্বারা অনুমোদিত হয়, তারপর পুনরায় আর একবার এই নির্মাণ কাজের সম্পূর্ণ খরচ আঞ্চলিক নির্মাণ কমিটির সহায়তায় হিসাব করে দেখা উচিত। ইতিমধ্যে মণ্ডলী জ্ঞাত হয়েছে যে স্থানীয়ভাবে কত অর্থ পাওয়া যাবে। এই পর্যায়ে, যদি অগ্রিম প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে মণ্ডলী অগ্রিম অর্থের জন্য সমিতির কাছে আবেদন জানাতে পারে। সমিতি অনুরোধটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবে এবং স্থির করবে যে অগ্রিম দেওয়া হবে কি না যা দশ বছর সময়কালে প্রত্যেক মাসে কিস্তি অনুসারে পরিশোধযোগ্য। সমিতির কাছ থেকে এইরূপ অগ্রিমের জন্য অনুরোধ করার পূর্বে ভাইয়েদের বসে যথার্থভাবে ও বাস্তবরূপে কত ব্যয় হবে তা হিসাব করে দেখা আবশ্যক, যেন একই নির্মাণ প্রকল্পের জন্য আবার অগ্রিম না চাইতে হয়। (লূক ১৪:২৮) কোন ফ্ল্যাট অথবা অন্য কোন কাঠামো কিনে সেটিকে কিংডম হলের ন্যায় পুনর্গঠন করে নেওয়ার জন্য অগ্রিম নেওয়ার অনুরোধও বিবেচনা করা হবে যদি পরিকল্পনাটি বাস্তব হয়।
কিংডম হল সহযোগী ব্যবস্থা
১৬ যদি আপনাদের নিজস্ব কিংডম হল থাকে অথবা একটি কিংডম হল ভাড়া নিয়েছেন এবং যদি আপনারা চান যে ঐ বাড়িটি ও ভিতরে রক্ষিত অস্থাবর মূল্যবান বস্তুগুলি সুরক্ষিত থাকে তবে তার জন্য সমিতির কিংডম হল সহযোগী ব্যবস্থা (কে.এইচ.এ.এ) আছে। এই বিষয়ে তথ্য সমস্ত মণ্ডলীতে পাঠান হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে বিষম সময়ে বাস করছি, যেখানে চুরি হওয়ার এবং অন্যান্য প্রকারের ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটবার আশঙ্কা রয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি খুবই ব্যবহারিক ব্যবস্থা। প্রত্যেক বছর সামান্য দান দিয়ে, যার পরিমাণ সমিতি স্থির করে থাকে, মণ্ডলী তাদের সম্পত্তি অথবা মূল্যবান বস্তুর ক্ষতি না হওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য পাওয়ার অবস্থায় আসতে পারে। এইভাবে মূল্যবান বস্তুগুলি যেমন ধ্বনি ব্যবস্থা এবং আসবাবপত্র সুরক্ষিত করা যেতে পারে। এটি একটি প্রেমযুক্ত আয়োজন এবং সমস্ত মণ্ডলীগুলিকে এটি কাজে লাগাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
১৭ যিহোবা ঈশ্বরই দান করার মনোভাবের উৎস। তাঁর পার্থিব সন্তানদের জন্য তিনি সমস্ত উত্তম দান ও সমস্ত সিদ্ধ বরের সর্বাপেক্ষা উদার দাতা। (যাকোব ১:১৭) এই সমস্ত অপূর্ব বস্তুগুলি যখন তিনি দিয়েছেন, তখন আমাদের কাছ থেকে তিনি কী প্রত্যাশা করেন? গীতরচক এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছিলেন যখন তিনি এই কথাগুলি বলেছিলেন: “আমি সদাপ্রভু হইতে যে সকল মঙ্গল পাইয়াছি তাহার পরিবর্ত্তে তাঁহাকে কি ফিরাইয়া দিব?” (গীত ১১৬:১২) তাঁহার সমস্ত প্রেমানুকম্পা ও অনন্ত জীবনের প্রত্যাশার জন্য আমরা যিহোবাকে কী দিতে পারি? এর উত্তরে গীতরচক নিজে বলেছিলেন: “আমি পরিত্রাণের পানপাত্র গ্রহণ করিব, এবং সদাপ্রভুর নামে ডাকিব। আমি তোমার উদ্দেশে স্তববলি উৎসর্গ করিব।” (গীত. ১১৬:১৩, ১৭) হ্যাঁ, সর্বশ্রেষ্ট উপহার যা আমরা যিহোবাকে দিতে পারি, তা হল যিহোবার প্রতি অবিচলিত আনুগত্য যেটি আমাদের এলাকায় যিহোবার নামে ডেকে ও শুদ্ধ উপাসনাকে উন্নত করে আমরা করতে পারি। আর এটি করার একটি উৎকৃষ্ট উপায় হল আমাদের নিজস্ব কিংডম হল থাকা, যেখানে লোকেরা এসে বলবে: “আমরা তোমাদের সহিত যাইব, কেননা আমরা শুনিলাম, ঈশ্বর তোমাদের সহবর্ত্তী।”—সখরিয় ৮:২৩.
[৬ পৃষ্ঠার বাক্স]
একটি কিংডম হল নির্মাণের জন্য দান করতে আপনার হৃদয় কি আপনাকে অনুপ্রাণিত করে?
একটি কিংডম হল নির্মাণের জন্য অনেক উপায়ে আপনি আপনার উপলব্ধিবোধ ও ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন। এইধরনের প্রকল্পগুলির অর্থব্যবস্থায় সাহায্য করার জন্য সমিতির একটি জাতীয় কিংডম হল ফাণ্ড আছে। আপনি নিম্নলিখিত উপায়গুলির দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে পারেন:
১. উপহার: স্বেচ্ছাকৃত দানস্বরূপ টাকা সরাসরি ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটিতে পাঠানো যেতে পারে। অলংকার ও অন্যান্য মূল্যবান বস্তুগুলিও দান করা যেতে পারে। একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি যেটি এইভাবে শুরু হয় যে এটি জাতীয় কিংডম হল ফাণ্ডের জন্য দান, এই দানের সাথে জুড়ে দেওয়া উচিত।
২. শর্ত সমেত-দানের ব্যবস্থা: ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যু পর্যন্ত ট্রাস্ট রাখার জন্য ওয়াচটাওয়ার সোসাইটিতে টাকা দেওয়া যেতে পারে, এই শর্তে যে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তা যেন দানকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই টাকা পরিষ্কারভাবে উপরোক্ত ফাণ্ডের জন্য চিহ্নিত হওয়া উচিত।
৩. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিপোজিট সার্টিফিকেট অথবা ব্যক্তি বিশেষের অবসর সময়কার অ্যাকাউন্ট, ট্রাস্টে অথবা স্থানীয় ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুসারে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটি যেন ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যুর সময় এটি পায়, তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নির্দেশ করুন যে এই অর্থ উপরোক্ত ফাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত। সমিতিকে এই বিষয়ে ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানিয়ে দিতে হবে।
৪. স্টক ও শেয়ারগুলি: স্টক ও শেয়ারগুলি ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটিকে দান করা যেতে পারে সরাসরি উপহার হিসাবে অথবা এমন ব্যবস্থা করা যেতে পারে যেখানে দানকারী এর সুদ পেয়ে চলতে পারে। এইপ্রকার কিছু সমিতির উদ্দেশ্যে কিংডম হল ফাণ্ডের জন্য বলে চিহ্নিত করা উচিত।
৫. স্থাবর সম্পত্তি: বিক্রি করা যায় এমন স্থাবর সম্পত্তি সরাসরিভাবে ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটিকে উপহার হিসাবে দান করা যেতে পারে অথবা দানকারীর জীবিত কাল অবধি সেখানে থাকার অনুমতির ব্যবস্থা এইভাবে করা যেতে পারে। কোন স্থাবর সম্পত্তি সমিতিকে দেওয়ার আগে সমিতির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এর থেকে ফলস্বরূপ যে টাকা পাওয়া যাবে, স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা উচিত যে তা কিংডম হল ফাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হবে।
৬. উইল ও ট্রাস্টগুলি: সম্পত্তি অথবা অর্থ ওয়াচ টাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটিকে আইনগতভাবে স্বীকৃত উইলের সাহায্যে দেওয়া যেতে পারে অথবা ট্রাস্টের অংশীদার হিসাবে সমিতির নাম দেওয়া যেতে পারে। যে ট্রাস্টের দ্বারা ধর্মীয় সংগঠন উপকৃত হচ্ছে সেটি কর দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা আনতে পারে। উইল বা ট্রাস্টের একটি কপি সমিতিকে পাঠিয়ে দিতে হবে। আর উইল বা ট্রাস্টে স্পষ্টভাবে এটি চিহ্নিত করা উচিত যে তা কিংডম হল ফাণ্ডের জন্য।
এই বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য, Watch Tower Bible and Tract Society of India, H-58 Old Khandala Road, Lonavla 410 401, MAH., INDIA এই ঠিকানায় লিখুন