আমরা ‘বাক্য প্রচার করি’
১ ‘শেষ কাল’ সম্বন্ধীয় বাইবেলের বর্ণনার সত্যতা অনুসারে বর্তমানে অধিকাংশ লোকেরাই “ভক্তির অবয়বধারী।” (২ তীম. ৩:১, ৫) এই কারণেই ধার্মিক নেতারা তাদের পালকে অকৃত্রিম আধ্যত্মিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। খ্রীষ্টীয়জগতের পাদ্রিরা বাইবেলকে সমর্থন করে না। তারা ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করার চেয়ে দার্শনিক ও ধর্মতত্ত্ববিদদের মূল্যহীন শিক্ষাকে আবৃত্তি করতে অথবা সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলিকে উপস্থাপন করতে পছন্দ করে। অনেক ধর্মীয় নেতারা বাইবেলে বিশ্বাস করে না। তারা এটিকে সেকেলে বলে মনে করে আর তাই মহান সৃষ্টিকর্তা সম্বন্ধে বাইবলের শিক্ষার পরিবর্তে স্বেচ্ছাচারীভাবে ক্রমবিবর্তনের তত্বকে উন্নত করে। অধিকাংশ পাদ্রিরা এমনকি ঈশ্বরের ব্যক্তিগত নাম ব্যবহার করে না এবং অধিকাংশ আধুনিক বাইবেল অনুবাদে তা পরিহার করার কারণে তাদের কোন আপত্তিও নেই।
২ যীশুর দিনের ধর্মীয় নেতাদের ক্ষেত্রে যেমন সত্য ছিল, ঠিক তেমনই আজকের দিনের পাদ্রিরাও মূল্যহীন প্রচার করে থাকে। (মথি ১৫:৮, ৯) এটি ঠিক যেমন ভাববাদী আমোষ ভাববাণী করেছিলেন। “অন্নের দুর্ভিক্ষ কিম্বা জলের পিপাসা নয়, কিন্তু সদাপ্রভুর বাক্য শ্রবণের” দুর্ভিক্ষ আছে। (আমোষ ৮:১১) অন্য সমস্ত কিছুর চেয়ে লোকেদের ঈশ্বরের বাক্যের আধ্যাত্মিক খাদ্যের প্রয়োজন।
৩ কিভাবে লোকেদের আধ্যাত্মিক প্রয়োজন পরিতৃপ্ত করা যায়: পৌল তীমথিকে উৎসাহিত করেছিলেন, যে “পবিত্র শাস্ত্রকলাপ . . . [একজনকে] পরিত্রাণের নিমিত্ত জ্ঞানবান্ করিতে পারে।” তাতে নিবিষ্ট থাকতে আর সেইজন্য তিনি তাকে গুরুগম্ভীরভাবে অন্যদের কাছে “বাক্য প্রচার কর” এই দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। (২ তীম. ৩:১৪, ১৫; ৪:২) যিহোবার সাক্ষী হিসাবে, যখন আমরা প্রচার করি আমাদের অবশ্যই বাইবেল যা শিক্ষা দেয় তাতে নিবিষ্ট থাকতে হবে আর এইভাবে আমাদের আদর্শ যীশুকে অনুকরণ করা সম্ভব হবে যিনি বলেছিলেন: “আমার উপদেশ আমার নহে, কিন্তু যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তাঁহার।” (যোহন ৭:১৬) আমরা আমাদের শিক্ষার ভিত্তিস্বরূপ ঈশ্বরের বাক্যকে ব্যবহার করি কারণ আমরা শনাক্ত করি যে এটি ঐশিক প্রজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করে আর আমরা লোকেদের আমাদের তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানাতে চাই যেটি আমরা তাদের সাথে বন্টন করছি।—১ করি. ২:৪-৭.
৪ লোকেদের অবশ্যই যিহোবা সম্বন্ধে জানা ও তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করার জন্যে প্রথমে বাইবেল থেকে সত্য শোনা দরকার। পৌল যুক্তিপূর্ণভাবে লিখেছিলেন: “যাঁহার কথা শুনে নাই, কেমন করিয়া তাঁহাতে বিশ্বাস করিবে? আর প্রচারক না থাকিলে কেমন করিয়া শুনিবে?” (রোমীয় ১০:১৪) ঈশ্বরের বাক্য প্রচার করার দ্বারা আমরা অন্যদের যথার্থ জ্ঞানের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করতে সাহায্য করি। এইপ্রকার জ্ঞান আরও উত্তমের প্রতি জীবনকে পরিবর্তিত করতে পারে ও করে। ইংরেজ গ্রন্থকার চার্লস ডিকেন্স বাইবেল সম্বন্ধে লিখেছিলেন: “পৃথিবীতে কখনও ছিল অথবা ভবিষ্যতে থাকবে এমন পুস্তকগুলির মধ্যে এটি শ্রেষ্ঠ পুস্তক, কারণ এটি আপনাকে সর্বোত্তম শিক্ষণীয় বিষয়গুলি শেখায় যার মাধ্যমে যে কোন মনুষ্যপ্রাণী, যে সত্যনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হতে চেষ্টা করে, সম্ভবত নির্দেশিত হতে পারে।”
৫ যারা আধ্যাত্মিক সত্যের জন্য ক্ষুধার্ত তারা শনাক্ত করতে পারে যে এটি ঈশ্বরের বাক্যের কর্তৃত্ব দ্বারা সমর্থিত। বিগত ১৯১৩ সালে ফ্রেডারিক ডব্লিউ. ফ্রান্স, যখন এক যুবক কলেজ ছাত্র ছিলেন তখন মৃতেরা কোথায়? এই নামে একটি পুস্তিকা তাকে দেওয়া হয়েছিল। এই প্রশ্নের বাইবেলের উত্তর আগ্রহের সাথে পড়ার পরে তিনি ঘোষণা করেছিলেন: “এটিই হল সত্য।” লক্ষ লক্ষ সত্য অনুসন্ধানকারীরা একইভাবে অনুভব করে এসেছে। আসুন আমরা পরিশ্রম এবং উদ্যোগের সাথে বাক্য প্রচার করে চলি আর এইভাবে অন্যেরা বলছে “এটিই হল সত্য” তা শোনার আনন্দে অংশগ্রহণ করি।