যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের পরিত্যাগ করবেন না
“[সদাপ্রভু] আপন সাধুগণকে [“অনুগত ব্যক্তিদের,” NW] পরিত্যাগ করেন না; তাহারা চিরকাল রক্ষিত হয়।”—গীত. ৩৭:২৮.
১, ২. (ক) সাধারণ কাল পূর্ব দশম শতাব্দীতে কোন ঘটনাগুলো ঈশ্বরের দাসদের আনুগত্যকে পরীক্ষা করেছিল? (খ) কোন তিনটে পরিস্থিতিতে যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের সুরক্ষা করেছিলেন?
সময়টা ছিল সা.কা.পূ. দশম শতাব্দী আর এক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়। ইস্রায়েলের উত্তর রাজ্যের অস্থির বংশগুলোকে খানিকটা স্বাধীনতা দেওয়ার ফলে গৃহযুদ্ধ কোনোক্রমে এড়ানো গিয়েছে। তাদের নবনিযুক্ত রাজা যারবিয়াম একটা নতুন রাষ্ট্রধর্ম প্রতিষ্ঠা করে দ্রুত তার ক্ষমতাকে দৃঢ় করার পদক্ষেপ নেন। তিনি তার প্রজাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বশ্যতা দাবি করেন। যিহোবার বিশ্বস্ত দাসেরা কী করবে? তারা যাঁর উপাসনা করে, সেই ঈশ্বরের প্রতি কি অনুগত থাকবে? হাজার হাজার ব্যক্তি অনুগত থাকে এবং তারা তাদের নীতিনিষ্ঠা বজায় রাখার সময় যিহোবা তাদের প্রতি লক্ষ রাখেন।—১ রাজা. ১২:১-৩৩; ২ বংশা. ১১:১৩, ১৪.
২ আমাদের দিনেও ঈশ্বরের দাসদের আনুগত্য পরীক্ষিত হচ্ছে। “তোমরা প্রবুদ্ধ হও, জাগিয়া থাক,” বাইবেল সাবধান করে। “তোমাদের বিপক্ষ দিয়াবল, গর্জ্জনকারী সিংহের ন্যায়, কাহাকে গ্রাস করিবে, তাহার অন্বেষণ করিয়া বেড়াইতেছে।” আমরা কি ‘বিশ্বাসে অটল থাকিয়া তাহার প্রতিরোধ করিতে’ সফল হতে পারি? (১ পিতর ৫:৮, ৯) আসুন আমরা সা.কা.পূ. ৯৯৭ সালে রাজা যারবিয়ামের অভিষেকের সময়ের দিকে ঘটা কয়েকটা ঘটনা পরীক্ষা করি আর দেখি যে, সেগুলো থেকে আমরা কী শিখতে পারি। সেই সংকটপূর্ণ সময়ে, যিহোবার বিশ্বস্ত দাসেরা নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। এ ছাড়া, তারা ধর্মভ্রষ্ট প্রভাবগুলোর মধ্যে ছিল ও একইসময়ে তারা কঠিন কার্যভারগুলো সম্পাদন করে চলছিল। এই প্রত্যেকটা পরিস্থিতিতে, যিহোবা তাঁর সেই সময়ের অনুগত ব্যক্তিদের পরিত্যাগ করেননি আর আজকেও তিনি তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের পরিত্যাগ করবেন না।—গীত. ৩৭:২৮.
নিপীড়নের সময়
৩. কেন রাজা দায়ূদের রাজত্ব পীড়নকর ছিল না?
৩ আসুন আমরা প্রথমে সেই বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বিবেচনা করি, যখন যারবিয়াম রাজা হয়েছিলেন। হিতোপদেশ ২৯:২ পদ বলে: “দুষ্ট লোক কর্ত্তৃত্ব পাইলে প্রজারা আর্ত্তস্বর করে।” প্রাচীন ইস্রায়েলের রাজা দায়ূদের শাসনাধীনে লোকেরা আর্তস্বর করেনি। দায়ূদ সিদ্ধ ছিলেন না কিন্তু তিনি ঈশ্বরের প্রতি অনুগত ছিলেন ও তাঁর ওপর নির্ভর করেছিলেন। দায়ূদের শাসনব্যবস্থা পীড়নকর ছিল না। যিহোবা এই কথা বলে দায়ূদের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিলেন: “তোমার কুল ও তোমার রাজত্ব তোমার সম্মুখে চিরকাল স্থির থাকিবে; তোমার সিংহাসন চিরস্থায়ী হইবে।”—২ শমূ. ৭:১৬.
৪. শলোমনের শাসন চলাকালে লোকেরা যে-আশীর্বাদগুলো উপভোগ করেছিল, তা কীসের ওপর নির্ভর করেছিল?
৪ দায়ূদের ছেলে শলোমনের শাসনের শুরু এতটা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ছিল যে, এটা উপযুক্তভাবে খ্রিস্ট যিশুর ভবিষ্যৎ সহস্র বছরের রাজত্বের পূর্বাভাস দিতে পেরেছিল। (গীত. ৭২:১, ১৭) ইস্রায়েলের ১২ বংশের মধ্যে কারোরই সেই সময় বিদ্রোহ করার মতো কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু, শলোমন ও তার প্রজারা যে-আশীর্বাদগুলো উপভোগ করেছিল, সেগুলো ছিল শর্তসাপেক্ষ। যিহোবা শলোমনকে বলেছিলেন: “যদি আমার সমস্ত বিধি-পথে চল, আমার শাসন সকল পালন কর, ও আমার সমস্ত আজ্ঞা গ্রহণ করিয়া তদনুসারে চল, তবে আমি তোমার পিতা দায়ূদকে যাহা বলিয়াছি, আমার সেই বাক্য তোমার পক্ষে সফল করিব। আর আমি ইস্রায়েল-সন্তানগণের মধ্যে বাস করিব, আপন প্রজা ইস্রায়েলকে ত্যাগ করিব না।”—১ রাজা. ৬:১১-১৩.
৫, ৬. ঈশ্বরের প্রতি শলোমনের আনুগত্যহীনতার ফলে কী ঘটেছিল?
৫ বৃদ্ধ বয়সে শলোমন যিহোবার প্রতি অবিশ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং মিথ্যা উপাসনায় জড়িত হতে শুরু করেছিলেন। (১ রাজা. ১১:৪-৬) ধীরে ধীরে, শলোমন যিহোবার আইনগুলোর প্রতি বাধ্য হওয়া থেকে বিরত হয়েছিলেন এবং ক্রমান্বয়ে নিপীড়ক হয়ে উঠেছিলেন। আর তিনি এতটাই নিপীড়ক হয়েছিলেন যে, তার মৃত্যুর পর লোকেরা তার ছেলে ও উত্তরাধিকারী রহবিয়ামের কাছে তার সম্বন্ধে অভিযোগ করেছিল এবং স্বস্তি চেয়ে অনুরোধ করেছিল। (১ রাজা. ১২:৪) শলোমন যখন অবিশ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন যিহোবা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন?
৬ বাইবেল আমাদের বলে: “সদাপ্রভু শলোমনের প্রতি ক্রুদ্ধ হইলেন; কেননা তাঁহার অন্তঃকরণ ইস্রায়েলের ঈশ্বর . . . হইতে বিপথগামী হইয়াছিল, যিনি দুইবার তাঁহাকে দর্শন দিয়াছিলেন।” যিহোবা শলোমনকে বলেছিলেন: “তুমি আমার নিয়ম ও আমার আদিষ্ট বিধি সকল পালন কর নাই; এই কারণ আমি অবশ্য তোমা হইতে রাজ্য চিরিয়া লইয়া তোমার দাসকে দিব।”—১ রাজা. ১১:৯-১১.
৭. শলোমনকে যদিও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল কিন্তু কীভাবে যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের যত্ন নিয়েছিলেন?
৭ এরপর যিহোবা একজন উদ্ধারকারীকে অভিষেক করার জন্য ভাববাদী অহিয়কে পাঠিয়েছিলেন। সেই উদ্ধারকারী ছিলেন যারবিয়াম, একজন যোগ্য ব্যক্তি, যিনি শলোমনের রাজত্বের সময় তার অধীনে কাজ করতেন। যদিও যিহোবা দায়ূদের সঙ্গে করা রাজ্য চুক্তির প্রতি অনুগত থেকেছিলেন, তবুও তিনি ১২ বংশের মধ্যে শাসন সংক্রান্ত বিভাগকে অনুমোদন করেছিলেন। যারবিয়ামকে দশ বংশ দেওয়া হবে; দুই বংশ দায়ূদের বংশধারার মধ্যেই থাকবে, যে-বংশকে তখন রাজা রহবিয়াম প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। (১ রাজা. ১১:২৯-৩৭; ১২:১৬, ১৭, ২১) যিহোবা যারবিয়ামকে বলেছিলেন: “যদি তুমি আমার দাস দায়ূদের ন্যায় আমার সমস্ত আদেশে কর্ণপাত কর, এবং আমার বিধি ও আজ্ঞা পালনার্থে আমার পথে চল, ও আমার দৃষ্টিতে যাহা ভাল, তাহা কর, তবে আমি তোমার সহবর্ত্তী থাকিব, এবং যেমন দায়ূদের জন্য গাঁথিয়াছি, তেমনি তোমার জন্যও এক দৃঢ় কুল গাঁথিব, এবং ইস্রায়েলকে তোমায় দিব।” (১ রাজা. ১১:৩৮) যিহোবা তাঁর লোকেদের পক্ষে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং তাদেরকে নিপীড়ন থেকে স্বস্তি দেওয়ার এক উপায় জুগিয়েছিলেন।
৮. কোন পরীক্ষাগুলো আজকে ঈশ্বরের লোকেদের নিপীড়িত করে?
৮ আজকে চারিদিকে নিপীড়ন ও অবিচার ব্যাপকভাবে বিরাজমান। “এক জন অন্যের উপরে তাহার অমঙ্গলার্থে কর্ত্তৃত্ব করে,” উপদেশক ৮:৯ পদ বলে। লোভী ব্যাবসা ও কলুষিত শাসনব্যবস্থার ফলে হয়তো চরম অর্থনৈতিক অবস্থার সূত্রপাত হতে পারে। সরকারি, ব্যবসায়িক এবং ধর্মীয় নেতারা প্রায়ই নৈতিকতার ক্ষেত্রে খারাপ উদাহরণ স্থাপন করে। তাই, ধার্মিক লোটের মতো ঈশ্বরের অনুগত দাসেরা আজকে “ধর্ম্মহীনদের স্বৈরাচারে ক্লিষ্ট” হয়। (২ পিতর ২:৭) অধিকন্তু, আমরা শান্তভাবে ঈশ্বরীয় মান অনুযায়ী জীবনযাপন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও, প্রায়ই উদ্ধত শাসকদের তাড়নার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠি।—২ তীম. ৩:১-৫, ১২.
৯. (ক) যিহোবা তাঁর লোকেদের উদ্ধার করার জন্য ইতিমধ্যেই কী করেছেন? (খ) কেন আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে, যিশু সবসময় ঈশ্বরের প্রতি অনুগত থাকবেন?
৯ তবে আমরা এই মৌলিক সত্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি: যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের পরিত্যাগ করবেন না! শুধুমাত্র সেই পদক্ষেপগুলোর কথা একটু চিন্তা করুন, যেগুলো তিনি জগতের কলুষিত শাসকদের দূর করার জন্য ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন। খ্রিস্ট যিশুর অধীনে ঈশ্বরের মশীহ রাজ্য ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যিশু খ্রিস্ট প্রায় একশো বছর ধরে স্বর্গে শাসন করছেন। শীঘ্রই তিনি সেই ব্যক্তিদের জন্য সম্পূর্ণ স্বস্তি নিয়ে আসবেন, যারা ঈশ্বরের নামকে ভয় করে। (পড়ুন, প্রকাশিত বাক্য ১১:১৫-১৮.) যিশু ইতিমধ্যেই মৃত্যু পর্যন্ত নিজেকে ঈশ্বরের প্রতি “অনুগত” প্রমাণ করেছেন। যদিও শলোমন তার প্রজাদের হতাশ করেছিলেন কিন্তু যিশু কখনো তেমনটা করবেন না।—ইব্রীয় ৭:২৬, NW; ১ পিতর ২:৬.
১০. (ক) কীভাবে আমরা দেখাতে পারি যে, আমরা ঈশ্বরের রাজ্যকে মূল্যবান বলে গণ্য করি? (খ) বিভিন্ন পরীক্ষা ভোগ করার সময়, কোন বিষয়ে আমরা দৃঢ়প্রত্যয়ী থাকতে পারি?
১০ ঈশ্বরের রাজ্য হচ্ছে এক প্রকৃত সরকার, যা সমস্ত নিপীড়ন শেষ করবে। যিহোবা ঈশ্বরের ও তাঁর ব্যবস্থার প্রতি আমরা বশীভূত থাকি। রাজ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আমরা জগতের ভক্তিহীনতাকে অস্বীকার করি এবং উদ্যোগের সঙ্গে সৎক্রিয়া অনুধাবন করি। (তীত ২:১২-১৪) আমরা এই জগৎ থেকে নিষ্কলঙ্ক থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করি। (২ পিতর ৩:১৪) বর্তমানে আমরা যে-পরীক্ষাগুলোর মুখোমুখিই হই না কেন, আমরা এই বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী থাকতে পারি যে, যিহোবা আমাদের আধ্যাত্মিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন। (পড়ুন, গীতসংহিতা ৯৭:১০.a) অধিকন্তু, গীতসংহিতা ১১৬:১৫ পদ আমাদের আশ্বাস দেয়: “সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে বহুমূল্য তাঁহার সাধুগণের [“অনুগত ব্যক্তিদের,” NW] মৃত্যু।” যিহোবার দাসেরা তাঁর কাছে এত মূল্যবান যে, তিনি তাদেরকে দলগতভাবে বিনষ্ট হতে দেবেন না।
ধর্মভ্রষ্ট প্রভাবগুলোর মধ্যে থাকার সময়
১১. যারবিয়াম কীভাবে আনুগত্যহীন হয়ে পড়েছিলেন?
১১ রাজা যারবিয়ামের শাসন ঈশ্বরের লোকেদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসতে পারত। তা না এনে বরং, তার কাজগুলো ঈশ্বরের প্রতি তাদের আনুগত্যকে আরও পরীক্ষা করেছিল। তাকে ইতিমধ্যেই যে-সম্মান ও বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে যারবিয়াম তার পদমর্যাদাকে আরও জোরদার করার জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজতে শুরু করেছিলেন। “এই লোকেরা যদি যিরূশালেমে সদাপ্রভুর গৃহে বলিদান করিতে যায়,” তিনি যুক্তি করেছিলেন, “তবে ইহাদের চিত্ত ইহাদের প্রভু যিহূদার রাজা রহবিয়ামের প্রতি ফিরিবে; আর ইহারা আমাকে বধ করিয়া পুনর্ব্বার যিহূদার রাজা রহবিয়ামের পক্ষ হইবে।” তাই যারবিয়াম একটা নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দুটো সোনার বাছুরকে কেন্দ্র করে ছিল। “তিনি তাহাদের একটা বৈথেলে স্থাপন করিলেন, আর একটা দানে রাখিলেন। এই ব্যাপার পাপস্বরূপ হইল, কেননা তাহার একটার সম্মুখে লোকেরা দান পর্য্যন্তও যাইতে লাগিল। পরে তিনি কতকগুলি উচ্চস্থলীর গৃহ নির্ম্মাণ করিলেন, এবং যাহারা লেবির সন্তান নয়, এমন সকল লোকের মধ্য হইতে যাজক করিলেন।” যারবিয়াম এমনকি “ইস্রায়েল-সন্তানগণের জন্য” নিজের উদ্ভাবিত দিনে “উৎসব” নিরূপণ করেছিলেন আর তিনি “ধূপদাহের জন্য বেদির কাছে” উঠে গিয়েছিলেন।—১ রাজা. ১২:২৬-৩৩.
১২. উত্তর রাজ্যে ঈশ্বরের অনুগত ব্যক্তিরা কী করেছিল, যখন যারবিয়াম ইস্রায়েলে বাছুর উপাসনা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
১২ উত্তর রাজ্যে ঈশ্বরের অনুগত ব্যক্তিরা এখন কী করবে? উত্তর রাজ্যের এলাকায় তাদেরকে দেওয়া নগরগুলোতে বসবাসকারী লেবীয়রা তাদের বিশ্বস্ত পূর্বপুরুষদের মতো সঙ্গেসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। (যাত্রা. ৩২:২৬-২৮; গণনা. ৩৫:৬-৮; দ্বিতী. ৩৩:৮, ৯) তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিষয়গুলোকে পিছনে ফেলে এসে, তারা তাদের পরিবার নিয়ে যিহূদার দক্ষিণে চলে গিয়েছিল, যেখানে তারা নির্বিঘ্নে যিহোবার উপাসনা চালিয়ে যেতে পেরেছিল। (২ বংশা. ১১:১৩, ১৪) যিহূদাতে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত অন্যান্য ইস্রায়েলীয় নিজেদের দেশে চলে যাওয়ার পরিবর্তে, সেখানেই স্থায়ীভাবে বাস করা বেছে নিয়েছিল। (২ বংশা. ১০:১৭) যিহোবা লক্ষ রেখেছিলেন যেন সত্য উপাসনার প্রতি ফিরে আসার পথ খোলা থাকে, যাতে উত্তর রাজ্য থেকে পরবর্তী বংশধরের অন্যেরা বাছুর উপাসনা পরিত্যাগ করে যিহূদায় ফিরে যেতে পারে।—২ বংশা. ১৫:৯-১৫.
১৩. আধুনিক সময়ে, ধর্মভ্রষ্ট প্রভাবগুলো কীভাবে ঈশ্বরের লোকেদের পরীক্ষা করেছে?
১৩ ধর্মভ্রষ্টরা ও তাদের প্রভাব আজকে ঈশ্বরের লোকেদের জন্য হুমকিস্বরূপ। কিছু শাসক তাদের নিজস্ব ধরনের রাষ্ট্রধর্ম প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের প্রজাদের তা গ্রহণ করার জন্য চাপ দিয়েছে। খ্রিস্টীয়জগতের পাদরি শ্রেণী ও অন্যান্য উদ্ধত ব্যক্তি নিজেদেরকে আধ্যাত্মিক যাজকবর্গ বলে দাবি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু, একমাত্র সত্য খ্রিস্টানদের মধ্যেই আমরা প্রকৃত অভিষিক্ত ব্যক্তিদের পাই, যারা “রাজকীয় যাজকবর্গ” গঠন করে।—১ পিতর ২:৯; প্রকা. ১৪:১-৫.
১৪. ধর্মভ্রষ্ট চিন্তাধারার প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া কীরকম হওয়া উচিত?
১৪ সাধারণ কাল পূর্ব দশম শতাব্দীর বিশ্বস্ত লেবীয়দের মতো, আজকেও ঈশ্বরের অনুগত ব্যক্তিরা ধর্মভ্রষ্ট ধারণাগুলোর দ্বারা প্রতারিত হয় না। অভিষিক্ত ব্যক্তি ও তাদের খ্রিস্টান সহযোগীরা ধর্মভ্রষ্ট ধারণাগুলোকে এড়িয়ে চলার ও প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে তৎপর। (পড়ুন, রোমীয় ১৬:১৭.) যদিও আমরা অনাধ্যাত্মিক বিষয়গুলোতে সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি আনন্দের সঙ্গে বশীভূত হই ও জাগতিক দ্বন্দ্বগুলোতে নিরপেক্ষ থাকি কিন্তু আমরা ঈশ্বরের রাজ্যের প্রতি অনুগত। (যোহন ১৮:৩৬; রোমীয় ১৩:১-৮) আমরা সেই ব্যক্তিদের মিথ্যা দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করি, যারা ঈশ্বরের সেবা করে বলে দাবি করে ও একইসময়ে তাদের আচরণের দ্বারা তাঁকে অসম্মান করে।—তীত ১:১৬.
১৫. কেন “বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাস” আমাদের আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য?
১৫ এ ছাড়া, এই বিষয়টাও চিন্তা করুন যে, যিহোবা সৎহৃদয়ের লোকেদেরকে দুষ্ট জগতের মধ্যে থেকে বের হয়ে, রূপকভাবে বলতে গেলে তিনি যে-আধ্যাত্মিক পরমদেশ সৃষ্টি করেছেন, সেখানে প্রবেশ করাকে সম্ভবপর করেছেন। (২ করি. ১২:১-৪) কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ে আমরা সেই ‘বিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান্ দাসের’ সান্নিধ্যে থাকি, “যাহাকে তাহার প্রভু নিজ পরিজনের উপরে নিযুক্ত করিয়াছেন, যেন সে তাহাদিগকে উপযুক্ত সময়ে খাদ্য দেয়।” খ্রিস্ট এই দাসকে “আপন সর্ব্বস্বের” ওপর নিযুক্ত করেছেন। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) তাই, ব্যক্তিগতভাবে আমরা যদি দাস শ্রেণীর গৃহীত কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ পুরোপুরি না-ও বুঝতে পারি, তবুও সেটাকে প্রত্যাখ্যান করার বা শয়তানের জগতে ফিরে যাওয়ার জন্য তা কোনো কারণ হতে পারে না। এর পরিবর্তে, আনুগত্য আমাদেরকে নম্রভাবে কাজ করতে ও বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করার জন্য যিহোবার অপেক্ষা করতে পরিচালিত করবে।
ঈশ্বরদত্ত কার্যভারগুলো সম্পাদন করার সময়
১৬. যিহূদা থেকে আসা একজন ভাববাদী কোন কার্যভার পেয়েছিলেন?
১৬ যিহোবা যারবিয়ামকে তার ধর্মভ্রষ্ট আচরণের জন্য নিন্দা করেছিলেন। তিনি যিহূদা থেকে আসা একজন ভাববাদীকে বৈথেলের উত্তর দিকে যাত্রা করতে ও যারবিয়াম যখন ধূপদাহের জন্য তার বেদির কাছে দাঁড়ান, তখন তার সামনে উপস্থিত হওয়ার কার্যভার দিয়েছিলেন। ভাববাদীকে যারবিয়ামের কাছে এক ধ্বংসাত্মক বিচারের বার্তা জানাতে হয়েছিল। নিঃসন্দেহে, সেটা এক কঠিন কার্যভার ছিল।—১ রাজা. ১৩:১-৩.
১৭. কীভাবে যিহোবা তাঁর বার্তাবাহককে রক্ষা করেছিলেন?
১৭ যারবিয়াম যিহোবার বিচারের বার্তা শুনে ক্রোধে ফেটে পড়েছিলেন। তিনি ঈশ্বরের প্রতিনিধির দিকে তার হাত বাড়ান এবং কাছাকাছি থাকা লোকেদেরকে চিৎকার করে বলেন: “উহাকে ধর।” কিন্তু, কেউ পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই তৎক্ষণাৎ “তিনি তাঁহার বিরুদ্ধে যে হস্ত বিস্তার করিলেন, তাহা শুষ্ক হইয়া গেল, তিনি তাহা আর গুড়াইতে পারিলেন না। আর . . . বেদি ফাটিয়া গেল, এবং বেদি হইতে ভস্ম পড়িয়া গেল।” যারবিয়াম সেই ভাববাদীকে যিহোবার কাছে অনুগ্রহ যাচ্ঞা করতে ও তার শুকিয়ে-যাওয়া হাত যেন পুনরায় সুস্থ হয়ে যায়, সেইজন্য প্রার্থনা করার জন্য বলতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই ভাববাদী তা-ই করেছিলেন আর তার হাত সুস্থ হয়ে গিয়েছিল। এভাবে যিহোবা তাঁর বার্তাবাহককে ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছিলেন।—১ রাজা. ১৩:৪-৬.
১৮. আমরা নির্ভয়ে তাঁকে পবিত্র সেবা প্রদান করার সময় যিহোবা কীভাবে আমাদের সুরক্ষা করেন?
১৮ আমরা অনুগতভাবে রাজ্যের প্রচার ও শিষ্য তৈরির কাজে রত থাকার সময়, মাঝে মাঝে অবন্ধুত্বসুলভ বা এমনকি শত্রুভাবাপন্ন প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়ে থাকি। (মথি ২৪:১৪; ২৮:১৯, ২০) কিন্তু, আমরা কখনোই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়কে পরিচর্যার জন্য আমাদের উদ্যোগকে কমিয়ে দিতে দেব না। যারবিয়ামের দিনের সেই নাম না-জানা ভাববাদীর মতো, আমরা “নির্ভয়ে সাধুতায় [“আনুগত্যের সঙ্গে,” NW] ও ধার্ম্মিকতায় [ঈশ্বরের] আরাধনা করিতে” পারি।b (লূক ১:৭৪, ৭৫) যদিও আমরা আজকে অলৌকিক হস্তক্ষেপ আশা করি না কিন্তু যিহোবা এখনও তাঁর পবিত্র আত্মা ও দূতদের মাধ্যমে আমাদেরকে তাঁর সাক্ষি হিসেবে সুরক্ষা করছেন ও সমর্থন জোগাচ্ছেন। (পড়ুন, যোহন ১৪:১৫-১৭; প্রকাশিত বাক্য ১৪:৬.) ঈশ্বর কখনোই সেই ব্যক্তিদের পরিত্যাগ করবেন না, যারা নির্ভয়ে তাঁর বাক্য বলে চলে।—ফিলি. ১:১৪, ২৮.
যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের সুরক্ষা করবেন
১৯, ২০. (ক) কেন আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে, যিহোবা আমাদের কখনোই পরিত্যাগ করবেন না? (খ) পরের প্রবন্ধে কোন প্রশ্নগুলো আলোচনা করা হবে?
১৯ যিহোবা হলেন অনুগত ঈশ্বর। তিনি “আপনার সমস্ত কার্য্যে দয়াবান্ [“অনুগত,” NW]।” (গীত. ১৪৫:১৭) আর বাইবেল আমাদের আশ্বাস দেয়: “তিনি . . . আপন সাধুদের [“অনুগত ব্যক্তিদের,” NW] পথ সংরক্ষণ করেন।” (হিতো. ২:৮) বিভিন্ন পরীক্ষা বা ধর্মভ্রষ্ট ধারণাগুলোর মুখোমুখি হলে অথবা কোনো কঠিন কার্যভার সম্পাদন করার সময়, ঈশ্বরের অনুগত ব্যক্তিরা যিহোবার নির্দেশনা ও সমর্থন লাভ করার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে।
২০ আলাদা আলাদাভাবে আমাদের প্রত্যেককে এখন যে-বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করতে হবে, তা হল: আমার সামনে যে-পরীক্ষা বা প্রলোভনই আসুক না কেন, কী আমাকে যিহোবার প্রতি আমার আনুগত্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে? অন্য কথায়, কীভাবে আমি ঈশ্বরের প্রতি আমার আনুগত্যকে দৃঢ় করতে পারি?
[পাদটীকাগুলো]
a গীতসংহিতা ৯৭:১০ (NW): “হে যিহোবার প্রেমিকগণ, দুষ্টতাকে ঘৃণা করো। তিনি তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের প্রাণ রক্ষা করছেন; দুষ্টদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করেন।”
b সেই ভাববাদী যিহোবার প্রতি ক্রমাগত বাধ্য ছিলেন কি না এবং তার প্রতি যা ঘটেছে, তা পরের প্রবন্ধে আলোচনা করা হবে।
আপনি কীভাবে উত্তর দেবেন?
• কীভাবে যিহোবা দেখিয়েছেন যে, তাঁর অনুগত ব্যক্তিরা যখন নিপীড়িত হয়, তখন তিনি তাদের পরিত্যাগ করেন না?
• ধর্মভ্রষ্ট ও তাদের ধারণাগুলোর প্রতি আমাদের কীভাবে সাড়া দেওয়া উচিত?
• যিহোবার অনুগত ব্যক্তিরা খ্রিস্টীয় পরিচর্যায় রত থাকার সময় যিহোবা তাদের কীভাবে সুরক্ষা করেন?
[৫ পৃষ্ঠার মানচিত্র/চিত্র]
(পুরোপুরি ফরম্যাট করা টেক্সটের জন্য এই প্রকাশনা দেখুন)
উত্তর রাজ্য (যারবিয়াম)
দান
শিখিম
বৈথেল
দক্ষিণ রাজ্য (রহবিয়াম)
যিরূশালেম
[চিত্র]
শলোমন ও তার প্রজারা যে-আশীর্বাদগুলো উপভোগ করেছিল, সেগুলো ছিল শর্তসাপেক্ষ
[৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
যারবিয়াম যখন বাছুর উপাসনার সূত্রপাত করেছিলেন, তখন যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের পরিত্যাগ করেননি