পন্তীয় পীলাত কে ছিলেন?
“অবজ্ঞাপূর্ণ, সন্দেহপ্রবণ পীলাত হলেন এক ঐতিহাসিক চরিত্র, যিনি বার বার আমাদের কল্পনায় উদয় হন। কারো কারো কাছে তিনি একজন সাধু, আবার অন্যদের কাছে তিনি মানব দুর্বলতার মূর্ত প্রতীক, একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ্, যিনি নিজের ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য একজন ব্যক্তিকে বলি দিতেও ইচ্ছুক।”—আ্যন রোয়ের দ্বারা লিখিত পন্তীয় পীলাত (ইংরেজি)।
আপনি সেই দৃষ্টিভঙ্গিগুলোর সঙ্গে একমত হন বা না-ই হন, পন্তীয় পীলাত যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছিলেন তার মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। পীলাত কে ছিলেন? তার সম্বন্ধে কী জানা যায়? তার পদমর্যাদা সম্বন্ধে আরও ভালভাবে উপলব্ধি করা আমাদেরকে পৃথিবীতে ঘটিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটির প্রতি বোধগম্যতাকে বৃদ্ধি করবে।
পদমর্যাদা, কর্তব্য ও ক্ষমতা
রোমীয় সম্রাট তিবিরিয় সা.কা. ২৬ সালে পীলাতকে যিহূদিয়া প্রদেশের দেশাধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তথাকথিত অশ্বারোহী বাহিনীর লোক ছিল যারা গরিষ্ঠসভার অভিজাতশ্রেণীর তুলনায় নিম্ন পদমর্যাদার অধিকারী। সম্ভবত পীলাত একজন সামরিক জননেতা বা নিম্নপদস্থ সেনাপতি হিসেবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন; সফলভাবে কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন পদে উন্নীত হয়েছিলেন; এবং তার বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশাধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত অবস্থায় পীলাত চামড়ার তৈরি হাতকাটা জামা ও ধাতব বুকপাটা পরতেন। কিন্তু, জনসাধারণের সামনে তিনি বেগুনি পাড়ের একটা সাদা ঢিলেঢালা জামা পরতেন। তার ছোট চুল ছিল এবং দাড়িগোঁফ কামানো ছিল। যদিও কেউ কেউ মনে করে যে, তিনি স্পেনের ছিলেন কিন্তু তার নাম থেকে মনে হয় তিনি পন্টি উপজাতির—দক্ষিণ ইতালির স্যামনাইট শ্রেণীর—সদস্য ছিলেন।
পীলাতের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সাধারণত বর্বর এলাকাগুলোতে পাঠানো হতো। রোমীয়রা যিহূদিয়াকে এই ধরনের একটা এলাকা হিসেবে মনে করত। পীলাত নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা করা ছাড়াও, পরোক্ষ কর ও মাথাপিছু কর আদায় করার বিষয়গুলো দেখাশোনা করতেন। প্রতিদিনের বিচারকাজ পরিচালনা যিহুদি আদালতের অধিকারভুক্ত ছিল কিন্তু যে-মামলাগুলোর শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য ছিল সেগুলো স্পষ্টতই দেশাধ্যক্ষের কাছে পেশ করা হতো, যিনি ছিলেন বিচারসংক্রান্ত সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ।
পীলাত এবং তার স্ত্রী, অল্প কয়েকজন অধ্যাপক, সহচর ও বার্তাবাহক নিয়ে কৈসরিয়ার বন্দর নগরে থাকত। পীলাত পাঁচটা পদাতিক বাহিনী, যেগুলোর প্রত্যেকটাতে ৫০০ থেকে ১০০০ জন লোক ছিল এবং সেইসঙ্গে সম্ভবত ৫০০ জন লোক নিয়ে গঠিত একটা অশ্বারোহী বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন। তার সৈন্যরা আইনভঙ্গকারীদের নিয়মিতভাবে বিদ্ধ করত। শান্তির সময়ে সংক্ষিপ্ত শুনানির পর মৃত্যুদণ্ডগুলো কার্যকর করা হতো কিন্তু বিদ্রোহের সময়ে, বিরাট সংখ্যক বিদ্রোহীদের অবিলম্বে হত্যা করা হতো। উদাহরণস্বরূপ, স্পারটাকাসের নেতৃত্বে যে-বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল তা দমন করার জন্য রোমীয়রা ৬,০০০ জন দাসকে বিদ্ধ করেছিল। যিহূদিয়ায় বিপদের হুমকি দেখা দিলে, দেশাধ্যক্ষ সাধারণত সিরিয়ায় সম্রাটের অধীনস্থ সামরিক নেতার কাছে যেতে পারতেন, যিনি তিন থেকে ছয় হাজার অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন। কিন্তু, পীলাতের শাসনের অধিকাংশ সময় জুড়ে সেই সামরিক নেতা অনুপস্থিত ছিলেন আর তাই পীলাতকেই বিশৃঙ্খলা তাড়াতাড়ি বন্ধ করতে হতো।
দেশাধ্যক্ষরা নিয়মিতভাবে সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সম্রাটের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলো অথবা রোমীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি যেকোনো হুমকির বিষয়ে সম্রাটকে জানাতে হতো এবং ফলস্বরূপ সাম্রাজ্যের নিয়মশৃঙ্খলা বজায় থাকত। একজন দেশাধ্যক্ষ হয়তো অন্যেরা অভিযোগ করার আগেই, নিজের প্রদেশের বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সম্রাটকে অবগত করতে উদগ্রীব হতেন। সমস্যাসংকুল যিহূদিয়ায় এই ধরনের আশঙ্কা পীলাতের কাছে খুবই বাস্তব ছিল।
সুসমাচারের বিবরণগুলো ছাড়াও, ফ্লেভিয়াস জোসিফাস ও ফাইলো নামের দুজন ইতিহাসবেত্তা পীলাত সম্বন্ধে তথ্যের প্রধান উৎস। এ ছাড়া, রোমীয় ইতিহাসবেত্তা ট্যাসিটাস বর্ণনা করেন যে, পীলাত খ্রিস্টাসকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন যার কাছ থেকে খ্রিস্টানরা তাদের নাম গ্রহণ করেছে।
প্রচণ্ড যিহুদি বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল
জোসিফাস বলেন যে, মূর্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে যিহুদিদের আপত্তির কারণে রোমীয় দেশাধ্যক্ষরা সম্রাটের প্রতিমূর্তিবহনকারী সামরিক পতাকাগুলো যিরূশালেমে নিয়ে যাওয়া এড়িয়ে চলত। যেহেতু পীলাত এই ব্যাপারে কোনোরকম আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করেননি, তাই বিক্ষুব্ধ যিহুদিরা অভিযোগ করার জন্য দ্রুত কৈসরিয়ায় চলে গিয়েছিল। পীলাত পাঁচ দিন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তিনি ষষ্ঠ দিনে, তার সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা বিরোধীদের ঘেরাও করে এবং তারা যদি সেখান থেকে চলে না যায়, তা হলে তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু, যিহুদিরা যখন বলেছিল যে, তাদের চোখের সামনে ব্যবস্থা ভঙ্গ হতে দেখার চেয়ে তারা বরং মৃত্যুকে বেছে নেবে, তখন পীলাত কিছুটা কোমল হয়েছিলেন এবং মূর্তিগুলো সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পীলাত তার ক্ষমতা ব্যবহার করতে সমর্থ ছিলেন। জোসিফাসের দ্বারা লিপিবদ্ধ একটা ঘটনায়, দেশাধ্যক্ষ যিরূশালেমে জল সরবরাহের জন্য একটা কৃত্রিম জলপ্রণালী তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন এবং সেই প্রকল্পের আর্থিক ব্যয় নির্বাহের জন্য মন্দিরের অর্থ ভাণ্ডার থেকে অর্থ ব্যবহার করেছিলেন। পীলাত সাধারণভাবে অর্থ বাজেয়াপ্ত করেননি কারণ তিনি জানতেন যে, মন্দির লুট করা অপবিত্র ছিল আর সেটা ক্রুদ্ধ যিহুদিদের তাকে পদচ্যুত করার জন্য তিবিরিয়ের কাছে অনুরোধ করার দিকে পরিচালিত করবে। তাই আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে, এই ক্ষেত্রে মন্দিরের কর্তৃপক্ষরা পীলাতকে সহযোগিতা করেছিল। “কোর্বান” নামে আখ্যাত উৎসর্গীকৃত ভাণ্ডারের অর্থ আইনসম্মতভাবে শহরের জনসাধারণের উপকারজনক কাজে ব্যবহার করা যেত। কিন্তু হাজার হাজার যিহুদি এই ব্যাপারে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করার জন্য জড়ো হয়েছিল।
সেই জনতার মধ্যে পীলাতের সেনাবাহিনী মিশে গিয়েছিল আর তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যেন অস্ত্র ব্যবহার না করে কিন্তু লাঠি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রহার করে। স্পষ্টতই তিনি গণহত্যা না করেই উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন। তিনি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়েছিলেন বলে মনে হয়, তবে কয়েকজন মারা গিয়েছিল। কিছু ব্যক্তি যারা যিশুকে সংবাদ দিয়েছিল যে, পীলাত গালীলীয়দের রক্ত তাদের বলির সঙ্গে মিশ্রিত করেছিলেন, তারা সম্ভবত এই ঘটনার কথাই উল্লেখ করেছিল।—লূক ১৩:১.
“সত্য কি?”
যে-বিষয়টা পীলাতকে কুখ্যাত করে তোলে সেটা হল, যিশু নিজেকে রাজা বলছেন এই বিষয়ে যিহুদি প্রধান যাজক ও প্রাচীনদের অভিযোগ সম্বন্ধে তার তদন্ত। সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য যিশুর কার্যভার সম্বন্ধে শোনার পর, পীলাত লক্ষ করেছিলেন যে, এই আসামি রোমের জন্য কোনো হুমকি নিয়ে আসেননি। “সত্য কি?” তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্পষ্টতই ভেবেছিলেন যে, সত্য এতটাই দুর্বোধ্য ধারণা যে তাতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি কোন উপসংহারে এসেছিলেন? “আমি এই ব্যক্তির কোনো দোষই পাইতেছি না।”—যোহন ১৮:৩৭, ৩৮; লূক ২৩:৪
সেটাই যিশুর বিচারের ফলাফল হতে পারত কিন্তু যিহুদিরা জোর দিয়ে বলতেই থাকে যে, তিনি জাতিকে বিগড়ে দিচ্ছিলেন। যিশুকে রোমীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার পিছনে প্রধান যাজকদের হিংসাই ছিল মূল কারণ আর পীলাত তা জানতেন। তিনি আরও জানতেন যে, যিশুকে মুক্ত করে দিলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যা তিনি এড়াতে চাচ্ছিলেন। ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সমস্যা ছিল কারণ বারাব্বা ও অন্য ব্যক্তিরা উপপ্লব বা বিদ্রোহ এবং খুনের দায়ে কারাগারে ছিল। (মার্ক ১৫:৭, ১০; লূক ২৩:২) এ ছাড়া, যিহুদিদের সঙ্গে পীলাতের পূর্ববিরোধ তিবিরিয়ের কাছে তার সুনাম কিছুটা নিষ্প্রভ করেছিল কারণ তিবিরিয় অযোগ্য দেশাধ্যক্ষদের সঙ্গে কঠোর আচরণের জন্য কুখ্যাত ছিলেন। অন্যদিকে, যিহুদিদের কথা মেনে নেওয়া দুর্বলতার এক লক্ষণ হবে। তাই পীলাত উভয়সংকটে পড়ে গিয়েছিলেন।
যিশু কোন জায়গার লোক ছিলেন তা জানার পর, পীলাত সেই মামলা গালীলের শাসক হেরোদ আন্তিপার কাছে হস্তান্তর করার চেষ্টা করেছিলেন। সেটা যখন ব্যর্থ হয়েছিল, তখন পীলাত সেই লোকেদের তার প্রাসাদের বাইরে জড়ো হতে বলেছিলেন, যাতে তিনি নিস্তারপর্বের সময় একজন বন্দিকে মুক্ত করার রীতি অনুযায়ী যিশুকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। জনতা চিৎকার করে বারাব্বাকে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল।—লূক ২৩:৫-১৯.
পীলাত হয়তো যা সঠিক তা-ই করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি একই সময়ে নিজেকে রক্ষা করতে এবং সেই জনতাকে খুশি করতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত, তার বিবেক ও ন্যায়বিচারের চেয়ে তিনি তার কর্মজীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। জল চেয়ে তিনি তার হাত ধুয়েছিলেন এবং এইমাত্র তিনি যে-মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেছিলেন সেই বিষয়ে নির্দোষ থাকার দাবি করেছিলেন।a যদিও তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে, যিশু নির্দোষ ছিলেন, তবুও পীলাত তাঁকে চাবুক মারার জন্য সমর্পণ করেছিলেন এবং সৈন্যদের যিশুকে উপহাস করতে, আঘাত করতে ও থুথু দিতে দিয়েছিলেন।—মথি ২৭:২৪-৩১.
পীলাত যিশুকে মুক্ত করার শেষ চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু জনতা চিৎকার করে বলেছিল, তিনি যদি তা করেন তা হলে তিনি কৈসরের মিত্র নন। (যোহন ১৯:১২) এতে পীলাত চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। একজন পণ্ডিত ব্যক্তি পীলাতের সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে এই কথা বলেছিলেন: “সমাধানটা সহজ ছিল: সেই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া। এর ফলে যা কিছু হারানোর ছিল তা হল আপাতদৃষ্টিতে এক তুচ্ছ যিহুদির জীবন; তার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হতে দেওয়া বোকামি হবে।”
পীলাতের কী হয়েছিল?
পীলাতের কর্মজীবনের শেষ লিপিবদ্ধ ঘটনাটি ছিল আরেকটা পরস্পরবিরোধী বিষয়। জোসিফাস বলেন যে, হাজার হাজার সশস্ত্র শমরীয় এই আশায় গরিষীম পর্বতে জড়ো হয়েছিল যে, মোশি সেখানে যে-ধনসম্পদ লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে মনে করা হতো, সেগুলো তারা খুঁজে বের করবে। পীলাত সেই কাজে বাধা দিয়েছিলেন এবং তার সৈন্যরা সেই জনতার মধ্যে কয়েক জনকে হত্যা করেছিল। শমরীয়রা পীলাতের চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিরিয়ার দেশাধ্যক্ষ লুকিয়ুস ভিটেলিয়ুসের কাছে অভিযোগ করেছিল। পীলাত চরমে চলে গিয়েছিলেন, এই বিষয়ে ভিটেলিয়ুস কিছু ভেবেছিলেন কি না, সেই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। যা-ই ঘটুক না কেন, তিনি পীলাতকে তার কাজের জন্য রোমে গিয়ে সম্রাটের কাছে জবাবদিহি করতে বলেছিলেন। কিন্তু, পীলাত পৌঁছানোর আগেই তিবিরিয় মারা গিয়েছিলেন।
একটি মাসিক পত্রিকা বলে, “ইতিহাস এরপর পীলাত সম্বন্ধে আর কিছু জানায় না কিন্তু তার সম্বন্ধে অনেক লোককাহিনী প্রচলিত রয়েছে।” অনেক লোক হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলো সরবরাহ করার চেষ্টা করেছে। দাবি করা হয় যে, পীলাত একজন খ্রিস্টান হয়েছিলেন। ইথিওপিয়ার “খ্রিস্টানরা” তাকে “সাধু” উপাধি দিয়েছে। তৃতীয় শতাব্দীর শেষে ও চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকের লেখক ইউসেবিয়াস ছিলেন অনেকের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি, যিনি বলেছিলেন যে, ঈষ্করিয়োতীয় যিহূদার মতো পীলাতও আত্মহত্যা করেছিলেন। কিন্তু, পীলাতের আসলে কী হয়েছিল সেটা হচ্ছে এক অনুমানের বিষয়।
পীলাত জেদি, ধৃষ্ট ও কঠোর হতে পারেন। কিন্তু তিনি তার পদে দশ বছর অধিষ্ঠিত ছিলেন, যেখানে যিহূদিয়ার অধিকাংশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অনেক কম সময় শাসন করেছিল। তাই, রোমীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পীলাত সুদক্ষ ব্যক্তি ছিলেন। তাকে একজন কাপুরুষ বলা হয়, যিনি নিজেকে রক্ষা করতে যিশুকে নিন্দনীয়ভাবে যাতনা দিয়েছিলেন ও হত্যা করেছিলেন। অন্যেরা তর্ক করে যে, পীলাতের কর্তব্য ছিল শান্তি ও রোমীয় স্বার্থ বৃদ্ধি করা, ন্যায়বিচার সমর্থন করা নয়।
আমাদের সময়ের চেয়ে পীলাতের সময় অনেক আলাদা ছিল। তা সত্ত্বেও, ন্যায্যভাবে কোনো বিচারকই এমন একজন ব্যক্তিকে দোষী রায় দিতে পারেন না যাকে তিনি নিজে নির্দোষ বলে বিবেচনা করেছিলেন। যিশুর সঙ্গে তার সাক্ষাত না হলে, পন্তীয় পীলাত হয়তো ইতিহাসের বইগুলোতে স্থান পাওয়া কেবল আরেকটা নাম হতো।
[পাদটীকা]
a রক্তপাতে কোনো অংশ নেই তা প্রকাশ করার জন্য হাত ধোয়া, রোমীয়দের নয় কিন্তু যিহুদিদের প্রথা ছিল।—দ্বিতীয় বিবরণ ২১:৬, ৭.
[১১ পৃষ্ঠার চিত্র]
কৈসরিয়াতে খুঁজে পাওয়া খোদাই করা এই লেখাগুলো পন্তীয় পীলাতকে যিহূদিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে শনাক্ত করে