ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w০৫ ৯/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • যিশু খ্রিস্ট কে?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যিশু খ্রিস্ট কে?
  • ২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • তাঁর উৎপত্তি “প্রাক্কাল হইতে”
  • মানুষ হিসেবে তাঁর জীবন
  • বর্তমানে যিশু কোথায় আছেন?
  • যিশু খ্রিস্ট কে?
    বাইবেল প্রকৃতপক্ষে কী শিক্ষা দেয়?
  • যীশু খ্রীষ্ট—ঈশ্বরবিষয়ক জ্ঞানের চাবি
    জ্ঞান যা অনন্ত জীবনে পরিচালিত করে
  • “খ্রীষ্টের মন” জানা
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিশু কে?
    চিরকাল জীবন উপভোগ করুন!—ঈশ্বরের কাছ থেকে শিখুন
আরও দেখুন
২০০৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w০৫ ৯/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭

যিশু খ্রিস্ট কে?

কল্পনা করুন যে, আন্দ্রিয় নামের এক যিহুদি যুবক যখন প্রথমবারের মতো নাসরতের যিশুর কথা শুনেছিলেন, তখন তিনি কত উত্তেজিতই না হয়েছিলেন! বাইবেল বলে যে, আন্দ্রিয় দৌড়ে তার ভাইয়ের কাছে গিয়ে বলেছিলেন: “আমরা মশীহের [বা খ্রিস্টের] দেখা পাইয়াছি।” (যোহন ১:৪১) ইব্রীয় ও গ্রিক ভাষায় সাধারণত “মশীহ” ও “খ্রিস্ট” হিসেবে অনুবাদিত শব্দগুলোর অর্থ “অভিষিক্ত ব্যক্তি।” যিশুই ছিলেন অভিষিক্ত ব্যক্তি বা ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তি—প্রতিজ্ঞাত নায়ক বা নেতা। (যিশাইয় ৫৫:৪) শাস্ত্রে তাঁর সম্বন্ধে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী ছিল আর সেই সময়ের যিহুদিরা তাঁর অপেক্ষায় ছিল।—লূক ৩:১৫.

আমরা কীভাবে জানি যে, আসলে যিশুই ছিলেন ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তি? তা হলে, সা.কা. ২৯ সালে যখন যিশুর বয়স ছিল ৩০ বছর, তখন কী ঘটেছিল তা বিবেচনা করুন। তিনি যর্দন নদীতে বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য যোহন বাপ্তাইজকের কাছে গিয়েছিলেন। বাইবেল বলে: “পরে যীশু বাপ্তাইজিত হইয়া অমনি জল হইতে উঠিলেন; আর দেখ, তাঁহার নিমিত্ত স্বর্গ খুলিয়া গেল, এবং তিনি ঈশ্বরের আত্মাকে কপোতের ন্যায় নামিয়া আপনার উপরে আসিতে দেখিলেন। আর দেখ, স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্ত্র, ইঁহাতেই আমি প্রীত’।” (মথি ৩:১৬, ১৭) অনুমোদনের সেই বাক্যগুলো শোনার পর, যোহনের কি কোনো সন্দেহ থাকতে পারে যে, যিশুই ছিলেন ঈশ্বরের মনোনীত ব্যক্তি? যিশুর ওপর তাঁর পবিত্র আত্মা বর্ষণ করার মাধ্যমে যিহোবা ঈশ্বর তাঁর আসন্ন রাজ্যের রাজা হিসেবে যিশুকে অভিষিক্ত বা নিযুক্ত করেছিলেন। যিশু এভাবে খ্রিস্ট অর্থাৎ অভিষিক্ত ব্যক্তি হয়েছিলেন। তা হলে, কীভাবে তিনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন? কীভাবে তাঁর উৎপত্তি হয়েছিল?

তাঁর উৎপত্তি “প্রাক্কাল হইতে”

যিশুর জীবনকালকে তিনটে পর্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথম পর্যায়টা মানুষ হিসেবে তাঁর জন্মের অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল। তাঁর উৎপত্তি ছিল “প্রাক্কাল হইতে, অনাদিকাল হইতে,” মীখা ৫:২ পদ বলে। যিশু নিজে বলেছিলেন: “আমি উদ্ধর্বস্থানের”—অর্থাৎ স্বর্গ থেকে। (যোহন ৮:২৩) তিনি স্বর্গে একজন শক্তিমান আত্মিক ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন।

যেহেতু সমস্ত সৃষ্ট বস্তুরই একটা শুরু ছিল, তাই এমন একটা সময় ছিল যখন ঈশ্বর সম্পূর্ণ একা ছিলেন। তবে, অগণিত বছর আগে ঈশ্বর সৃষ্টির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর প্রথম সৃষ্টি কী ছিল? বাইবেলের শেষ পুস্তক যিশুকে “ঈশ্বরের সৃষ্টির আদি,” হিসেবে চিহ্নিত করে। (প্রকাশিত বাক্য ৩:১৪) যিশু “সমুদয় সৃষ্টির প্রথমজাত।” কারণ ‘স্বর্গে ও পৃথিবীতে, দৃশ্য কি অদৃশ্য যে কিছু আছে, তাঁহাতেই সকলই সৃষ্ট হইয়াছে।’ (কলসীয় ১:১৫, ১৬) হ্যাঁ, যিশুই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যাঁকে ঈশ্বর নিজে সরাসরি সৃষ্টি করেছিলেন। তাই, তাঁকে ঈশ্বরের ‘একজাত পুত্ত্র’ বলা হয়। (যোহন ৩:১৬) এ ছাড়া, প্রথমজাত পুত্রের “বাক্য” উপাধিও রয়েছে। (যোহন ১:১৪) কেন? কারণ মানুষ হিসেবে জন্ম গ্রহণ করার আগে তিনি স্বর্গে ঈশ্বরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিলেন।

“আদিতে বাক্য,” যিহোবা ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন, যখন “আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি” করা হয়েছিল। তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি যাঁকে ঈশ্বর বলেছিলেন: “আমরা আমাদের প্রতিমূর্ত্তিতে . . . মনুষ্য নির্ম্মাণ করি।” (যোহন ১:১; আদিপুস্তক ১:১, ২৬) যিহোবার প্রথমজাত পুত্র সেখানে তাঁর পিতার পাশে থেকে তাঁর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। হিতোপদেশ ৮:২২-৩১ পদে তিনি এই বলে বর্ণনা করেছিলেন: “আমি [সৃষ্টিকর্তার] কাছে কার্য্যকারী ছিলাম; আমি দিন দিন আনন্দময় ছিলাম, তাঁহার সম্মুখে নিত্য আহ্লাদ করিতাম।”

যিহোবা ঈশ্বর এবং তাঁর একজাত পুত্র একসঙ্গে কাজ করার সময় একে অন্যকে নিশ্চয়ই কত অন্তরঙ্গভাবেই না জেনেছিলেন! অগণিত বছর ধরে যিহোবার ঘনিষ্ঠ সাহচর্য, ঈশ্বরের পুত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। এই বাধ্য পুত্র ঠিক তাঁর পিতা যিহোবার মতোই হয়ে উঠেছিলেন। বস্তুতপক্ষে, কলসীয় ১:১৫ পদ যিশুকে “অদৃশ্য ঈশ্বরের প্রতিমূর্ত্তি” বলে থাকে। এটা হল একটা কারণ যে, কেন আমাদের আধ্যাত্মিক চাহিদা ও ঈশ্বরকে জানার বিষয়ে আমাদের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য যিশু সম্বন্ধে জ্ঞান নেওয়া অত্যাবশ্যক। পৃথিবীতে থাকাকালীন যিশু যা কিছু সম্পাদন করেছিলেন, তার সমস্তই তিনি করবেন বলে ঈশ্বর তাঁর কাছ থেকে আশা করেছিলেন। তাই, যিশুকে জানার অর্থ হল যিহোবা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করা। (যোহন ৮:২৮; ১৪:৮-১০) কিন্তু, যিশু কীভাবে পৃথিবীতে এসেছিলেন?

মানুষ হিসেবে তাঁর জীবন

যিশুর জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছিল যখন ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। যিহোবা অলৌকিকভাবে যিশুর জীবন স্বর্গ থেকে মরিয়ম নামে এক বিশ্বস্ত যিহুদি কুমারীর গর্ভে স্থানান্তরিত করার মাধ্যমে তা করেছিলেন। যিশু উত্তরাধিকারসূত্রে কোনো অসিদ্ধতা লাভ করেননি কারণ তাঁর কোনো মানব পিতা ছিল না। যিহোবার পবিত্র আত্মা বা সক্রিয় শক্তি মরিয়মের ওপর এসেছিল এবং তাঁর শক্তি তার ওপর ‘ছায়া করিয়া’ তাকে অলৌকিকভাবে গর্ভবতী করেছিল। (লূক ১:৩৪, ৩৫) এভাবে মরিয়ম এক সিদ্ধ শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন। সূত্রধর যোষফের পালক পুত্র হিসেবে তিনি এক অতি সাধারণ ঘরে বড় হয়েছিলেন আর পরিবারের অন্যান্য ছেলেমেয়ের মধ্যে প্রথম সন্তান ছিলেন।—যিশাইয় ৭:১৪; মথি ১:২২, ২৩; মার্ক ৬:৩.

যিশুর শৈশবকাল সম্বন্ধে খুব কমই জানা যায়, তবে এর মধ্যে একটা ঘটনা উল্লেখযোগ্য। যিশুর বয়স যখন ১২ বছর, তখন তাঁর বাবামা তাঁকে নিস্তারপর্বের জন্য যিরূশালেমে বাৎসরিক পরিদর্শনে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বেশ কিছু সময় মন্দিরের মধ্যে কাটিয়েছিলেন, “গুরুদিগের মধ্যে বসিয়া তাঁহাদের কথা শুনিতেছিলেন ও তাঁহাদিগকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছিলেন।” এ ছাড়া, “যাহারা তাঁহার কথা শুনিতেছিল, তাহারা সকলে তাঁহার বুদ্ধি ও উত্তরে অতিশয় আশ্চর্য্য জ্ঞান করিল।” হ্যাঁ, অল্পবয়সি যিশু শুধুমাত্র ভাবিয়ে তোলার মতো আধ্যাত্মিক প্রশ্নগুলোই জিজ্ঞেস করেননি কিন্তু সেইসঙ্গে বুদ্ধিপূর্বক উত্তরও দিয়েছিলেন, যা অন্যদের বিস্মিত করেছিল। (লূক ২:৪১-৫০) নাসরতে বড় হওয়ার সময়, নিঃসন্দেহে তিনি তাঁর পালক পিতা যোষেফের কাছ থেকে সূত্রধরের কাজ শিখেছিলেন।—মথি ১৩:৫৫.

যিশুর ৩০ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাসরতে ছিলেন। তারপর তিনি বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য যোহনের কাছে গিয়েছিলেন। তাঁর বাপ্তিস্মের পর যিশু অত্যন্ত উদ্যমের সঙ্গে প্রচার কাজ শুরু করেছিলেন। সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি তাঁর নিজের দেশের সব জায়গায় ভ্রমণ করে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার ঘোষণা করেছিলেন। তিনি প্রমাণ দিয়েছিলেন যে, ঈশ্বর তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। কীভাবে? অনেক অলৌকিক কাজ—যে-পরাক্রম কাজগুলো মানুষের ক্ষমতার বাইরে ছিল—সম্পাদন করার মাধ্যমে।—মথি ৪:১৭; লূক ১৯:৩৭, ৩৮.

এ ছাড়া, যিশু একজন কোমল ও গভীর সহানুভূতিপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। বিশেষভাবে তিনি অন্যদের যেভাবে দেখতেন এবং তাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করতেন তাতে তাঁর কোমলতা প্রকাশ পেয়েছিল। যেহেতু যিশুর কাছে সহজেই যাওয়া যেত ও তিনি দয়ালু ছিলেন, তাই লোকেরা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতো। এমনকি ছোট ছেলেমেয়েরাও তাঁর সান্নিধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। (মার্ক ১০:১৩-১৬) যিশু স্ত্রীলোকেদের সঙ্গে সম্মানপূর্বক আচরণ করতেন, যদিও তাঁর সময়ের কিছু লোক তাদের ছোট করে দেখত। (যোহন ৪:৯, ২৭) তিনি দরিদ্র ও নির্যাতিতদের ‘তাহাদের প্রাণের জন্য বিশ্রাম পাইতে’ সাহায্য করেছিলেন। (মথি ১১:২৮-৩০) তাঁর শিক্ষাদানের পদ্ধতি স্পষ্ট, সরল ও ব্যবহারিক ছিল। আর তিনি যা শিখিয়েছিলেন, সেগুলো সত্য ঈশ্বর যিহোবার সঙ্গে শ্রোতাদের পরিচিত করানোর জন্য তাঁর আন্তরিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করেছিল।—যোহন ১৭:৬-৮.

অলৌকিক কাজগুলো সম্পাদন করার জন্য ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা ব্যবহার করে যিশু সমবেদনার সঙ্গে অসুস্থ ও দুর্দশাগ্রস্তদের সুস্থ করেছিলেন। (মথি ১৫:৩০, ৩১) উদাহরণস্বরূপ, একজন কুষ্ঠরোগী তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন: “যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আমাকে শুচি করিতে পারেন।” যিশু কী করেছিলেন? তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং সেই ব্যক্তিকে স্পর্শ করে বলেছিলেন: “আমার ইচ্ছা, তুমি শুচীকৃত হও।” আর সেই অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়েছিলেন!—মথি ৮:২-৪.

এ ছাড়া, আরেকটা ঘটনার কথা বিবেচনা করুন, যখন এক জনতা যিশুর সঙ্গে কোনো খাবার ছাড়াই তিন দিন থেকেছিল। তিনি সেই লোকেদের জন্য করুণা বোধ করেছিলেন এবং অলৌকিকভাবে ‘স্ত্রী ও শিশু ছাড়া চারি সহস্র পুরুষকে’ খাইয়েছিলেন। (মথি ১৫:৩২-৩৮) আরেকবার যিশু ঝড়কে শান্ত করেছিলেন, যা তাঁর বন্ধুদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। (মার্ক ৪:৩৭-৩৯) তিনি মৃত ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করেছিলেন বা পুনরায় জীবনে ফিরিয়ে এনেছিলেন।a (লূক ৭:২২; যোহন ১১:৪৩, ৪৪) এমনকি যিশু তাঁর সিদ্ধ মানব জীবন স্বেচ্ছায় দান করেছিলেন, যাতে অসিদ্ধ মানবজাতি ভবিষ্যতের জন্য এক আশা লাভ করতে পারে। লোকেদের জন্য যিশুর কী প্রগাঢ় ভালবাসাই না ছিল!

বর্তমানে যিশু কোথায় আছেন?

যিশু সাড়ে তেত্রিশ বছর বয়সে একটা যাতনাদণ্ডের ওপর মৃত্যুবরণ করেছিলেন।b কিন্তু মৃত্যুতেই তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর জীবনের তৃতীয় পর্যায় শুরু হয়েছিল প্রায় তিন দিন পর, যখন যিহোবা ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে এক আত্মিক ব্যক্তি হিসেবে পুনরুত্থিত করেছিলেন। তাঁর পুনরুত্থানের পর, যিশু সা.কা. প্রথম শতাব্দীতে শত শত লোকেদের কাছে দেখা দিয়েছিলেন। (১ করিন্থীয় ১৫:৩-৮) তারপর, তিনি ‘ঈশ্বরের দক্ষিণে উপবিষ্ট হইয়াছিলেন’ এবং রাজকীয় ক্ষমতা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। (ইব্রীয় ১০:১২, ১৩) যখন সেই সময় এসেছিল, যিশু রাজা হিসেবে শাসন করতে শুরু করেছিলেন। তাই, আমাদের বর্তমানে যিশুকে কীভাবে কল্পনা করা উচিত? আমাদের কি তাঁকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে চিন্তা করা উচিত যিনি মৃত্যুতে কষ্ট পাচ্ছেন? অথবা আমাদের কি তাঁকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখা উচিত, যাঁকে উপাসনা করতে হবে? বর্তমানে যিশু একজন মানুষ নন অথবা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরও নন। বরং, তিনি একজন শক্তিমান আত্মিক প্রাণী, শাসনরত রাজা। খুব শীঘ্রই, তিনি আমাদের সমস্যাপূর্ণ পৃথিবীর ওপর তাঁর শাসনক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

প্রকাশিত বাক্য ১৯:১১-১৬ পদ প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করে যিশু খ্রিস্টকে সাদা ঘোড়ায় বসা একজন রাজা হিসেবে এবং ধর্মশীলতায় বিচার ও যুদ্ধ করতে এগিয়ে আসছেন বলে বর্ণনা করে। তাঁর কাছে “এক তীক্ষ্ণ তরবারি” আছে “যেন তদ্দ্বারা তিনি জাতিগণকে আঘাত করেন।” হ্যাঁ, দুষ্টদের ধ্বংস করতে যিশু তাঁর মহৎ ক্ষমতা ব্যবহার করবেন। আর তাদের সম্বন্ধে কী বলা যায়, যারা পৃথিবীতে থাকার সময়ে তিনি যে-উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন, তা অনুসরণ করার জন্য প্রচেষ্টা করে? (১ পিতর ২:২১) তিনি এবং তাঁর পিতা, তাদেরকে আসন্ন ‘সর্ব্বশক্তিমান্‌ ঈশ্বরের সেই মহাদিনের যুদ্ধ’—যেটাকে প্রায়ই হর্‌মাগিদোন বলা হয় সেটা—থেকে রক্ষা করবেন, যাতে তারা ঈশ্বরের স্বর্গীয় রাজ্যের পার্থিব প্রজা হিসেবে অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারে।—প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১৪; ১৬:১৪, ১৬; ২১:৩, ৪.

তাঁর শান্তির রাজত্বের সময়ে যিশু মানবজাতির স্বার্থে কত অলোকিক কাজই না করবেন! (যিশাইয় ৯:৬, ৭; ১১:১-১০) তিনি অসুস্থকে সুস্থ্য করবেন ও মৃত্যুকে শেষ করবেন। কোটি কোটি ব্যক্তিকে পুনরুত্থিত করার জন্য ঈশ্বর যিশুকে ব্যবহার করবেন আর তাদেরকে এই পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকার এক সুযোগ দেওয়া হবে। (যোহন ৫:২৮, ২৯) রাজ্য শাসনের অধীনে আমাদের জীবন কত চমৎকার হবে তা আমরা এমনকি কল্পনাও করতে পারি না। তাই, আমাদের ক্রমাগত বাইবেলের জ্ঞান নেওয়া এবং যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে আরও ভালভাবে পরিচিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

[পাদটীকাগুলো]

a যিশু যে-অলৌকিক কাজগুলো করেছিলেন সেগুলো সকলেই জানত। এমনকি যিশুর শত্রুরাও স্বীকার করেছিল যে, তিনি ‘অনেক চিহ্ন-কার্য্য করিয়াছিলেন।’—যোহন ১১:৪৭, ৪৮.

b খ্রিস্ট দণ্ডের ওপর নাকি ক্রুশের ওপর মারা গিয়েছিলেন, এই বিষয়ে ব্যাখ্যার জন্য যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত শাস্ত্র থেকে যুক্তি করা (ইংরেজি) বইয়ের ৮৯-৯০ পৃষ্ঠা দেখুন।

[৭ পৃষ্ঠার বাক্স]

যিশু কি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর?

অনেক ধর্মপ্রাণ লোক বলে যে, যিশু হলেন ঈশ্বর। আবার অন্যেরা দাবি করে যে, ঈশ্বর হলেন ত্রিত্ব। এই শিক্ষা অনুসারে, “পিতা ঈশ্বর, পুত্র ঈশ্বর এবং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর তথাপি তারা তিন ঈশ্বর নন কিন্তু এক ঈশ্বর।” মনে করা হয় যে, এই তিন জনই “অনন্ত এবং সমান।” (দ্যা ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া) কিন্তু, এইরকম দৃষ্টিভঙ্গিগুলো কি সঠিক?

যিহোবা ঈশ্বর হলেন সৃষ্টিকর্তা। (প্রকাশিত বাক্য ৪:১১) তাঁর কোনো শুরু অথবা শেষ নেই, তিনি হলেন সর্বশক্তিমান। (গীতসংহিতা ৯০:২) অন্যদিকে, যিশুর এক শুরু ছিল। (কলসীয় ১:১৫, ১৬) ঈশ্বরকে তাঁর পিতা হিসেবে উল্লেখ করে যিশু বলেছিলেন: “পিতা আমা অপেক্ষা মহান্‌।” (যোহন ১৪:২৮) যিশু আরও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, এমন কিছু বিষয় ছিল যে-সম্বন্ধে তিনি কিংবা দূতেরা কেউই জানতেন না কিন্তু কেবল তাঁর পিতা জানতেন।—মার্ক ১৩:৩২.

এ ছাড়া, যিশু তাঁর পিতার কাছে এই বলে প্রার্থনা করেছিলেন: “আমার ইচ্ছা নয়, তোমারই ইচ্ছা সিদ্ধ হউক।” (লূক ২২:৪২) তিনি যদি কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির কাছে প্রার্থনা না-ই করতেন, তা হলে যিশু কার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন? এ ছাড়া, যিশু নিজে নিজে পুনরুত্থিত হননি কিন্তু ঈশ্বরই যিশুকে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত করেছিলেন। (প্রেরিত ২:৩২) স্পষ্টতই, যিশু পৃথিবীতে আসার আগে অথবা তাঁর পার্থিব জীবনকালেও পিতা ও পুত্র সমান ছিলেন না। যিশুর পুনরুত্থানের পর স্বর্গে ফিরে যাওয়া সম্বন্ধে কী বলা যায়? প্রথম করিন্থীয় ১১:৩ পদ বর্ণনা করে: “খ্রীষ্টের মস্তকস্বরূপ ঈশ্বর।” বস্তুতপক্ষে, পুত্র সবসময়ই ঈশ্বরের বশীভূত থাকবেন। (১ করিন্থীয় ১৫:২৮) তাই শাস্ত্র দেখায় যে, যিশু সর্বশক্তিমান ঈশ্বর নন। এর পরিবর্তে, তিনি হলেন ঈশ্বরের পুত্র।

ত্রিত্বের তথাকথিত তৃতীয় ব্যক্তি—পবিত্র আত্মা—আসলে একজন ব্যক্তি নয়। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার সময় গীতরচক বলেছিলেন: “তুমি নিজ আত্মা পাঠাইলে তাহাদের সৃষ্টি হয়।” (গীতসংহিতা ১০৪:৩০) এই আত্মা স্বয়ং ঈশ্বর নয়; এটা হল এক সক্রিয় শক্তি, যেটাকে তিনি তাঁর যেকোনো ইচ্ছা সম্পাদন করতে পাঠান বা ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে ঈশ্বর আক্ষরিক আকাশমণ্ডল, পৃথিবী ও সমস্ত জীবিত বস্তু সৃষ্টি করেছেন। (আদিপুস্তক ১:২; গীতসংহিতা ৩৩:৬, NW) ঈশ্বর মানুষদের বাইবেল লিখতে অনুপ্রাণিত করার জন্য তাঁর পবিত্র আত্মাকে ব্যবহার করেছিলেন। (২ পিতর ১:২০, ২১) তাই, ত্রিত্ব শাস্ত্রের কোনো শিক্ষা নয়।c বাইবেল বলে: “আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু একই সদাপ্রভু।”—দ্বিতীয় বিবরণ ৬:৪.

[পাদটীকা]

c এই বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য, যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত আপনার কি ত্রিত্বে বিশ্বাস করা উচিৎ? ব্রোশারটি দেখুন।

[৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

যিশু তাঁর বাপ্তিস্মের সময়ে ঈশ্বরের অভিষিক্ত ব্যক্তি হয়েছিলেন

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

ঈশ্বরদত্ত কাজে যিশু তাঁর শক্তিকে ব্যবহার করেছিলেন

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

বর্তমানে, যিশু একজন শক্তিমান রাজা

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার