“সতর্ক লোক নিজ পাদক্ষেপের প্রতি লক্ষ্য রাখে”
একজন সতর্ক ব্যক্তি বাস্তবধর্মী ও বুদ্ধিমান, প্রগাঢ় বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, তীক্ষ্ণ উপলব্ধিবোধসম্পন্ন এবং সুবুদ্ধিসম্পন্ন আর সেইসঙ্গে বিচক্ষণ ও জ্ঞানী। তিনি প্রতারণাপূর্ণ বা স্বার্থান্বেষী নন। “যে কেহ সতর্ক, সে জ্ঞানপূর্ব্বক কর্ম্ম করে,” হিতোপদেশ ১৩:১৬ পদ বলে। হ্যাঁ, সতর্কতা বা দূরদর্শিতা একটা কাম্য গুণ।
কীভাবে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সতর্কতা প্রদর্শন করতে পারি? কীভাবে এই গুণটা আমাদের বিভিন্ন বাছাই, অন্যদের সঙ্গে আমাদের ব্যবহার এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই সেগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে? দূরদর্শী ব্যক্তিরা কোন পুরস্কারগুলো লাভ করে? কোন দুর্দশাগুলো তারা এড়িয়ে চলে? প্রাচীন ইস্রায়েলের রাজা শলোমন এই প্রশ্নগুলোর বাস্তবসম্মত উত্তর দেন, যা আমরা হিতোপদেশ ১৪:১২-২৫ পদে পাই।a
আপনার পথ বিজ্ঞতার সঙ্গে বাছাই করুন
বিজ্ঞ বাছাইগুলো করা এবং জীবনে সফল হওয়ার জন্য নিঃসন্দেহে ভুল থেকে সঠিককে পৃথক করার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক। কিন্তু বাইবেল সতর্ক করে দেয়: “একটী পথ আছে, যাহা মানুষের দৃষ্টিতে সরল; কিন্তু তাহার পরিণাম মৃত্যুর পথ।” (হিতোপদেশ ১৪:১২) তাই, আমাদের যা সঠিক বলে মনে হয় এবং যা আসলেই সঠিক সেটার মধ্যে পার্থক্য করতে শিখতে হবে। “মৃত্যুর পথ” অভিব্যক্তিটি ইঙ্গিত করে যে, এই ধরনের অনেক প্রতারণাপূর্ণ পথ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্র বিবেচনা করুন, যেগুলোর বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে এবং এড়িয়ে চলতে হবে।
জগতের ধনী এবং বিখ্যাত ব্যক্তিরা সাধারণত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হিসেবে সম্মানিত হয়ে থাকে। তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য হয়তো তাদেরকে মনে করাতে পারে যে, তারা যেভাবে কাজ করে সেটা সঠিক। কিন্তু, এই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে প্রাচুর্য ও খ্যাতি লাভ করার জন্য যে-উপায়গুলো ব্যবহার করে, সেগুলো সম্পর্কে কী বলা যায়? তাদের পথগুলো কি সবসময়ই সরল এবং নীতিসম্মত? এ ছাড়া, কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রশংসনীয় উদ্যোগ প্রদর্শন করে থাকে। কিন্তু, তাদের আন্তরিকতা কি আসলেই প্রমাণ করে যে তাদের বিশ্বাস সঠিক?—রোমীয় ১০:২, ৩.
আত্মপ্রতারণার কারণেও কোনো পথকে সরল বলে মনে হতে পারে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে যা সঠিক বলে মনে করি, সেটার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে আমাদের হৃদয়ের ওপর নির্ভর করা, যেটা এক বঞ্চক পথপ্রদর্শক। (যিরমিয় ১৭:৯) এক অজ্ঞ এবং অপ্রশিক্ষিত বিবেক আমাদেরকে ভুল পথকে সঠিক পথ বলে মনে করার দিকে পরিচালিত করতে পারে। তা হলে, কী আমাদেরকে এক যথার্থ পথ বাছাই করতে সাহায্য করবে?
আমরা যদি আমাদের “জ্ঞানেন্দ্রিয় সকল . . . সদসৎ বিষয়ের বিচারণে পটু” বা সঠিক ও ভুলকে পৃথক করার জন্য প্রশিক্ষিত করতে চাই, তা হলে ঈশ্বরের বাক্যের গভীর সত্যগুলো অধ্যবসায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত অধ্যয়ন করা অপরিহার্য। এ ছাড়া, বাইবেলের নীতিগুলো “অভ্যাস প্রযুক্ত” কাজে লাগানোর মাধ্যমে আমাদের এই ক্ষমতাকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। (ইব্রীয় ৫:১৪) আমাদের সতর্ক হতে হবে যাতে আমরা এমন এক পথ অনুমোদন না করি, যা সঠিক বলে মনে হয় কিন্তু তা ‘জীবনে যাইবার দুর্গম পথ’ থেকে আমাদের ভিন্ন পথে পরিচালিত করতে পারে।—মথি ৭:১৩, ১৪.
যখন “মনোদুঃখ হয়”
আমরা কি মনের শান্তি ছাড়া সুখী হতে পারি? হাসি ও আনন্দ কি আমাদের মনের গভীর দুঃখকে কমাতে পারে? হতাশার অনুভূতি কাটিয়ে ওঠার জন্য মদের মধ্যে ডুবে থাকা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার করা বা সেই অনুভূতি দূর করতে এক বিশৃঙ্খল জীবনধারা গ্রহণ করা কি সতর্কতা? উত্তরটা হল, না। ‘হাস্যকালে মনোদুঃখ হয়,’ বিজ্ঞ রাজা বলেন।—হিতোপদেশ ১৪:১৩ক।
হাসি হয়তো আমাদের কষ্টকে লুকিয়ে রাখতে পারে কিন্তু তা দূর করতে পারে না। “সকল বিষয়েরই সময় আছে,” বাইবেল বলে। বাস্তবিকই, “রোদন করিবার কাল ও হাস্য করিবার কাল; বিলাপ করিবার কাল ও নৃত্য করিবার কাল” রয়েছে। (উপদেশক ৩:১, ৪) যখন হতাশা ক্রমাগত থেকেই যায়, তখন তা কাটিয়ে ওঠার জন্য আমাদের ‘সুমন্ত্রণার চালনা’ অন্বেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। (হিতোপদেশ ২৪:৬)b হাসি ও আমোদপ্রমোদের কিছুটা মূল্য রয়েছে কিন্তু এগুলোর তুলনামূলক গুরুত্ব কম। অনুপযুক্ত আমোদপ্রমোদ ও মাত্রাতিরিক্ত বিনোদনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে শলোমন বলেন: “আনন্দের পরিণাম খেদ” বা দুঃখ।—হিতোপদেশ ১৪:১৩খ।
বিপথগামী এবং সৎ —কীভাবে পরিতৃপ্ত?
“যে চিত্তে বিপথগামী, সে নিজ আচরণে পূর্ণ হয়,” ইস্রায়েলের রাজা বলে চলেন, “কিন্তু সৎ লোক আপনা হইতে [তৃপ্ত হয়]।” (হিতোপদেশ ১৪:১৪) কীভাবে বিপথগামী এবং সৎ ব্যক্তিরা তাদের আচরণের ফলস্বরূপ পরিতৃপ্তি লাভ করে?
একজন বিপথগামী ব্যক্তি ঈশ্বরকে নিকাশ দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তা করেন না। তাই, বিশ্বাসবিহীন এই ব্যক্তির কাছে যিহোবার দৃষ্টিতে যা সঠিক তা করার কোনো গুরুত্ব নেই। (১ পিতর ৪:৩-৫) এই ধরনের একজন ব্যক্তি তার বস্তুবাদী জীবনযাত্রার ফলগুলোর মাধ্যমেই পরিতৃপ্ত হন। (গীতসংহিতা ১৪৪:১১-১৫ক) অন্যদিকে, একজন সৎ ব্যক্তির হৃদয়ে আধ্যাত্মিক মঙ্গলের ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। তার সকল আচরণে তিনি ঈশ্বরের ধার্মিক মানগুলো মেনে চলেন। এই ধরনের একজন ব্যক্তি ফলগুলো দ্বারা পরিতৃপ্ত হন কারণ তার ঈশ্বর হলেন যিহোবা এবং পরাৎপরকে সেবা করার মাধ্যমে তিনি অতুলনীয় আনন্দ লাভ করেন।—গীতসংহিতা ১৪৪:১৫খ।
“সকল কথায় বিশ্বাস” করবেন না
অবোধ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে দূরদর্শী ব্যক্তির পথগুলোর পার্থক্য তুলে ধরে শলোমন বলেন: “যে অবোধ, সে সকল কথায় বিশ্বাস করে, কিন্তু সতর্ক লোক নিজ পাদক্ষেপের প্রতি লক্ষ্য রাখে।” (হিতোপদেশ ১৪:১৫) সতর্ক ব্যক্তি প্রতারিত হন না। তিনি যা কিছু শোনেন সবকিছুতে বিশ্বাস করা বা তার চিন্তা অন্যদেরকে করতে দেওয়ার পরিবর্তে, তিনি তার পদক্ষেপগুলো বিজ্ঞতার সঙ্গে বিবেচনা করেন। প্রাপ্তিসাধ্য সকল তথ্য সংগ্রহ করে তিনি জ্ঞানপূর্বক কাজ করেন।
উদাহরণস্বরূপ, এই প্রশ্নটি বিবেচনা করুন, “একজন ঈশ্বর কি আছেন?” একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তি জনপ্রিয় অথবা বিশিষ্ট লোকেরা যা বিশ্বাস করে, তার প্রতি ঝুঁকে থাকেন। অন্যদিকে, একজন সতর্ক ব্যক্তি সত্য বিষয়গুলো পরীক্ষা করার জন্য সময় করে নেন। তিনি রোমীয় ১:২০ এবং ইব্রীয় ৩:৪ পদের মতো শাস্ত্রপদগুলো গভীরভাবে বিবেচনা করেন। আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে, একজন দূরদর্শী ব্যক্তি কেবল ধর্মীয় নেতাদের মুখের কথাকে গ্রহণ করেন না। তিনি ‘আত্মা সকলের পরীক্ষা করিয়া দেখেন, তাহারা ঈশ্বর হইতে কি না।’—১ যোহন ৪:১.
“সকল কথায় বিশ্বাস” না করার পরামর্শে মনোযোগ দেওয়া কতই না বিজ্ঞতার কাজ! খ্রিস্টীয় মণ্ডলীতে যাদের ওপর আস্থা সহকারে অন্যদের পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, বিশেষভাবে তাদের এই বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হতে হবে। কী ঘটেছে সেই বিষয়ে পরামর্শদাতাকে পুরোপুরি জানতে হবে। তাকে ভালমতো শুনতে হবে এবং সব পক্ষ থেকে সত্য তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে হবে, যাতে তার পরামর্শ অযৌক্তিক বা একতরফা না হয়।—হিতোপদেশ ১৮:১৩; ২৯:২০.
‘চিন্তাশীল মানুষ ঘৃণার পাত্র হয়’
বিজ্ঞ এবং নির্বোধ ব্যক্তির মধ্যে আরেকটি পার্থক্য দেখিয়ে, ইস্রায়েলের রাজা বলেন: “জ্ঞানবান ভয় করিয়া মন্দ হইতে সরিয়া যায়; কিন্তু হীনবুদ্ধি অভিমানী ও দুঃসাহসী। আশুক্রোধী অজ্ঞানের কার্য্য করে, আর কু-কল্পনাকারী [“চিন্তাশীল মানুষ,” বাংলা জুবিলী বাইবেল] ঘৃণার পাত্র হয়।”—হিতোপদেশ ১৪:১৬, ১৭.
বিজ্ঞ ব্যক্তি ভুল পথ অনুসরণের পরিণতিগুলোকে ভয় করেন। তাই তিনি সাবধান থাকেন এবং যেকোনো পরামর্শ, যা তাকে মন্দতা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে সেটার প্রতি উপলব্ধি দেখান। হীনবুদ্ধি ব্যক্তির এ ধরনের ভয় নেই। আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কারণে, তিনি উদ্ধতভাবে অন্যদের পরামর্শকে উপেক্ষা করেন। একটুতে রেগে গিয়ে এই ধরনের একজন ব্যক্তি অজ্ঞান বা নির্বোধের মতো কাজ করেন। কিন্তু, কীভাবে একজন চিন্তাশীল মানুষ ঘৃণার পাত্র হয়ে ওঠেন?
মূল ভাষায় “চিন্তাশীল” অভিব্যক্তিটির দুটি অর্থ রয়েছে। ইতিবাচক অর্থে, এটা বিচক্ষণতা বা বুদ্ধিমত্তাকে নির্দেশ করে। (হিতোপদেশ ১:৪; ২:১১; ৩:২১) আর নেতিবাচক অর্থে, এই অভিব্যক্তিটি দুষ্ট বা বিদ্বেষপরায়ণ চিন্তাকে নির্দেশ করতে পারে।—গীতসংহিতা ৩৭:৭; হিতোপদেশ ১২:২; ২৪:৮.
যদি “চিন্তাশীল মানুষ” অভিব্যক্তিটি একজন বিদ্বেষপরায়ণ চক্রান্তকারীকে নির্দেশ করে, তা হলে এটা বোঝা কঠিন নয় যে কেন এই ধরনের একজন ব্যক্তি ঘৃণিত হন। কিন্তু, এটা কি সত্য নয় যে, একজন বিচক্ষণ ব্যক্তিও সেই ব্যক্তিদের দ্বারা ঘৃণিত হয়ে থাকেন, যাদের এই গুণের অভাব রয়েছে? উদাহরণস্বরূপ, যারা তাদের মানসিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এবং ‘জগতের না’ হওয়া বেছে নেয় তারা জগতের দ্বারা ঘৃণিত হয়। (যোহন ১৫:১৯) খ্রিস্টান তরুণ-তরুণীরা যারা চিন্তা করার ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এবং অনুপযুক্ত আচরণ এড়িয়ে চলার জন্য খারাপ সঙ্গীসাথিদের চাপের মধ্যেও দৃঢ় থাকে, তাদেরকে উপহাস করা হয়। প্রকৃত ঘটনা হল, সত্য উপাসকরা জগতের দ্বারা ঘৃণিত হয় যা শয়তান দিয়াবলের অধীনে রয়েছে।—১ যোহন ৫:১৯.
‘দুর্বৃত্তেরা প্রণত হয়’
দূরদর্শী বা সতর্ক ব্যক্তি এখনও আরেকটা দিক দিয়ে অনভিজ্ঞদের চেয়ে আলাদা। “অবোধদের অধিকার অজ্ঞানতা; কিন্তু সতর্কেরা জ্ঞানমুকুটে বিভূষিত হয়।” (হিতোপদেশ ১৪:১৮) বিচক্ষণতার অভাবে অনভিজ্ঞরা অজ্ঞানতাকে বেছে নেয়। এটাই তাদের জীবনের পরিণতি হয়ে ওঠে। অন্যদিকে জ্ঞান একজন সতর্ক ব্যক্তিকে বিভূষিত করে, ঠিক যেমন মুকুট রাজাকে সম্মানিত করে।
বিজ্ঞ রাজা বলেন, “দুর্বৃত্তেরা সুজনদের সম্মুখে, আর দুষ্টেরা ধার্ম্মিকের দ্বারে প্রণত হয়।” (হিতোপদেশ ১৪:১৯) অন্য কথায়, ভাল ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত দুষ্টদের ওপরে জয়ী হবে। আজকে ঈশ্বরের লোকেদের সংখ্যার বৃদ্ধি এবং তারা যে-উৎকৃষ্ট জীবনধারা উপভোগ করছে, সেই বিষয়ে বিবেচনা করুন। যিহোবার দাসদের ওপর এই আশীর্বাদগুলো বর্ষিত হতে দেখা কিছু বিরোধীদের, পৃথিবীতে আত্মায় অভিষিক্ত অবশিষ্টাংশের প্রতিনিধিত্বকারী যিহোবার রূপক স্বর্গীয় নারীর প্রতি “প্রণত” হতে বাধ্য করবে। এমনকি হর্মাগিদোনের আগে তারা যদি তা স্বীকার না-ও করে, তবুও সেই বিরোধীদের স্বীকার করতে বাধ্য করা হবে যে, ঈশ্বরের সংগঠনের পার্থিব অংশ প্রকৃতপক্ষে সেই স্বর্গীয় অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে।—যিশাইয় ৬০:১, ১৪; গালাতীয় ৬:১৬; প্রকাশিত বাক্য ১৬:১৪, ১৬.
‘দীনহীনদের প্রতি দয়া করা’
মানব স্বভাব সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করে, শলোমন বলেন: “দরিদ্র আপন প্রতিবাসীরও ঘৃণিত, কিন্তু ধনবানের অনেক বন্ধু আছে।” (হিতোপদেশ ১৪:২০) অসিদ্ধ মানুষের পক্ষে এটা কতই না সত্য! স্বার্থপরতার কারণে তারা দরিদ্রদের চেয়ে ধনীদের প্রতি আনুকূল্য দেখাতে পরিচালিত হয়। যদিও ধনী ব্যক্তির অনেক বন্ধু থাকে কিন্তু তারা তার ধনসম্পদের মতোই ক্ষণস্থায়ী। তা হলে, আমাদের কি টাকাপয়সা বা তোষামোদের মাধ্যমে বন্ধুত্ব করা এড়িয়ে চলা উচিত নয়?
এক সৎ আত্মপরীক্ষা যদি প্রকাশ করে যে, আমরা তোষামোদ করে ধনীদের অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করি এবং দরিদ্রদের নিচু চোখে দেখি, তা হলে কী? আমাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে, বাইবেলে এ ধরনের পক্ষপাতিত্বকে নিন্দা করা হয়েছে। এটি বলে: “যে প্রতিবাসীকে তুচ্ছ করে, সে পাপ করে; কিন্তু যে দীনহীনদের প্রতি দয়া করে, সে ধন্য [“সুখী,” NW]।”—হিতোপদেশ ১৪:২১.
আমাদের তাদের প্রতি বিবেচনা দেখানো উচিত যারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। (যাকোব ১:২৭) কীভাবে আমরা তা করতে পারি? “সাংসারিক জীবনোপায়” জোগানোর মাধ্যমে, যার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে টাকাপয়সা, খাবার, আশ্রয়, কাপড়চোপড় এবং ব্যক্তিগত মনোযোগ। (১ যোহন ৩:১৭) যারা এই ধরনের ব্যক্তিদের প্রতি আনুকূল্য দেখায় তারা সুখী কারণ “গ্রহণ করা অপেক্ষা বরং দান করা ধন্য [“সুখী,” NW] হইবার বিষয়।”—প্রেরিত ২০:৩৫.
তাদের ফল কী হবে?
“মনুষ্য যাহা কিছু বুনে তাহাই কাটিবে,” এই নীতিটি সতর্ক ব্যক্তি ও সেইসঙ্গে নির্বোধের প্রতিও প্রযোজ্য। (গালাতীয় ৬:৭) প্রথমজন যা ভাল তা করেন; পরের জন অনিষ্ট কল্পনা করেন। “যাহারা অনিষ্ট কল্পনা করে, তাহারা কি ভ্রান্ত হয় না?” বিজ্ঞ রাজা জিজ্ঞেস করেন। হ্যাঁ, তারা “বিপথে যায়।” (বাংলা কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ভারসন) “কিন্তু যাহারা মঙ্গল কল্পনা করে, তাহারা দয়া ও সত্য পায়।” (হিতোপদেশ ১৪:২২) যারা ভাল কাজ করে তারা অন্যদের কাছ থেকে সুনাম ও সেইসঙ্গে ঈশ্বরের কাছ থেকে দয়া বা প্রেমপূর্ণ-দয়া উপভোগ করে।
কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে সাফল্য এবং কাজের চেয়ে বেশি কথা বলার সঙ্গে ব্যর্থতাকে সম্পর্কযুক্ত করে শলোমন বলেন: “সমস্ত পরিশ্রমেই সংস্থান হয়, কিন্তু ওষ্ঠের বাচালতায় কেবল অভাব ঘটে।” (হিতোপদেশ ১৪:২৩) এই নীতিটি নিশ্চয়ই আমাদের আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টাগুলোর প্রতি প্রযোজ্য হয়। যখন আমরা খ্রিস্টীয় পরিচর্যায় কঠোর পরিশ্রম করি, তখন আমরা অন্য অনেকের কাছে ঈশ্বরের বাক্যের জীবনরক্ষাকারী সত্য জানানোর পুরস্কার লাভ করি। আমরা যেকোনো ঈশতান্ত্রিক কার্যভার পাই না কেন, বিশ্বস্তভাবে তা সম্পন্ন করা আমাদের আনন্দ ও পরিতৃপ্তি এনে দেয়।
“জ্ঞানবানদের ধনই তাহাদের মুকুট; কিন্তু হীনবুদ্ধিদের অজ্ঞানতা অজ্ঞানতামাত্র,” হিতোপদেশ ১৪:২৪ পদ বলে। এটা বোঝাতে পারে যে জ্ঞানীরা যে-প্রজ্ঞা অর্জন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে, সেটাই তাদের সম্পদ আর এটা তাদের মুকুটে ভূষিত বা বিভূষিত করে। অন্যদিকে হীনবুদ্ধিরা কেবলমাত্র নির্বুদ্ধিতাই অর্জন করে। একটি তথ্যগ্রন্থ অনুসারে, এই প্রবাদটি এটাও বোঝাতে পারে যে, “ধনসম্পদ তাদের জন্য এক অলংকার যারা এটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে . . . [পক্ষান্তরে] নির্বোধের কেবল রয়েছে মূর্খতা।” যাই হোক না কেন, বিজ্ঞ ব্যক্তি একজন নির্বোধের চেয়ে ভাল ফল লাভ করেন।
“সত্য সাক্ষী লোকের প্রাণ রক্ষা করে;” ইস্রায়েলের রাজা বলেন, “কিন্তু যে অসত্য কথা কহে, সে ছলনা করে।” (হিতোপদেশ ১৪:২৫) বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে যদিও এটাই সত্য কিন্তু আমাদের পরিচর্যায় এর প্রয়োগ সম্বন্ধে বিবেচনা করুন। আমাদের রাজ্য প্রচার ও শিষ্য তৈরির কাজের সঙ্গে ঈশ্বরের বাক্যের সত্য সম্বন্ধে সাক্ষ্য দেওয়া জড়িত। সেই সাক্ষ্য সঠিক হৃদয়ের ব্যক্তিদের মিথ্যা ধর্ম থেকে মুক্ত করে এবং তাদের জীবন রক্ষা করে। নিজেদের প্রতি ও আমাদের শিক্ষার প্রতি সাবধান হওয়া বা অবিরত মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নিজেদের এবং যারা আমাদের কথা শোনে, উভয়কে রক্ষা করব। (১ তীমথিয় ৪:১৬) এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় আসুন আমরা আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে সতর্কতা দেখাতে তৎপর হই।
[পাদটীকাগুলো]
a হিতোপদেশ ১৪:১-১১ পদের ওপর আলোচনার জন্য ২০০৪ সালের ১৫ই নভেম্বর সংখ্যার প্রহরীদুর্গ পত্রিকার ২৬-৯ পৃষ্ঠা দেখুন।
b ১৯৮৭ সালের ২২শে অক্টোবর সংখ্যার সচেতন থাক! (ইংরেজি) পত্রিকার ১১-১৬ পৃষ্ঠা দেখুন।
[১৮ পৃষ্ঠার চিত্র]
যদি আমরা সঠিক এবং ভুল পৃথক করতে চাই, তা হলে গভীর সত্যগুলো সম্বন্ধে অধ্যবসায়ের সঙ্গে অধ্যয়ন করা অপরিহার্য
[১৮ পৃষ্ঠার চিত্র]
এক বস্তুবাদী জীবনধারা কি আসলেই পরিতৃপ্তিদায়ক?