ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w০৪ ১২/১৫ পৃষ্ঠা ৮-১১
  • ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জে’ ঈশ্বরের বন্ধুরা

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জে’ ঈশ্বরের বন্ধুরা
  • ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • সাধাসিধে জীবনযাপন করা
  • সুসমাচার দূরবর্তী জায়গাগুলোতেও পৌঁছায়
  • অনুসন্ধানের জন্য কোয়েস্ট এর ব্যবহার
  • সম্ভাবনাময় দ্বীপপুঞ্জ
২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w০৪ ১২/১৫ পৃষ্ঠা ৮-১১

‘বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জে’ ঈশ্বরের বন্ধুরা

১৯৩২ সালে একটা পাল তোলা নৌকা টংগাতে কিছু অমূল্য বীজ নিয়ে এসেছিল। নৌকার পরিচালক “মৃতেরা কোথায়?” (ইংরেজি) নামে পুস্তিকাটি চার্লজ ভিটকে দিয়েছিলেন। চার্লজ নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, তিনি সত্য খুঁজে পেয়েছেন। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর যিহোবার সাক্ষিদের প্রধান কার্যালয় এই পুস্তিকাটি চার্লজের নিজের ভাষায় অনুবাদ করার জন্য তার অনুরোধকে অনুমোদন করেছিল। এই কাজ শেষ করার পর তিনি ছাপানো পুস্তিকাটির ১,০০০টা কপি পেয়েছিলেন এবং সেগুলো বিতরণ করেছিলেন। এইভাবে টংগা রাজ্যে যিহোবার রাজ্যের বীজ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল।

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটা মানচিত্রে আপনি টংগাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার ঠিক পশ্চিম দিকে খুঁজে পেতে পারেন, যেখানে এই রেখা মকরক্রান্তির সঙ্গে মিলে গেছে। এর সবচেয়ে বড় দ্বীপ টাংগাটাপু নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থিত। টংগা ১৭১টা দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যার ৪৫টাতে লোকবসতি রয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত ব্রিটিশ আবিষ্কারক জেমস্‌ কুক এই নির্জন দ্বীপগুলোর নাম দিয়েছিলেন বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ।

প্রায় ১,০৬,০০০ জনসংখ্যাসহ টংগার সমস্ত দ্বীপ তিনটে ভাগে বিভক্ত—যার মধ্যে প্রধান দ্বীপগুলো হচ্ছে টাংগাটাপু, হাপাই এবং ভাভাউ। যিহোবার সাক্ষিদের পাঁচটা স্থানীয় মণ্ডলীর তিনটে রয়েছে সবচেয়ে জনবহুল টাংগাটাপু দ্বীপের মধ্যে আর একটা হাপাইতে এবং অন্যটা ভাভাউতে। লোকেদের যিহোবার বন্ধু হয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য রাজধানী নুকুয়ালোফার কাছে যিহোবার সাক্ষিদের একটা মিশনারি হোম এবং একটা অনুবাদের অফিস রয়েছে।—যিশাইয় ৪১:৮.

১৯৩০ এর দশক থেকে চার্লজ ভিট যিহোবার একজন সাক্ষি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন, যদিও ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি বাপ্তিস্ম নেননি। সাক্ষ্য দেওয়ার কাজে অন্যেরা তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল এবং ১৯৬৬ সালে সেখানে ৩০ জন বসতে পারে এমন একটা কিংডম হল তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালে নুকুয়ালোফায় ২০ জন রাজ্য প্রকাশকের একটা মণ্ডলী গঠিত হয়েছিল।

সেই সময় থেকে টংগার দ্বীপপুঞ্জের ক্ষেত্রে যিশাইয় ভাববাদীর এই কথাগুলোর পরিপূর্ণতা স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে: “তাহারা সদাপ্রভুর গৌরব স্বীকার করুক, উপকূল সমূহের মধ্যে তাঁহার প্রশংসা প্রচার করুক।” (যিশাইয় ৪২:১২) রাজ্যের কাজ এগিয়ে চলেছিল আর যিহোবার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় অনেককে সাহায্য করা হয়েছে। ২০০৩ সালে নুকুয়ালোফায় অনুষ্ঠিত জেলা সম্মেলনে সর্বোচ্চ উপস্থিতি ছিল ৪০৭ জন আর ৫ জন বাপ্তিস্ম নিয়েছিল। ২০০৪ সালের স্মরণার্থ সভার উপস্থিতি ছিল ৬২১ জন, যা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ইঙ্গিত করে।

সাধাসিধে জীবনযাপন করা

তবে রাজধানী থেকে দূরে রাজ্যের প্রকাশকদের এখনও উল্লেখযোগ্য প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হাপাইয়ের অধীন দ্বীপগুলোর ১৬টা বসতিপূর্ণ দ্বীপে ৮,৫০০ জন লোকের বাইবেলের সত্য সম্বন্ধে আরও জানতে হবে। মূলত নিচু ভূমি, তালজাতীয় বৃক্ষে আবৃত দীর্ঘ, সাদা বালুকাময় সমুদ্র সৈকত নিয়ে হাপাই গঠিত। মহাসাগরের জল অত্যন্ত স্বচ্ছ, যার ফলে প্রায় ৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত দেখা যায়। প্রবালপ্রাচীর এবং একশোরও বেশি প্রজাতির রংবেরঙের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাছের মধ্যে সাঁতার কেটে চলা সত্যিই এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। গ্রামগুলো সাধারণত ছোট। বাড়িগুলো যদিও সাদামাটা, তবুও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ঘুর্ণিঝড়গুলো প্রতিরোধ করার মতো করে তৈরি।

ব্রেডফ্রুট ফল এবং আম গাছ ছায়া ও খাদ্য সরবরাহ করে। খাদ্য সংগ্রহ এবং তা তৈরি করতে দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায়। শূকরের মাংস ছাড়াও, দ্বীপের অধিবাসীরা মহাসাগরে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী উপভোগ করে থাকে। পারিবারিক জমিতে খাদ্যযোগ্য সমূল উদ্ভিদ এবং শাকসবজি উৎপাদন করা হয়। বনেজঙ্গলে লেবু জাতীয় গাছ জন্মে; নারিকেল এবং কলা গাছ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। আরোগ্যকর ভেষজ, গাছের পাতা, গাছের বাকল এবং বিভিন্ন শিকড় সম্পর্কীয় স্থানীয় জ্ঞান এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

অবশ্য হাপাইয়ের সবচেয়ে মনোরম সম্পদ হল এর বন্ধুত্বপরায়ণ লোকেরা, যারা শান্ত পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। এখানকার জীবনধারা অত্যন্ত সাধাসিধে। অধিকাংশ মহিলারা শিল্পকর্মে জড়িত—ঝুড়ি তৈরি, টাপা (প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে তুঁত জাতীয় ফল গাছের বাকল দিয়ে তৈরি) বস্ত্র এবং মাদুর তৈরি করা। কাজ করার সময় টংগার মহিলারা গাছের ছায়ায় বসে, গল্প করে, গান গায় এবং একত্রে হাসাহাসি করে আর প্রায়ই এই সময়ে ছেলেমেয়েরা ও বাচ্চারা কাছাকাছি খেলাধুলা করে বা ঘুমিয়ে থাকে। আর সাধারণত মহিলারাই ভাটার সময়ে প্রবালপ্রাচীরের মধ্যে ঝিনুক এবং খাবারোপযোগী অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী ও সেইসঙ্গে মচমচে সমুদ্র-শৈবালের খোঁজ করে, যা দিয়ে এক সুস্বাদু সালাদ তৈরি হয়।

অধিকাংশ পুরুষ কৃষিকাজে, মাছ ধরায়, ভাস্কর্যের কাজে, নৌকা তৈরি করায় এবং মাছ ধরার জাল মেরামত করায় সময় দেয়। পুরুষ, মহিলা এবং ছেলেমেয়েরা মাছ ধরার ছইওয়ালা ছোট আকারের নৌকায় করে দ্বীপের মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, চিকিৎসা গ্রহণ করে এবং ব্যাবসাবাণিজ্য বা উৎপাদিত জিনিসপত্র বিক্রি করে থাকে।

সুসমাচার দূরবর্তী জায়গাগুলোতেও পৌঁছায়

এইরকম এক শান্ত মনোরম পরিবেশে ২০০২ সালের স্মরণার্থ মরসুমে এক মিশনারি দম্পতি এবং দুজন অগ্রগামী পরিচারক সেখানে উপস্থিত হয়েছিল। আগে মাঝেমধ্যে কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়েছিল আর হাপাইয়ের লোকেরা যিহোবার সাক্ষিদের দ্বারা প্রকাশিত সাহিত্য গ্রহণ করেছিল, এমনকি সাক্ষিদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়নও করেছিল।

সেখানে আসা চার জন বাইবেল শিক্ষকের তিনটে লক্ষ্য ছিল: বাইবেলের সাহিত্যাদি অর্পণ, গৃহ বাইবেল অধ্যয়ন শুরু এবং আগ্রহী লোকেদের প্রভুর সান্ধ্যভোজ উদ্‌যাপনে আমন্ত্রণ জানানো। তিনটে লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছিল। যিশুর মৃত্যুর স্মরণার্থ সভায় উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণে ৯৭ জন লোক সাড়া দিয়েছিল। মুষলধারে বৃষ্টি এবং দমকা বাতাস থাকা সত্ত্বেও, তাদের মধ্যে কেউ কেউ খোলা নৌকাগুলোয় করে যাত্রা করেছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে অনেকেই সেই রাতে স্মরণার্থ উদ্‌যাপনস্থলেই থেকে গিয়েছিল আর পরের দিন তাদের ঘরে ফিরে গিয়েছিল।

স্মরণার্থ সভার বক্তাকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছিল। “একই সন্ধ্যায় দুবার বিদেশি ভাষায় স্মরণার্থ বক্তৃতা দেওয়া যে কত কঠিন, তা আপনাদের না বললেও আপনারা বুঝতে পারছেন,” সেই মিশনারি ব্যাখ্যা করেন যিনি বক্তা ছিলেন। “আপনারা অনুমান করতে পারেন যে আমি কতটা উদ্বিগ্ন ছিলাম। প্রার্থনা কতই না সাহায্যকারী প্রমাণিত হয়েছে! আমি সেই শব্দ ও বাক্যগুলোর গঠন মনে করেছিলাম, যেগুলো আমি শিখব বলে চিন্তাও করিনি।”

হাপাই দ্বীপগুলোতে সুসমাচার প্রচারকদের আগ্রহ প্রকাশের ফলে সেই এলাকা থেকে দুই বিবাহিত দম্পতি বাপ্তিস্ম নিয়েছিল। এক দম্পতির ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, স্বামী সাক্ষিদের সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, যদিও তিনি স্থানীয় গির্জার একজন পরিচারক হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

বস্তুগত দিক দিয়ে দরিদ্র হলেও, গির্জায় বার্ষিক চাঁদা সংগ্রহ অনুষ্ঠানে যখন এই ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হতো, তখন তারা বেশ বড় অঙ্কের অর্থ দান করত। পূর্বে সাক্ষাৎ করেছিল, এমন সাক্ষিদের মধ্যে একজন সেই স্বামীকে তার বাইবেল খুলে ১ তীমথিয় ৫:৮ পদ পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “কেহ যদি আপনার সম্পর্কীয় লোকদের বিশেষতঃ নিজ পরিজনগণের জন্য চিন্তা না করে, তাহা হইলে সে বিশ্বাস অস্বীকার করিয়াছে, এবং অবিশ্বাসী অপেক্ষা অধম হইয়াছে।” বাইবেলের এই নীতিটি সেই স্বামীর হৃদয়কে নাড়া দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, গির্জার এই অতিরিক্ত দাবি মেনে নেওয়ার ফলে তিনি তার পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলো জোগাতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। পরবর্তী বার্ষিক চাঁদা সংগ্রহ অনুষ্ঠানের সময়ে যদিও তার পকেটে টাকা ছিল কিন্তু তিনি ১ তীমথিয় ৫:৮ পদের কথা ভুলতে পারেননি। যখন তার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন তিনি সাহসের সঙ্গে যাজককে জানিয়েছিলেন যে, তার পরিবারের চাহিদাগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে, গির্জার পরিচারকরা প্রকাশ্যে সেই দম্পতিকে অপমান করেছিল ও ভর্ৎসনা করেছিল।

যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করার পর সেই ব্যক্তি ও তার স্ত্রী সুসমাচারের প্রকাশক হয়েছিল। স্বামী বলেন: “বাইবেলের সত্য আমাকে পরিবর্তিত করেছে। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে আর রূঢ় ও কর্কশ ব্যবহার করি না। আমি এখন আর অতিরিক্ত মদ খাই না। সত্য আমার জীবনে যেসব পরিবর্তন করেছে, আমার গ্রামের লোকেরা তা দেখতে পায়। আমি আশা করি যে, আমার মতো তারাও একসময় সত্যকে ভালবাসবে।”

অনুসন্ধানের জন্য কোয়েস্ট এর ব্যবহার

২০০২ সালের স্মরণার্থ সভার কয়েক মাস পর আরেকটা পাল তোলা নৌকা দূরবর্তী হাপাইয়ের জন্য কিছু অমূল্য জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিল। ১৮ মিটার লম্বা হাল্কা নৌকা কোয়েস্ট নিউজিল্যান্ড থেকে টংগার দ্বীপপুঞ্জের দিকে চালিত হয়েছিল। এতে যাত্রী ছিল গ্যারি এবং হেটি ও সেইসঙ্গে তাদের মেয়ে কেটি। টংগার নয় জন ভাইবোন এবং দুই জন মিশনারি তাদের সঙ্গে দুটো অভিযানে গিয়েছিল। স্থানীয় সাক্ষিরা দক্ষতার সঙ্গে এই নৌকা চালনায় সাহায্য করেছিল, কখনও কখনও অচিহ্নিত প্রবালপ্রাচীরের ভিতর দিয়ে। এগুলো কোনো আনন্দ ভ্রমণ ছিল না। যাত্রীরা বাইবেলের সত্য শেখানোর জন্য ভ্রমণ করছিল। তারা মহাসাগরের ১৪টা দ্বীপ পরিদর্শন করেছিল। এই দ্বীপগুলোর কয়েকটাতে এর আগে কখনও রাজ্যের সুসমাচার প্রচারিত হয়নি।

লোকেরা কেমন সাড়া দিয়েছিল? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই, সমুদ্রে ভ্রমণরত এই প্রচারকদেরকে কৌতূহল, উষ্ণতা ও দ্বীপের ঐতিহ্যগত আতিথেয়তা সহকারে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। দ্বীপের অধিবাসীরা যখন পরিদর্শনের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছিল, তখন তারা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। পরিদর্শন করতে আসা সাক্ষিদের কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছিল যে, দ্বীপের লোকেরা ঈশ্বরের বাক্যকে শ্রদ্ধা করে এবং তারা আত্মাতে দীনহীন বা তাদের আধ্যাত্মিক চাহিদা সম্বন্ধে সচেতন ছিল।—মথি ৫:৩.

অনেক বার, পরিদর্শনকারীরা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গাছের নিচে বসেছিল ও তাদের চারপাশে সেই লোকেরা ঘিরে ছিল, যাদের শাস্ত্র সম্বন্ধে অনেক প্রশ্ন ছিল। এরপর রাত হলে ঘরের ভিতরে বাইবেল আলোচনা চলত। একটা দ্বীপের লোকেরা বিদায়ী সাক্ষিদের অনুরোধ করেছিল: “যাবেন না! আপনারা চলে গেলে আমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে?” একজন সাক্ষি বলেছিলেন: “সত্যের জন্য ক্ষুধার্ত এমন অনেক মেষতুল্য ব্যক্তিদের ছেড়ে চলে আসা খুব কঠিন ছিল। সত্যের অনেক বীজ রোপণ করা হয়েছিল।” যখন কোয়েস্ট অন্য একটা দ্বীপে এসে পৌঁছেছিল, তখন সাক্ষিরা দেখেছিল যে সেখানে সকলে শোকের পোশাক পরে রয়েছে। শহরের প্রধান ব্যক্তির স্ত্রী সবেমাত্র মারা গিয়েছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভাইদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন, কারণ তারা বাইবেল থেকে সান্ত্বনার বার্তা নিয়ে এসেছিল।

কিছু কিছু দ্বীপে পৌঁছানো খুব একটা সহজ ছিল না। হেটি বলেন: “একটা দ্বীপের কোনো সুবিধাজনক স্থলভাগ ছিল না, মহাসাগর থেকে কয়েক মিটার উঁচু শুধু খাড়া পাড় ছিল। একমাত্র আমাদের ছোট রবারের ডিঙি নৌকা দিয়ে জায়গামতো পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল। প্রথমে, তীরে দাঁড়ানো অনেক উৎসুক ব্যক্তির দিকে আমাদের ব্যাগগুলো ছুঁড়ে দিতে হয়েছিল। এরপর, ডিঙি নৌকাটা যখন খাড়া তীরের ওপরের দিকে উঠে যেত, তখন সেটা আবার সাগরের দিকে ফিরে যাওয়ার আগে আমাদের সেখান থেকে লাফ দিতে হতো।”

কিন্তু, সমুদ্রযাত্রার সবাই সাহসী ছিল না। দুই সপ্তাহ ভ্রমণের পর নৌকার প্রধান পরিচালক মূল দ্বীপ টাংগাটাপুতে ফিরে যাওয়া সম্বন্ধে লিখেছিলেন: “সামনে আমাদের ১৮ ঘন্টা ভ্রমণ করতে হবে। আমরা তা একবারে করতে পারব না কারণ কেউ কেউ সমুদ্রপীড়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। ঘরের দিকে যাত্রা করতে পেরে আমরা খুশি হয়েছিলাম কিন্তু রাজ্যের বার্তা শুনতে পেয়েছে এমন অনেককে ছেড়ে আসতে হয়েছে বলে খুব দুঃখও পেয়েছিলাম। আমরা তাদেরকে আধ্যাত্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য যিহোবার পবিত্র আত্মা ও দূতদের সাহায্যসহ তাঁর যত্নের অধীনে ছেড়ে এসেছিলাম।”

সম্ভাবনাময় দ্বীপপুঞ্জ

কোয়েস্ট চলে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর স্টিভেন এবং মালাকি নামে দুইজন বিশেষ অগ্রগামী সুসমাচার প্রচারককে হাপাই দ্বীপগুলোতে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বাইবেল শেখানোর জন্য তারা এমন দুই বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে যোগ দিয়েছে, যারা সম্প্রতি বাপ্তিস্ম নিয়েছে। মতবাদ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর প্রাণবন্ত আলোচনা হচ্ছিল আর প্রকাশকরা বাইবেলের উত্তম ব্যবহার করে চলছিল।

২০০৩ সালের ১লা ডিসেম্বর হাপাইতে একটা মণ্ডলী গঠিত হয়, যেটা টংগাতে পঞ্চম মণ্ডলী। উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছোট ছোট অনেক ছেলেমেয়ে রয়েছে। তারা মনোযোগী হতে শিখেছে। তারা শান্তভাবে বসে এবং শ্রোতারা অংশগ্রহণ করতে পারে এমন আলোচনাগুলোতে মন্তব্য করে। সীমা অধ্যক্ষ লক্ষ করেছিলেন যে, “আমার বাইবেলের গল্পের বই সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান দেখায় যে, বাবামায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বাইবেলের সত্য গেঁথে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের দায়িত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।” স্পষ্টতই, এই দ্বীপগুলো এখনও আরও অধিক যিহোবার বন্ধুদের লাভ করার সম্ভাবনায় পূর্ণ।

প্রায় ৭০ বছর আগে যখন চার্লজ ভিট মৃতেরা কোথায়? পুস্তিকাটি তার মাতৃভাষা টংগাতে অনুবাদ করেছিলেন, তখন তিনি সামান্যই উপলব্ধি করেছিলেন যে তার দেশের লোকেদের হৃদয়ে এই রাজ্যের শিকড় কতটা বিস্তৃত হবে। সেই ক্ষুদ্র আরম্ভ থেকে, যিহোবা বিশ্বের সেই দূরবর্তী এলাকায় দিন দিন প্রসারিত হওয়া সুসমাচার ঘোষণাকে ক্রমাগত আশীর্বাদ করে চলেছেন। আজকে, সত্যিই এটা বলা যেতে পারে যে, টংগাও সমুদ্রের সেই দূরবর্তী দ্বীপগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেগুলো যিহোবার প্রতি সাড়া দিচ্ছে। (গীতসংহিতা ৯৭:১; যিশাইয় ৫১:৫) “বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ” এখন যিহোবার অনেক বন্ধুদের আবাস।

[৮ পৃষ্ঠার চিত্র]

চার্লজ ভিট, ১৯৮৩ সাল

[৯ পৃষ্ঠার চিত্র]

টাপা বস্ত্র তৈরি করা

[১০ পৃষ্ঠার চিত্র]

টংগাতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য “কোয়েস্ট” ব্যবহৃত হয়েছিল

[১১ পৃষ্ঠার চিত্র]

নুকুয়ালোফায় অনুবাদক দল

[৯ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

টাপা বস্ত্র তৈরি করা: © Jack Fields/CORBIS; ৮ ও ৯ পৃষ্ঠার পটভূমি এবং মাছ ধরা: © Fred J. Eckert

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার