উপহার হিসেবে আপনার জীবনকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করুন
“খ্রীষ্টের রক্ত তোমাদের সংবেদকে মৃত ক্রিয়াকলাপ হইতে . . . শুচি . . . করিবে, যেন তোমরা জীবন্ত ঈশ্বরের আরাধনা করিতে পার!”—ইব্রীয় ৯:১৪.
১. কী প্রমাণ রয়েছে যে, আমরা জীবনকে অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করি?
আপনাকে যদি আপনার জীবনের মূল্য নিরূপণ করতে বলা হতো, তা হলে সেই মূল্য কত হতো? আমরা জীবনকে—আমাদের ও সেইসঙ্গে অন্যদের জীবনকে—অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করি। এর প্রমাণ হিসেবে, অসুস্থ হলে আমরা হয়তো সেবা পাওয়ার জন্য অথবা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। আমরা বেঁচে থাকতে এবং সুস্থ থাকতে চাই। এমনকি বৃদ্ধ বা অক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যেও অধিকাংশ লোকই মরতে চায় না; তারা বেঁচে থাকতে চায়।
২, ৩. (ক) হিতোপদেশ ২৩:২২ পদ কোন বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে? (খ) হিতোপদেশ ২৩:২২ পদে উল্লেখিত বাধ্যবাধকতার সঙ্গে ঈশ্বর কীভাবে জড়িত?
২ জীবনের বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন, অন্যদের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, ঈশ্বরের বাক্য নির্দেশ দেয়: “তোমার জন্মদাতা পিতার কথা শুন, তোমার মাতা বৃদ্ধা হইলে তাঁহাকে তুচ্ছ করিও না।” (হিতোপদেশ ২৩:২২) ‘শুনিবার’ অর্থ শুধু কথা কান দিয়ে শোনার চেয়ে আরও বেশি কিছু; এই প্রবাদের অর্থ শোনা এবং এরপর পালন করা। (যাত্রাপুস্তক ১৫:২৬; দ্বিতীয় বিবরণ ৭:১২; ১৩:১৮; ১৫:৫; যিহোশূয়ের পুস্তক ২২:২; গীতসংহিতা ৮১:১৩) শোনার বিষয়ে ঈশ্বরের বাক্য কোন কারণ জোগায়? এর কারণ শুধু এই নয় যে, আপনার বাবা অথবা মা আপনার চেয়ে বয়সে বড় অথবা তাদের আরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। যে-কারণ তুলে ধরা হয়েছে, তা হল যে তারা ‘আপনার জন্মদাতা’ ও জন্মদাত্রী। কিছু সংস্করণ এই পদকে এভাবে অনুবাদ করে: “তোমার বাবার কথা শোনো, যিনি তোমাকে জীবন দিয়েছেন।” এটা বোধগম্য যে, আপনি যদি আপনার জীবনকে মূল্যবান মনে করেন, তা হলে আপনি সেই জীবনের উৎসের প্রতি এক বাধ্যবাধকতা বোধ করেন।
৩ অবশ্য, আপনি যদি একজন সত্য খ্রিস্টান হয়ে থাকেন, তা হলে যিহোবাকে আপনার জীবনের প্রধান উৎস বলে স্বীকার করেন। তাঁর মাধ্যমেই আপনি “জীবন” পেয়েছেন; আপনি ‘গতিশীল’ হতে পারেন, সংবেদনশীল প্রাণী হিসেবে কাজ করতে পারেন; আর আপনার এখন “সত্তা” রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ ও সেইসঙ্গে চিরস্থায়ী জীবন সম্বন্ধে চিন্তা এবং পরিকল্পনা করতে পারেন। (প্রেরিত ১৭:২৮; গীতসংহিতা ৩৬:৯; উপদেশক ৩:১১) হিতোপদেশ ২৩:২২ পদের সঙ্গে মিল রেখে বাধ্যভাবে ঈশ্বরের কথা ‘শুনা’ এবং জীবনকে অন্য কোনোভাবে মূল্যায়ন করতে চাওয়ার চেয়ে বরং জীবন সম্বন্ধে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা ও সেই অনুযায়ী কাজ করার ইচ্ছা উপযুক্ত।
জীবনের প্রতি সম্মান দেখান
৪. মানব ইতিহাসের প্রথম দিকে, জীবনের প্রতি সম্মান কীভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল?
৪ মানব ইতিহাসের শুরুতে, যিহোবা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, জীবনকে যেমন-তেমনভাবে ব্যবহার (অথবা অপব্যবহার) করার বিষয়টা তিনি মানুষের ওপর ছেড়ে দেননি। ঈর্ষাপূর্ণ ক্রোধের বশবর্তী হয়ে, কয়িন তার ভাই হেবলের নিরীহ জীবনকে হত্যা করেছিল। আপনি কি মনে করেন যে, জীবন সম্বন্ধে এইরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কয়িনের ছিল? ঈশ্বর তা মনে করেননি। তিনি কয়িনকে জবাবদিহি করতে বলেছিলেন: “তুমি কি করিয়াছ? তোমার ভ্রাতার রক্ত ভূমি হইতে আমার কাছে ক্রন্দন করিতেছে।” (আদিপুস্তক ৪:১০) লক্ষ করুন যে, ভূমিতে হেবলের রক্ত তার জীবনকে প্রতিনিধিত্ব করেছিল, যে-জীবনকে নৃশংসভাবে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তা প্রতিশোধের জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্রন্দন করেছিল।—ইব্রীয় ১২:২৪.
৫. (ক) নোহের দিনে ঈশ্বর কোন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন এবং তা কাদের প্রতি প্রযোজ্য ছিল? (খ) কোন অর্থে এই নিষেধাজ্ঞা এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল?
৫ প্লাবনের পর, মানবজাতি মাত্র আট জন ব্যক্তি নিয়ে সবকিছু নতুন করে শুরু করেছিল। সমস্ত মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য, এমন এক ঘোষণায় ঈশ্বর জীবন এবং রক্তের বিষয়ে তাঁর মূল্যায়ন সম্বন্ধে আরও বেশি কিছু প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, মানুষ পশুপাখির মাংস খেতে পারে তবে তিনি এই সীমাবদ্ধতা দিয়ে দিয়েছিলেন: “প্রত্যেক গমনশীল প্রাণী তোমাদের খাদ্য হইবে; আমি হরিৎ ওষধির ন্যায় সে সকল তোমাদিগকে দিলাম। কিন্তু সপ্রাণ অর্থাৎ সরক্ত মাংস ভোজন করিও না।” (আদিপুস্তক ৯:৩, ৪) কিছু যিহুদি এটার অর্থকে এভাবে ব্যাখ্যা করে যে, মানুষকে সেই পশু বা পাখির মাংস এবং রক্ত খেতে না করা হয়েছিল, যা জীবিত অবস্থায় থাকত। কিন্তু, পরবর্তী সময়ে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছিল যে, ঈশ্বর এখানে যা করতে নিষেধ করেছিলেন সেটা ছিল, জীবন বাঁচানোর জন্য রক্ত খাওয়া। এ ছাড়াও, নোহের মাধ্যমে দেওয়া ঈশ্বরের এই আদেশ রক্তের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত তাঁর মহান উদ্দেশ্য সম্পাদনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল—যে-উদ্দেশ্য মানুষকে অনন্তজীবন লাভ করার সুযোগ দেবে।
৬. নোহের মাধ্যমে ঈশ্বর কীভাবে জীবনের মূল্যের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দিয়েছিলেন?
৬ ঈশ্বর আরও বলেছিলেন: “তোমাদের রক্তপাত হইলে আমি তোমাদের প্রাণের পক্ষে তাহার পরিশোধ অবশ্য লইব; সকল পশুর নিকটে তাহার পরিশোধ লইব, এবং মনুষ্যের ভ্রাতা মনুষ্যের নিকটে আমি মনুষ্যের প্রাণের পরিশোধ লইব। যে কেহ মনুষ্যের রক্তপাত করিবে, মনুষ্য কর্ত্তৃক তাহার রক্তপাত করা যাইবে; কেননা ঈশ্বর আপন প্রতিমূর্ত্তিতে মনুষ্যকে নির্ম্মাণ করিয়াছেন।” (আদিপুস্তক ৯:৫, ৬) সমস্ত মানব পরিবারের প্রতি দেওয়া এই ঘোষণা থেকে আপনি দেখতে পারেন যে, ঈশ্বর মানুষের রক্তকে এমনভাবে দেখেন যেন তা তার জীবনকে প্রতিনিধিত্ব করে। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে জীবন দিয়েছেন আর তাই কারোরই রক্তের দ্বারা প্রতিনিধিত্ব সেই জীবন কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। কয়িনের মতো কেউ যদি হত্যা করে, তা হলে সেই হত্যাকারীর জীবন “পরিশোধ” হিসেবে নেওয়ার অধিকার সৃষ্টিকর্তার রয়েছে।
৭. রক্তের বিষয়ে নোহকে দেওয়া ঈশ্বরের ঘোষণার প্রতি কেন আমাদের আগ্রহী হওয়া উচিত?
৭ এই ঘোষণার মাধ্যমে, ঈশ্বর মানুষকে রক্তের অপব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে, কেন? আর রক্তের বিষয়ে ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গির পিছনে কী রয়েছে? আসলে, এর উত্তর বাইবেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এটা খ্রিস্টীয় বার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যদিও অনেক গির্জা এটাকে অগ্রাহ্য করা বেছে নিয়েছে। সেই শিক্ষাটা কী এবং এর সঙ্গে কীভাবে আপনার জীবন, সিদ্ধান্ত ও কাজগুলো জড়িত?
রক্ত—কীভাবে তা ব্যবহার করা যেতে পারে?
৮. ব্যবস্থায় রক্তের ব্যবহারের বিষয়ে ঈশ্বর কোন সীমাবদ্ধতা দিয়েছিলেন?
৮ যিহোবা যখন ইস্রায়েলকে ব্যবস্থাবিধি দিয়েছিলেন, তখন জীবন এবং রক্তের বিষয়ে তিনি আরও বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলেন। তা দেওয়ার সময় তিনি তাঁর উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য আরও একটা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আপনি হয়তো জানেন যে, ব্যবস্থা অনুযায়ী ঈশ্বরের কাছে নৈবেদ্য যেমন ভক্ষ্য, তেল এবং দ্রাক্ষারস উৎসর্গ করতে হতো। (লেবীয় পুস্তক ২:১-৪; ২৩:১৩; গণনাপুস্তক ১৫:১-৫) এ ছাড়া, পশুও উৎসর্গ করতে হতো। এগুলোর বিষয়ে ঈশ্বর বলেছিলেন: “রক্তের মধ্যেই শরীরের প্রাণ থাকে, এবং তোমাদের প্রাণের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থ আমি তাহা বেদির উপরে তোমাদিগকে দিয়াছি; কারণ প্রাণের গুণে রক্তই প্রায়শ্চিত্তসাধক। এই জন্য আমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে কহিলাম, তোমাদের মধ্যে কেহ রক্ত ভোজন করিবে না।” যিহোবা আরও বলেছিলেন যে কেউ যদি, যেমন কোনো শিকারি অথবা কৃষক যদি খাওয়ার জন্য পশু বা পাখি হত্যা করত, তা হলে তাকে রক্ত নিষ্কাশন করে তা মাটি চাপা দিতে হতো। পৃথিবী হল ঈশ্বরের পাদপীঠ আর তাই ভূমিতে রক্ত ঢেলে দেওয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি স্বীকার করতেন যে, জীবনদাতা ঈশ্বরের কাছে জীবন ফিরে যায়।—লেবীয় পুস্তক ১৭:১১-১৩; যিশাইয় ৬৬:১.
৯. ব্যবস্থায় উল্লেখিত একমাত্র রক্তের ব্যবহার কী ছিল আর এর উদ্দেশ্য কী ছিল?
৯ সেই আইন আমাদের জন্য কেবল অর্থহীন কোনো ধর্মীয় প্রথা ছিল না। আপনি কি লক্ষ করেছেন, কেন ইস্রায়েলীয়রা রক্ত খেত না? ঈশ্বর বলেছিলেন: “এই জন্য আমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে কহিলাম, তোমাদের মধ্যে কেহ রক্ত ভোজন করিবে না।” কারণটা কী ছিল? “তোমাদের প্রাণের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থ আমি [রক্ত] বেদির উপরে তোমাদিগকে দিয়াছি।” আপনি কি বুঝতে পারছেন এটা এই বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি দেয় যে, কেন ঈশ্বর নোহকে বলেছিলেন, মানুষেরা রক্ত খাবে না? সৃষ্টিকর্তা রক্তকে বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা বেছে নিয়েছেন, এটাকে এক বিশেষ ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত করে রেখেছেন, যা অনেকের জীবন রক্ষা করতে পারে। পাপকে ঢেকে দেওয়ার (প্রায়শ্চিত্তের) ক্ষেত্রে রক্তের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা ছিল। তাই, ব্যবস্থার অধীনে একমাত্র ঈশ্বর-অনুমোদিত রক্তের ব্যবহার ছিল বেদির ওপরে, যা সেই ইস্রায়েলীয়দের জীবনের প্রায়শ্চিত্তের জন্য দেওয়া হতো, যারা যিহোবার ক্ষমা পেতে চাইত।
১০. কেন পশুর রক্ত সম্পূর্ণ ক্ষমার দিকে পরিচালিত করতে পারত না কিন্তু ব্যবস্থার অধীনস্থ বলিদানগুলো কী মনে করিয়ে দিত?
১০ এই ধারণা খ্রিস্টধর্ম থেকে আলাদা ছিল না। ঐশিকভাবে আয়োজিত ব্যবস্থার এই বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে বলতে গিয়ে খ্রিস্টান প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “ব্যবস্থানুসারে প্রায় সকলই রক্তে শুচীকৃত হয়, এবং রক্তসেচন ব্যতিরেকে পাপমোচন হয় না।” (ইব্রীয় ৯:২২) পৌল এটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজনীয় বলিদানগুলো ইস্রায়েলীয়দের সিদ্ধ, পাপহীন মানুষ করে তুলত না। তিনি লিখেছিলেন: “ঐ সকল যজ্ঞে বৎসর বৎসর পুনর্ব্বার পাপ স্মরণ করা হয়। কারণ বৃষের কি ছাগের রক্ত যে পাপ হরণ করিবে, ইহা হইতেই পারে না।” (ইব্রীয় ১০:১-৪) তা সত্ত্বেও, এই ধরনের বলিদানগুলো উপকারী ছিল। এগুলো ইস্রায়েলীয়দের মনে করিয়ে দিত যে তারা পাপী এবং সম্পূর্ণ ক্ষমা পাওয়ার জন্য আরও বেশি কিছু প্রয়োজন। কিন্তু রক্ত, যা পশুর জীবনকে প্রতিনিধিত্ব করত, তা যদি মানুষের পাপকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দিতে না পারে, তা হলে অন্য কোনো রক্ত কি তা পারত?
জীবনদাতার সমাধান
১১. কীভাবে আমরা জানি যে, পশুবলির রক্ত অন্যকিছুর প্রতি নির্দেশ করেছিল?
১১ ব্যবস্থা আসলে ঈশ্বরের ইচ্ছা সম্পাদনের জন্য আরও বেশি কার্যকারী কিছুর প্রতি নির্দেশ করেছিল। পৌল বলেছিলেন: “তবে ব্যবস্থা কি?” তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: “অপরাধের কারণ তাহা যোগ করা হইয়াছিল, যে পর্য্যন্ত না সেই বংশ আইসেন, যাঁহার কাছে প্রতিজ্ঞা করা গিয়াছিল, আর তাহা দূতগণ দ্বারা, এক জন মধ্যস্থের [মোশির] হস্তে, বিধিবদ্ধ হইল।” (গালাতীয় ৩:১৯) একইভাবে, পৌল লিখেছিলেন: “ব্যবস্থা আগামী উত্তম উত্তম বিষয়ের ছায়াবিশিষ্ট, তাহা সেই সকল বিষয়ের অবিকল মূর্ত্তি নহে।”—ইব্রীয় ১০:১.
১২. রক্তের বিষয়ে কীভাবে আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যের প্রকাশ ধীরে ধীরে দেখতে পারি?
১২ সংক্ষেপে, মনে করে দেখুন নোহের দিনে ঈশ্বর আদেশ দিয়েছিলেন যে, মানুষেরা বেঁচে থাকার জন্য পশুপাখির মাংস খেতে পারবে তবে রক্ত নয়। পরবর্তী সময়ে ঈশ্বর বলেছিলেন, “রক্তের মধ্যেই শরীরের প্রাণ থাকে।” বস্তুত, তিনি রক্তকে জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখা বেছে নিয়েছেন এবং বলেছিলেন: “তোমাদের প্রাণের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থ আমি [রক্ত] বেদির উপরে তোমাদিগকে দিয়াছি; কারণ প্রাণের গুণে রক্তই প্রায়শ্চিত্তসাধক।” কিন্তু, এখানে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যের আরও অপূর্ব কিছু প্রকাশ করা হয়েছিল। ব্যবস্থা আগামী উত্তম উত্তম বিষয়ের ছায়া ছিল বা পূর্বাভাস দিয়েছিল। কোন উত্তম বিষয়গুলোর পূর্বাভাস?
১৩. যিশুর মৃত্যু কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
১৩ অবিকল মূর্তি বা বাস্তবতা যিশু খ্রিস্টের মৃত্যুর ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। আপনি জানেন যে, যিশুকে অত্যাচার করা হয়েছিল এবং বিদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি একজন অপরাধীর মতো মারা গিয়েছিলেন। পৌল লিখেছিলেন: “যখন আমরা শক্তিহীন ছিলাম, তখন খ্রীষ্ট উপযুক্ত সময়ে ভক্তিহীনদের নিমিত্ত মরিলেন। . . . ঈশ্বর আমাদের প্রতি তাঁহার নিজের প্রেম প্রদর্শন করিতেছেন; কারণ আমরা যখন পাপী ছিলাম, তখনও খ্রীষ্ট আমাদের নিমিত্ত প্রাণ দিলেন।” (রোমীয় ৫:৬, ৮) আমাদের জন্য মারা যাওয়ায় খ্রিস্ট আমাদের পাপকে ঢেকে ফেলার জন্য মুক্তির মূল্য জুগিয়েছিলেন। সেই মুক্তির মূল্যই খ্রিস্টীয় বার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। (মথি ২০:২৮; যোহন ৩:১৬; ১ করিন্থীয় ১৫:৩; ১ তীমথিয় ২:৬) রক্ত ও জীবনের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক রয়েছে এবং আপনার জীবন এতে কীভাবে জড়িত?
১৪, ১৫. (ক) ইফিষীয় ১:৭ পদের কিছু অনুবাদ কীভাবে যিশুর মৃত্যুর ওপর জোর দেয়? (খ) ইফিষীয় ১:৭ পদের কোন বিষয়টা উপেক্ষিত হতে পারে?
১৪ কিছু গির্জা যিশুর মৃত্যুর ওপর জোর দেয়, তাদের অনুসারীরা এইরকম বিষয় বলে থাকে যে, “যিশু আমার জন্য মারা গিয়েছেন।” কিছু বাইবেল অনুবাদ ইফিষীয় ১:৭ পদকে কীভাবে অনুবাদ করেছে, তা বিবেচনা করুন: “তাঁর মধ্যে দিয়েই এবং তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা মুক্তি পেয়েছি অর্থাৎ আমাদের অপরাধ দূর করা হয়েছে।” (দি আ্যমেরিকান বাইবেল, ফ্র্যাঙ্ক শাইল ব্যালেনটাই, ১৯০২) “খ্রিস্টের মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা মুক্ত হয়েছি এবং আমাদের পাপের ক্ষমা হয়েছে।” (টুডেজ ইংলিশ ভারশন, ১৯৬৬) “খ্রিস্টেই এবং তাঁর ও তাঁর জীবনের মুক্তির মূল্যের মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন হয়েছি, যে-স্বাধীনতার মানে পাপের ক্ষমা।” (দ্যা নিউ টেস্টামেন্ট, উইলিয়াম বার্ক্লে, ১৯৬৯) “খ্রিস্টের মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের পাপের ক্ষমা হয়েছে এবং আমরা স্বাধীন হয়েছি।” (দা ট্রান্সলেটরস্ নিউ টেস্টামেন্ট, ১৯৭৩) এই অনুবাদগুলোর মধ্যে আপনি দেখতে পারেন যে, যিশুর মৃত্যুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘কিন্তু’ কেউ কেউ হয়তো বলতে পারে, ‘যিশুর’ মৃত্যু সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তা হলে, এই অনুবাদগুলোর মধ্যে কীসের অভাব রয়েছে?
১৫ আসলে, আপনাকে যদি এই ধরনের অনুবাদগুলোর ওপর নির্ভর করতে হতো, তা হলে আপনি হয়তো এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করে যেতেন আর এটা বাইবেলের বার্তার প্রতি আপনার বোধগম্যতাকে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারত। এই ধরনের অনুবাদগুলো ইফিষীয় ১:৭ পদের মূল পাঠ্যাংশে যে-গ্রিক শব্দ রয়েছে, যার মানে “রক্ত,” সেটাকে গুপ্ত রাখে। তাই, অনেক বাইবেল, যেমন পবিত্র বাইবেল মূল পাঠ্যাংশের কাছাকাছি অনুবাদ করে: “যাঁহাতে আমরা তাঁহার রক্ত দ্বারা মুক্তি, অর্থাৎ অপরাধ সকলের মোচন পাইয়াছি; ইহা তাঁহার সেই অনুগ্রহ-ধন অনুসারে হইয়াছে।” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।)
১৬. “তাঁহার রক্ত,” এই অনুবাদ আমাদের কী চিন্তা করতে পরিচালিত করা উচিত?
১৬ “তাঁহার রক্ত” এই অনুবাদ অনেক অর্থপূর্ণ আর তা আমাদের আরও কিছু চিন্তা করতে পরিচালিত করা উচিত। মৃত্যুর চেয়ে, এমনকি সিদ্ধ মানুষ যিশুর মৃত্যুর চেয়ে আরও বেশি কিছুর প্রয়োজন ছিল। তিনি সেই বিষয়গুলো পরিপূর্ণ করেছিলেন, যেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বিশেষভাবে প্রায়শ্চিত্তের দিনের বিষয়ে। সেই বিশেষ দিনে নির্দিষ্ট পশুবলি দেওয়া হতো। এরপর মহাযাজক তাদের কিছু রক্ত নিয়ে আবাস বা মন্দিরের মহাপবিত্রস্থানে যেতেন, সেখানে ঈশ্বরের সামনে, যেন তাঁর উপস্থিতিতে তা প্রদান করতেন।—যাত্রাপুস্তক ২৫:২২; লেবীয় পুস্তক ১৬:২-১৯.
১৭. প্রায়শ্চিত্ত দিনের দ্বারা পূর্বাভাসকৃত বিষয়টা যিশু কীভাবে পরিপূর্ণ করেছিলেন?
১৭ প্রায়শ্চিত্ত দিন দ্বারা পূর্বাভাসকৃত বিষয়টা যিশু পরিপূর্ণ করেছিলেন, যেমন পৌল ব্যাখ্যা করেছিলেন। প্রথমে, তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ইস্রায়েলের মহাযাজক “আপনার নিমিত্ত ও প্রজা লোকদের অজ্ঞানকৃত পাপের নিমিত্ত” উৎসর্গ করার জন্য বছরে একবার রক্ত নিয়ে অতি পবিত্রস্থানে প্রবেশ করতেন। (ইব্রীয় ৯:৬, ৭) সেই অনুযায়ী, আত্মিক ব্যক্তি হিসেবে উত্থাপিত হয়ে, যিশু স্বয়ং স্বর্গে গিয়েছিলেন। আত্মিক ব্যক্তি হিসেবে, রক্তমাংসের শরীর না থাকায় তিনি “আমাদের জন্য ঈশ্বরের” সাক্ষাতে যেতে পেরেছিলেন। ঈশ্বরের কাছে তিনি কী প্রদান করেছিলেন? শারীরিক কোনো কিছু নয় তবে অনেক অর্থপূর্ণ কিছু। পৌল বলে চলেন: “খ্রীষ্ট, . . . মহাযাজকরূপে উপস্থিত হইয়া, . . . ছাগদের ও গোবৎসদের রক্তের গুণে নয়, কিন্তু নিজ রক্তের গুণে—একবারে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করিয়াছেন, ও অনন্তকালীয় মুক্তি উপার্জ্জন করিয়াছেন। কারণ ছাগদের ও বৃষদের রক্ত . . . যদি মাংসের শুচিতার জন্য পবিত্র করে, তবে, যিনি অনন্তজীবী আত্মা দ্বারা নির্দ্দোষ বলিরূপে আপনাকেই ঈশ্বরের উদ্দেশে উৎসর্গ করিয়াছেন, সেই খ্রীষ্টের রক্ত তোমাদের সংবেদকে মৃত ক্রিয়াকলাপ হইতে কত অধিক নিশ্চয় শুচি না করিবে, যেন তোমরা জীবন্ত ঈশ্বরের আরাধনা করিতে পার!” হ্যাঁ, ঈশ্বরের সামনে যিশু তাঁর রক্তের মূল্য প্রদান করেছিলেন।—ইব্রীয় ৯:১১-১৪, ২৪, ২৮; ১০:১১-১৪; ১ পিতর ৩:১৮.
১৮. রক্তের বিষয়ে বাইবেলের বিবৃতি কেন আজকে খ্রিস্টানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত?
১৮ এই ঐশিক সত্য, রক্ত সম্বন্ধে বাইবেল যা বলে সেই বিষয়ে এক অপূর্ব দিক বুঝতে আমাদের সাহায্য করে—কেন ঈশ্বর এটাকে এভাবে দেখেন, এর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কীরকম হওয়া উচিত এবং রক্তের ব্যবহার সম্বন্ধে ঈশ্বর যে-সীমাবদ্ধতা দিয়েছেন, সেটাকে কেন আমাদের সম্মান করতে হবে। খ্রিস্টীয় গ্রিক শাস্ত্রের বইগুলো পড়ার সময় আপনি খ্রিস্টের রক্তের বিষয়ে অসংখ্য তথ্য পাবেন। (বাক্স দেখুন।) এটা স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রত্যেক খ্রিস্টানের “তাঁহার [যিশুর] রক্তে” বিশ্বাস করা উচিত। (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) (রোমীয় ৩:২৫) আমাদের পাপের ক্ষমা পাওয়া এবং ঈশ্বরের সঙ্গে শান্তিতে থাকা একমাত্র “তাঁহার [যিশুর] . . . রক্ত দ্বারা” সম্ভব। (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) (কলসীয় ১:২০) এটা নিশ্চিতভাবে তাদের ক্ষেত্রে সত্য, যাদের কাছে যিশু তাঁর সঙ্গে স্বর্গে রাজত্ব করার জন্য বিশেষ চুক্তি করেছিলেন। (লূক ২২:২০, ২৮-৩০; ১ করিন্থীয় ১১:২৫; ইব্রীয় ১৩:২০) এ ছাড়া, এটা আজকে ‘বিস্তর লোকের’ ক্ষেত্রেও সত্য, যারা আসন্ন ‘মহাক্লেশ’ থেকে রক্ষা পাবে এবং পার্থিব পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্তজীবন উপভোগ করবে। রূপকভাবে তারা “মেষশাবকের রক্তে আপন আপন বস্ত্র ধৌত করিয়াছে।” (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।)—প্রকাশিত বাক্য ৭:৯, ১৪.
১৯, ২০. (ক) কেন ঈশ্বর রক্তের ব্যবহারের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা দেওয়া বেছে নিয়েছেন আর সেই বিষয়ে আমাদের কেমন বোধ করা উচিত? (খ) কেন আমাদের তা জানতে আগ্রহী হওয়া উচিত?
১৯ স্পষ্টতই, ঈশ্বরের চোখে রক্তের বিশেষ অর্থ রয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতেও তা-ই হওয়া উচিত। সৃষ্টিকর্তা, যিনি আমাদের জীবনের বিষয়ে চিন্তা করেন, তাঁর এই বিষয়ে সীমাবদ্ধতা দেওয়ার অধিকার রয়েছে যে, রক্তের বিষয়ে মানুষ কী করবে। এমনকি আমাদের জীবন সম্বন্ধে তাঁর মহান চিন্তায় তিনি রক্তকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক উপায়ে, একমাত্র যে-উপায়ে অনন্তজীবন সম্ভব, সেভাবে ব্যবহার করার জন্য তা সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই উপায়টা যিশুর মূল্যবান রক্তকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা কত কৃতজ্ঞ হতে পারি যে, যিহোবা ঈশ্বর এই জীবনরক্ষাকারী উপায়ে রক্ত—যিশুর রক্ত—ব্যবহার করার মাধ্যমে আমাদের উপকারের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছেন! আর যিশু আমাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে তাঁর রক্ত পাতিত করেছেন বলে তাঁর প্রতিও আমাদের কত কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত! সত্যিই, আমরা প্রেরিত যোহনের দ্বারা ব্যক্ত অনুভূতি বুঝতে পারি: “যিনি আমাদিগকে প্রেম করেন, ও নিজ রক্তে আমাদের পাপ হইতে আমাদিগকে মুক্ত করিয়াছেন, এবং আমাদিগকে রাজ্যস্বরূপ ও আপন ঈশ্বর ও পিতার যাজক করিয়াছেন, তাঁহার মহিমা ও পরাক্রম যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে হউক। আমেন।”—প্রকাশিত বাক্য ১:৫, ৬.
২০ আমাদের সর্ববিজ্ঞ ঈশ্বর এবং জীবনদাতার মনে এই জীবনরক্ষাকারী ভূমিকার বিষয়টা ছিল। তাই, আমরা হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারি: ‘আমাদের সিদ্ধান্ত এবং কাজগুলোর ওপর এই বিষয়টার কোন প্রভাব ফেলা উচিত?’ পরের প্রবন্ধে এই প্রশ্ন বিবেচনা করা হবে।
আপনি কীভাবে উত্তর দেবেন?
• হেবল এবং নোহের ঘটনা থেকে রক্তের বিষয়ে ঈশ্বরের দৃষ্টিভঙ্গি সম্বন্ধে আমরা কী শিখতে পারি?
• ব্যবস্থায় রক্তের ব্যবহার সম্বন্ধে ঈশ্বর কোন সীমাবদ্ধতা দিয়েছিলেন এবং কেন?
• প্রায়শ্চিত্ত দিনের দ্বারা পূর্বাভাসকৃত বিষয়টা যিশু কীভাবে পরিপূর্ণ করেছিলেন?
• যিশুর রক্ত কীভাবে আমাদের জীবন রক্ষা করতে পারে?
[১৮ পৃষ্ঠার বাক্স]
কার রক্ত জীবনরক্ষা করে?
“তোমরা আপনাদের বিষয়ে সাবধান, এবং পবিত্র আত্মা তোমাদিগকে অধ্যক্ষ করিয়া যাহার মধ্যে নিযুক্ত করিয়াছেন, সেই সমস্ত পালের বিষয়ে সাবধান হও, ঈশ্বরের সেই মণ্ডলীকে পালন কর, যাহাকে তিনি নিজ রক্ত দ্বারা ক্রয় করিয়াছেন।”—প্রেরিত ২০:২৮, পাদটীকা।
“সুতরাং সম্প্রতি তাঁহার রক্তে যখন ধার্ম্মিক গণিত হইয়াছি, তখন আমরা কত অধিক নিশ্চয় তাঁহা দ্বারা ঈশ্বরের ক্রোধ হইতে পরিত্রাণ পাইব।”—রোমীয় ৫:৯.
“তোমাদের আশা ছিল না, আর তোমরা জগতের মধ্যে ঈশ্বরবিহীন ছিলে। কিন্তু এখন খ্রীষ্ট যীশুতে, পূর্ব্বে দূরবর্ত্তী ছিলে যে তোমরা, তোমরা খ্রীষ্টের রক্ত দ্বারা নিকটবর্ত্তী হইয়াছ।”—ইফিষীয় ২:১২, ১৩.
“[ঈশ্বরের] এই হিতসঙ্কল্প হইল, যেন সমস্ত পূর্ণতা তাঁহাতেই বাস করে, এবং তাঁহার ক্রুশের রক্ত দ্বারা সন্ধি করিয়া, তাঁহার দ্বারা যেন আপনার সহিত . . . সকলই সম্মিলিত করেন, তাঁহার দ্বারাই করেন।”—কলসীয় ১:১৯, ২০.
“অতএব, হে ভ্রাতৃগণ, . . . যীশুর রক্তের গুণে পবিত্র স্থানে প্রবেশ করিতে সাহস প্রাপ্ত হইয়াছি।”—ইব্রীয় ১০:১৯, ২০.
“তোমাদের পিতৃপুরুষগণের সমর্পিত অলীক আচার ব্যবহার হইতে তোমরা ক্ষয়ণীয় বস্তু দ্বারা, . . . মুক্ত হও নাই, কিন্তু নির্দ্দোষ ও নিষ্কলঙ্ক মেষশাবকস্বরূপ খ্রীষ্টের বহুমূল্য রক্ত দ্বারা মুক্ত হইয়াছ।”—১ পিতর ১:১৮, ১৯.
“তিনি যেমন জ্যোতিতে আছেন, আমরাও যদি তেমনি জ্যোতিতে চলি, তবে পরস্পর আমাদের সহভাগিতা আছে, এবং তাঁহার পুত্ত্র যীশুর রক্ত আমাদিগকে সমস্ত পাপ হইতে শুচি করে।”—১ যোহন ১:৭.
“তুমি ঐ পুস্তক গ্রহণ করিবার ও তাহার মুদ্রা খুলিবার যোগ্য; কেননা তুমি হত হইয়াছ, এবং আপনার রক্ত দ্বারা সমুদয় বংশ ও ভাষা ও জাতি ও লোকবৃন্দ হইতে ঈশ্বরের নিমিত্ত লোকদিগকে ক্রয় করিয়াছ।”—প্রকাশিত বাক্য ৫:৯.
“যে আমাদের ভ্রাতৃগণের উপরে দোষারোপকারী, . . . সে নিপাতিত হইল। আর মেষশাবকের রক্ত প্রযুক্ত, এবং আপন আপন সাক্ষ্যের বাক্য প্রযুক্ত, তাহারা তাহাকে জয় করিয়াছে।”—প্রকাশিত বাক্য ১২:১০, ১১.
[১৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
ব্যবস্থার মাধ্যমে ঈশ্বর এই বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, পাপ ক্ষমার ক্ষেত্রে রক্ত এক ভূমিকা পালন করতে পারে
[১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
যিশুর রক্তের মাধ্যমে অনেক জীবন রক্ষা পেতে পারে