ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w০৪ ৪/১ পৃষ্ঠা ২০-২৩
  • আপনি কি পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আপনি কি পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন?
  • ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • পুরস্কারকে দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা
  • যেভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করা যায়
  • যিহোশূয়ের মতো দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখুন
  • প্রত্যাশায় যিহোবার অপেক্ষায় থাকুন এবং সাহসী হোন
    ২০০৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আপনার প্রত্যাশাকে দৃঢ় করে চলুন!
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২২
  • আপনি যা দেখছেন তার বাইরেও দেখার চেষ্টা করুন!
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা সেই ব্যক্তিদের পুরস্কার দেন, যারা তাঁর অন্বেষণ করে
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৬
আরও দেখুন
২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w০৪ ৪/১ পৃষ্ঠা ২০-২৩

আপনি কি পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন?

রোগটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুর দিকে, এটা একজন ব্যক্তির প্রান্তিক দৃষ্টিশক্তিকে হ্রাস করে দেয়। চিকিৎসা করা না হলে, এটা দৃষ্টিশক্তির কেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এই কারণে দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি লোপ পেতে পারে। এটা কী? গ্লকোমা—অন্ধত্বের এক প্রধান কারণ।

ঠিক যেমন আমরা ধীরে ধীরে এবং সূক্ষ্মভাবে আক্ষরিক দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারি, তেমনই আমরা এমনকি আরও মূল্যবান এক দৃষ্টি—আমাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিশক্তি—হারাতে পারি। তাই, আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোকে আমাদের দৃষ্টিক্ষেত্রের কেন্দ্রে স্পষ্ট দৃষ্টিতে রাখা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

পুরস্কারকে দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা

আমাদের আক্ষরিক চোখের জন্য ‘অদৃশ্য বস্তুর’ মধ্যে রয়েছে, অনন্তজীবনের গৌরবান্বিত পুরস্কার, যা যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের দান করেন। (২ করিন্থীয় ৪:১৮) অবশ্য, যে-প্রধান কারণে খ্রিস্টানরা ঈশ্বরকে সেবা করে, সেটা হল তারা তাঁকে ভালবাসে। (মথি ২২:৩৭) তবুও, যিহোবা চান যাতে আমরা আমাদের পুরস্কারের জন্য সানন্দে প্রতীক্ষা করি। তিনি চান যেন আমরা তাঁকে উদার এক পিতা হিসেবে দেখি, যিনি “যাহারা তাঁহার অন্বেষণ করে, . . . তাহাদের পুরস্কারদাতা।” (ইব্রীয় ১১:৬) তাই, যারা সত্যিই যিহোবাকে জানে এবং তাঁকে ভালবাসে, তারা তাঁর প্রতিজ্ঞাত আশীর্বাদগুলোকে মূল্যবান হিসেবে গণ্য করে আর সেগুলোর পরিপূর্ণতার জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা করে।—রোমীয় ৮:১৯, ২৪, ২৫.

এই পত্রিকা ও সেইসঙ্গে এর সহকারী সচেতন থাক! পত্রিকার অনেক পাঠক, আসন্ন পরমদেশ পৃথিবীর চিত্রাঙ্কন উপভোগ করে। অবশ্য, আমরা একেবারে সঠিকভাবে জানি না যে, পরমদেশ পৃথিবী দেখতে কেমন হবে এবং যে-ছবিগুলো প্রকাশিত হয়, সেগুলো কেবলমাত্র যিশাইয় ১১:৬-৯ পদের মতো বাইবেলের বাক্যাংশগুলোর ওপর ভিত্তি করে শিল্পীসুলভ ধারণামাত্র। কিন্তু, একজন খ্রিস্টান মহিলা বলেছিলেন: “আমি যখন প্রহরীদুর্গ এবং সচেতন থাক! পত্রিকায় আসন্ন পরমদেশের ছবি দেখি, তখন সেগুলোকে আমি খুব ভাল করে পর্যবেক্ষণ করি, ঠিক যেমন একজন ব্যক্তি ভ্রমণের তথ্যসম্বলিত পুস্তিকা পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। আমি সেখানে নিজেকে কল্পনা করার চেষ্টা করি কারণ ঈশ্বরের নিরূপিত সময়ে আমি সত্যিই সেখানেই থাকার আশা রাখি।”

প্রেরিত পৌল তার “ঊর্দ্ধ্বদিক্‌স্থ আহ্বানের” বিষয়ে একইরকম মনে করেছিলেন। তিনি এইরকম মনে করেননি যে, ইতিমধ্যেই তিনি তা পেয়ে গেছেন কারণ তাকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত প্রমাণ দিতে হতো। কিন্তু, তিনি ক্রমাগত “সম্মুখস্থ বিষয়ের চেষ্টায় একাগ্র” ছিলেন। (ফিলিপীয় ৩:১৩, ১৪) একইভাবে, যিশু “সম্মুখস্থ আনন্দের নিমিত্ত” যাতনাদণ্ডে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।—ইব্রীয় ১২:২.

নতুন জগতে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে আপনার কি কখনও সন্দেহ হয়েছে? নিশ্চিতভাবেই, নিজের ওপর অতিরিক্ত আস্থা রাখা ভাল না যেহেতু আমরা জীবনের পুরস্কার পাব কি না, তা শেষ পর্যন্ত আমাদের বিশ্বস্ত থাকার ওপর নির্ভর করে। (মথি ২৪:১৩) কিন্তু ঈশ্বর যা চান, সেগুলো পূরণ করার জন্য আমরা যদি আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করি, তা হলে পুরস্কার অর্জন করার ব্যাপারে আস্থা রাখার প্রতিটা কারণ আমাদের রয়েছে। মনে রাখবেন যে, “কতকগুলি লোক যে বিনষ্ট হয়, এমন বাসনা” যিহোবার “নাই; বরং সকলে যেন মনপরিবর্ত্তন পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পায়, এই তাঁহার বাসনা।” (২ পিতর ৩:৯) আমরা যদি যিহোবার ওপর নির্ভর করি, তা হলে তিনি আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন। বাস্তবিকপক্ষে, যারা তাঁকে খুশি করার জন্য অকপটভাবে চেষ্টা করে, তাদের অযোগ্য মনে করার জন্য বিভিন্ন কারণ খোঁজা তাঁর স্বভাবের বিপরীত।—গীতসংহিতা ১০৩:৮-১১; ১৩০:৩, ৪; যিহিষ্কেল ১৮:৩২.

যিহোবা তাঁর লোকেদের প্রতি কেমন বোধ করেন, তা জানা আমাদের প্রত্যাশা দেয়, যে-গুণ বিশ্বাসের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। (১ করিন্থীয় ১৩:১৩) যে-গ্রিক শব্দকে বাইবেলে “প্রত্যাশা” হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে, তা “ভাল কিছুর জন্য” আকুল ‘প্রতীক্ষার’ ধারণা বহন করে। এই ধরনের আশার কথা মনে রেখে প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “আমাদের বাসনা এই, যেন তোমাদের প্রত্যেক জন একই প্রকার যত্ন দেখায়, যাহাতে শেষ পর্য্যন্ত প্রত্যাশার পূর্ণতা থাকিবে; যেন তোমরা শিথিল না হও, কিন্তু যাহারা বিশ্বাস ও দীর্ঘসহিষ্ণুতা দ্বারা প্রতিজ্ঞা-সমূহের দায়াধিকারী, তাহাদের অনুকারী হও।” (ইব্রীয় ৬:১১, ১২) লক্ষ করুন যে, আমরা যদি ক্রমাগত যিহোবাকে বিশ্বস্তভাবে সেবা করি, তা হলে আমাদের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হওয়ার পূর্ণতা থাকবে বা আমরা আশ্বাস পেতে পারি। অনেক জাগতিক আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে, এই প্রত্যাশা “লজ্জাজনক হয় না।” (রোমীয় ৫:৫) তাই, কীভাবে আমরা আমাদের প্রত্যাশাকে উজ্জ্বল রাখতে এবং সেটাকে স্পষ্ট দৃষ্টিতে রাখতে পারি?

যেভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করা যায়

আমাদের দৈহিক চোখ একই সময়ে দুটো বিষয়ের ওপর দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত করতে পারে না। আমাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টির ক্ষেত্রেও একই বিষয় সত্য। বর্তমান বিধিব্যবস্থার বিষয়গুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা নিশ্চিতভাবেই ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত নতুন জগৎকে কিছুটা হলেও আমাদের মনের দৃষ্টির বাইরে রাখে। পরে, এই অস্পষ্ট, প্রান্তিক প্রতিবিম্ব এর আবেদন হারাতে পারে এবং দৃষ্টি সাধারণভাবেই আড়ালে চলে যেতে পারে। তা কত দুঃখজনকই না হবে! (লূক ২১:৩৪) তাই, আমাদের এক ‘সরল চক্ষু’ রাখা কত গুরুত্বপূর্ণ, যা ঈশ্বরের রাজ্য এবং অনন্তজীবনের পুরস্কারের ওপর কেন্দ্রীভূত থাকে।—মথি ৬:২২.

চোখকে সরল রাখা সবসময় সহজ নয়। দৈনন্দিন সমস্যাগুলো আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয় এবং বিক্ষেপগুলো—এমনকি প্রলোভনগুলো—আমাদের চলার পথে থাকতে পারে। এইরকম পরিস্থিতিগুলোতে, কীভাবে আমরা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজগুলোকে অবহেলা না করে রাজ্য এবং ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত নতুন জগতের প্রতি আমাদের দৃষ্টিকে নিবদ্ধ রাখতে পারি? আসুন তিনটে উপায় বিবেচনা করি।

প্রতিদিন ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করুন। নিয়মিত বাইবেল পাঠ এবং বাইবেলভিত্তিক প্রকাশনাদি অধ্যয়ন করা আমাদের মনকে আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত রাখতে সাহায্য করবে। এটা ঠিক যে, আমরা হয়তো অনেক বছর ধরে ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করে আসছি কিন্তু আমাদের ক্রমাগত সেটি অধ্যয়ন করতে হবে, ঠিক যেমন আমাদের জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমাদের দৈহিক খাদ্য খেয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে। অতীতে হাজার হাজার বার খাবার খেয়েছি বলে আমরা খাওয়া বন্ধ করে দিই না। তাই, আমরা বাইবেলের সঙ্গে যত পরিচিতই হই না কেন, আমাদের ক্রমাগত ও নিয়মিতভাবে আধ্যাত্মিক পুষ্টি গ্রহণ করতে হবে, যাতে আমাদের আশা উজ্জ্বল থাকে এবং আমাদের বিশ্বাস ও প্রেম আরও দৃঢ় হয়।—গীতসংহিতা ১:১-৩

উপলব্ধি সহকারে ঈশ্বরের বাক্য নিয়ে ধ্যান করুন। ধ্যান কেন অপরিহার্য? দুটো কারণে। প্রথমত, ধ্যান আমরা যা পড়ি তা আত্মস্থ করতে এবং এর জন্য উপলব্ধিপূর্ণ হৃদয় গড়ে তুলতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, ধ্যান আমাদের যিহোবাকে, তাঁর অপূর্ব কাজগুলোকে এবং তিনি আমাদের সামনে যে-আশাগুলো রেখেছেন, সেগুলো ভুলে যাওয়া থেকে রোধ করে। উদাহরণস্বরূপ: যে-ইস্রায়েলীয়রা মোশির সঙ্গে মিশর ত্যাগ করেছিল, তারা তাদের নিজের চোখে যিহোবার ভয়ংকর শক্তির প্রদর্শন দেখেছিল। তারা তাঁর প্রেমময় সুরক্ষাও বোধ করেছিল, যখন তিনি তাদের উত্তরাধিকারের দিকে পরিচালিত করেছিলেন। কিন্তু, ইস্রায়েলীয়রা প্রতিজ্ঞাত দেশে যাওয়ার পথে প্রান্তরে গিয়ে পৌঁছানো মাত্র বচসা করা শুরু করেছিল, যা তাদের বিশ্বাসের প্রচণ্ড অভাব সম্বন্ধে প্রকাশ করেছিল। (গীতসংহিতা ৭৮:১১-১৭) তাদের সমস্যাটা কী ছিল?

লোকেরা যিহোবা এবং তাদের সামনে তিনি যে-অপূর্ব আশা রেখেছিলেন, সেগুলো থেকে তাদের দৃষ্টি সরিয়ে তা তাৎক্ষণিক আরাম-আয়েশ এবং মাংসিক বিষয়গুলোর ওপর রেখেছিল। ব্যক্তিগতভাবে অলৌকিক চিহ্নগুলোর সাক্ষি হওয়া সত্ত্বেও, অনেক ইস্রায়েলীয় বিশ্বাসহীন বচসাকারী হয়ে গিয়েছিল। “তাহারা ত্বরায় [যিহোবার] কার্য্য সকল ভুলিয়া গেল,” গীতসংহিতা ১০৬:১৩ পদ বলে। (বাঁকা অক্ষরে মুদ্রণ আমাদের।) এইরকম অমার্জনীয় অবহেলার কারণে সেই বংশ প্রতিজ্ঞাত দেশে ঢুকতে পারেনি।

তাই, শাস্ত্র অথবা বাইবেল অধ্যয়ন সহায়কগুলো পড়ার সময় আপনি যা পড়েন, তা নিয়ে ধ্যান করার জন্য সময় করে নিন। এই ধরনের বিবেচনা আপনার আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য এবং বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, গীতসংহিতা ১০৬ অধ্যায় পড়ার সময়, যেটার কিছু অংশ ওপরে উদ্ধৃতি করা হয়েছে, যিহোবার গুণগুলো নিয়ে ধ্যান করুন। লক্ষ করুন যে, ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে তিনি কত ধৈর্যশীল এবং করুণাময় ছিলেন। দেখুন যে, তাদেরকে প্রতিজ্ঞাত দেশে পৌঁছাতে সাহায্য করার জন্য তাঁর পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল, তা তিনি কীভাবে করেছিলেন। লক্ষ করুন যে, তারা কীভাবে ক্রমাগত তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। যিহোবার যন্ত্রণা এবং বেদনার কথা কল্পনা করুন, যখন উপলব্ধিহীন লোকেদের কারণে তাঁর করুণা এবং ধৈর্য একেবারে সীমায় গিয়ে পৌঁছেছিল। এ ছাড়া, ৩০ এবং ৩১ পদের ওপরও ধ্যান করে, যা ধার্মিকতার জন্য পীনহসের দৃঢ়, সাহসী অবস্থান সম্বন্ধে বর্ণনা করে আমরা আশ্বাস পাই যে, যিহোবা তাঁর অনুগত ব্যক্তিদের ভুলে যান না এবং তিনি তাদের প্রচুররূপে পুরস্কৃত করেন।

আপনার জীবনে বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগান। বাইবেলের নীতিগুলো অনুসরণ করার সময় আমরা দেখি যে যিহোবার পরামর্শগুলো কাজে আসে। হিতোপদেশ ৩:৫, ৬ পদ বলে: “তুমি সমস্ত চিত্তে সদাপ্রভুতে বিশ্বাস কর; তোমার নিজ বিবেচনায় নির্ভর করিও না; তোমার সমস্ত পথে তাঁহাকে স্বীকার কর; তাহাতে তিনি তোমার পথ সকল সরল করিবেন।” চিন্তা করে দেখুন যে, অনেক লোকের অনৈতিক জীবনযাপন কীভাবে মানসিক, আবেগগত এবং শারীরিক সমস্যাগুলো নিয়ে এসেছে। ক্ষণিক আনন্দে মত্ত হয়ে এই ধরনের লোকেরা বছরের পর বছর—এমনকি চিরজীবন—বিপর্যয় ভোগ করে। এর সম্পূর্ণ বিপরীতে, যারা ‘সঙ্কীর্ণ দ্বারে’ চলে, তারা নতুন বিধিব্যবস্থায় বেঁচে থাকার পূর্বস্বাদ লাভ করে এবং এটা তাদের ক্রমাগত জীবনের পথে চলতে সাহায্য করে।—মথি ৭:১৩, ১৪; গীতসংহিতা ৩৪:৮.

বাইবেলের নীতিগুলো কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে। কখনও কখনও কোনো অশাস্ত্রীয় সমাধান এক কঠিন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক স্বস্তির প্রতিজ্ঞা করে বলে মনে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, টাকাপয়সার সমস্যার সময় রাজ্যের বিষয়গুলোকে অবহেলা করে দ্বিতীয় স্থানে রাখার প্রলোভন আসতে পারে। কিন্তু যারা বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে এবং তাদের আধ্যাত্মিক দৃষ্টি বজায় রাখে, তারা আশ্বাস পায় যে, পরিশেষে “ঈশ্বর-ভীত লোকদের, . . . মঙ্গল হইবে।” (উপদেশক ৮:১২) একজন খ্রিস্টানকে হয়তো মাঝে মাঝে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতে পারে কিন্তু তিনি কখনও এষৌর মতো হবেন না, যিনি আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোকে অবজ্ঞা করেছিলেন, সেগুলোকে গুরুত্বহীন বিষয় বলে বাতিল করে দিয়েছিলেন।—আদিপুস্তক ২৫:৩৪; ইব্রীয় ১২:১৬.

যিশু স্পষ্টভাবে, খ্রিস্টান হিসেবে আমাদের দায়িত্বাদি সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করেছিলেন। আমাদের ‘প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্ম্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা করিতে হইবে।’ (মথি ৬:৩৩) আমরা যদি তা করি, তা হলে যিহোবা বস্তুগত দিক দিয়ে আমাদের যা দরকার, তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমাদের জন্য তাঁর পিতৃসুলভ প্রেম দেখাবেন। তিনি নিশ্চয়ই চান না যে, আমরা সেই বিষয়গুলোর চিন্তায় নিজেদের ভারগ্রস্ত করি, যেগুলো তিনি বলেন যে, আসলে তাঁর চিন্তার বিষয়। এই ধরনের অযথা চিন্তা আধ্যাত্মিক গ্লকোমার মতো হতে পারে—অবহেলা করা হলে, এটা ধীরে ধীর আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে সংকীর্ণ করে বস্তুগত বিষয়ের দিকে নিয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে অন্ধ করে ফেলবে। আমরা যদি সেই অবস্থায় থাকি, তা হলে যিহোবার দিন আমাদের ওপর “ফাঁদের ন্যায়” আসবে। সেটা কত দুঃখজনকই না হবে!—লূক ২১:৩৪-৩৬.

যিহোশূয়ের মতো দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখুন

আসুন আমাদের গৌরবান্বিত রাজ্যের আশা স্পষ্ট দৃষ্টির মধ্যে রাখি, অন্যান্য দায়িত্বগুলোকে সঠিক স্থানে রাখি। অধ্যয়ন, ধ্যান এবং বাইবেলের নীতিগুলো নিয়মিতভাবে কাজে লাগিয়ে চললে, যিহোশূয়ের মতো আমরা আমাদের আশা সম্বন্ধে আস্থাবান থাকতে পারব। ইস্রায়েলীয়দের প্রতিজ্ঞাত দেশে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন: “তোমরা সমস্ত অন্তঃকরণে ও সমস্ত প্রাণে ইহা জ্ঞাত হও যে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের বিষয়ে যত মঙ্গলবাক্য বলিয়াছিলেন, তাহার মধ্যে একটীও বিফল হয় নাই; তোমাদের পক্ষে সকলই সফল হইয়াছে, তাহার একটীও বিফল হয় নাই।”—যিহোশূয়ের পুস্তক ২৩:১৪.

রাজ্যের আশা যেন আপনাকে শক্তি দেয়, আপনার দিনকে যেন এমন উজ্জ্বল করে যাতে তা আপনার চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, সিদ্ধান্ত এবং কাজগুলোতে প্রকাশ পায়।—হিতোপদেশ ১৫:১৫; রোমীয় ১২:১২.

[২১ পৃষ্ঠার চিত্র]

নতুন জগতে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে আপনার কি কখনও সন্দেহ হয়েছে?

[২২ পৃষ্ঠার চিত্র]

ধ্যান হল বাইবেল অধ্যয়নের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ

[২৩ পৃষ্ঠার চিত্রগুলো]

রাজ্যের বিষয়গুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখুন

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার