ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w০০ ১/১ পৃষ্ঠা ২-৫
  • বিশ্বাস আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • বিশ্বাস আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে
  • ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বিশ্বাস পারিবারিক জীবনকে বদলে দিতে পারে
  • বিশ্বাস অসহায় ব্যক্তিদের সাহায্য করে
  • সঠিক ধরনের বিশ্বাস
  • যিহোবার প্রতিজ্ঞায় বিশ্বাস করে চলুন
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৬
  • “আমাদের বিশ্বাসের বৃদ্ধি করুন”
    ২০১৫ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • বিশ্বাস​—যে-গুণটা আমাদের শক্তিশালী হতে সাহায্য করে
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০১৯
  • আপনি কি সত্যিই সুসমাচারে বিশ্বাস করেন?
    ২০০৩ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w০০ ১/১ পৃষ্ঠা ২-৫

বিশ্বাস আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে

“ঈশ্বরে বিশ্বাস না করেও নীতিবোধ গড়ে তোলা যায়।” একজন নাস্তিক মহিলা খুব জোর গলায় এই কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে তিনি তার ছেলেমেয়েদের ভাল নীতিগুলো শিখিয়েছিলেন আর তারাও তাদের ছেলেমেয়েদেরকে একইভাবে মানুষ করে তুলেছেন। আর ছেলেমেয়েরা কেউই ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না।

এর মানে কি এই যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করার কোন দরকার নেই? এই ভদ্রমহিলা এমনই ভেবেছিলেন। আর একথা ঠিকও যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না এমন সবাই-ই খারাপ লোক নন। প্রেরিত পৌল এমন ‘পরজাতিদের’ কথা বলেছিলেন যারা ঈশ্বরকে জানে না কিন্তু “স্বভাবতঃ ব্যবস্থানুযায়ী আচরণ করে।” (রোমীয় ২:১৪) সব লোকেদেরই বিবেক আছে, তা তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন। অনেকে তাদের বিবেক অনুযায়ী চলার চেষ্টা করেন কিন্তু যিনি তাদের এই বিবেক অর্থাৎ তাদেরকে ভাল-মন্দ বোঝার এই সহজাত ক্ষমতা দিয়েছেন তারা সেই ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না।

কিন্তু, ঈশ্বরে বিশ্বাস করা খুবই জরুরি কারণ তিনি আমাদের বিবেককে ঠিক পথে চালাতে পারেন। আর ঈশ্বরের ওপর এই বিশ্বাস বাইবেলে দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হওয়া দরকার। ঈশ্বরের বাক্য বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস বিবেককে তথ্য দেয়, ভাল-মন্দ ঠিক করার জন্য বুদ্ধি জোগায়। (ইব্রীয় ৫:১৪) এছাড়া বিশ্বাস সমস্ত পরিস্থিতিতে, সব রকমের চাপের মুখেও, লোকেদেরকে উচ্চ নৈতিক মান বজায় রাখার শক্তি দেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিংশ শতাব্দীতে অনেক দেশেই দুর্নীতিপরায়ণ সরকারগুলো জোর করে নিরীহ লোকেদের দিয়ে নৃশংস কাজ করিয়েছে। কিন্তু, যাদের ঈশ্বরের ওপর প্রকৃত বিশ্বাস ছিল তারা তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও নীতির সঙ্গে কোনরকম আপোশ করেননি। শুধু এটুকুই নয়, বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস লোকেদের বদলেও দিতে পারে। যে জীবন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল সেই জীবনকে এটা বাঁচাতে পারে আর গুরুতর ভুল করা থেকে এটা একজনকে রুখতে পারে। আসুন আমরা এর কয়েকটা উদাহরণ দেখি।

বিশ্বাস পারিবারিক জীবনকে বদলে দিতে পারে

“আপনাদের বিশ্বাসের জন্যই আপনারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।” একজন ইংরেজ বিচারক এই কথাগুলো বলেই জন ও তানিয়াকে তাদের বাচ্চাদের দেখাশোনা করার অধিকার তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। জন ও তানিয়া যখন প্রথম আদালতে এসেছিলেন তখন তারা আইনসংগতভাবে বিয়ে করেননি এবং তাদের পারিবারিক জীবন ছিল খুবই শোচনীয়। জন নেশা করতেন এবং জুয়া খেলতেন আর তার এইসব বদভ্যাসের খরচ জোগানোর জন্য তিনি অপরাধ জগতে পা রেখেছিলেন। তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের দিকে তিনি একেবারেই নজর দিতেন না। কিন্তু “অলৌকিক” কী এমন ঘটেছিল?

একদিন জনের এক ভাইপো কারও সঙ্গে পরমদেশ সম্বন্ধে কথা বলছিল আর জন তা শুনেছিল। তার ভাল লাগে আর তাই তিনি তার দাদা বৌদিকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। জনের দাদা বৌদি যিহোবার সাক্ষি ছিলেন আর তারা জনকে বাইবেল থেকে এই বিষয়ে শিখতে সাহায্য করেছিলেন। আস্তে আস্তে জন ও তানিয়া বাইবেল ভিত্তিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে শুরু করেন আর এই বিশ্বাস তাদের জীবনকে বদলে দেয়। তারা আইনসংগতভাবে বিয়ে করেন আর তাদের বদভ্যাসগুলো ছেড়ে দেন। আদালত যখন তাদের বাড়ি পরিদর্শন করতে আসে তখন তারা এমন কিছু দেখতে পায়, অল্প কয়েকদিন আগে যা কল্পনা করাও একেবারে অসম্ভব বলে মনে হতো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঘরে এক সুখী পরিবার, এমন এক পরিবেশ যেখানে ছেলেমেয়েদের খুব ভালভাবে বড় করে তোলা যায়। অতএব, এই বিচারক জন ও তানিয়ার নতুন বিশ্বাসকে যখন “অলৌকিক” কিছু বলেছিলেন তখন তিনি একেবারে ঠিক কথাই বলেছিলেন।

ইংল্যান্ড থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একজন যুবতী স্ত্রী এক দুঃখজনক কাজ করতে যাচ্ছিলেন। তিনি বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে তার জীবনকে শেষ করে দিতে যাচ্ছিলেন। আর এটা করে তিনি সেই লাখ লাখ লোকেদের দলে যোগ দিতেন, যারা বিবাহবিচ্ছেদ করে তাদের পারিবারিক জীবনের ইতি টানেন। তার একটা বাচ্চা ছিল আর তার স্বামী তার চেয়ে বয়সে বেশ বড় ছিলেন। এইজন্য তার আত্মীয়স্বজন তাকে প্রায়ই বিবাববিচ্ছেদ করার জন্য উস্কানি দিত আর এই মহিলা বিবাহবিচ্ছেদ করার জন্য প্রায় তৈরিই হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই সময়ে তিনি একজন যিহোবার সাক্ষির সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করছিলেন। সেই সাক্ষি যখন তার কথা শুনেছিলেন তখন তিনি তাকে বুঝিয়েছিলেন যে বাইবেল বিয়ের বিষয়ে কী বলে। তিনি বলেছিলেন যে বিয়ে হল ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া এক উপহার আর ছোটখাটো কারণে এই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। (মথি ১৯:৪-৬, ৯) সেই স্ত্রী মনে মনে ভেবেছিলেন, ‘এই মহিলা একজন অপরিচিতা হয়ে আমার পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন অথচ আমার নিজের আত্মীয়স্বজন যারা আমার আরও বেশি আপন তারা কিনা আমার বিয়েকে ভেঙে দিতে চায়।’ এই নতুন বিশ্বাস তাকে তার বিয়ে অটুট রাখতে সাহায্য করেছিল।

গর্ভপাত করা হল আরেকটা দুঃখজনক বিষয়, যা পারিবারের ওপর খুব খারাপ প্রভাব আনে। রাষ্ট্রসংঘের হিসেব অনুযায়ী, প্রতি বছর কম করে হলেও প্রায় ৪.৫ কোটি অজাত শিশুদের ইচ্ছে করে গর্ভপাত ঘটিয়ে মেরে ফেলা হয়। আর প্রত্যেকটা গর্ভপাতের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। বাইবেলের জ্ঞান ফিলিপাইনের একজন মহিলাকে গর্ভপাত করা থেকে রুখেছিল।

এই স্ত্রীর কাছে একজন যিহোবার সাক্ষি এসেছিলেন আর তিনি তার কাছ থেকে ঈশ্বর আমাদের কাছ থেকে কী চান?a ব্রোশারটা নিয়েছিলেন এবং বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন। বেশ কয়েক মাস পর তিনি বলেছিলেন যে কেন তিনি বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করেছিলেন। প্রথমবার যখন এই সাক্ষি তার কাছে এসেছিলেন তখন এই মহিলা গর্ভবতী ছিলেন কিন্তু তিনি ও তার স্বামী ঠিক করেছিলেন যে তারা গর্ভপাত করাবেন। কিন্তু সেই ব্রোশারের ২৪ পাতায় দেওয়া এক অজাত শিশুর ছবি মহিলার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এর সঙ্গে যখন তাকে বাইবেল থেকে বোঝানো হয়েছিল যে জীবন হল পবিত্র কারণ ‘জীবনের উনুই ঈশ্বর,’ তখন তিনি গর্ভপাত করবেন না বলে ঠিক করেছিলেন। (গীতসংহিতা ৩৬:৯) এখন তিনি এক ফুটফুটে, সুস্থ বাচ্চার মা।

বিশ্বাস অসহায় ব্যক্তিদের সাহায্য করে

ইথিয়পিয়াতে ছেঁড়া-ময়লা জামাকাপড় পরা দুজন লোক, যিহোবার সাক্ষিদের সভায় এসেছিলেন। সভার শেষে একজন সাক্ষি ভাই হাসিমুখে তাদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই লোকেরা তার কাছে সাহায্য চান। ওই ভাই তাদের সাহায্য করেছিলেন, টাকাপয়সা দিয়ে নয় কিন্তু তার চেয়েও আরও ভাল কিছু দিয়ে। তিনি তাদেরকে ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস গড়ে তুলতে বলেছিলেন যা “সুবর্ণ . . . অপেক্ষাও মহামূল্য।” (১ পিতর ১:৭) তাদের মধ্যে একজন ভাইয়ের কথা শুনেছিলেন ও বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করেছিলেন। আর এটাই তার জীবনকে বদলে দিয়েছিল। তার বিশ্বাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছিলেন, মদ খাওয়া বন্ধ করেছিলেন, অনৈতিক জীবনযাপন করা বাদ দিয়েছিলেন এবং খাত (এক ধরনের নেশাকর পাতা) খাওয়াও ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভিক্ষে না করেও কীভাবে নিজের ভরণপোষণ করা যায় তা তিনি শিখেছিলেন এবং এখন তিনি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করছেন।

ইতালিতে ৪৭ বছর বয়সী একজন লোকের দশ বছরের জেল হয়েছিল এবং তাকে কয়েদিদের মানসিক রোগের হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। একজন যিহোবার সাক্ষি ভাইয়ের কয়েদিদের আধ্যাত্মিকভাবে সাহায্য করার জন্য এইরকম জেলে যাওয়ার অধিকার ছিল। তিনি এই ব্যক্তির সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেন। আর ওই ব্যক্তি খুব তাড়াতাড়ি উন্নতি করতে থাকেন। বিশ্বাস তার জীবনকে এতটাই বদলে দিয়েছিল যে অন্য কয়েদিরা তখন তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলার জন্য তার কাছে আসত। তার বাইবেল ভিত্তিক বিশ্বাসের কারণে অন্যেরা তাকে সম্মান করতে শুরু করে, তাকে মর্যাদা দিতে শুরু করে এবং জেল কর্তৃপক্ষও তার ওপর ভরসা করতে শুরু করে।

কয়েক বছর ধরে খবরের কাগজে প্রায়ই আফ্রিকার গৃহযুদ্ধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা পড়ে ভয়ে শিউরে উঠতে হয় যাদের সৈনিক হওয়ার জন্য শিক্ষা দেওয়া হয়। এই বাচ্চাদের মাদকদ্রব্য খাওয়ানো হয়, মারধোর করা হয় আর তারা তাদের দলের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বস্ত কি না তা জানার জন্য তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে জোর করা হয়। কিন্তু বাইবেল ভিত্তিক বিশ্বাস কি এতটাই শক্তিশালী যে তা এইরকম বাচ্চাদের জীবনও বদলে দিতে পারে? অন্তত দুটো ক্ষেত্রে সেইরকমই হয়েছিল।

লাইবেরিয়াতে, আ্যলেক্স ক্যাথলিক গির্জায় সেবক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু ১৩ বছর বয়সে সে সৈনিকদলে যোগ দেয় আর একজন কুখ্যাত শিশু সৈনিক হয়ে যায়। যুদ্ধ করার মতো সাহস পাওয়ার জন্য সে একজন ওঝার কাছে যায়। আ্যলেক্স তার অনেক সঙ্গীকে যুদ্ধে মারা যেতে দেখেছিল কিন্তু একমাত্র সে-ই বেঁচে যায়। ১৯৯৭ সালে তার যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে পরিচয় হয় আর সে দেখেছিল যে তারা তাকে খারাপ চোখে দেখেননি। এর বদলে, তারা তাকে বাইবেল হিংস্রতার বিষয়ে কী বলে তা শিখিয়েছিল। আ্যলেক্স সেনাবাহিনী ছেড়ে দিয়েছিল। তার বিশ্বাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বাইবেলের এই আদেশ মেনে চলেছিল: “সে মন্দ হইতে ফিরুক ও সদাচরণ করুক, শান্তির চেষ্টা করুক, ও তাহার অনুধাবন করুক।”—১ পিতর ৩:১১.

এইরকমই স্যামসন নামে একজন ছেলেও আগে শিশু সৈনিক ছিল। সে সেই শহরে আসে যেখানে আ্যলেক্স থাকত। সে গির্জায় গান গাইত কিন্তু ১৯৯৩ সালে সে একজন সৈনিক হয়ে যায় আর মাদকদ্রব্য, প্রেতচর্চা এবং অনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৭ সালে তাকে সেনাবাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হয়। স্যামসন এক বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য মনোরভিয়া শহরে যাচ্ছিল কিন্তু তার এক বন্ধু তাকে যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করার জন্য রাজি করায় আর এর ফলে সে বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে তার বিশ্বাস গড়ে তুলেছিল। এটা তাকে এতখানি সাহস জুগিয়েছিল যে সে যুদ্ধ করা ছেড়ে দিয়েছিল। আ্যলেক্স এবং স্যামসন দুজনেই এখন শান্তিপূর্ণ এবং শুদ্ধ জীবনযাপন করে। বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস ছাড়া আর কিছু কি এমন লোকেদের জীবনকে বদলে দিতে পারে, যাদের ওপর নির্মম অত্যাচার করা হয়েছিল?

সঠিক ধরনের বিশ্বাস

এগুলো মাত্র কয়েকটা উদাহরণ কিন্তু এইরকম আরও অনেক অনেক উদাহরণ আছে যেগুলো দেখায় যে বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস কত শক্তিশালী। অবশ্য, যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন বলে দাবি করেন তারা সকলেই যে বাইবেলের উচ্চ নৈতিক মান অনুযায়ী চলেন তা নয়। সত্যি করে বলতে গেলে, কিছু নাস্তিক ব্যক্তিরা হয়তো খ্রীষ্টীয় জগতের কিছু লোকেদের চেয়ে আরও সৎ জীবনযাপন করেন। কিন্তু শুধুমাত্র বাইবেল বা ঈশ্বরে বিশ্বাস আছে বলে দাবি করলেই সত্য খ্রীষ্টান হওয়া যায় না। সত্য খ্রীষ্টান হতে গেলে বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি কিছু জড়িত থাকা দরকার।

প্রেরিত পৌল বলেছিলেন যে বিশ্বাস হল “প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণপ্রাপ্তি।” (ইব্রীয় ১১:১) তাই, বিশ্বাসের সঙ্গে অদৃশ্য বিষয়ের ওপর শক্তিশালী আস্থা জড়িত যার পিছনে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। এর মানে হল যা কিছুই হোক না কেন একজন ব্যক্তি বিশ্বাস করবেন যে ঈশ্বর আছেন, তিনি আমাদের প্রতি আগ্রহী এবং যারা তাঁর ইচ্ছা পালন করে তাদের তিনি আশীর্বাদ করেন। প্রেরিত পৌল আরও বলেছিলেন: “যে ব্যক্তি ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হয়, তাহার ইহা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে ঈশ্বর আছেন, এবং যাহারা তাঁহার অন্বেষণ করে, তিনি তাহাদের পুরস্কারদাতা।”—ইব্রীয় ১১:৬.

এই ধরনের বিশ্বাসই এই প্রবন্ধে বলা জন, তানিয়া এবং অন্যদের জীবনকে বদলে দিয়েছিল। এই বিশ্বাসের জন্যই তারা বাইবেলের ওপর পুরোপুরি ভরসা করেছিল আর তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল। ভুল পথ বেছে নেওয়া খুবই সুবিধাজনক ও সহজ কিন্তু বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বাসই তাদেরকে অল্প সময়ের জন্য কিছু ত্যাগস্বীকার করতে সাহায্য করেছিল। এখানে দেওয়া অভিজ্ঞতাগুলো আলাদা আলাদা হলেও সবগুলোর শুরুই কিন্তু একরকম। কোন না কোন যিহোবার সাক্ষি এই লোকেদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন আর তারা বাইবেলের এই সত্যকে অনুভব করেছিলেন যা বলে: “ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত ও কার্য্যসাধক।” (ইব্রীয় ৪:১২) ঈশ্বরের বাক্যের ক্ষমতা এদের প্রত্যেককে দৃঢ় বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল যার ফলে তাদের জীবন আরও ভাল হয়ে গিয়েছিল।

আজকে যিহোবার সাক্ষিরা দেশ ও দ্বীপগুলো মিলিয়ে ২৩০টারও বেশি জায়গায় কাজ করে চলেছেন। তারা আপনার সঙ্গেও বাইবেল অধ্যয়ন করতে চান। কেন? কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস আপনার জীবনকেও একেবারে বদলে দিতে পারে।

[পাদটীকাগুলো]

a ওয়াচটাওয়ার বাইবেল আ্যন্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত।

[৩ পৃষ্ঠার চিত্রগুলো]

বাইবেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বিশ্বাস জীবনকে বদলে দেয়

[২ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]

Title card of Biblia nieświeska by Szymon Budny, ১৫৭২

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার