ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ১২/১৫ পৃষ্ঠা ২৬-২৯
  • গিলিয়েড স্কুল মিশনারিদের “পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত” পাঠায়

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • গিলিয়েড স্কুল মিশনারিদের “পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত” পাঠায়
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • বিশ্বস্তভাবে যিহোবা ও প্রতিবেশীকে সেবা করুন
  • শিক্ষকদের আন্তরিক নির্দেশনা
  • অভিজ্ঞ মিশনারিরা আশ্বাস দেন
  • সেই রোগকে এড়িয়ে চলা যা আধ্যাত্মিকতাকে শেষ করে দেয়
  • ঈশ্বরের বাক্যের গ্র্যাজুয়েটিং ছাত্রছাত্রীরা
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ইচ্ছুক মনোভাব লোকেদেরকে গিলিয়েডে নিয়ে আসে
    ২০০১ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সেবা করার জন্য অনুপ্রাণিত
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • গ্র্যাজুয়েশন ডে —এক চমৎকার দিন
    ২০০৪ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ১২/১৫ পৃষ্ঠা ২৬-২৯

গিলিয়েড স্কুল মিশনারিদের “পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত” পাঠায়

পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে, ওয়াচটাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়েড মিশনারিদের পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছে। ১৯৯৯ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, গিলিয়েডের ১০৭তম গ্র্যাজুয়েশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ১১টা দেশ থেকে ৪৮ জন ছাত্রছাত্রী এসেছিলেন আর তাদেরকে ২৪টা দেশে সেবা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। যীশু স্বর্গে যাওয়ার আগে শেষ যে কথাগুলো বলে গিয়েছিলেন সেগুলো পূর্ণ করার জন্য যে হাজার হাজার মিশনারিরা অনেক কাজ করছেন, সেই মিশনারিদের সঙ্গে তারাও যোগ দেবেন। তিনি ভাববাণী করেছিলেন যে তাঁর শিষ্যরা “পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত [তাঁহার] সাক্ষী হইবে।”—প্রেরিত ১:৮.

নিউ ইয়র্ক প্যাটারসনের ওয়াচটাওয়ার শিক্ষা কেন্দ্রের এক মনোরম পরিবেশে গ্র্যাজুয়েশন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ছিল সত্যিই এক আনন্দপূর্ণ উপলক্ষ। ছাত্রছাত্রীরা তাদের আত্মীয়স্বজন, অন্তরঙ্গ বন্ধুবান্ধব এবং অতিথিদের পেয়ে খুবই খুশি হয়েছিলেন। ব্রুকলিন এবং ওয়ালকিলে অডিও এবং ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে যারা ওই অনুষ্ঠান শুনেছিলেন ও দেখেছিলেন তাদের নিয়ে মোট ৪,৯৯২ জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বস্তভাবে যিহোবা ও প্রতিবেশীকে সেবা করুন

“কে যিহোবার পক্ষে?” এটাই ছিল পরিচালক গোষ্ঠীর সদস্য এবং গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের সভাপতি, ভাই ক্যারি বারবারের প্রথম বক্তৃতার বিষয়বস্তু। তিনি বলেছিলেন যে মোশির দিনের ইস্রায়েলীয়দেরও এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল। ছাত্রছাত্রীদের ও যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে অনেক ইস্রায়েলীয়রা যিহোবার পক্ষে ছিল না বলে প্রান্তরে প্রাণ হারিয়েছিল। প্রতিমাপূজা করার পর তারা “ভোজন পান করিতে বসিল, পরে ক্রীড়া করিতে উঠিল।” (যাত্রাপুস্তক ৩২:১-২৯) যীশু খ্রীষ্টানদের এই একই বিপদের বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছিলেন: “আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে।”—লূক ২১:৩৪-৩৬.

পরের বক্তা রচনা বিভাগের জিন স্ম্যালে, ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন: “আপনারা কি ব্যাথা-উপশমকারী ওষুধের মতো হবেন?” কলসীয় ৪:১১ পদে প্রেরিত পৌল বলেছিলেন যে মণ্ডলীর ভাইবোনেরা তার জন্য “সান্ত্বনাজনক” হইয়াছেন। “সান্ত্বনাজনক” শব্দের জন্য পৌল গ্রিক শব্দ প্যারেগোরিয়া ব্যবহার করেছিলেন। আর এই গ্রিক শব্দ থেকে ইংরেজি শব্দ প্যারাগোরিক এসেছে যা ব্যাথা-উপশমকারী একটা ওষুধের নাম। নতুন জগৎ অনুবাদ বাইবেলে এই শব্দকে “শক্তিবর্ধক” হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে।

গ্র্যাজুয়েট মিশনারিরা তাদের কাজের জায়গায় ভাইবোনদের জন্য ব্যাথা-উপশমকারী ওষুধের মতো হতে পারেন আর এরজন্য দরকার সঙ্গী মিশনারীদের সঙ্গে মিলেমিশে নম্রভাবে মণ্ডলীতে ভাইবোনদের সেবা করা আর কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের সাহায্য করা।

এরপর তৃতীয় বক্তৃতা পরিচালক গোষ্ঠীর সদস্য ভাই ড্যানিয়েল সিডলিক দেন। “সুবর্ণ নিয়ম মেনে চলা” ছিল তার বক্তৃতার বিষয়। মথি ৭:১২ পদে যীশু যে সুন্দর নীতি সম্বন্ধে বলেছেন, “সর্ব্ববিষয়ে তোমরা যাহা যাহা ইচ্ছা কর যে, লোকে তোমাদের প্রতি করে, তোমরাও তাহাদের প্রতি সেইরূপ করিও,” তা তিনি বুঝিয়ে দিয়ে বলেছিলেন যে এর মানে শুধু অন্যদের ক্ষতি না করাই নয় বরং অন্যদের জন্য ভাল কিছু করাকেও বোঝায়।

তিনি বলেছিলেন এটা ভালভাবে করার জন্য তিনটে বিষয় দরকার: দেখার মতো চোখ, সহানুভূতিশীল হৃদয় এবং সাহায্যের হাত। পরে ভাই সিডলিক বলেছিলেন: “আমাদের যদি মনে হয় যে আমরা সাহায্য করতে চাই, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তা করা উচিত। আমরা যেমন চাই যে লোকেরা আমাদের জন্য করুক, আমাদেরও তাদের প্রতি সেরকম করার জন্য অনেক চেষ্টা করা উচিত।” বিশেষ করে মিশনারিদের বেলায় এটা সত্যি যারা লোকেদেরকে সত্য খ্রীষ্টধর্ম পালন করা শেখানোর জন্য বিভিন্ন দেশে যান।

শিক্ষকদের আন্তরিক নির্দেশনা

গিলিয়েড স্কুলের শিক্ষক ভাই কার্ল অ্যাডামসের বক্তৃতার বিষয় ছিল “বেড়ে চলুন।” মিশনারিদের কোন্‌ কোন্‌ দিক দিয়ে বেড়ে চলতে বলা হয়েছিল? প্রথমে, জ্ঞানে এবং জ্ঞানকে সঠিক কাজে লাগানোর ক্ষমতায় বেড়ে চলতে হবে। স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের শেখান হয়েছিল যে তারা যখন বাইবেলের কোন ঘটনা পড়বেন তখন সেটা ভাল করে বোঝার জন্য কীভাবে গবেষণা করতে পারেন ও জানতে পারেন যে বাইবেলের এই ঘটনা কখন আর কোন অবস্থায় লেখা হয়েছিল। বাইবেলের প্রত্যেকটা ঘটনা কীভাবে তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে সেই বিষয়ে চিন্তা করার জন্য তাদেরকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে গবেষণা করতে তারা যেন কখনও ভুলে না যান।

ভাই অ্যাডামস্‌ বলেছিলেন “দ্বিতীয় কথা হল আপনাদের প্রেম দেখানোয় বেড়ে চলতে হবে। প্রেম এক চারাগাছের মতো যাতে রোজ জল দিলে তা বাড়বে কিন্তু জল দেওয়া বন্ধ করে দিলেই তা মরে যাবে।” (ফিলিপীয় ১:৯) ভাই ছাত্রছাত্রীদের বলেছিলেন যে এখন তারা মিশনারি আর তাই বিভিন্ন অবস্থায় তাদের প্রেম দেখানোয় বেড়ে চলতে হবে। তৃতীয়ত “আমাদের প্রভু ও ত্রাণকর্ত্তা যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ ও জ্ঞানে বর্দ্ধিষ্ণু হও।” (২ পিতর ৩:১৮) “যিহোবা তাঁর পুত্রের মাধ্যমে আমাদের যে দয়া দেখিয়েছেন তা সত্যিই চমৎকার,” ভাই অ্যাডামস্‌ বলেছিলেন। “সেই অনুগ্রহের জন্য আমাদের উপলব্ধিবোধ যত বাড়বে, ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার এবং তিনি আমাদের যে কাজ দিয়েছেন তা করে চলার মধ্যে আমারা তত বেশি আনন্দও পাব।”

গিলিয়েডের আরেকজন নির্দেশক, মার্ক নুমার “কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে শিখুন, তাহলে আপনি স্থির থাকতে পারবেন,” এই বিষয়ের ওপর বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন: “মিশনারি জীবনের কঠিন পরিস্থিতিগুলোর মোকাবিলা করার জন্য কঠোর চেষ্টা করুন, তাহলেই আপনি স্থির থাকতে পারবেন। যিহোবা যাদেরকে ভালবাসেন শুধু তাদেরই শাসন করেন। কারও দেওয়া পরামর্শকে যদি ঠিক মনে না হয়, বিরক্তিকর অথবা ভুল বলে মনে হয়, তাহলেও আপনি যদি যিহোবাকে ভালবাসেন এবং তাঁর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখতে চান তাহলে তা আপনাকে সেই পরামর্শ মেনে নিতে সাহায্য করবে।”

ভাই নুমার বলেছিলেন যে মিশনারি সেবায় অনেক কর্তব্য রয়েছে। “কিন্তু আপনার যদি ঈশ্বরের প্রতি প্রেম না থাকে, তাহলে আপনি খুশি মনে আপনার কাজ করতে পারবেন না। যিহোবার প্রতি ভালবাসা ছাড়া আপনার ঘরের কাজগুলো—যেমন, রান্না করা, বাজার করা, ফলমূল ধোয়া, জল গরম করা—সবকিছু বিরক্তিকর মনে হতে পারে। এই কাজগুলো করার সময় নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ‘আমি কেন এগুলো করছি?’ আপনি যদি মনে মনে বলেন, ‘আমি আমার সহকর্মী মিশনারি ভাইবোনদের সাহায্য করার জন্য এই কাজগুলো করছি,’ তাহলে এগুলো করা আপনার জন্য কঠিন কিছু হবে না।” শেষে তিনি বলেছিলেন: “পরামর্শ মেনে নেওয়া হোক, মিশনারি কাজে কোন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হোক, ভুলবোঝাবুঝির মীমাংসা করা হোক, যা কিছুই হোক না কেন, যিহোবার প্রতি যদি আপনার প্রেম থাকে, তাহলে তা আপনাকে আপনার কার্যভারে স্থির থাকতে সাহায্য করবে। ‘প্রেম কখনও শেষ [ব্যর্থ] হয় না।’”—১ করিন্থীয় ১৩:৮.

গিলিয়েড নির্দেশক ভাই ওয়ালেস লিভারেন্স পরের বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ছাত্রছাত্রীরা স্থানীয় মণ্ডলীগুলোর সঙ্গে প্রচার করার সময় যে সুন্দর সুন্দর অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন সেগুলোর কিছু নমুনা দেখানো হয়েছিল। মিশনারি প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে তারা ঘরে ঘরে প্রচার করা ছাড়াও ট্রাক স্ট্যান্ডে, ধোপাখানায়, ট্রেন স্টেশনে এবং অন্যান্য জায়গায়ও প্রচার করেছিলেন।

অভিজ্ঞ মিশনারিরা আশ্বাস দেন

নতুন মিশনারিরা যখন বিদেশে যান তখন কি খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার দরকার আছে? তারা কি বিদেশের কার্যভারের কঠিন সমস্যাগুলোকে মোকাবিলা করতে পারেন? নতুন এই ব্যক্তিদের সাহায্য করার জন্য শাখা অফিসগুলো কী করে থাকে? এগুলো এবং অন্যান্য প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য পরিচর্যা বিভাগের ভাই স্টিভেন লেট এবং রচনা বিভাগের ভাই ডেভিড স্প্লান, শাখা কমিটির ভাইদের সাক্ষাৎকার নেন যারা সেইসময় ওয়াচটাওয়ার শিক্ষা কেন্দ্রে শাখা স্কুলে যোগ দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। যে দেশের শাখা কমিটির ভাইদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল সেগুলো হল স্পেন, হংকং, লাইবেরিয়া, বেনিন, ম্যাডাগাসকার, ব্রাজিল এবং জাপান।

যিহোবার এই অভিজ্ঞ দাসেরা, যাদের অনেকেই বেশ অনেক বছর ধরে মিশনারি হিসেবে সেবা করছেন, তারা ছাত্রছাত্রী ও সেইসঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাদের বাবামা ও আত্মীয়দের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য মিশনারি ভাইবোনদের অভিজ্ঞতা থেকে তারা দেখিয়েছিলেন যে সমস্যা ও উদ্বেগগুলোকে সফলভাবে মোকাবিলা করা যায়। তারা যে সমস্যার মুখোমুখি হবেন সেগুলো হয়তো অনেক বড় “কিন্তু তবুও সেগুলোকে সমাধান করা যায় এবং সোসাইটি আমাদেরকে সাহায্য করে,” ম্যাডাগাসকারের একজন মিশনারি, রাইমো কুক্কানেন বলেন। “আমরা কার্যভার বেছে নিইনি কিন্তু আমরা এটা পেয়েছি,” ভাই অস্টেন গুসটাভসোন বলেন, যিনি বর্তমানে ব্রাজিলে সেবা করছেন। “তাই আমরা ঠিক করেছি যে আমাদের কার্যভার চালিয়ে যাওয়াই হল সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত,” ভাই জেমস লিনটন বলেন, যিনি বর্তমানে জাপানে সেবা করছেন। তিনি আরও বলেছিলেন যে মিশনারি কাজে লেগে থাকতে “অভিজ্ঞ মিশনারিদের সঙ্গ” থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছিলেন। মিশনারি হিসেবে কাজ করা আনন্দ দেয় কারণ এর মাধ্যমে যিহোবাকে সেবা করা যায় এবং তাঁর মেষদের যত্ন নেওয়া যায়।

সেই রোগকে এড়িয়ে চলা যা আধ্যাত্মিকতাকে শেষ করে দেয়

শেষ বক্তৃতা দেন পরিচালক গোষ্ঠীর সদস্য ভাই থিওডোর জারাস, যিনি ১৯৪৬ সালে গিলিয়েডের সপ্তম ক্লাসে গ্র্যাজুয়েট হয়েছিলেন। আর তার বক্তৃতার বিষয়বস্তু ছিল “কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে ঈশ্বরের পথে চলতে থাকা।” তিনি বলেন আজ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ ও নৃশংস কাজ হচ্ছে কিন্তু সত্যি বিষয়টা হল যে অনেক ভয়াবহ কাজ মানুষকে জর্জরিত করছে কিন্তু সেগুলো নজরে আসে না।

গীতসংহিতা ৯১ অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে ভাই জারাস এই গীতে বলা “মারী” এবং “সাংঘাতিক ব্যাধি” কী সে কথা বলেন যা আমাদের চারপাশের লাখ লাখ লোকেদের আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে অসুস্থ করছে এবং মেরে ফেলেছে। দিয়াবল ও তার দুষ্ট বিধিব্যবস্থা আধ্যাত্মিকতাকে দুর্বল ও ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য শিক্ষাদীক্ষা ও বস্তুবাদিতার ওপর জোর দেয় আর এটা এক মারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগ লোকেদের আধ্যাত্মিকভাবে মেরে ফেলে। কিন্তু যিহোবা আমাদের আশ্বাস দেন যে এই রোগ সেই ব্যক্তির কাছে ঘেঁষতে পারবে না, “যে ব্যক্তি পরাৎপরের অন্তরালে থাকে।”—গীতসংহিতা ৯১:১-৭.

ভাই জারাস বলেছিলেন যে “বিশ্বাসে অটল থাকা, নিরাপদ স্থানে থাকা খুবই কঠিন। আমরা ‘আধ্যাত্মিকতাবিহীন’ উপহাসকারীদের মতো হব না। আজকে এটা হল একটা সমস্যা। এটা এমন এক সমস্যা যা সংগঠনের সবার জীবনে আসে। আপনার মিশনারির কার্যভারেও আপনি এই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।” (যিহূদা ১৮, ১৯) কিন্তু যে মিশনারিরা গ্র্যাজুয়েট হয়েছিলেন তাদেরকে বলা হয়েছিল যে তারা তাদের কার্যভারে সফলভাবে আধ্যাত্মিকতাকে বজায় রাখতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে তাদেরকে রাশিয়া, এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর ভাইদের কথা চিন্তা করতে বলা হয়েছিল—যারা নিষেধাজ্ঞা, তীব্র বিরোধিতা, উপহাস, নাস্তিকদের অপপ্রচার এবং মিথ্যা অভিযোগ সত্ত্বেও ধৈর্য ধরে যিহোবার সেবা করে চলেছেন। আর অনেক সময় উপজাতিগত সংঘর্ষের কারণে তাদের শারীরিক কষ্টও ভোগ করতে হয় ও তাদের খাবার জিনিসেরও অভাব আছে।

আধ্যাত্মিকতা যখন কমে যেতে থাকে, “তখন সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা দরকার এবং তারপর ঈশ্বরের বাক্যের পরামর্শ মেনে কাজ করা দরকার।” বিষয়টা বোঝানোর জন্য বাইবেলের বিভিন্ন উদাহরণের কথা বলা হয়েছিল। যিহোশূয়কে প্রতিদিন ব্যবস্থাপুস্তক মন দিয়ে পড়তে বলা হয়েছিল। (যিহোশূয়ের পুস্তক ১:৮) যোশিয়ের দিনে যখন ব্যবস্থা পুস্তক পাওয়া গিয়েছিল আর লোকেরা বিশ্বস্তভাবে এর নির্দেশনাগুলো পালন করেছিল, তখন যিহোবা তাদের আশীর্বাদ করেছিলেন। (২ রাজাবলি ২৩:২, ৩) তীমথিয় ছেলেবেলা থেকেই পবিত্র শাস্ত্র সম্বন্ধে জানতেন। (২ তীমথিয় ৩:১৪, ১৫) বিরয়াবাসীরা শুধু মনোযোগী শ্রোতাই ছিলেন না, তাদেরকে “ভদ্র” বলা হয়েছিল কারণ তারা প্রতিদিন শাস্ত্র পরীক্ষা করতেন। (প্রেরিত ১৭:১০, ১১) আর যীশু খ্রীষ্ট হলেন প্রধান উদাহরণ যিনি ঈশ্বরের বাক্য জানতেন ও জীবনে কাজে লাগিয়েছিলেন।—মথি ৪:১-১১.

শেষে ভাই জারাস অন্তর থেকে নতুন মিশনারিদের বলেছিলেন: “আপনারা এখন আপনাদের মিশনারি কার্যভার পালন করার জন্য তৈরি। আর আপনারা শীঘ্রই বিভিন্ন দেশে যাবেন, সত্যি করে বলতে গেলে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়বেন। আমরা যদি আধ্যাত্মিকভাবে জেগে থাকার জন্য কঠিন বাধাগুলোকে মোকাবিলা করি, তাহলে আমরা যা কিছু করার জন্য সংকল্প নিয়েছি তা করতে পারব, কোন কিছুই আমাদের তার থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না। আপনারা উদ্যোগের সঙ্গে প্রচার করবেন, অন্যদেরকে আপনাদের মতো বিশ্বাস দেখাতে উৎসাহ দেবেন আর আপনাদের সঙ্গে আমরা প্রার্থনা করব যেন আপনারা যাদেরকে সত্য শেখাবেন তাদেরকেও যিহোবা যেন সজাগ করেন যেমন তিনি আমাদের করেছেন। তাহলেই সারা পৃথিবীর আধ্যাত্মিক রোগ থেকে আরও অনেকে রক্ষা পাবেন। যিহোবার ইচ্ছা পালন করার জন্য আরও অনেক অনেক লোকেদের সঙ্গে তারাও যোগ দেবেন। আর তা করার জন্য যিহোবা যেন আপনাদের আশীর্বাদ করেন।”

এরপর সভাপতি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা অভিনন্দন বার্তা পড়ার পর, ছাত্রছাত্রীদের ডিপ্লোমা দিয়েছিলেন। এরপর, ছাত্রছাত্রীদের লেখা একটা ধন্যবাদ পত্র পড়া হয়েছিল। এই বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য এবং মিশনারি হিসেবে “পৃথিবীর প্রান্ত পর্য্যন্ত” যাওয়ার যে কার্যভার তারা পেয়েছেন তার জন্য তারা যিহোবা ও তাঁর সংগঠনের কাছে কতই না কৃতজ্ঞ!—প্রেরিত ১:৮.

[২৯ পৃষ্ঠার বাক্স]

ক্লাসের পরিসংখ্যান

যে সমস্ত দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসেছেন তার সংখ্যা: ১১

যে সমস্ত দেশে পাঠানো হয়েছে তার সংখ্যা: ২৪

ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা: ৪৮

দম্পতিদের সংখ্যা: ২৪

গড় বয়স: ৩৪

সত্যে থাকার গড় বয়স: ১৭

পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যার গড় বছর: ১২

[২৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

ওয়াচটাওয়ার বাইবেল স্কুল অফ গিলিয়েডের ১০৭তম গ্র্যাজুয়েটিং ক্লাস

নিচের তালিকাতে সামনে থেকে পিছনে সারিগুলোকে সংখ্যান্বিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেক সারিতে বাম দিক থেকে ডান দিকে নামগুলো তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে।

১. পেরাল্টা, সি.; হোলেনবেক, বি.; শ, আর.; হাসান, এন.; মার্টিন, ডি.; হাচিনসন, এ. ২. এডওয়ার্ডস্‌, এল.; ভিজার, টি.; সেরুটি, কিউ.; এন্সমিনার, জি.; ডালোইজ, এল.; বালিরী, এল. ৩. নাইট, পি.; ক্রাউস, এ.; কাসুসকে, ডি.; রোজ, এম.; ফ্রিডল, কে.; নাইটো, আর. ৪. রোজ, ই.; ব্যাকাস, টি.; ট্যালি, এস.; ওইনবার, ডি.; বার্নহার্ট, এ.; পেরাল্টা, এম. ৫. ডেলোইজ, এ.; ওইনবার, ডি.; ডান, এইচ.; গ্যাটলিং, জি.; শ, জে.; সেরুটি, এম. ৬. বালিরী, এস.; ক্রাউস, জে.; হোলেনবেক, টি.; মার্টিন, এম.; বার্নহার্ট, জে.; হাচিনসন, এম. ৭. ব্যাকাস, এ.; ডান, ও.; গ্যাটলিং, টি.; ভিজার, আর.; নাইট, পি.; হাসান, ও. ৮. নাইটো, সি.; ট্যালি, এম.; ফ্রিডল্‌, ডি.; কাসুসকে, এ.; এডওয়ার্ডস, জে.; এন্সমিনার, এম.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার