রাজ্য ঘোষণাকারীরা বিবৃতি দেয়
নামিবিয়ায় রাজ্যের কাজের বৃদ্ধি
উনিশশ কুড়ির দশকের শেষের দিকে নামিবিয়ায় প্রথম ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার পৌঁছেছিল। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত শত শত নম্র লোক নিজেদেরকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করেছেন কারণ তারা জেনেছেন যে পরিত্রাণ কেবল ঈশ্বরের কাছ থেকেই আসে। নিচের অভিজ্ঞতাগুলো দেখায় যে কীভাবে যিহোবা এই ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে তাঁর খোঁয়াড়ে জড়ো করেছেন।—হগয় ২:৭.
◻ পোলাস একজন কৃষক যিনি উত্তরপূর্ব নামিবিয়ায় বাস করেন। যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয় নামিবিয়ার রাজধানী ভিন্টহূক শহরে। পোলাস শীঘ্রই বিশ্বাস করে নেন যে এটাই হল সত্য ধর্ম। তিনি তখনই আপনি পরমদেশ পৃথিবীতে অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারেন বইটা নিয়ে নেন। এরপর পোলাস তার সবচেয়ে কাছের কিংডম হল রুন্ডু শহরে যান আর সেখানে যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে দেখা করে তাদের কাছে অনুরোধ জানান যে তাদের কেউ যেন এসে তাকে বাইবেল শেখান।
কিন্তু পোলাসের বাড়ি অনেক দূরে হওয়ায় প্রত্যেক সপ্তাহে তার সঙ্গে এসে অধ্যয়ন করা সাক্ষিদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। উৎসাহ না হারিয়ে পোলাস নিজে নিজে বাইবেল পড়তে শুরু করেন। শুধু তাই নয় তিনি বাইবেল থেকে যা কিছু শিখতেন সেগুলো খুব উৎসাহের সঙ্গে অন্যদের কাছে বলতেন। আর এইভাবে কিছুদিনের মধ্যে সেখানে একটা বাইবেল অধ্যয়নের দল গড়ে ওঠে। সেই ছোট দলটা যখন রেডিওতে শুনতে পায় যে রুন্ডুতে যিহোবার সাক্ষিদের সম্মেলন হবে তখন তারা তাদের অল্প আয় থেকেই কিছু কিছু বাঁচিয়ে তা জমা করে এবং সম্মেলনে যাওয়ার জন্য একটা গাড়ি ভাড়া করে।
এই প্রথম যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে মিলিত হতে পারা তাদের জন্য কতই না আনন্দের ছিল! দলটার কাছে নিয়মিত যাওয়ার জন্য শীঘ্রই যোগ্য ভাইদের ব্যবস্থা করা হয়। এখন পোলাসের গ্রামে ছয়জন প্রকাশক আছে।
◻ জোহানা একবার কাউকে যিহোবার সাক্ষিদের সম্বন্ধে খারাপ কথা বলতে শুনেছিলেন আর তখন থেকেই তার মনে ঈশ্বরের নাম জানার ইচ্ছা জেগে উঠেছিল। তিনি বলেছিলেন: “যখন প্রথমবার আমি যিহোবার নাম শুনি তখনই এটা আমার মনের মধ্যে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছিল যে আমি যিহোবার সম্বন্ধে আরও জানার জন্য একেবারে অধীর হয়ে পড়ি। সেইসময়ে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে নামিবিয়া উপকূলের ওয়ালভিস বে-তে থাকতাম। একবার যখন আমরা শহরে গিয়েছিলাম, তখন আমি রাস্তায় কিছু সাক্ষিকে প্রহরীদুর্গ পত্রিকা দিতে দেখি। আমি একটা পত্রিকা নিয়েছিলাম আর আমার অনেক প্রশ্ন থাকায় আমি তাদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা যখন আমাকে জানিয়েছিলেন যে তাদের গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ায় তারা আমার কাছে আসতে পারবেন না, আমি কেঁদে দিয়েছিলাম। শীঘ্রই আমার স্বামী মারা যান আর আমি কেটমানসপে গিয়ে থাকতে শুরু করি। সেখানে একজন বিশেষ অগ্রগামীকে (পূর্ণ-সময়ের সুসমাচার প্রচারককে) পাঠানো হয়েছিল আর আমি যে সত্য অনন্ত জীবনে লইয়া যায় বইটা নিই। শুরুতেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এটাই সত্য ধর্ম।
“এরপরে আমাকে প্রচার করতে বলা হয় কিন্তু লোকেদের কাছে গিয়ে কথা বলতে হবে মনে হলেই আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। প্রচার করাকে আমি এতই ভয় পেতাম যে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার সময় আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করতাম যে প্রচার করার চেয়ে বরং তিনি যেন আমাকে মৃত্যু দেন। আর যখন প্রথমবার আমি রাস্তায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বের হই, আমি একটা সরু গলিতে গিয়ে লুকিয়েছিলাম এই আশায় যে কেউ আমাকে দেখতে পাবে না। কিন্তু শেষে আমি অনেক সাহস করে একটা পত্রিকা বের করে আমার পাশ দিয়ে যে ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন তাকে দেখাই আর তারপর আমি তার কাছে কিছু বলতে পেরেছিলাম। সেই দিন আমি যিহোবার সাহায্যে অনেক লোকেদের কাছে বাইবেলে দেওয়া আশার কথা বলতে পেরেছিলাম।
“এখন প্রায় বার বছর পরে যদিও আমার বেশি টাকা-পয়সা নেই কিন্তু আমার কাছে এক অমূল্য সম্পদ আছে আর তা হল অগ্রগামীর কাজ করার সুন্দর সুযোগ। আর অন্যদের কাছে রাজ্যের বার্তা প্রচার করে যে আনন্দ তার চেয়ে বেশি আনন্দ আমি আর অন্য কোন কাজে পাই না।”