“সদাপ্রভুই প্রজ্ঞা দান করেন”
কোন্ বিষয়গুলোর পিছনে আপনার সময় ও শক্তি চলে যায়? সুনাম অর্জন করাই কি আপনার কাছে বড় বিষয়? ধনদৌলত অর্জন করার জন্য কি আপনি নিজেকে উজাড় করে দেন? একটা ভাল চাকরি পাওয়ার জন্য কোন এক বিশেষ শাখায় পড়াশোনা করা বা বেশ কিছু বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে আপনি কী মনে করেন? অন্যদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা কি আপনার কাছে জরুরি বিষয়? সুস্থ থাকাই কি আপনার প্রধান চিন্তা?
ওপরের এই বিষয়গুলোর অবশ্যই কিছু মূল্য আছে কিন্তু, জীবনে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান বিষয় কোন্টা? বাইবেল উত্তর দেয়: “প্রজ্ঞাই প্রধান বিষয়, তুমি প্রজ্ঞা উপার্জ্জন কর।” (হিতোপদেশ ৪:৭) তাহলে আমরা কীভাবে প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারি আর এর থেকে কী কী উপকার পাওয়া যায়? বাইবেলের হিতোপদেশ বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় এর উত্তর দেয়।
“প্রজ্ঞার দিকে কর্ণপাত কর”
একজন প্রেমময় বাবার মতো, প্রাচীন ইস্রায়েলের জ্ঞানী রাজা শলোমন বলেন: “বৎস, তুমি যদি আমার কথা সকল গ্রহণ কর, যদি আমার আজ্ঞা সকল তোমার কাছে সঞ্চয় কর, যদি প্রজ্ঞার দিকে কর্ণপাত কর, যদি বুদ্ধিতে মনোনিবেশ কর; হাঁ, যদি সুবিবেচনাকে আহ্বান কর, যদি বুদ্ধির জন্য উচ্চৈঃস্বর কর; যদি রৌপ্যের ন্যায় তাহার অন্বেষণ কর, গুপ্ত ধনের ন্যায় তাহার অনুসন্ধান কর; তবে সদাপ্রভুর ভয় বুঝিতে পারিবে, ঈশ্বরবিষয়ক জ্ঞান প্রাপ্ত হইবে।”—হিতোপদেশ ২:১-৫.
আপনি কি দেখেছেন যে প্রজ্ঞা অর্জন করার দায়িত্ব কার? এই পদগুলোতে লেখা রয়েছে “তুমি যদি।” এখান থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে প্রজ্ঞা অর্জন করার দায়িত্ব একজন ব্যক্তির নিজের আর এর সঙ্গে বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিও অর্জন করা দরকার। কিন্তু, এটা করতে হলে প্রথমে বাইবেলে লেখা প্রজ্ঞার বাক্য আমাদের “গ্রহণ” করতে হবে ও তাকে নিজের কাছে “সঞ্চয়” করতে হবে। আর এইজন্য আমাদের বাইবেল অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।
ঈশ্বরের দেওয়া জ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর ক্ষমতা হল প্রজ্ঞা। আর তাই বাইবেলে কত সুন্দরভাবে প্রজ্ঞার কথা লেখা রয়েছে! হ্যাঁ, হিতোপদেশ ও উপদেশক এর বইগুলোতে এই প্রজ্ঞার কথা লেখা আছে আর তাই এই কথাগুলোতে আমাদের ভাল মতো কান দেওয়া দরকার। এছাড়াও বাইবেলের পাতায় পাতায় আমরা অনেক উদাহরণ দেখতে পাই, যা দেখায় যে ঈশ্বরীয় নীতিগুলোকে জীবনে মেনে চললে কোন্ উপকারগুলো আমরা পেতে পারি আর সেগুলোকে উপেক্ষা করলে বিপদজনক ফাঁদে আমরা পড়ে যেতে পারি। (রোমীয় ১৫:৪; ১ করিন্থীয় ১০:১১) উদাহরণস্বরূপ, ভাববাদী ইলীশায়ের, চাকর লোভী গেহসির ঘটনাটা চিন্তা করুন। (২ রাজাবলি ৫:২০-২৭) এই ঘটনাটা কি আমাদের লোভ না করার পিছনে যে প্রজ্ঞা রয়েছে সেই বিষয়ে শিক্ষা দেয় না? এছাড়াও যাকোবের কন্যা দীণা কনান “দেশের কন্যাদের” সঙ্গে এমনি এমনিই দেখা করতে গিয়ে যে করুণ পরিণতি ডেকে এনেছিল সেই সম্বন্ধে কী বলা যায়? (আদিপুস্তক ৩৪:১-৩১) আমরা কি বুঝি না যে খারাপ সঙ্গীসাথিদের সঙ্গে মেলামেশা করা কতখানি বোকামি?—হিতোপদেশ ১৩:২০; ১ করিন্থীয় ১৫:৩৩.
প্রজ্ঞার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য বিচক্ষণতা ও বুদ্ধি অর্জন করাও জরুরি। ওয়েবস্টারস রিভাইসড অ্যানাব্রিজ ডিকশনারি, অনুসারে বিচক্ষণতা হল “মনের এমন শক্তি অথবা ক্ষমতা যা একটা বিষয় থেকে অন্যটার প্রভেদ করে।” ঈশ্বরীয় বিচক্ষণতা হল এমন ক্ষমতা যা ঠিক ও ভুলের মধ্যে প্রভেদ করে ও তারপর ঠিক পথটা বেছে নিতে সাহায্য করে। যদি না আমরা বিচক্ষণতায় ‘মনোনিবেশ করি’ অথবা এটা অর্জন করার জন্য ব্যাকুল হই, তাহলে কীভাবে আমরা ‘জীবনে যাইবার . . . পথে’ চলতে পারব? (মথি ৭:১৪. দ্বিতীয় বিবরণ ৩০:১৯, ২০ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করে ও তা জীবনে কাজে লাগিয়ে আমরা বিচক্ষণতা অর্জন করতে পারব।
বুদ্ধি এমন এক ক্ষমতা আমরা যা একজনকে কোন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বিষয়ের কারণ জানতে সাহায্য করে। তাহলে আমরা কীভাবে এই ‘সুবিবেচনাকে [বুদ্ধিকে] আহ্বান করতে’ পারি? এটা ঠিক যে বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বুদ্ধি বাড়ে কিন্তু আবার এটাও ঠিক যে সবার ক্ষেত্রে তা ঘটে না। (ইয়োব ১২:১২; ৩২:৬-১২) গীতরচক বলেছিলেন: “প্রাচীন লোক হইতেও আমি বুদ্ধিমান, কারণ আমি তোমার নির্দেশ সকল পালন করিয়াছি।” তিনি আরও গেয়েছিলেন: “তব বাক্যসমূহের বিকাশ আলোক প্রদান করে, তাহা অমায়িকদিগকে [অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে] বুদ্ধিমান করে।” (গীতসংহিতা ১১৯:১০০, ১৩০) যিহোবা হলেন ‘অনেক দিনের বৃদ্ধ,’ তাই তিনি সমস্ত মানবজাতির চেয়ে অনেক অনেক বেশি বুদ্ধিমান। (দানিয়েল ৭:১৩) ঈশ্বর অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে বিচক্ষণতা দিতে পারেন, তাকে এমনকি বয়স্ক ব্যক্তিদের চেয়েও বুদ্ধিমান করে দিতে পারেন। অতএব, ঈশ্বরের বাক্য, বাইবেল অধ্যয়ন করা ও জীবনে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের পরিশ্রমী হওয়া উচিত।
হিতোপদেশের দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতেই বলা “তুমি যদি” শব্দগুলোর পরে এই কথাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে যেমন “গ্রহণ কর”, “সঞ্চয় কর”, “আহ্বান কর”, “অন্বেষণ কর” ও “অনুসন্ধান কর।” লেখক কেন এই জোরালো কথাগুলো ব্যবহার করেছেন? একটা বই বলে: “জ্ঞানী ব্যক্তি [এখানে] প্রজ্ঞা অর্জন করার জন্য যে তীব্র আগ্রহ থাকা দরকার সেই বিষয়ের ওপর জোর দেন।” হ্যাঁ, আমাদের অবশ্যই প্রজ্ঞা এবং এর সঙ্গে বিচক্ষণতা ও বুদ্ধি অর্জন করার জন্য তীব্র আগ্রহ থাকা দরকার।
আপনি কি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন?
প্রজ্ঞা অর্জনের জন্য আমাদের অধ্যবসায়ের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করা দরকার। তবে এই অধ্যয়ন শুধু তথ্য লাভের জন্য নয় বা এটা শুধু ওপর ওপর পড়ে যাওয়াই নয় বরং তার চেয়ে আরও বেশি কিছু করা উচিত। আমরা যা কিছু পড়ি তার ওপর ধ্যান করা খুবই জরুরি। প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা অর্জন করার মানে হল যে সমস্যা সমাধান করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শেখা বিষয়গুলোকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে ধ্যান করা। বুদ্ধি অর্জনের জন্য গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার যে নতুন বিষয়গুলোর সঙ্গে আমাদের আগে থেকে জানা বিষয়গুলো কীভাবে মেলে। তাই এটা পরিষ্কার যে বাইবেল অধ্যয়নের জন্য সময় ও কঠোর পরিশ্রম দরকার। ঠিক সেইরকম যেমন সময় ও শক্তি ‘রৌপের . . . অন্বেষণ করা ও গুপ্ত ধনের . . . অনুসন্ধান করায়’ লেগে থাকে। আপনি কি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন? আপনি কি তা করার জন্য “সুযোগ কিনিয়া” নেবেন?—ইফিষীয় ৫:১৫, ১৬.
চিন্তা করে দেখুন যে আমরা যদি আন্তরিকভাবে বাইবেলের একেবারে গভীর পর্যন্ত খনন করি, তাহলে আমাদের সামনে মহামূল্য ধন রয়েছে। আর তাহলে আমরা “ঈশ্বরবিষয়ক জ্ঞান” পাব এমন এক জ্ঞান যা কখনও শেষ হবে না আর যা আমাদের অনন্ত জীবন দেবে! (যোহন ১৭:৩) এছাড়াও, দরকার হল “সদাপ্রভুর ভয়।” আর তাঁর প্রতি এমন শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভয় কতই না উপকারজনক! আমাদের জীবনে যা কিছুই আমরা করি না কেন আমরা যদি তাঁর কথা মনে রাখি, তাহলে আমরা তাঁকে এমনভাবে ভয় করতে শিখব যা আমাদের তাঁকে অসন্তুষ্ট করে এমন কোন কাজ করতে বাধা দেবে।—উপদেশক ১২:১৩.
আধ্যাত্মিক ধনের খোঁজ ও তা খনন করার জন্য আমাদের মধ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা দরকার। আমাদের খোঁজাকে আরও সহজ করার জন্য যিহোবা খনন করার চমৎকার যন্ত্রপাতি দিয়েছেন আর তা হল সত্যের সময়োপযোগী পত্রিকা প্রহরীদুর্গ ও সচেতন থাক! আর সেইসঙ্গে অন্যান্য বাইবেল-ভিত্তিক প্রকাশনাদি। (মথি ২৪:৪৫-৪৭) যিহোবা তাঁর বাক্য ও পথগুলো সম্বন্ধে আমাদের শেখানোর জন্য খ্রীষ্টীয় সভাগুলোর ব্যবস্থা করেছেন। তাই এই সমস্ত সভায় গিয়ে, সেখানে যা কিছু বলা হয় সেগুলো মন দিয়ে শুনে এবং মুখ্য বিষয়গুলো ভাল করে বোঝার চেষ্টা করে যিহোবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার।—ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫.
আপনি ব্যর্থ হবেন না
বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় যে মূল্যবান গুপ্তধন সোনা বা রুপোর জন্য খোঁজ করেও কোন লাভ হয় না। কিন্তু আধ্যাত্মিক ধন খোঁজের বেলায় এমনটা হয় না। কেন নয়? কারণ শলোমন আমাদের নিশ্চিত করেন, “সদাপ্রভুই প্রজ্ঞা দান করেন, তাঁহারই মুখ হইতে জ্ঞান ও বুদ্ধি নির্গত হয়।”—হিতোপদেশ ২:৬.
রাজা শলোমন তার জ্ঞানের জন্য খুবই প্রসিদ্ধ ছিলেন। (১ রাজাবলি ৪:৩০-৩২) বাইবেল বলে যে বিভিন্ন বিষয়ে তার জ্ঞান ছিল যেমন গাছপালা, পশুপাখি, মানুষের স্বভাব ও ঈশ্বরের বাক্য। তিনি যখন তরুণ বয়সী ছিলেন সেইসময় দুজন স্ত্রী তার কাছে একটা জটিল সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন। তারা দুজনেই একটা সন্তানের মা হওয়ার দাবি করছিলেন। কিন্তু রাজা খুবই বিচক্ষণতার সঙ্গে সেই সমস্যার সমাধান করেছিলেন যাতে তার কীর্তি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গিয়েছিল। (১ রাজাবলি ৩:১৬-২৮) তার মহা জ্ঞানের উৎস কী ছিল? শলোমন যিহোবার কাছে “বুদ্ধি ও জ্ঞান” এবং “ভাল মন্দের বিশেষ জানিতে” পারার জন্য প্রার্থনার করেছিলেন। আর যিহোবা তাকে ওই সমস্তকিছু দিয়েছিলেন।—২ বংশাবলি ১:১০-১২; ১ রাজাবলি ৩:৯.
আমরা যখন মন দিয়ে ও পরিশ্রম করে যিহোবার বাক্য অধ্যয়ন করি তখন আমাদেরও তাঁর সাহায্যের জন্য প্রার্থনাও করা উচিত। গীতরচক প্রার্থনা করেছিলেন: “হে সদাপ্রভু, তোমার পথ আমাকে শিক্ষা দেও, আমি তোমার সত্যে চলিব; তোমার নাম ভয় করিতে আমার চিত্তকে একাগ্র কর।” (গীতসংহিতা ৮৬:১১) যিহোবা ওই প্রার্থনা শুনেছিলেন আর তাই এটা বাইবেলে লিখে রাখা হয়েছে। তাই আজকে আমরা যদি বাইবেলের আধ্যাত্মিক ধন খুঁজে পাওয়ার জন্য অন্তর থেকে তাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাহলে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে তিনি আমাদের প্রার্থনা শুনবেন।—লূক ১৮:১-৮.
শলোমন বলেন: “তিনি সরলদিগের জন্য সূক্ষ্ম বুদ্ধি রাখেন, যাহারা সিদ্ধতায় চলে, তিনি তাহাদের ঢাল। তিনি বিচারের মার্গ সকল রক্ষা করেন, আপন সাধুদের পথ সংরক্ষণ করেন। অতএব তুমি ধার্ম্মিকতা ও বিচার বুঝিবে, ন্যায় ও সমস্ত উত্তম পথ বুঝিবে।” (হিতোপদেশ ২:৭-৯) এই কথাগুলো থেকে আমরা কতই না আশ্বাস পাই! যিহোবা অন্তর থেকে তাঁর খোঁজকারীদের শুধু প্রকৃত প্রজ্ঞাই দেন না বরং যে সরল ব্যক্তিরা প্রকৃত প্রজ্ঞা দেখান ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর ধার্মিক মান অনুসারে চলেন তাদের জন্য যিহোবা সুরক্ষাকারী ঢাল হন। আসুন আমরাও সেই লোকেদের মধ্যে থাকি যাদেরকে যিহোবা “সমস্ত উত্তম পথ” বুঝতে সাহায্য করেন।
যখন “জ্ঞান . . . তুষ্টি জন্মাইবে”
প্রজ্ঞা খোঁজার জন্য ব্যক্তিগত বাইবেল অধ্যয়ন খুবই দরকার কিন্তু কিছুজনের জন্য অধ্যয়ন করাই হয়তো খুব কঠিন কাজ। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, ৫৮ বছরের বৃদ্ধ লরেন্স বলেন: “আমি খেটে খাওয়া মানুষ। তাই পড়াশোনা করা আমার কাছে খুবই কঠিন কাজ।” আর ২৪ বছর বয়সী মাইকেল, স্কুলে পড়ার সময় যার পড়াশোনায় একটুও মন ছিল না সে বলে: “পড়তে বসা ও পড়ার জন্য আমি নিজের সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করতাম।” তারপরও, অধ্যয়নের জন্য ইচ্ছা গড়ে তোলা যায়।
মাইকেল কী করেছিলেন তা দেখুন। তিনি বলেন: “প্রতিদিন আধ ঘন্টা করে বসে অধ্যয়ন করার অভ্যাস বানানোর জন্য আমাকে নিজেকে শাসন করতে হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমি দেখেছি যে আমি কত বদলে গেছি, সভায় আমার মন্তব্য, অন্যদের সঙ্গে আমার কথাবার্তা এই সবকিছুতে অনেক পরিবর্তন এসেছিল। এখন আমি আমার অধ্যয়নের সময়ের জন্য খুশি মনে অপেক্ষা করি। আর অধ্যয়ন করার সময়ে কোন বাধা এলে এখন আমার রাগ হয়।” এটা ঠিক যে অধ্যয়ন করে যখন আমরা দেখি যে আমরা আধ্যাত্মিকভাবে উন্নতি করছি তখন অধ্যয়ন করতে আরও ভাল লাগে। লরেন্সও বাইবেল অধ্যয়ন করার জন্য এইরকম চেষ্টা করেছিলেন আর কিছু সময় পরে তিনি যিহোবার সাক্ষিদের মণ্ডলীতে একজন প্রাচীন হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত অধ্যয়ন থেকে আনন্দ পেতে হলে তার জন্য চেষ্টা করে চলতে হয়। আর এর প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। এইজন্য শলোমন বলেন, “কেননা প্রজ্ঞা তোমার হৃদয়ে প্রবেশ করিবে, জ্ঞান তোমার প্রাণের তুষ্টি জন্মাইবে, পরিণামদর্শিতা তোমার প্রহরী হইবে, বুদ্ধি তোমাকে রক্ষা করিবে।”—হিতোপদেশ ২:১০, ১১.
“যেন তোমাকে উদ্ধার করে দুষ্টের পথ হইতে”
কীভাবে প্রজ্ঞা, জ্ঞান, পরিণামদর্শিতা ও বিচক্ষণতা আমাদের রক্ষা করবে? “[সেগুলো] যেন তোমাকে উদ্ধার করে দুষ্টের পথ হইতে, সেই সকল লোক হইতে, যাহারা কুটিল বাক্য বলে, যাহারা সরলতার পথ ত্যাগ করে, অন্ধকার-মার্গে চলিবার নিমিত্ত; যাহারা কুক্রিয়াসাধনে আনন্দিত হয়, দুষ্টতার কুটিলতায় উল্লাসিত হয়; যাহারা বক্র পথের পথিক, আপন আপন আচরণে বিপথগামী।”—হিতোপদেশ ২:১২-১৫.
হ্যাঁ, যারা প্রকৃত প্রজ্ঞা পেতে চান তারা সেইসব লোকের সঙ্গে মেলামেশা করেন না যারা “কুটিল বাক্য বলে” অর্থাৎ যা কিছু সত্য ও সঠিক নয়। পরিণামদর্শিতা ও বিচক্ষণতা সেই লোকেদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে যারা সত্যের পথে নয় কিন্তু ভুল পথে চলতে পছন্দ করে। এটা আমাদের তাদের থেকেও রক্ষা করে যারা খারাপ ও অন্যায় কাজে আনন্দ খুঁজে পায়।—হিতোপদেশ ৩:৩২.
তাই সত্যিই আমরা কৃতজ্ঞ হতে পারি যে প্রকৃত প্রজ্ঞা ও এর সঙ্গে যুক্ত গুণগুলো আমাদেরকে নীতিহীন পুরুষ ও মহিলাদের খারাপ পথ থেকে রক্ষা করে! শলোমন আরও বলেন যে এই গুণগুলো “তোমাকে উদ্ধার করিবে পরকীয়া স্ত্রী হইতে, সেই চাটুবাদিনী বিজাতীয়া হইতে, যে যৌবনকালের মিত্রকে ত্যাগ করে, আপন ঈশ্বরের নিয়ম ভুলিয়া যায়; কেননা উহার বাটী মৃত্যুর দিকে অবনত, উহার পথ প্রেতলোকের দিকে অবনত; যাহারা উহার কাছে যায়, তাহারা আর ফিরে না, তাহারা জীবনের পথ পায় না।”—হিতোপদেশ ২:১৬-১৯.
“পরকীয়া স্ত্রী” অর্থাৎ বেশ্যা তাকে বলা হয়েছে যে কিনা তার “যৌবনকালের মিত্রকে” সম্ভবত তার যৌবনকালের স্বামীকে ত্যাগ করে থাকে।a (মালাখি ২:১৪ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) সে ভুলে যায় যে ঈশ্বরের ব্যবস্থা অনুসারে ব্যভিচার করা অন্যায়। (যাত্রাপুস্তক ২০:১৪) এইরকম করে সে নিজেকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। আর যারা তার সঙ্গ ধরে তারাও হয়তো কখনও “জীবনের পথ পায়” না, তাই এখনই হোক আর পরেই হোক এক সময় তারা এত দূরে চলে যায় যে সেখান থেকে ফিরে আসার কোন পথ থাকে না আর তাদের সামনে তখন একটা মাত্র রাস্তা খোলা থাকে যা হল মৃত্যু। একজন বিচক্ষণ ও পরিণামদর্শী ব্যক্তি অনৈতিকতার ফাঁদগুলো চিনে নেন ও বিজ্ঞতার সঙ্গে সেগুলোতে জড়িয়ে পড়াকে এড়িয়ে চলেন।
“সরলগণ দেশে বাস করিবে”
প্রজ্ঞার ওপর শলোমন যে উপদেশ দিয়েছেন তার সারসংক্ষেপ তিনি এইভাবে করেন, “যেন তুমি সুশীলদের মার্গে চলিতে পার, যেন ধার্ম্মিকগণের পথ অবলম্বন কর।” (হিতোপদেশ ২:২০) প্রজ্ঞা কতই না ভাল কাজ করে! কারণ প্রজ্ঞা মেনে চলে আমরা ঈশ্বরকে খুশি করি আর তা আমাদের জীবনকে সুখী ও সন্তুষ্ট করবে।
এছাড়াও ‘সুশীলদের মার্গে চলে’ এমন লোকেদের জন্য যে আশীর্বাদগুলো আসবে তার কথা একটু চিন্তা করুন। শলোমন আরও বলেন: “সরলগণ দেশে বাস করিবে, সিদ্ধেরা তথায় অবশিষ্ট থাকিবে। কিন্তু দুষ্টগণ দেশ হইতে উচ্ছিন্ন হইবে, বিশ্বাসঘাতকেরা তথা হইতে উন্মূলিত হইবে।” (হিতোপদেশ ২:২১, ২২) আমরা চাই যে আপনিও সেই সিদ্ধ লোকেদের একজন হোন যারা ঈশ্বরের ধার্মিক নতুন জগতে চিরকাল বাস করবেন।—২ পিতর ৩:১৩.
[পাদটীকাগুলো]
a “পরকীয়া” শব্দটা তাদের প্রতি প্রযোজ্য ছিল যারা ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে চলত না আর এইভাবে যিহোবার কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করে নিত। এইজন্য “পরকীয়া স্ত্রী” বলতে একজন বেশ্যাকে বোঝানো হয়েছে যা একজন বিদেশী স্ত্রীর বেলায় সবসময় খাটে না।
[২৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
শলোমন প্রজ্ঞার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। আমাদেরও তাই করা উচিত