ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৮-৩১
  • অন্যায় কাজকে না বলার জন্য শক্তিশালী হওয়া

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • অন্যায় কাজকে না বলার জন্য শক্তিশালী হওয়া
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • না বলা আজকের দিনে বিশেষ জরুরি
  • একজন যুবক ব্যক্তির কাছ থেকে না বলতে শেখা
  • সমবয়সীদের চাপের মুখে না বলা
  • না বলা—জীবন মরণের প্রশ্ন
  • নৈতিকতাকে ঈশ্বরের মতো করে দেখা
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিহোবা আপনাকে সফল হতে সাহায্য করছেন!
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (অধ্যয়ন)—২০২৩
  • একজন দাস ঈশ্বরের বাধ্য হন
    বাইবেল থেকে তুমি যা শিখতে পার
  • তিনি প্রলোভন প্রতিরোধ করেন
    সাহসী হোন এবং ঈশ্বরের সঙ্গে চলুন
আরও দেখুন
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৮-৩১

অন্যায় কাজকে না বলার জন্য শক্তিশালী হওয়া

তীমথি বলে, ‘আমার বয়স যখন ১৫ বছর তখন আমি একটা মুদির দোকানে কাজ করতাম। সেখানে একদিন আমার এক সহকর্মী আমাকে তার বাসায় ডেকেছিল। সে বলেছিল যে তার বাবামা বাসায় থাকবে না, সেখানে কিছু মেয়েরা আসবে এবং তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার সুযোগও পাওয়া যাবে।’ আজকে অনেক যুবক-যুবতীই এধরনের আমন্ত্রণে চট করে হ্যাঁ বলবে। কিন্তু তীমথি কী উত্তর দিয়েছিল? “সঙ্গে সঙ্গে আমি তাকে না করে দিয়েছিলাম কারণ আমি বলেছিলাম যে আমার খ্রীষ্টীয় বিবেক আমাকে সেই মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে অনুমতি দেয় না যাকে আমি বিয়ে করিনি।”

কিন্তু তীমথি যখন না বলছিল আর কারণ ব্যাখ্যা করছিল তখন তার অজান্তেই একজন যুবতী কর্মচারী তার কথাগুলো শুনছিল। তীমথির শুদ্ধতা এই যুবতীকে কৌতূহলী করে তুলেছিল আর খুব শীঘ্রই তীমথিকে তাকেও না বলতে হয়েছিল। তাকে বেশ কয়েকবার না বলতে হয়েছিল যা আমরা পরে দেখব।

অবশ্য শুধু যে আমাদের সময়েই আমরা এইধরনের প্রলোভনের মাধ্যমে নাজেহাল হচ্ছি তা নয়। প্রায় ৩,০০০ বছর আগে রাজা শলোমন লিখেছিলেন: “বৎস, যদি পাপীরা তোমাকে প্রলোভন দেখায়, তুমি সম্মত হইও না। . . . তাহাদের মার্গ হইতে তোমার চরণ নিবৃত্ত কর।” (হিতোপদেশ ১:১০, ১৫) যিহোবা নিজে ইস্রায়েল জাতিকে আদেশ দিয়েছিলেন: “তুমি দুষ্কর্ম্ম করিতে বহু লোকের পশ্চাদ্বর্ত্তী হইও না।” (যাত্রাপুস্তক ২৩:২) হ্যাঁ, অন্যায় কাজ করার প্রলোভনকে দমন করার জন্য কখনও কখনও আমাদের না বলতে হবে, যদিও তা হয়তো অন্যদের কাছে ভাল নাও লাগতে পারে।

না বলা আজকের দিনে বিশেষ জরুরি

অন্যায় কাজে না বলা কখনই সহজ নয় আর বিশেষ করে আজকের দিনে তা আরও কঠিন হতে পারে কারণ আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি বাইবেল যাকে এই বিধিব্যবস্থার ‘শেষ কাল’ বলে। বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে কারণ আজকে লোকেরা সাধারণত বিলাসপ্রিয় ও হিংস্র হয়ে পড়েছে এবং তাদের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বোধ একেবারে নেই বললেই চলে। (২ তীমথিয় ৩:১-৫) এক জেসুইট বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি বলেছিলেন: “আমাদের কাছে পরম্পরাগত নিয়ম ছিল কিন্তু এখন এগুলোর মধ্যে খুঁত ঢুকেছে বা এগুলোর আর চল নেই। মনে হয় যেন এখন নৈতিক বিষয়ে কোনরকম নিয়ম-নির্দেশনাই নেই।” এই একই কথা উচ্চ আদালতের একজন বিচারকও বলেন যে “সাদা আর কালো বলে যেন আর কিছু নেই। সবকিছুই ধূসর . . .। ভাল ও মন্দের পার্থক্য করতে লোকেরা যেন ভুলে গেছে। অন্যায় করে ধরা পড়লে তবেই তা পাপ, তা না হলে তা পাপ নয়।”

প্রেরিত পৌল এরকম মনোভাবের লোকেদের সম্বন্ধে লিখেছিলেন যে “তাহারা চিত্তে অন্ধীভূত, ঈশ্বরের জীবনের বহির্ভূত হইয়াছে, আন্তরিক অজ্ঞানতা প্রযুক্ত, হৃদয়ের কঠিনতা প্রযুক্ত হইয়াছে। তাহারা অসাড় হইয়া সলোভে সর্ব্বপ্রকার অশুচি ক্রিয়া করিবার জন্য আপনাদিগকে স্বৈরিতায় সমর্পণ করিয়াছে।” (ইফিষীয় ৪:১৮, ১৯) কিন্তু তাদের জন্য বিপদ অপেক্ষা করে আছে। যিশাইয় ঘোষণা করেছিল: “ধিক্‌ তাহাদিগকে, যাহারা মন্দকে ভাল, আর ভালকে মন্দ বলে, আলোকে আঁধার, ও আঁধারকে আলো বলিয়া ধরে।” (যিশাইয় ৫:২০) এধরনের লোকেরা শুধু তারা যা বুনেছে তাই কাটবে না কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তারা চরম “ধিক” অর্থাৎ যিহোবার কাছ থেকে প্রতিকূল বিচার ভোগ করবে।—গালাতীয় ৬:৭.

গীতসংহিতা ৯২:৭ পদ বলে, “দুষ্টগণ যখন তৃণের ন্যায় অঙ্কুরিত হয়, অধর্ম্মাচারী সকলে যখন প্রফুল্ল হয়, তখন তাহাদের চির-বিনাশের জন্য সেইরূপ হয়।” অন্য কথায় দুষ্টতার এই অতি বৃদ্ধি চিরকালের জন্য চলবে না বা তাদের জন্য অন্য সকলকে চিরকালের জন্য কষ্টভোগ করতে হবে না। প্রকৃতপক্ষে যীশু বলেছিলেন, যে “কালের” লোকেরা এই দুষ্টতা ঘটাচ্ছে তাদের ঈশ্বর ‘মহাক্লেশের’ মাধ্যমে দূর করবেন। (মথি ২৪:৩, ২১, ৩৪) তাই এই ক্লেশের মধ্যে থেকে আমরা যদি রক্ষা পেতে চাই, তাহলে আমাদের জানা দরকার যে ঈশ্বরের মান অনুযায়ী কোন্‌টা ঠিক ও কোন্‌টা ভুল। এছাড়াও যে কোনরকমের অন্যায় কাজকে না বলার জন্য আমাদের নৈতিক শক্তি থাকা প্রয়োজন। যেহেতু এটা করা খুব সহজ নয়, তাই যিহোবা আমাদের সাহস বাড়াতে বাইবেলের সময়ের এবং আজকের দিনের লোকেদের অনেক উৎসাহমূলক উদাহরণ দিয়েছেন।

একজন যুবক ব্যক্তির কাছ থেকে না বলতে শেখা

এমনকি খ্রীষ্টীয় মণ্ডলীতেও কারও কারও পক্ষে ব্যভিচার এবং পারদারিকতার ক্ষেত্রে না বলা খুবই কঠিন বলে মনে হয়। শুরুতেই বলা তীমথি বাইবেলের আদিপুস্তক ৩৯:১-১২ পদে লেখা যুবক যোষেফের উদাহরণ মনে রেখেছিল। মিশরের কর্ম্মচারী পোটীফরের স্ত্রী বার বার তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিল কিন্তু যোষেফ অন্যায় কাজকে না বলার জন্য তার নৈতিক শক্তি দেখিয়েছিলেন। বিবরণ বলে যোষেফ “অস্বীকার করতঃ . . . কহিলেন, . . . আমি কিরূপে এই মহা দুষ্কর্ম্ম করিতে ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করিতে পারি?”

দিনের পর দিন পোটীফরের স্ত্রীর আমন্ত্রণে না বলার নৈতিক শক্তি যোষেফ কোথা থেকে পেয়েছিলেন? প্রথমত তিনি ক্ষণিকের আনন্দের চেয়ে বরং যিহোবার সঙ্গে তার সম্পর্ককে অনেক বেশি মূল্য দিয়েছিলেন। এছাড়া ঈশ্বরের নিয়মের (তখন পর্যন্ত মোশির ব্যবস্থা ছিল না) অধীন না হওয়া সত্ত্বেও নৈতিক নিয়ম সম্বন্ধে যোষেফের পরিষ্কার ধারণা ছিল, তিনি জানতেন যে পোটীফরের মোহগ্রস্ত স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা শুধু তার স্বামীর বিরুদ্ধেই নয় কিন্তু যিহোবার বিরুদ্ধেও পাপ।—আদিপুস্তক ৩৯:৮, ৯.

যোষেফ বুঝেছিলেন যে তিনি যদি তার বাসনায় ইন্ধন জোগান, তাহলে তা এমন প্রবল হতে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হতে পারে। একজন খ্রীষ্টান যদি যোষেফের উদাহরণ অনুসারে চলেন, তাহলে তা বিজ্ঞতার কাজ হবে। ১৯৫৭ সালের ১লা জুলাই প্রহরীদুর্গ (ইংরেজি) বলে: “একজন খ্রীষ্টানের অবশ্যই তার মাংসিক দুর্বলতাগুলোকে চেনা দরকার এবং কখনই মনে করা উচিত নয় যে যৌনতার বিষয়ে শাস্ত্রীয় নীতি যে সীমা বেঁধে দিয়েছে সেই পর্যন্ত গিয়ে সে নিজেকে দমন করতে পারবে। এমনকি সে যদি কিছুদিন তা করতে সফল হয়ও, একদিন না একদিন সে সেই সীমা পার করে পাপ করে ফেলবে। আর এটা অবশ্যই হবে কারণ যে কামনাকে মনে মনে পোষণ করা হয় তা ধীরে ধীরে তীব্র হয়ে ওঠে ও সেই ব্যক্তির মধ্যে শিকড় গাঁড়ে। আর তখন সেই ব্যক্তির জন্য তার মাথা থেকে সেই চিন্তাকে সরিয়ে ফেলা খুবই মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। তাই সবচেয়ে ভাল হয় যদি সে শুরুতেই তার বিরুদ্ধে লড়াই করে।”

শুরুতেই লড়াই করা সহজ হবে যদি আমরা ভাল কাজের জন্য প্রেম গড়ে তুলি এবং অন্যায় কাজকে ঘৃণা করি। (গীতসংহিতা ৩৭:২৭) কিন্তু এটা করার জন্য আমাদেরকে চেষ্টা করে যেতে হবে, আমাদের লেগে থাকতে হবে। যিহোবার সাহায্যে আমরা যদি তা করার চেষ্টা করি, তাহলে যা ভাল তার জন্য আমাদের প্রেম এবং যা মন্দ তার প্রতি আমাদের ঘৃণা বাড়তে থাকবে। এর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেমন যীশু আমাদেরকে বলেছিলেন। এছাড়া পরীক্ষায় না পড়ার জন্য এবং মন্দ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করে যেতে হবে।—মথি ৬:১৩; ১ থিষলনীকীয় ৫:১৭.

সমবয়সীদের চাপের মুখে না বলা

সমবয়সীদের চাপ হল আরেকটা প্রভাব যাদের জন্য আমরা অন্যায় কাজ করে ফেলতে পারি। একজন যুবতী বলেছিল: “আমি দুরকম জীবনযাপন করছিলাম—একরকম স্কুলে এবং আরেক রকম ঘরে। স্কুলে আমি এমন ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মেলামেশা করতাম যারা বেশির ভাগ সময়ই নোংরা কথাবার্তা বলত। আর ধীরে ধীরে আমিও ঠিক তাদের মতোই হয়ে উঠি। এখন আমার কী করা উচিত?” তাদের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য সাহস দরকার এবং এর একটা উপায় হল বাইবেল পড়া ও ধ্যান করা যা আমাদেরকে ঈশ্বরের বিশ্বস্ত দাসেদের যেমন, যোষেফের কথা বলে। আরও কিছু ভাল উদাহরণ হল দানিয়েল, শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্‌-নগো। এই চারজন যুবকের তাদের সমবয়সীদের থেকে আলাদা থাকার সাহস ছিল।

অন্যান্য যুবকদের সঙ্গে বাবিলের রাজপ্রাসাদে থেকে এই চার যুবক যখন শিক্ষা নিচ্ছিলেন তখন তাদেরকে ‘রাজার আহারীয় দ্রব্যের . . . প্রতিদিনের অংশ’ খাওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছিল। মোশির ব্যবস্থায় দেওয়া খাদ্য-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করতে না চাওয়ায় তারা সেই খাবার খাওয়ার ব্যাপারে না বলেছিলেন। আর এই না বলার জন্য যথেষ্ট শক্তির প্রয়োজন ছিল কারণ “রাজার আহারীয় দ্রব্য” নিশ্চয়ই খুব লোভনীয় ছিল। আজকে খ্রীষ্টানদের জন্য এই যুবকেরা কতই না ভাল উদাহরণ রেখে গিয়েছেন যাদেরকে হয়তো অতিরিক্ত মদ খাওয়া অথবা মাদকদ্রব্য এবং তামাক ব্যবহার করার জন্য লোভ দেখানো হয় বা চাপ দেওয়া হয়।—দানিয়েল ১:৩-১৭.

শদ্রক, মৈশক এবং অবেদ্‌-নগো এই বিষয়টাকেও সত্যি বলে দেখিয়েছিলেন যা পরে যীশু বলেছিলেন: “যে ক্ষুদ্রতম বিষয়ে বিশ্বস্ত, সে প্রচুর বিষয়েরও বিশ্বস্ত।” (লূক ১৬:১০) খাবার খাওয়া বা না খাওয়ার মতো ছোট বিষয়ে সাহসের সঙ্গে বিশ্বাসে স্থির থাকা ও তার ফলে যিহোবা তাদের যে আশীর্বাদ করেছিলেন তা পরে তাদেরকে আরও কঠিন পরীক্ষার জন্য শক্তিশালী করে তুলেছিল। (দানিয়েল ১:১৮-২০) আর তাদের ওপর এই পরীক্ষা এসেছিল যখন তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে প্রতিমাকে প্রণাম না করলে তাদের আগুনে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলা হবে। এই তিন যুবক সাহসের সঙ্গে শুধু যিহোবাকেই সেবা করার জন্য দৃঢ় ছিলেন এবং যিহোবার ওপর পুরোপুরি ভরসা করে যে কোন পরিণামের জন্য তৈরি ছিলেন। তাদেরকে যখন জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে ফেলে দেওয়া হয় তখন সেই অগ্নিশিখা থেকে আশ্চর্যজনকভাবে রক্ষা করে যিহোবা আরও একবার তাদের সাহস ও বিশ্বাসকে আশীর্বাদ করেছিলেন।—দানিয়েল ৩:১-৩০.

বাইবেলে এমন অনেক ব্যক্তিদের কথা বলা আছে যারা অন্যায় কাজকে না বলেছিলেন। মোশি “ফরৌণের কন্যার পুত্ত্র বলিয়া আখ্যাত” হতে অস্বীকার করেছিলেন যদিও এটা হয়তো তাকে মিশরে ‘পাপজাত ক্ষণিক সুখভোগের’ সুযোগ করে দিত। (ইব্রীয় ১১:২৪-২৬) ভাববাদী শমূয়েল ঘুষ নিয়ে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। (১ শমূয়েল ১২:৩, ৪) যীশু খ্রীষ্টের প্রেরিতেরা সাহসের সঙ্গে না বলেছিলেন যখন তাদেরকে প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। (প্রেরিত ৫:২৭-২৯) যীশু নিজে সমস্ত মন্দ কাজের সময় দৃঢ়ভাবে না বলেছিলেন—তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে যখন সৈন্যরা তাঁকে “গন্ধরসে মিশ্রিত দ্রাক্ষারস” দিতে চেয়েছিল তখনও তিনি দৃঢ় ছিলেন। যদি তিনি দৃঢ় না থাকতেন তাহলে সেই কঠিন সময়ে তার সংকল্প দুর্বল হয়ে যেতে পারত।—মার্ক ১৫:২৩; মথি ৪:১-১০.

না বলা—জীবন মরণের প্রশ্ন

যীশু বলেছিলেন: “সঙ্কীর্ণ দ্বার দিয়া প্রবেশ কর, কেননা সর্ব্বনাশে যাইবার দ্বার প্রশস্ত ও পথ পরিসর, এবং অনেকেই তাহা দিয়া প্রবেশ করে; কেননা জীবনে যাইবার দ্বার সঙ্কীর্ণ ও পথ দুর্গম, এবং অল্প লোকেই তাহা পায়।”—মথি ৭:১৩, ১৪.

প্রশস্ত পথ সবার ভাল লাগে কারণ তাতে যাওয়া খুব সহজ। এই পথের পথিকেরা যা কিছু করতে পারে, তাদের চিন্তাধারা ও চালচলন মাংসিক, তারা শয়তানের জগৎ থেকে আলাদা নয় আর তারা আলাদা হতে চায়ও না। ঈশ্বরের আইন এবং নিয়মকে তারা একটা গণ্ডি বলে মনে করে যেন তারা সেই গণ্ডির মধ্যে আটকা পড়েছে। (ইফিষীয় ৪:১৭-১৯) কিন্তু যীশু নির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছিলেন যে প্রশস্ত রাস্তা “সর্ব্বনাশে যাইবার” দিকে নিয়ে যায়।

কিন্তু কেন যীশু বলেছেন যে খুব অল্প লোকই সংকীর্ণ রাস্তা বেছে নেবে? প্রথমত খুব কম লোকই তাদের জীবনে ঈশ্বরের আইন এবং নিয়ম মেনে চলতে চায় এবং চায় যে সেগুলো তাদের চারপাশের অনেক প্রলোভন এবং মন্দ কাজগুলোকে না বলতে সাহায্য করুক। এছাড়াও খুব কম লোকেরাই অন্যায় ইচ্ছা, সমবয়সীদের চাপ ও এই বিশেষ পথে চলার কারণে আসা ঠাট্টার ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় না।—১ পিতর ৩:১৬; ৪:৪.

প্রেরিত পৌল পাপকে না বলার জন্য লড়াই করার সময় কেমন বোধ করেছিলেন, তা সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে যারা চলেন তারা ভালভাবে বোঝেন।। আজকের জগতের মতো পৌলের দিনেও রোমীয় এবং গ্রিক সমাজের লোকেরা মন্দ কাজ করার জন্য বড় রাস্তা তৈরি করে সুযোগ করে দিত। পৌল বর্ণনা করেছিলেন, তার মন জানত যে কোন্‌টা ঠিক আর তার মন তার মাংসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ করে চলত যা তাকে অন্যায় করার দিকে ঠেলে দিত। (রোমীয় ৭:২১-২৪) পৌল জানতেন যে তার শরীর একজন উত্তম দাস কিন্তু একজন উত্তম প্রভু নয় তাই তিনি না বলতে শিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “আমার নিজ দেহকে প্রহার করিয়া দাসত্বে রাখিতেছি।” (১ করিন্থীয় ৯:২৭) কীভাবে তিনি তা করেছিলেন? তার নিজের শক্তিতে নয় কিন্তু ঈশ্বরের আত্মার সাহায্যে কারণ তার নিজের শক্তি এটা করতে পারত না।—রোমীয় ৮:৯-১১.

ফলে, পৌল যদিও অসিদ্ধ ছিলেন কিন্তু যিহোবার প্রতি শেষ পর্যন্ত তার বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি লিখতে পেরেছিলেন: “আমি উত্তম যুদ্ধে প্রাণপণ করিয়াছি, নিরূপিত পথের শেষ পর্য্যন্ত দৌড়িয়াছি, বিশ্বাস রক্ষা করিয়াছি। এখন অবধি আমার নিমিত্ত ধার্ম্মিকতার মুকুট তোলা রহিয়াছে।”—২ তীমথিয় ৪:৭, ৮.

আমরা আমাদের অসিদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে পারি কারণ আমাদের জন্য শুধু পৌলই নয় কিন্তু আরও কতই না উৎসাহজনক উদাহরণ রয়েছে, যারা পৌলের জন্যও উদাহরণ ছিলেন যেমন যোষেফ, মোশি, দানিয়েল, শদ্রক, মৈশক, অবেদ্‌-নগো এবং আরও অনেকে। যদিও তারা অসিদ্ধ ছিলেন তারা প্রত্যেকেই বিশ্বাসের কারণে অন্যায় কাজে না বলেছিলেন। আর তারা যে একগুঁয়ে বা জেদি ছিলেন বলে না করেছিলেন তা নয় কিন্তু তারা যিহোবার আত্মার কাছ থেকে পাওয়া নৈতিক শক্তির কারণে তা করেছিলেন। (গালাতীয় ৫:২২, ২৩) তারা আধ্যাত্মিকমনা লোক ছিলেন। তারা ঈশ্বরের মুখের বাক্যের জন্য ক্ষুধার্ত ছিলেন। (দ্বিতীয় বিবরণ ৮:৩) তাঁর বাক্য তাদের জন্য জীবন ছিল। (দ্বিতীয় বিবরণ ৩২:৪৭) সবচেয়ে বড় কথা হল যে তারা যিহোবাকে ভালবাসতেন ও ভয় করতেন আর তাঁর সাহায্যে তারা ধীরে ধীরে অন্যায় কাজের প্রতি ঘৃণা গড়ে তুলেছিলেন।—গীতসংহিতা ৯৭:১০; হিতোপদেশ ১:৭.

আমরাও তাদের মতো হতে চাই। তাদের মতো আমাদেরও অন্যায় কাজকে না বলার জন্য যিহোবার আত্মার সাহায্যের প্রয়োজন। যিহোবা উদারভাবে আমাদেরকে তাঁর আত্মা দেবেন যদি আমরা আন্তরিকভাবে তার জন্য প্রার্থনা করি, তাঁর বাক্য অধ্যয়ন করি এবং খ্রীষ্টীয় সভাগুলোতে যাওয়া বন্ধ না করি।—গীতসংহিতা ১১৯:১০৫; লূক ১১:১৩; ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫.

শুরুতেই যে তীমথির কথা বলা হয়েছিল সে তার আধ্যাত্মিক প্রয়োজনগুলোকে হালকাভাবে না দেখায় খুশি ছিল। সেই যুবতী যে তীমথির কথা আড়ি পেতে শুনেছিল এবং তীমথির শুদ্ধতায় আকৃষ্ট হয়েছিল, সে একদিন লুকিয়ে তীমথিকে তার বাসায় আসার জন্য ডেকেছিল যখন তার স্বামী ঘরে ছিল না। তীমথি না বলেছিল। কিন্তু সেও এত তাড়াতাড়ি হার মানেনি, পোটীফরের স্ত্রীর মতো অনেকবার সে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। প্রতিবারই তীমথি দৃঢ় কিন্তু নম্রভাবে না করেছিল। সে এমনকি এই যুবতীকে ঈশ্বরের বাক্য থেকে সাক্ষ্যও দিয়েছিল। যিহোবা যে তাকে অন্যায় কাজকে না বলার নৈতিক শক্তি দিয়েছিলেন তার জন্য তীমথি খুবই কৃতজ্ঞ। তীমথি এখন একজন ভাল খ্রীষ্টীয় বোনকে বিয়ে করেছেন আর তারা খুবই সুখী। সত্যিই যারা অন্যায় কাজে না বলে তাদের খ্রীষ্টীয় বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে চান তাদেরকে যিহোবা আশীর্বাদ করেন এবং শক্তিশালী করেন।—গীতসংহিতা ১:১-৩.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার