ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ৬/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭
  • দাঙ্গাহাঙ্গামা শেষ করা যেতে পারে

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • দাঙ্গাহাঙ্গামা শেষ করা যেতে পারে
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • দাঙ্গাহাঙ্গামার কয়েকটা মূল কারণ
  • কিশোরকিশোরীদের জন্য উপকারী পরামর্শ
  • প্রতিবাদের চেয়ে আরও ভাল কিছু
  • দাঙ্গাহাঙ্গামা মুক্ত এক নতুন জগৎ সম্ভব
  • দাঙ্গাহাঙ্গামা—কেন?
    ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • সব জায়গার লোকই ঘৃণার শিকার হয়
    প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য সম্বন্ধে ঘোষণা করে (জনসাধারণের সংস্করণ)—২০২২
  • ঈশ্বরের উদ্দেশ্য শীঘ্রই বাস্তবে রূপায়িত হবে
    জীবনের উদ্দেশ্য কী? আপনি কিভাবে তা পেতে পারেন?
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ৬/১৫ পৃষ্ঠা ৪-৭

দাঙ্গাহাঙ্গামা শেষ করা যেতে পারে

লেখিকা জেন নরম্যান এবং লেখক মাইরন ডব্লিউ. হ্যারিস বলেন “কিশোরেরা যখন দাঙ্গাহাঙ্গামা করে তখন তা সবসময়ই বড়দের অসম্মান এবং তাদের আদর্শের বিরোধিতা করার একটা পথ বলে ধরে নেওয়া হয়।” যদিও অনেক কিশোরকিশোরী মনে করে যে এই পরিস্থিতিকে কোনভাবেই বদলানো যাবে না কিন্তু “প্রতি ৩ জনের মধ্যে একজন মনে করে, বাবামারা যদি তাদের ছেলেমেয়েদের দিকে আরেকটু বেশি নজর দেন এবং কিশোরকিশোরীরা যদি অতিরিক্ত একঘেয়েমিতে না ভোগে, তাহলে তারা এমন দাঙ্গাহাঙ্গামাকে বন্ধ করে দেবে, এই লেখক-লেখিকারা বলেন।” তাই কিশোরকিশোরীদের কোন কিছু দিয়ে ব্যস্ত রাখলে এবং বাবামারা তাদের আরেকটু ভালভাবে শাসন করলে হয়তো দাঙ্গাহাঙ্গামা কমে যেতে পারে কিন্তু শুধু কি তা করলেই আসল সমস্যাকে সামলানো যাবে?

আসলে ছেলেমেয়েরা যখন একা থাকে তখন অনেকেই কোন সমস্যা তৈরি করে না কিন্তু যখন তারা দল বেঁধে থাকে বা দু একজন বন্ধুর সঙ্গে থাকে তখন হয়তো তারা দুষ্টুমি এবং খারাপ কাজ করে অন্যের মনোযোগ কাড়ার চেষ্টা করে থাকে। নেলসন ঠিক এটাই করেছিল, প্রায়ই সে নেশাকর ওষুধ বা মদ খেয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তার রাগ ও অসন্তোষকে প্রকাশ করত। জোসের ব্যাপারটা দেখুন। ক্যাথলিক গির্জায় জমির ভাগ বোটোয়ারা ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে দেওয়া বক্তৃতায় জোস উত্তেজিত হয়ে ওঠে আর মনে করে যে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তারও ধর্মঘটে অংশ নেওয়া এবং দাঙ্গাহাঙ্গামা করা উচিত। কিন্তু নেলসন এবং জোস দুজনেই পরে এমন কিছু খুঁজে পেয়েছিল যা দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা উশৃঙ্খলতার চেয়ে অনেক ভাল।

দাঙ্গাহাঙ্গামার কয়েকটা মূল কারণ

আসুন আরেকটু ভালভাবে দেখা যাক যে কেন কিছু ছেলেমেয়েরা দাঙ্গাহাঙ্গামা করে। অনেক কিশোরকিশোরীই বিভ্রান্ত এবং তারা “জগৎকে গোলকধাঁধাময় হুজুগে জায়গা বলে, যা পাগল লোকেতে ভরা।” অনেক লোকেরা মনে করে যে এই কিশোরকিশোরীরা কিছুরই ধার ধারে না কিন্তু একটা রিপোর্ট বলেছিল: “তাদের জীবন কোন্‌ দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে কিশোরকিশোরীরা দুশ্চিন্তায় ভোগে। বড়রা যতটা মনে করেন, জগৎ সংসার নিয়ে তারা তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবে।” তাই ইচ্ছা করেই হোক বা অনিচ্ছাতেই হোক একজন কিশোর যখন দাঙ্গাহাঙ্গামা করে, তার কারণ হল হয় সে অখুশি বা তার সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি অথবা তার চাহিদাগুলো অপূর্ণ থেকে গেছে। শুরুতে যে গবেষণার কথা বলা হয়েছে সেটা বলে, “যাদেরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাদের মধ্যে একজনও বলেননি যে দাঙ্গাহাঙ্গামা করা ঠিক বা উচিত। এমনকি যারা দাঙ্গাহাঙ্গামা করে তারাও বলেনি যে এটা করা ঠিক।”

প্রায়ই এরকম হয় যে একজন কিশোর বা কিশোরী হয়তো খুব কমই প্রশংসা পেয়ে থাকে বা খুব কমই তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়। লেখাপড়া শেখা দিনে দিনে খুবই জরুরি হয়ে পড়ছে, তাছাড়া বেশিরভাগ চাকরির জন্যই কোন বিশেষ জ্ঞান বা কারিগরি বিদ্যার ওপর উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার দরকার হয়, তাই তারা হয়তো সাহস হারিয়ে ফেলতে পারে। এছাড়াও, বাবামা, শিক্ষক-শিক্ষিকা বা বন্ধুরা হয়তো অনেক খুঁত ধরতে পারে ও যা না তাই আশা করতে পারে। আর এটা করায় শুধু এই ব্যাপারেই নজর দেওয়া হয় যে কিশোরকিশোরীরা কতখানি সাফল্য পেল কিন্তু আসলে তারা কীরকম ব্যক্তি হয়ে গড়ে উঠছে সেই দিকটা উপেক্ষিত থেকে যায়। অনেকে বিদ্রোহ করে বা দাঙ্গাহাঙ্গামা করে কারণ তারা নিজেরা নিজেদের ওপরই বিরক্ত। যদি বাবামারা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে আরেকটু বেশি ভালবাসা দেন, তাদের প্রতি আরেকটু বেশি মনোযোগ দেন, তাহলে কি এইরকম যন্ত্রণাকে অনেকটা কমিয়ে আনা যায় না?

আপনি হয়তো দেখে থাকবেন যে কিছু কিছু কর্তৃপক্ষ দেয়াল লিখন এবং অন্যান্য ধরনের অপরাধ দমন করার চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু অন্যেরা যারা এই সমস্যাকে দূর করতে চান এখনও শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছেন। আইন প্রয়োগ সম্বন্ধে দ্যা ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া বলে: “দাঙ্গাহাঙ্গামার শাস্তি হল জরিমানা বা জেলে দেওয়া। কিছু স্থানীয় সরকারের এমন আইন আছে যা ছেলেমেয়েদের উশৃঙ্খলতার জন্য বাবামাকে দায়ী করে। কিন্তু বেশিরভাগ দাঙ্গাহাঙ্গামার জন্যই কোন শাস্তি দেওয়া হয় না। কারণ এইসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করা খুবই কঠিন আর এতে লোকেদের এত বেশি ক্ষতি হয় না যে তার জন্য আইনগত কোন পদক্ষেপ নেওয়া যায়।” একটা রিপোর্ট দেখিয়েছিল যে শুধু ৩ শতাংশ অপরাধীরাই ধরা পড়ে।

আপনিও হয়তো একমত হবেন যে বাবামারা যদি ছেলেমেয়েদের ঠিকমতো দেখাশোনা করেন, তাহলে তারা অপরাধ করবে না আর এটাই এই সমস্যাকে মেটানোর সবচেয়ে ভাল উপায়। কিন্তু যখন পারিবারিক জীবনের মানই খারাপ হয়ে যায় তখন তার ফল সমাজকেও ভুগতে হয়। ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা এনা লুইজা ভিয়েরা ডি ম্যাটোস বলেন যে কিশোরকিশোরীরা সমস্যার সৃষ্টি করে কারণ তাদের “বাবামারা ঠিক করে তাদের দেখাশোনা করেন না, পরিবারে কোন নিয়ম নীতি থাকে না, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা হয় না, তাদের অবহেলা করা হয় আর তারা স্নেহ ভালোবাসার অভাব বোধ করে।”

আর আজ আমরা সত্যিই যীশুর কথাগুলোকে পরিপূর্ণ হতে দেখেছি: “অধর্ম্মের বৃদ্ধি হওয়াতে অধিকাংশ লোকের প্রেম শীতল হইয়া যাইবে।” (মথি ২৪:১২) আর কেই বা অস্বীকার করতে পারেন যে ২ তীমথিয় ৩:১-৪ পদে লেখা কথাগুলো সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে? প্রেরিত পৌল লিখেছিলেন: “ইহা জানিও, শেষ কালে বিষম সময় উপস্থিত হইবে। কেননা মনুষ্যেরা আত্মপ্রিয়, অর্থপ্রিয়, আত্মশ্লাঘী, অভিমানী, ধর্ম্মনিন্দক, পিতামাতার অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ, অসাধু, স্নেহরহিত, ক্ষমাহীন, অপবাদক, অজিতেন্দ্রিয়, প্রচণ্ড, সদ্‌বিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ, ঈশ্বরপ্রিয় নয়, বরং বিলাসপ্রিয় হইবে।” সত্যি বলতে কী, এইরকম খারাপ লোকেদের সঙ্গে বাস করা কিশোর অপরাধকে বাড়িয়ে দেয়। তবে আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সমাজের সকলে মিলে দাঙ্গাহাঙ্গামাকে দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে ঠিকই কিন্তু এমন লোকেরাও আছেন যারা নিজেদের চালচলন একেবারে বদলে নিয়েছেন। তাদের আচরণ এখন আর খারাপ নয় বা তারা বেপরোয়াও নন। তারা এখন আর দাঙ্গাহাঙ্গামা করেন না।

কিশোরকিশোরীদের জন্য উপকারী পরামর্শ

কী এই উশৃঙ্খল ছেলেদের এবং অন্যদের তাদের অভ্যাসকে বদলাতে সাহায্য করেছে? বাইবেল, কারণ বাইবেলই চমৎকার ও সময়োপযোগী শিক্ষা দেয় যদিও কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বাবামায়ের পক্ষে তা মেনে নেওয়া মুশকিল। এই পরামর্শ মেনে চলে অনেক উশৃঙ্খল ছেলেরা ঈশ্বরের এই বিশেষ আজ্ঞার বাধ্য হওয়ার জন্য উৎসাহিত হয়েছে: “তুমি দুষ্কর্ম্ম করিতে বহু লোকের পশ্চাদ্বর্ত্তী হইও না।” (যাত্রাপুস্তক ২৩:২) অনেকে ঈশ্বরের বাক্য থেকে বিভিন্ন বিশ্বাস এবং মতবাদ সম্বন্ধে সত্য দেখতে পেয়েছে, যা তারা আগে কখনও বুঝতে পারেনি আর তারা যা শিখেছে তা তাদেরকে আরও ভাল হতে সাহায্য করেছে। সাও পাওলোর কিশোর জোসের অভিজ্ঞতার কথাই চিন্তা করুন। সে ছেলেবেলা থেকেই মূর্তিপূজা করতে শিখেছিল। যখন সে জানতে পারে যে ঈশ্বরের একটা নাম আছে আর তা হল যিহোবা এবং উপাসনায় মূর্তি ব্যবহার করলে তিনি খুশি হন না, তখন জোস নিজেকে বদলে ফেলে যাতে সে ঈশ্বরের চোখে যা ভাল তাই করতে পারে।—যাত্রাপুস্তক ২০:৪, ৫; গীতসংহিতা ৮৩:১৮; ১ যোহন ৫:২১; প্রকাশিত বাক্য ৪:১১.

দলগুলোর একটার পর একটা হিংসামূলক কাজ এবং ধর্মঘটে নেলসন হতাশ হয়ে পড়েছিল কিন্তু সে ভবিষ্যতের জন্য এক প্রকৃত আশা খুঁজে পায় যা তাকে পরম স্বস্তি এনে দিয়েছিল। সে বলে: “খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মেলামেশা করার এবং মাদকদ্রব্যে আসক্তির জন্য আমার পরিবার আমাকে কোন পাত্তাই দিত না কিন্তু এখন বাড়িতে আমাকেই সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করা হয়। প্রায়ই বাবা আমাকে আমার বড় ভাইদের বোঝাতে বলেন। যখন থেকে আমি যিহোবার সাক্ষিদের সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতে শুরু করেছি, আমি আনন্দ খুঁজে পেয়েছি কারণ এখন আমার জীবনে একটা উদ্দেশ্য আছে।” আর মার্কোর মতো একজন শহুরে ছেলে যে হিংস্র পরিবেশে থাকতে অভ্যস্ত তার জন্য এটা জানা সত্যিই আনন্দের যে ঈশ্বরের রাজ্য এই পৃথিবীকে পরমদেশ বানাবে।—প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪.

এছাড়াও ভল্টারের কথা ভেবে দেখুন যে আগে অপরাধী চক্রের সদস্য, রাস্তার গুণ্ডা এবং দাঙ্গাবাজ ছিল। অনাথ হওয়ায় ভল্টারের ছোটবেলা খুবই কষ্টে কাটে কিন্তু সে যখন জানতে পারে যে এক কলুষিত, দুষ্ট বিধিব্যবস্থার মধ্যেও ঈশ্বরের লোকেরা আছেন, তার খুবই ভাল লেগেছিল। আর তারা বাইবেলের নীতিগুলো তাদের জীবনে কাজে লাগান ও অন্যদের প্রতি করুণা, সহানুভূতি এবং দয়া দেখান। ভল্টার বলেন: “যীশু যেমন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তেমনই হয়েছে। আমার এখন একটা বড় পরিবার আছে যেখানে আনেক ‘ভ্রাতা, ভগিনী, মাতা ও পিতা’ আছে। আমি ভবিষ্যতের সেই সময়ের দিকে তাকিয়ে আছি যখন লোকেরা ঈশ্বরের ধার্মিক সরকারের অধীনে হাসি আনন্দে এবং একতায় বাস করবে।”—মার্ক ১০:২৯, ৩০; গীতসংহিতা ৩৭:১০, ১১, ২৯.

প্রতিবাদের চেয়ে আরও ভাল কিছু

আগের এই উশৃঙ্খল ছেলেরা শুধু অন্যদের জন্য সহানুভূতি ও ভালবাসা দেখাতেই শেখেনি, সেইসঙ্গে তারা ‘দুষ্টতাকে ঘৃণা করতে’ শিখেছে। (গীতসংহিতা ৯৭:১০; মথি ৭:১২) আপনার বিষয়ে কী বলা যায়? আপনি যদি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গাহাঙ্গামার শিকার হয়েও থাকেন, তবুও ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়ন করলে আপনি জানতে পারবেন যে যিহোবা জীবন্ত ঈশ্বর আর তিনি প্রেমময় পিতা, যিনি আপনার জন্য চিন্তা করতে চান। (১ পিতর ৫:৬, ৭) আপনার কোন ব্যক্তিগত ত্রুটি থাকুক বা আপনি দরিদ্র হোন, তবুও আধ্যাত্মিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য ঈশ্বর আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। এটা সত্যিই এক চমৎকার অভিজ্ঞতা!

যিহোবা ও তাঁর পুত্র যীশু খ্রীষ্ট মন থেকে চান যেন সবরকমের লোকেরা বাইবেলের সত্য শেখার সুযোগ পায়। কারণ ঈশ্বরের বাক্য লোকেদের এখনই দাঙ্গাহাঙ্গামা বন্ধ করতে সাহায্য করার চেয়ে আরও বেশি কিছু করতে পারে। এটা তাদের ওপর এতখানি ছাপ ফেলতে পারে যে তারা ঈশ্বরের নীতিগুলো কাজে লাগানোর জন্য প্রেরণা পায়। ফলে, তারা আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃসংঘ, সারা বিশ্বে যিহোবার সাক্ষিদের মণ্ডলীর সদস্য হতে পারেন, যারা নৈতিক পরিচ্ছন্নতা এবং ভাল আচরণের জন্য পরিচিত। ইফিষীয় ৪:২৪ পদের সঙ্গে মিল রেখে, এই আন্তরিক খ্রীষ্টানরা ‘নূতন মনুষ্যকে পরিধান করিয়াছেন, যাহা সত্যের ধার্ম্মিকতায় ও সাধুতায় ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট হইয়াছে।’ খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবী এইধরনের লোকে ভরে যাবে কারণ একমাত্র তারাই রক্ষা পাবেন এবং অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন।—লূক ২৩:৪৩ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।

দাঙ্গাহাঙ্গামা মুক্ত এক নতুন জগৎ সম্ভব

আপনি কি বিশ্বাস করেন যে দাঙ্গাহাঙ্গামা সত্যিই একদিন শেষ হয়ে যাবে? যদি তাই হয়, তাহলে এই বড় পরিবর্তনটা কীভাবে আসবে? ঈশ্বরের রাজ্য খুব তাড়াতাড়ি এই দুষ্ট বিধিব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে। যারা এই পৃথিবীতে বাস করবেন তারা ইচ্ছা করে ঈশ্বরের ধার্মিক আইন ভাঙলে তার জন্য দায়ী হবেন। (যিশাইয় ২৪: ৫, ৬ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) “অধর্ম্মাচারিগণ সকলেই বিনষ্ট হইবে” কিন্তু যারা ধার্মিকতা ভালবাসেন তারা রক্ষা পাবেন। “সদাপ্রভু তাহাদের সাহায্য করেন, তাহাদিগকে রক্ষা করেন, তিনি দুষ্টদের হইতে তাহাদিগকে রক্ষা করেন ও তাহাদের পরিত্রাণ করেন, কারণ তাহারা তাঁহার শরণ লইয়াছে।”—গীতসংহিতা ৩৭:৩৮-৪০.

দাঙ্গাহাঙ্গামার শিকড় সত্যি সত্যিই পুরোপুরি উপড়ে ফেলা হবে। শুধু এটাই নয়, সমস্ত অপরাধ, অত্যাচার, দুঃখকষ্ট এবং দুষ্টতাকেও শেষ করা হবে। এর বদলে নতুন জগতে জীবনের সঙ্গী হবে শান্তি, প্রকৃত ধার্মিকতা, শান্ত অবস্থা এবং নিরাপত্তা। যিশাইয় ৩২:১৮ পদে যে বিষয়টা বর্ণনা করা আছে তা সত্যিকার অর্থে পূর্ণ হবে: “আমার প্রজাগণ শান্তির আশ্রমে, নিঃশঙ্কতার আবাসে ও নিশ্চিন্ততার বিশ্রাম-স্থানে বাস করিবে।” হ্যাঁ, সারা পৃথিবী জুড়ে এক সুন্দর পরমদেশে সেইসব লোকেরা থাকবে যারা একে অন্যের প্রতি ভালবাসা ও সহানুভূতি দেখাবেন।

আগে যারা দাঙ্গাহাঙ্গামা করত তারা আজ অন্য লাখ লাখ লোকেদের মতো ইতিমধ্যেই যিহোবা ঈশ্বরের সঙ্গে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে নিয়েছেন। তারা এখন আর আগেকার মতো দাঙ্গাহাঙ্গামা করে বেড়ান না। আপনিও কি চাইবেন না যে নতুন জগতে জীবন পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের বাক্য আপনাকে পথ দেখাক? যদি তাই হয়, তাহলে আসুন আমরাও প্রাচীনকালের গীতরচকের মতো যিহোবার দেখানো পথে চলি, যাকে যিহোবা বলেছিলেন: “আমি তোমাকে বুদ্ধি দিব, ও তোমার গন্তব্য পথ দেখাইব, তোমার উপরে দৃষ্টি রাখিয়া তোমাকে পরামর্শ দিব।”—গীতসংহিতা ৩২:৮.

[৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

বাবামার মনোযোগ ও ভালবাসা কম বয়সী ছেলেমেয়েদের রক্ষা করে

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার