আমরা খুব বেশি হলেও কত দিন বেঁচে থাকতে পারি?
অনেক বয়স্ক লোকেরা যারা অনেক বছর ধরে বেঁচে আছেন তাদের দেখে অনেকেই অবাক হয়ে ভাবেন যে, ‘আমরা খুব বেশি হলেও কত দিন বেঁচে থাকতে পারি?’
দ্যানিউ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯৯৫) বলে অনেক দিন পর্যন্ত মনে করা হতো যে পিয়ার জোবার্টই সবচেয়ে বেশি বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তিনি ১৮১৪ সালে, ১১৩ বছর বয়সে মারা যান। অবশ্য কিছু লোকেরা আছেন যারা এর চেয়েও বেশি বছর বেঁচে ছিলেন বলে বলেন কিন্তু তাদের বয়সের কোন সঠিক নথি পাওয়া যায়নি। আর এমন অনেক লোকেরাও আছেন যাদের বয়সের সঠিক নথি দেখায় যে তারা পিয়ের জোবার্টের চেয়েও বেশি বছর বেঁচে ছিলেন।
জিন লুইস কালমান ১৮৭৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি দক্ষিণপূর্ব ফ্রান্সের আর্লস শহরে জন্মেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ৪ঠা আগস্ট, ১২২ বছর বয়সে তিনি মারা যান আর সেই খবর বেশ ঘটা করে পত্রপত্রিকায় ছাপানো হয়েছিল। জাপানের সিগেচিও ইজুমি ১৯৮৬ সালে, ১২০ বছর বয়সে মারা যান। ১৮০ বছর বয়সী সেরা নসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ১৮৮০ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর গিনেস বুক অফ রেকর্ডস ১৯৯৯-এ তার কথা লেখা হয়েছে। যখন এই বই লেখা হয়েছিল সেই সময় শুধু তিনিই সবচেয়ে বয়স্কা মহিলা ছিলেন। কানাডার কুইবেকের ম্যারি-লুইস ফেবরোনি মিলার ১৯৯৮ সালে ১১৮ বছর বয়সে মারা যান আর তিনি সেরার চেয়ে ২৬ দিনের বড় ছিলেন।
সত্যিই, বয়স্ক লোকেদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আর অনুমান করা হচ্ছে যে আগামী শতাব্দীর ৫০ বছরের মধ্যে, ১০০ বা তারও বেশি বছর বেঁচে থাকবেন এমন লোকেদের সংখ্যা ২২ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে! একইভাবে, ৮০ বছর কিংবা তার চেয়েও বয়স্ক লোকেদের সংখ্যা ১৯৭০ সালে ছিল ২.৬৭ কোটি আর ১৯৯৮ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ৬.৬ কোটিতে পৌঁছেছে। যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যায় হওয়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনা করলে প্রায় ১৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
আর শুধু এটুকুই নয় যে এই বয়স্ক লোকেরা কেবল বেঁচেই আছেন কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই সেইসব কাজ করছেন যা ২০ বছরের যুবকেরাও করতে পারে না। ১৯৯০ সালে, ৮২ বছর বয়সী জন ক্যালি পাঁচ ঘন্টা পাঁচ মিনিটে ৪২.১৯৫ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌঁড় শেষ করেছিলেন। আর এই একই দূরত্ব ১৯৯১ সালে, ৮৪ বছর বয়সী ম্যাভিস লিন্ডগেন সাত ঘন্টা নয় মিনিটে অতিক্রম করেন। আর আজকালেই ৯১ বছর বয়স্ক একজন লোক নিউ ইয়র্ক সিটি ম্যারাথন দৌঁড় শেষ করেন!
এই উদাহরণগুলো বলে আমরা এটা বোঝাতে চাইছি না যে আগেকার দিনের বয়স্ক লোকেরা কোন বড় কাজ করেননি। বাইবেলে বলা কূলপতি অব্রাহাম, ৯৯ বছর বয়সে তার অতিথিদের দেখামাত্র তাদের কাছে “দৌঁড়িয়া” গিয়েছিলেন। ৮৫ বছর বয়সে কালেব ঘোষণা করেছিলেন: “যুদ্ধের জন্য এবং বাহিরে যাইবার ও ভিতরে আসিবার জন্য আমার তখন [৪৫ বছর আগে] যেমন শক্তি ছিল, এখনও সেইরূপ শক্তি আছে।” আর মোশির বিষয়ে বাইবেল বলে যে যখন তার বয়স ১২০ বছর হয় তখনও “তাঁহার চক্ষু ক্ষীণ হয় নাই, ও তাঁহার তেজের হ্রাস হয় নাই।”—আদিপুস্তক ১৮:২; যিহোশূয়ের পুস্তক ১৪:১০, ১১; দ্বিতীয় বিবরণ ৩৪:৭.
যীশু খ্রীষ্ট, ইতিহাসের প্রথম মানুষ আদম ও জাহাজ নির্মাণকারী নোহের বিষয়ে বলেছিলেন। (মথি ১৯:৪-৬; ২৪:৩৭-৩৯) আদিপুস্তক জানায় যে আদম ৯৩০ বছর আর নোহ ৯৫০ বছর বেঁচেছিলেন। (আদিপুস্তক ৫:৫; ৯:২৯) কিন্তু সত্যিই কি লোকেরা এত বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন? আমরা কি এর চেয়েও বেশি বছর কিংবা হয়ত চিরকাল বেঁচে থাকতে পারি? দয়া করে পরের প্রবন্ধে দেওয়া প্রমাণগুলো মন দিয়ে দেখুন।