ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ৩/১৫ পৃষ্ঠা ২৪-২৫
  • পৌত্তলিক ভিত্তির ওপর গড়ে তোলা

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • পৌত্তলিক ভিত্তির ওপর গড়ে তোলা
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • “ঈশ্বরের মন্দির” এবং গ্রীসের প্রতিমাগুলি উভয়ের মধ্যে চুক্তি?
    ১৯৯৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ৩/১৫ পৃষ্ঠা ২৪-২৫

পৌত্তলিক ভিত্তির ওপর গড়ে তোলা

ইতালির রোম শহরের অনেক বিখ্যাত স্মৃতিসৌধগুলোর মধ্যে একটা হল প্যানথিয়ন যেটাকে অনেক পর্যটকেরা দেখতে আসেন। রোমীয় স্থাপত্যবিদ্যার এই শ্রেষ্ঠ কীর্তি অল্প কয়েকটা অট্টালিকার মধ্যে একটা যা আজও ততখানিই মজবুত, যতখানি এগুলো প্রাচীনকালে ছিল। প্রায় সা.কা.পূ. ২৭ সালে আগ্রিপ্পা প্যানথিয়নকে তৈরি করতে শুরু করেছিলেন আর সা.কা. ১২০ সালে হ্যাড্রিয়ান এটাকে আবার বানিয়েছিলেন। এই অট্টালিকার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এর ৪৩ মিটার ব্যাসযুক্ত প্রকাণ্ড গম্বুজ যার মতো চওড়া গম্বুজ সেই সময়ে আর তৈরি করা হয়নি। প্যানথিয়ন আসলে একটা পৌত্তলিক মন্দির ছিল। প্যানথিয়ন যে গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে তার অর্থ হল “সব দেবতাদের মন্দির।” কিন্তু আজ এটা একটা রোমান ক্যাথলিক গির্জা। এরকম এক বিস্ময়কর পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব হয়েছিল?

অনেকদিন ধরে এখানে কেউ যেত না। সা.কা. ৬০৯ সালে পোপ বনিফাস ৪র্থ, এই মন্দিরটাকে “খ্রীষ্টান” গির্জা হিসেবে উৎসর্গ করেছিলেন। সেই সময়ে এটাকে সানটা মারিয়া রোটানডা নাম দেওয়া হয়েছিল। ১৯০০ সালে, ইতালিয় জেসুইট পত্রিকা লা সিভিলটা ক্যাথোলিকা-য় ছাপানো একটা প্রবন্ধ বলে, বনিফাস এটাকে বিশেষ করে এইজন্য গির্জা বানিয়েছিলেন যাতে করে এখানে “সমস্ত খ্রীষ্টান শহীদ অথবা সমস্ত সাধুসাধ্বীদের আর সবচেয়ে প্রথমে ঈশ্বরের কুমারী মায়ের উপাসনা করা যায়।” রোমান ক্যাথলিক গির্জা আজকে প্যানথিয়নকে যে নাম দিয়েছে তা হল—সানটা মারিয়া অ্যাড মার্টায়ারস বা এর অন্য নাম সানটা মারিয়া রোটানডা বোঝায় যে এই গির্জার উদ্দেশ্য বাইবেল অনুযায়ী ছিল না।—প্রেরিত ১৪:৮-১৫ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।

ওই একই প্রবন্ধ এরপর বলে, [প্যানথিয়নকে] এক গির্জার রূপ দেওয়া ‘এমন কঠিন কিছু ছিল না। বনিফাস তার পূর্বসূরী সাধু গ্রেগরি মহানের [পোপ গ্রেগরি ১ম] তৈরি সহজ ও বিখ্যাত নীতিকে মেনেছিলেন। পোপ গ্রেগরি পৌত্তলিক মন্দিরগুলোকে খ্রীষ্টীয় উপাসনার উপযোগী করে তুলতে খুবই দক্ষ ছিলেন আর তা করার ক্ষেত্রে তিনি এক উদাহরণ রেখেছিলেন।’ তিনি কোন্‌ নিয়মগুলো তৈরি করেছিলেন?

সাধারণ কালের ৬০১ সালে, পৌত্তলিক দেশ ব্রিটেনে যাচ্ছিলেন এমন একজন মিশনারিকে লেখা এক চিঠিতে গ্রেগরি নির্দেশ দিয়েছিলেন: “ব্রিটেনের মন্দিরগুলোকে ভাঙার দরকার নেই; কিন্তু সেগুলোতে যে মূর্তিগুলো আছে শুধু সেগুলোকে ফেলে দেবেন . . . যদি মন্দিরগুলোর অবস্থা ভাল থাকে, সেটাই যথেষ্ট, সেগুলো দিয়াবলের উপাসনার জায়গা থেকে সত্য ঈশ্বরের উপাসনার জায়গা হয়ে ওঠা দরকার।” গ্রেগরির কথা ছিল, পৌত্তলিক লোকেরা যদি দেখেন যে আগের মন্দিরগুলো ভালই আছে, তাহলে তারা সেখানে আসা যাওয়া চালিয়ে যেতে পছন্দ করবেন। পৌত্তলিকেরা যেহেতু “দিয়াবলের উদ্দেশে অনেক ষাঁড় বলি দিতেন,” তাই পোপ লিখেছিলেন, এরপর আশা করা যায় যে “দিয়াবলের উদ্দেশে তারা আর পশু বলি দেবে না কিন্তু তারা নিজেদের আনন্দের জন্য বলি দেবে যাতে ঈশ্বরের প্রশংসা করতে পারে।”

রোমান ক্যাথলিক ধর্মও মন্দিরের আশেপাশে গির্জা তৈরি করে “খ্রীষ্টান” সাধুদের উদ্দেশে সেগুলো উৎসর্গ করে দেয় আর এভাবে তারা পৌত্তলিক উপাসনার বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়াও এই ধর্ম আগেকার দিনের উৎসবগুলোকে গ্রহণ করেছিল আর সেগুলোকে এক “খ্রীষ্টীয়” তাৎপর্য দিয়েছিল। এই বিষয়টাকে যদি লা সিভিলটা ক্যাথোলিকা-র ভাষায় বলা যায় তাহলে বলতে হয়: “আজকের সমস্ত পণ্ডিতেরা জানেন যে প্রাথমিক খ্রীষ্টানদের কিছু প্রথা ও ধর্মীয় রীতি নির্দিষ্ট কিছু পৌত্তলিক অভ্যাস ও প্রথার সঙ্গে মিলে যায়। পৌত্তলিক অভ্যাসগুলো সেই সময়ের লোকেদের মনে গভীর শেকড় গেঁড়েছিল আর তাদের নিজেদের ও সমাজ জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল। রোমান ক্যাথলিক গির্জা এতই দয়ালু ও বিজ্ঞ ছিল যে তারা এই রীতিনীতিগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেনি; এর পরিবর্তে তারা সেগুলোকে খ্রীষ্টীয় অর্থ দিয়েছিল, সেগুলোকে নতুন জীবন ও নতুন মর্যাদা দিয়েছিল। তারা এই রীতিনীতিগুলোর ওপর ক্ষমতাসম্পন্ন ও অমায়িকভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল, যাতে করে যে কোন বিতর্ক ছাড়াই তা সবরকম লোকেদের মন জয় করতে পারে।”

পৌত্তলিক উৎসবগুলোকে গ্রহণ করার একটা বড় উদাহরণ হল বড়দিন। আসলে ২৫শে ডিসেম্বরে প্রাচীন রোমের লোকেরা ডাইস ন্যাটালিস সোলিস ইনভিক্ট পালন করতেন অর্থাৎ তারা তাদের “অজেয় দেবতা সূর্যের জন্মদিন” পালন করতেন।

পৌত্তলিক লোকেদের মন জয় করার ইচ্ছাকে পূরণ করার চেষ্টায় গির্জা বাইবেলের সত্য থেকে অনেক দূরে চলে যায়। গির্জা বলে যে অন্য ধর্মের সঙ্গে আপোশ করে নেওয়া আর “সাধারণ লোকেদের প্রিয়” ধর্মীয় বিশ্বাস ও অভ্যাসগুলোকে গ্রহণ করায় কোন অন্যায় নেই। এর ফলে গির্জা এক মিশ্র, মিথ্যা শিক্ষা দিতে শুরু করে যা সত্য খ্রীষ্টীয় শিক্ষা থেকে একেবারে আলাদা ছিল। এই সমস্ত বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে চিন্তা করলে মনে হয় যে প্রাচীন রোমীয় “সব দেবতাদের মন্দির”—প্যানথিয়ন—মরিয়ম ও সমস্ত “সাধুসাধ্বীদের” নামে উৎসর্গ করে রোমান ক্যাথলিক গির্জা বানানো অবাক হওয়ার মতো কিছু ছিল না।

কিন্তু, এটা স্পষ্ট যে ‘দিয়াবলের উপাসনাকে সত্য ঈশ্বরের সেবায়’ বদলাতে চাওয়ার জন্য কোন মন্দিরকে গির্জা বলে উৎসর্গ করা বা কোন উৎসবের নাম পাল্টে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। “প্রতিমাদের সহিত ঈশ্বরের মন্দিরেরই বা কি সম্পর্ক?” প্রেরিত পৌল জিজ্ঞাসা করেছিলেন। “‘তোমরা তাহাদের মধ্য হইতে বাহির হইয়া আইস, ও পৃথক্‌ হও, ইহা প্রভু কহিতেছেন, এবং অশুচি বস্তু স্পর্শ করিও না; তাহাতে আমিই তোমাদিগকে গ্রহণ করিব, এবং তোমাদের পিতা হইব, ও তোমরা আমার পুত্ত্র কন্যা হইবে, ইহা সর্ব্বশক্তিমান্‌ প্রভু কহেন।’”—২ করিন্থীয় ৬:১৬-১৮.

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার