ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৯ ৩/১৫ পৃষ্ঠা ৩-৯
  • যীশুর মানব জীবনের শেষ দিন

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যীশুর মানব জীবনের শেষ দিন
  • ১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • ১৪ই নিশান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা
  • এক বিশেষ পর্ব
  • গেৎশিমানী বাগানে
  • ১৪ই নিশান, শুক্রবার সকাল
  • বেদনাদায়ক মৃত্যু
  • আবার জীবিত!
  • আপনার মনে কেমন ছাপ ফেলে
  • পৃথিবীতে যীশুর জীবনের শেষ দিনগুলিতে ফিরে যাওয়া
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিশুকে মেরে ফেলা হয়
    আমার বাইবেলের গল্পের বই
  • “সময় উপস্থিত!”
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিশু খ্রিস্টকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়
    বাইবেল—এই বইয়ে কোন বার্তা রয়েছে?
আরও দেখুন
১৯৯৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৯ ৩/১৫ পৃষ্ঠা ৩-৯

যীশুর মানব জীবনের শেষ দিন

সাধারণ কাল ৩৩ সালের ১৪ই নিশান, শুক্রবার, প্রায় সন্ধ্যা হতে চলেছে। কয়েকজন নারী ও পুরুষ তাদের প্রিয় বন্ধুকে কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছেন। মৃতদেহকে কবরের জন্য তৈরি করতে নীকদীম সুগন্ধি দ্রব্য নিয়ে এসেছেন। আঘাতে ভরা আর ক্ষতবিক্ষত তাদের বন্ধুর মৃতদেহ জড়ানোর জন্য, যোষেফ নামে আরেকজন ব্যক্তি মসৃণ মসীনা কাপড় নিয়ে এসেছেন।

এই লোকেরা কারা? আর কাকেই বা তারা কবর দিচ্ছেন? এই ঘটনাগুলো কি আপনার মনে কোন ছাপ ফেলে? প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে আসুন আমরা সেই বিশেষ দিনটার শুরুতে ফিরে যাই।

১৪ই নিশান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা

যিরূশালেমের আকাশে ধীরে ধীরে পূর্ণিমার চাঁদ দেখা দিচ্ছে। সারাদিনের ব্যস্ততার পর জনবহুল নগর যেন এখন বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তৈরি। এই সন্ধ্যায়, চারদিকের বাতাস মেষশাবক ঝলসানোর সুবাসে একেবারে ভরে রয়েছে। হ্যাঁ, হাজার হাজার লোকেরা এক বিশেষ পর্বের জন্য তৈরি হচ্ছেন—বার্ষিক নিস্তারপর্বের জন্য।

এক বিরাট অতিথিশালায়, একটা সাজানো টেবিলের চারদিকে আমরা যীশু খ্রীষ্ট ও তাঁর ১২ জন প্রেরিতকে দেখতে পাই। এবারে যীশুর কথা শুনুন! তিনি বলছেন, “আমার দুঃখভোগের পূর্ব্বে তোমাদের সহিত আমি এই নিস্তারপর্ব্বের ভোজ ভোজন করিতে একান্তই বাঞ্ছা করিয়াছি।” (লূক ২২:১৫) যীশু জানেন যে ধর্মীয় শত্রুরা তাঁকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করে আছে। কিন্তু তার আগেই, আজ সন্ধ্যায় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ কিছু ঘটবে।

নিস্তারপর্ব পালনের পর যীশু বলেন: “তোমাদের মধ্যে এক জন আমাকে সমর্পণ করিবে।” (মথি ২৬:২১) একথা শুনে প্রেরিতেরা খুবই দুঃখ পান। সে কে হতে পারে? কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর, যীশু ঈষ্করিয়োতীয় যিহূদাকে বলেন: “যাহা করিতেছ, শীঘ্র কর।” (যোহন ১৩:২৭) অন্যেরা যদিও তা বোঝেননি, যিহূদাই হল সেই বিশ্বাসঘাতক। এবার যিহূদা ঘর থেকে বেরিয়ে যায় যাতে সে যীশুকে ধরিয়ে দেওয়ার মতো কাপুরুষোচিত কাজটা করতে পারে।

এক বিশেষ পর্ব

যীশু এখন একেবারেই নতুন ধরনের একটা পর্ব শুরু করতে চলেছেন—এমন এক পর্ব যেটা তাঁর মৃত্যুকে মনে করিয়ে দেবে। এক টুকরো রুটি নিয়ে যীশু এর জন্য ধন্যবাদ দিয়ে প্রার্থনা করেন এবং সেটাকে ভাঙেন। তারপর তিনি বলেন “লও, ভোজন কর।” “ইহা আমার শরীর, যাহা তোমাদের নিমিত্ত দেওয়া যায়।” তারা সবাই যখন সেই রুটির টুকরো নিয়ে খান তিনি দ্রাক্ষারসের পানপাত্র নেন এবং এর জন্য আশীর্বাদ চেয়ে প্রার্থনা করেন। “তোমরা সকলে ইহা হইতে পান কর,” যীশু তাদেরকে বলেন আর তিনি তাদেরকে বোঝান যে: “এই পানপাত্র আমার রক্তে নূতন নিয়ম, যে রক্ত তোমাদের নিমিত্ত পাতিত হয়।” বাকি ১১ জন বিশ্বস্ত প্রেরিতকে তিনি নির্দেশ দেন: “ইহা আমার স্মরণার্থে করিও।”—মথি ২৬:২৬-২৮; লূক ২২:১৯, ২০; ১ করিন্থীয় ১১:২৪, ২৫.

সেই সন্ধ্যায় যীশু দয়ার সঙ্গে তাঁর বিশ্বস্ত প্রেরিতদেরকে সামনে যা ঘটতে যাচ্ছে সেই বিষয়গুলোর জন্য তৈরি করেন আর তিনি যে তাদেরকে গভীরভাবে ভালবাসেন তা বোঝান। তিনি বলেন, “কেহ যে আপন বন্ধুদের নিমিত্ত নিজ প্রাণ সমর্পণ করে, ইহা অপেক্ষা অধিক প্রেম কাহারও নাই। আমি তোমাদিগকে যাহা কিছু আজ্ঞা দিতেছি, তাহা যদি পালন কর, তবে তোমরা আমার বন্ধু।” (যোহন ১৫:১৩-১৫) হ্যাঁ, পরীক্ষার সময় তাঁর পাশে থেকে তাঁর ১১ জন প্রেরিত প্রমাণ করেছেন যে তারা তাঁর সত্যিকারের বন্ধু।

সেই রাতে—সম্ভবত মাঝরাত পার হয়ে গেছে—যীশু প্রার্থনা করেন যা এক স্মরণীয় প্রার্থনা হয়ে থেকে গেছে। এরপর তারা যিহোবার উদ্দেশে প্রশংসা গান করেন। তারপর, পূর্ণ চাঁদের আলোয় তারা ওই নগর ছেড়ে চলে যান এবং কিদ্রোণ উপত্যকা পার হন।—যোহন ১৭:১-১৮:১.

গেৎশিমানী বাগানে

অল্প কিছুক্ষণ পর যীশু এবং প্রেরিতেরা গেৎশিমানী বাগানে এসে পৌঁছান। আটজন প্রেরিতকে বাগানের ঢোকার মুখে রেখে পিতর, যাকোব এবং যোহনকে নিয়ে যীশু জিতবৃক্ষের কাছে যান। তিনি তাদের বলেন, “আমার প্রাণ মরণ পর্য্যন্ত দুঃখার্ত্ত হইয়াছে; তোমরা এখানে থাক, আর জাগিয়া থাক।”—মার্ক ১৪:৩৩, ৩৪.

এই তিনজন প্রেরিত সেখানেই থাকেন যখন যীশু প্রার্থনা করার জন্য বাগানের আরও ভিতরে যান। খুবই দুঃখিত হয়ে ও কেঁদে তিনি অনুরোধ করেন: “পিতঃ, যদি তোমার অভিমত হয়, আমা হইতে এই পানপাত্র দূর কর।” যীশুর ওপর এখন বিরাট দায়িত্ব। যিহোবার একজাত পুত্র একজন অপরাধীর মতো মৃত্যুবরণ করবেন তা দেখে যিহোবার শত্রুরা কী বলবে তা ভেবে তিনি কত দুঃখই না পান! তাঁর জন্য এই বিষয়টা চিন্তা করা আরও দুঃখের যে এই যন্ত্রণাদায়ক পরীক্ষায় তিনি যদি আনুগত্য রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে তাঁর প্রিয় স্বর্গীয় পিতার ওপর কত নিন্দা আসবে। যীশু মনপ্রাণ ঢেলে প্রার্থনা করেন আর তিনি এত কষ্ট পান যে তাঁর ঘাম যেন রক্তের মতো ফোঁটায় ফোঁটায় মাটিতে পড়তে থাকে।—লূক ২২:৪২, ৪৪.

এইমাত্র যীশু তৃতীয়বারের মতো প্রার্থনা করা শেষ করেছেন। আর মশাল ও দীপ হাতে নিয়ে কিছু লোকেরা এদিকে এগিয়ে আসছে। সবার সামনে যাকে দেখা যাচ্ছে সে ঈষ্করিয়োতীয় যিহূদা ছাড়া আর কেউ নয় আর সে সোজা যীশুর কাছে আসে। খুব আগ্রহভরে যীশুকে চুমু দিয়ে সে বলে, “রব্বি, নমস্কার।” উত্তরে যীশু বলেন, “যিহূদা, চুম্বন দ্বারা কি মনুষ্যপুত্ত্রকে সমর্পণ করিতেছ?”—মথি ২৬:৪৯; লূক ২২:৪৭, ৪৮; যোহন ১৮:৩.

হঠাৎ করেই, প্রেরিতেরা বুঝতে পারেন যে এখানে আসলে কী হচ্ছে। তাদের প্রভু ও প্রিয় বন্ধু যীশুকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে! তাই পিতর তাড়াতাড়ি তলোয়ার বের করে মহাযাজকের একজন দাসের কান কেটে দেন। সঙ্গে সঙ্গে যীশু বলে ওঠেন, “এই পর্য্যন্ত ক্ষান্ত হও।” সামনে এগিয়ে গিয়ে তিনি সেই দাসকে সুস্থ করেন ও পিতরকে আদেশ দেন: “তোমার খড়গ পুনরায় স্বস্থানে রাখ, কেননা যে সকল লোক খড়গ ধারণ করে, তাহারা খড়গ দ্বারা বিনষ্ট হইবে।” (লূক ২২:৫০, ৫১; মথি ২৬:৫২) এরপর আধিকারিক ও সৈন্যেরা যীশুকে ধরে বেঁধে ফেলেন। প্রেরিতেরা ভয় পেয়ে ঘাবড়ে যান আর কী করবেন তা বুঝে উঠতে না পেরে সেই রাতের বেলাতেই যীশুকে ছেড়ে পালান।—মথি ২৬:৫৬; যোহন ১৮:১২.

১৪ই নিশান, শুক্রবার সকাল

মাঝরাত পার হয়ে এখন শুক্রবার ভোর। প্রথমে যীশুকে হাননের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় যিনি আগে মহাযাজক ছিলেন কিন্তু এখনও তার বিরাট ক্ষমতা রয়েছে ও তার কথা মানা হয়। হানন যীশুকে জেরা করেন ও এরপর তাঁকে মহাযাজক কায়াফার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন যেখানে মহাসভা বসেছে।

যীশুর বিরুদ্ধে মামলা তৈরি করতে ধর্মীয় নেতারা এখন মিথ্যা সাক্ষীদের যোগাড় করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, এই মিথ্যা সাক্ষীদের একজনের কথা আরেকজনের সঙ্গে মিলছে না। যীশু চুপ করে সবকিছু শুনছেন। তাদের কৌশল পরিবর্তন করে কায়াফা জোর গলায় বলেন: “আমি তোমাকে জীবন্ত ঈশ্বরের নামে দিব্য দিতেছি, আমাদিগকে বল দেখি, তুমি কি সেই খ্রীষ্ট, ঈশ্বরের পুত্ত্র?” এটা এমন এক সত্য, যা অস্বীকার করা যায় না, তাই যীশু সাহসের সঙ্গে উত্তর দেন: “আমি সেই; আর তোমরা মনুষ্যপুত্ত্রকে পরাক্রমের দক্ষিণ পার্শ্বে বসিয়া থাকিতে ও আকাশের মেঘসহ আসিতে দেখিবে।”—মথি ২৬:৬৩; মার্ক ১৪:৬০-৬২.

কায়াফা তখন চিৎকার করে বলে ওঠেন, “এ ঈশ্বর-নিন্দা করিল, আর সাক্ষীতে আমাদের কি প্রয়োজন?” এখন কেউ কেউ যীশুর গালে চড় মারে এবং তাঁর গায়ে থুথু ফেলে। অন্যেরা তাঁকে ঘুষি মারে ও তাঁকে টিট্‌কারি দেয়। (মথি ২৬:৬৫-৬৮; মার্ক ১৪:৬৩-৬৫) শুক্রবার ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গেই মহাসভার সদস্যেরা আবার একজায়গায় হন, যাতে রাতের বেআইনি মামলাকে কিছুটা আইনী চেহারা দেওয়া যায়। আবার যীশু সাহসের সঙ্গে বলেন যে তিনিই হলেন সেই খ্রীষ্ট, ঈশ্বরের পুত্র।—লূক ২২:৬৬-৭১.

তারপর, প্রধান যাজক ও প্রাচীনেরা যীশুকে বেঁধে যিহূদীয়ার রোমীয় রাজ্যপাল পন্তীয় পীলাতের কাছে নিয়ে যান। তারা যীশুকে এই বলে দোষী করেন যে তিনি যিহূদী জাতিকে বিগড়ে দিচ্ছেন, তিনি কৈসরকে কর দিতে বারণ করেছেন আর বলেন যে “আমিই খ্রীষ্ট, রাজা।” (লূক ২৩:২. মার্ক ১২:১৭ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) যীশুকে প্রশ্ন করার পর, পীলাত ঘোষণা করেন: “আমি এই ব্যক্তির কোন দোষই পাইতেছি না।” (লূক ২৩:৪) পীলাত যখন শুনতে পান যে যীশু গালীলিয়, তখন তিনি তাঁকে গালীলের শাসক হেরোদ আন্তিপাসের কাছে পাঠান। হেরোদ আন্তিপাস সেই সময় নিস্তারপর্ব পালনের জন্য যিরূশালেমেই ছিলেন। যীশুর প্রতি ন্যায়বিচার হচ্ছে কি না তা দেখা হেরোদের উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি শুধু যীশুর কাছ থেকে কিছু অলৌকিক কাজ দেখার আশা করেছিলেন। যীশু যেহেতু তাঁর কৌতূহল না মিটিয়ে নীরব থাকেন, তাই হেরোদ ও তার সৈন্যেরা তাঁকে ঠাট্টা করেন আর আবার তাঁকে পীলাতের কাছে ফেরত পাঠান।

“এ কি অপরাধ করিয়াছে?” পীলাত আবারও জিজ্ঞাসা করেন। “আমি ইহার প্রাণদণ্ডের যোগ্য কোন দোষই পাই নাই, অতএব ইহাকে শাস্তি দিয়া ছাড়িয়া দিব।” (লূক ২৩:২২) তাই তিনি যীশুকে কোড়া মারার আদেশ দেন আর এর ফলে যীশুর পিঠ চিড়ে যায় আর তিনি খুবই ব্যথা পান। তখন সেনারা তাঁর মাথায় একটা কাঁটার মুকুট পরিয়ে দেয়। তারা তাঁকে টিট্‌কারি দেয় আর একটা শক্ত নল দিয়ে তাঁর মাথায় মারে, ফলে কাঁটার মুকুটটা তাঁর মাথায় আরও গেঁথে যায়। যীশুকে যত যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় ও তার ওপর যে অত্যাচার করা হয় তা মুখে প্রকাশ করা যায় না কিন্তু এত কিছু হওয়া সত্ত্বেও, যীশু অসাধারণ মনের দৃঢ়তা ও শক্তি বজায় রাখেন।

যীশুর এমন করুণ অবস্থা দেখে কেউ হয়ত সমবেদনা দেখাতে পারেন, এই আশায় পীলাত আবার যীশুকে জনতার সামনে নিয়ে আসেন। পীলাত বলেন, “দেখ, আমি ইহাকে তোমাদের কাছে বাহিরে আনিলাম, যেন তোমরা জানিতে পার যে, আমি ইহার কোনই দোষ পাইতেছি না।” কিন্তু প্রধান যাজকেরা চিৎকার করে বলতে থাকে: “উহাকে ক্রুশে [যাতনাদণ্ডে] দেও, উহাকে ক্রুশে দেও।” (যোহন ১৯:৪-৬) জনতা জেদ ধরেই থাকে আর শেষ পর্যন্ত পীলাত তাদের কথা মেনে নিয়ে যীশুকে বিদ্ধ করার আদেশ দেন।

বেদনাদায়ক মৃত্যু

এর মধ্যে সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর হতে চলেছে। যীশুকে যিরূশালেমের বাইরে গল্‌গথা নামে একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। যাতনাদণ্ডে যীশুর হাতে ও পায়ে বড় বড় পেরেক বিদ্ধ করা হয়। যাতনা দণ্ডটাকে যখন খাড়া করা হয় এবং তাঁর দেহের পুরো ভার যখন পেরেকে বিদ্ধ ক্ষত স্থানগুলোতে গিয়ে পড়ে, তখন তাঁর যে যন্ত্রণা হয় তা বলে বোঝানো যায় না। যীশু ও তাঁর সঙ্গে বিদ্ধ করা আরও দুজন অপরাধীকে দেখার জন্য লোকেরা সেখানে জড়ো হয়। অনেকে যীশুকে নিন্দা করে। প্রধান যাজক ও অন্যরা তাঁকে বিদ্রূপ করে বলে, “ঐ ব্যক্তি অন্য অন্য লোককে রক্ষা করিত, আপনাকে রক্ষা করিতে পারে না।” এমনকি সেনারা ও যীশুর সঙ্গে বিদ্ধ দুজন অপরাধীও তাঁকে উপহাস করতে থাকে।—মথি ২৭:৪১-৪৪.

দুপুরবেলা, যীশুকে যাতনাদণ্ডে টাঙানোর পর অল্প কিছুক্ষণ কেটেছে। হঠাৎই ঈশ্বরের কাছ থেকে সারা দেশে তিন ঘন্টার জন্য এক অদ্ভুত অন্ধকার নেমে আসে।a হয়ত এই ঘটনা দেখেই একজন দস্যু অন্যজনকে তিরস্কার করে। তারপর যীশুর দিকে ফিরে সে অনুরোধ করে: “আপনি যখন আপন রাজ্যে আসিবেন, তখন আমাকে স্মরণ করিবেন।” একেবারে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও সে খুব বড় বিশ্বাস দেখায়! যীশু উত্তর দেন, “অদ্যই আমি তোমাকে সত্য বলিতেছি, তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে উপস্থিত হইবে।”—লূক ২৩:৩৯-৪৩, NW.

বিকেল প্রায় তিনটের সময় যীশু বুঝতে পারেন যে তাঁর সময় শেষ হতে চলেছে। তিনি বলেন, “‘আমার পিপাসা পাইয়াছে।’” তারপর তিনি জোরে বলে ওঠেন: “‘ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় পরিত্যাগ করিয়াছ?’” যীশু বুঝতে পারেন যে তাঁর পিতা, চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর আনুগত্য পরীক্ষা করার জন্য এতখানিই অনুমতি দিয়েছেন যে মনে হয় যেন তাঁর পিতা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি দায়ূদের কথাগুলো বলে ওঠেন। তারপর কেউ একজন একটা স্পঞ্জ সিরকায় ডুবিয়ে যীশু মুখের কাছে ধরেন। একটুখানি সিরকা পান করে যীশু শ্বাস ছেড়ে বলেন: “‘সমাপ্ত হইল।’” এরপর তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, “পিতঃ, তোমার হস্তে আমার আত্মা সমর্পণ করি,” তারপর তিনি তাঁর মাথা নুইয়ে দেন ও মারা যান।—যোহন ১৯:২৮-৩০; মথি ২৭:৪৬; লূক ২৩:৪৬; গীতসংহিতা ২২:১.

বিকেল প্রায় শেষ হতে চলেছে আর সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্রামবার (১৫ই নিশান) শুরু হয়ে যাবে তাই তার আগেই যীশুকে কবর দেওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি করে ব্যবস্থা করা হয়। আরিমাথিয়ার যোষেফ যীশুকে কবর দেওয়ার অনুমতি নিয়ে আসেন। তিনি মহাসভার এক গণ্যমান্য সদস্য আর যীশুর একজন শিষ্যও কিন্তু যিহূদীদের ভয়ে তিনি এই কথা চেপে রাখতেন। নীকদীমও মহাসভার আরেকজন সদস্য আর তিনি গোপনে যীশুতে বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি তেত্রিশ কিলোগ্রাম গন্ধরস ও অগুরু নিয়ে এসে সাহায্য করেন। তারা সতর্কতার সঙ্গে কাছেই এক নতুন কবরে যীশুর দেহকে রাখেন।

আবার জীবিত!

এখন রবিবার ভোরবেলা। অন্ধকার থাকতে থাকতেই মগ্দলীনী মরিয়ম ও আরও কয়েকজন স্ত্রীলোক যীশুর কবরের কাছে আসেন। কিন্তু এ কী! কবরের সামনের পাথরটা সরানো। কী আশ্চর্য, কবর খালি পড়ে আছে! পিতর ও যোহনকে এই কথা বলার জন্য মগ্দলীনী মরিয়ম দৌঁড়ে যান। (যোহন ২০:১, ২) তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়া মাত্রই অন্য মহিলারা একজন দূতকে দেখতে পান। তিনি তাদের বলেন: “তোমরা ভয় করিও না।” তিনি আরও বলেন: “শীঘ্র গিয়া তাঁহার শিষ্যদিগকে বল যে, তিনি মৃতদের মধ্য হইতে উঠিয়াছেন।”—মথি ২৮:২-৭.

তারা এই খবর দেওয়ার জন্য যখন তাড়াহুড়ো করে যাচ্ছেন তখন তাদের সামনে আর কেউ নন স্বয়ং যীশু দেখা দেন! তিনি তাদের বলেন, “তোমরা যাও, আমার ভ্রাতৃগণকে সংবাদ দেও।” (মথি ২৮:৮-১০) পরে মগ্দলীনী মরিয়ম যখন কবরের সামনে বসে কাঁদছিলেন, তখন যীশু তার কাছে উপস্থিত হন। যীশুকে দেখে তার আনন্দের সীমা থাকে না। আর তিনি অন্য শিষ্যদের এই খুশির খবর দেওয়ার জন্য দৌঁড়ে যান। (যোহন ২:১১-১৮) প্রকৃতপক্ষে, ওই স্মরণীয় রবিবারে পুনরুত্থিত যীশু পাঁচ বার তাঁর বেশ কিছু শিষ্যদের দেখা দেন যা তাদের পুরোপুরি নিশ্চয়তা দেয় যে সত্যি সত্যি তিনি আবার জীবিত হয়েছেন!

আপনার মনে কেমন ছাপ ফেলে

আজ একবিংশ শতাব্দীর দোঁড়গোড়ায় এসে, ১৯৬৬ বছর আগেকার ঘটনাগুলো আপনার মনে কেমন ছাপ ফেলে? ওইসব ঘটনাকে নিজের চোখে দেখেছিলেন এমন একজন সাক্ষী বর্ণনা করেন: “আমাদিগেতে ঈশ্বরের প্রেম ইহাতেই প্রকাশিত হইয়াছে যে, ঈশ্বর আপনার একজাত পুত্ত্রকে জগতে প্রেরণ করিয়াছেন, যেন আমরা তাঁহা দ্বারা জীবন লাভ করিতে পারি। ইহাতেই প্রেম আছে; আমরা যে ঈশ্বরকে প্রেম করিয়াছিলাম, তাহা নয়; কিন্তু তিনিই আমাদিগকে প্রেম করিলেন, এবং আপন পুত্ত্রকে আমাদের পাপার্থক প্রায়শ্চিত্ত হইবার জন্য প্রেরণ করিলেন।”—১ যোহন ৪:৯, ১০.

খ্রীষ্টের মৃত্যু কিভাবে এক “পাপার্থক প্রায়শ্চিত্ত”? এটা পাপার্থক কারণ এটা ঈশ্বরের সঙ্গে এক ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলাকে সম্ভব করে। প্রথম মানুষ আদম ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করেছিল আর পাপ ও মৃত্যুকে তার বংশধরদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিল। অন্যদিকে, যীশু মানবজাতিকে পাপ ও মৃত্যু থেকে মুক্ত করার মূল্য দেওয়ার জন্য নিজের জীবন দান করেন। এভাবেই তিনি আমাদের জন্য ঈশ্বরের করুণা ও অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য কারণ যুগিয়েছেন। (১ তীমথিয় ২:৫, ৬) পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য দেওয়া যীশুর বলিদানে বিশ্বাস করে আপনি পাপী আদম থেকে পাওয়া শাস্তি থেকে মুক্ত হতে পারেন। (রোমীয় ৫:১২; ৬:২৩) ফলে, এটা আপনাকে স্বর্গীয় পিতা যিহোবা ঈশ্বরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার এক বড় সুযোগ খুলে দেয়। সংক্ষেপে বললে বলা যায় যে, যীশুর এই সবচেয়ে মহান বলিদানের অর্থ আপনার জন্য অনন্ত জীবন বোঝাতে পারে।—যোহন ৩:১৬; ১৭:৩.

১লা এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই বিষয় নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা করা হবে যখন লক্ষ লক্ষ লোকেরা যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যুকে স্মরণ করার জন্য মিলিত হবেন। আপনাকেও সেখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করা হচ্ছে। আপনার এলাকার যিহোবার সাক্ষীরা আনন্দের সঙ্গে আপনাকে জানাবেন যে কোথায় ও কখন আপনি আসতে পারেন। কোন সন্দেহ নেই যে সেখানে এলে, যীশুর জীবনের শেষ দিনে আমাদের প্রেমময় ঈশ্বর ও তাঁর প্রিয় পুত্র যীশু আমাদের জন্য কী করেছিলেন সেই সম্বন্ধে আপনার উপলব্ধি আরও গভীর হবে।

[পাদটীকাগুলো]

a এই অন্ধকারের কারণ সূর্যগ্রহণ হতে পারে না কেননা যীশু যখন মারা যান তখন পূর্ণিমা ছিল। সূর্যগ্রহণ কেবল অমাবস্যার সময়ই অল্প কয়েক মিনিটের জন্য হয় যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে আসে।

[৭ পৃষ্ঠার তালিকা/চিত্রগুলো]

যীশুর মৃত্যু ও পুনরুত্থান

সাধারণ কাল ৩৩ সালের নিশান মাস ঘটনাগুলো সর্বমহান পুরুষb

১৪ই বৃহস্পতিবার নিস্তারপর্ব পালন; যীশু ১১৩, অনু. ২ থেকে

সন্ধ্যাবেলা প্রেরিতদের পা ধুইয়ে দেন; যিহূদা ১১৭, অনু. ১

যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে; খ্রীষ্ট তাঁর মৃত্যুর

স্মরণার্থক সভা করেন (যা এই বছর ১লা এপ্রিল

বৃহস্পতিবার, সূর্যাস্তের পর পালন করা হবে); তিনি

যখন থাকবেন না সেই সময়ের জন্য প্রেরিতদের তৈরি করেন

মধ্যরাত থেকে ভোর প্রার্থনা ও প্রশংসা গান করার পর ১১৭ থেকে ১২০

হওয়ার আগে পর্যন্ত যীশু ও তাঁর প্রেরিতেরা গেৎশিমানী বাগানে

যান; যীশু কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করেন; ঈষ্কোরিয়োতীয়

যিহূদা বড় দল নিয়ে হাজির হয় এবং যীশুকে ধরিয়ে

দেয়; যীশুকে গ্রেপ্তার করা হলে প্রেরিতেরা পালিয়ে

যান এবং তাঁকে হাননের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়;

যীশুকে মহাসভার সামনে মহাযাজক কায়াফার কাছে

নিয়ে যাওয়া হয়; মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়; তাঁর নিন্দা

করা হয় ও তাকে কোড়া মারা হয়: পিতর তিনবার

যীশুকে অস্বীকার করেন

শুক্রবার ভোরবেলা যীশুকে আবার মহাসভার সামনে ১২১ থেকে ১২৪

সকাল আনা হয়; পীলাতের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়; হেরোদের

কাছে পাঠানো হয়; আবার পীলাতের কাছে পাঠানো হয়;

যীশুকে কোড়া মারা হয়, অপমান করা হয় এবং মারা হয়;

চাপে পড়ে পীলাত তাঁকে বিদ্ধ করার জন্য জনতার হাতে

তুলে দেন; প্রায় দুপুরের দিকে গল্‌গথা নামক স্থানে বিদ্ধ

করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়

মধ্যাহ্ন দুপুরের কিছুক্ষণ আগেই তাঁকে বিদ্ধ করা হয়; ১২৫, ১২৬

থেকে যীশুর মৃত্যুর সময় দুপুর থেকে প্রায় তিনটে পর্যন্ত অন্ধকার

বিকেল নেমে আসে; প্রায় তিনটের সময় যীশু মারা যান; প্রচণ্ড

ভূমিকম্প হয়; মন্দিরের পর্দা দুইভাগে চিরে যায়

বিকেলের বিশ্রামবার শুরু হওয়ার আগেই যীশুকে ১২৭, অনু. ১-৭

শেষ দিকে বাগানের একটা নতুন কবরে কবর দেওয়া হয়

১৫ই শুক্রবার বিশ্রামবার শুরু হয়

সন্ধ্যা

শনিবার পীলাত যীশুর কবরকে পাহারা ১২৭, অনু. ৮-৯

দেওয়ার অনুমতি দেন

১৬ই রবিবার খুব ভোরবেলা যীশুর কবর খালি ১২৭, অনু. ১০

পাওয়া যায়; পুনরুত্থিত যীশু (১) একদল থেকে ১২৯,

স্ত্রী যারা তাঁর শিষ্যা ছিলেন, যার মধ্যে অনু. ১০

শালোমী, যোহানা এবং যাকোবের মা মরিয়ম

ছিলেন; (২) মগ্দলীনী মরিয়ম; (৩) ক্লীয়পা ও

তাঁর সঙ্গী; (৪) শিমোন পিতর; (৫) প্রেরিতদের

ও অন্য শিষ্যদের দেখা দেন

[পাদটীকা]

b এখানে যে নম্বরগুলো দেওয়া হয়েছে তা সর্বমহান পুরুষ যিনি কখনও জীবিত ছিলেন বইয়ের অধ্যায়কে বোঝায়। যীশুর শেষ পরিচর্যার বিশদ শাস্ত্রীয় তালিকার জন্য ‘ঈশ্বর-নিশ্বসিত প্রত্যেক শাস্ত্রলিপি উপকারী,’ (ইংরাজি) বইয়ের ২৯০ পৃষ্ঠা দেখুন। এই বইগুলো ওয়াচটাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত।

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার