আইনগতভাবে সুসমাচারকে সমর্থন করা
যখন থেকে মানুষ শহর গড়ে তুলছে, তখন থেকেই সে প্রাচীরও নির্মাণ করে এসেছে। বিশেষভাবে প্রাচীনকালে, এই প্রাচীরগুলি এক সুরক্ষা হিসাবে কাজ করত। এই আত্মরক্ষামূলক দেওয়ালের উপর থেকে রক্ষীরা প্রাচীরকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করতে পারত যাতে শত্রুরা সেটিকে ভাঙতে কিংবা নিচে সুড়ঙ্গ কাটতে না পারে। শহরের অধিবাসীরাই কেবল সুরক্ষা লাভ করত না, সেইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী শহরের লোকেরাও এই প্রাচীরগুলিতে আশ্রয় খুঁজে পেত।—২ শমূয়েল ১১:২০-২৪; যিশাইয় ২৫:১২.
অনুরূপভাবে, যিহোবার সাক্ষীরাও সুরক্ষার এক আইনগত প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। এই প্রাচীর সাক্ষীদেরকে সমাজের অন্যান্যদের কাছ থেকে পৃথক করার জন্য নির্মিত হয়নি কারণ যিহোবার সাক্ষীরা সামাজিক এবং বন্ধুত্বপরায়ণ লোক হিসাবে পরিচিত। পরিবর্তে, এটি সমস্ত লোকের মৌলিক স্বাধীনতার আইনগত অঙ্গীকারগুলিকে শক্তিশালী করে। সেইসঙ্গে এটি সাক্ষীদের আইনগত অধিকারগুলিকে সংরক্ষণ করে যাতে তারা তাদের উপাসনা স্বাধীনভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। (মথি ৫:১৪-১৬ পদের সঙ্গে তুলনা করুন।) এই প্রাচীর তাদের উপাসনার পদ্ধতি এবং ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার করার অধিকারকে সুরক্ষা করে। এই প্রাচীরটি কী এবং এটি কিভাবে নির্মিত হয়েছে?
সুরক্ষার এক আইনগত প্রাচীর গড়ে তোলা
যিহোবার সাক্ষীদের যদিও অধিকাংশ দেশেই ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে, তবুও কয়েকটি দেশে তারা অযৌক্তিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। সমবেত হয়ে কিংবা ঘরে ঘরে প্রচারের মাধ্যমে তাদের উপাসনা করার স্বাধীনতা যখন অন্যায় বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে, তখন তারা সেই বিষয়গুলি মীমাংসা করার জন্য আইনগত উপায় অবলম্বন করেছেন। বিশ্বব্যাপী সাক্ষীদের সম্বন্ধে অসংখ্য আইনগত মামলা করা হয়েছে।a সাক্ষীরা সমস্ত মামলায়ই জয়ী হননি। কিন্তু নিম্ন আদালত যখন তাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে, তখন প্রায়ই তারা উচ্চ আদালতের কাছে আপীল করেছেন। এর ফল কী হয়েছে?
বিংশ শতাব্দীতে অনেক দেশে দশকের পর দশক ধরে, যিহোবার সাক্ষীদের আইনগত বিজয় ভবিষ্যতের মামলাগুলির পক্ষে এক নির্ভরযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইট কিংবা পাথর যেমন একটি প্রাচীর গড়ে তোলে তেমনি এই অনুকূল রায়গুলি সুরক্ষার এক আইনগত প্রাচীর গঠন করে। পূর্বে গড়ে তোলা এই প্রাচীরের সাহায্যেই সাক্ষীরা তাদের উপাসনা চালিয়ে যাওয়ার ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করে যাচ্ছেন।
উদাহরণস্বরূপ, মারডেক বনাম কমনওয়েলথ অফ পেনসিলভানিয়া মামলাটি বিবেচনা করুন, যে বিষয়ে ১৯৪৩ সালের ৩রা মে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল। এই মামলায় যে প্রশ্নটি উঠেছিল তা হল: যিহোবার সাক্ষীদের ধর্মীয় সাহিত্যাদি বিতরণের জন্য তাদের কি বিক্রয়ের বাণিজ্যিক অনুমতিপত্র থাকা উচিত? যিহোবার সাক্ষীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে তাদের সেটি প্রয়োজন নেই। তাদের প্রচার কাজ বাণিজ্যিক নয় কিংবা কখনও ছিলও না। তাদের উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন করা নয় বরং সুসমাচার প্রচার করা। (মথি ১০:৮; ২ করিন্থীয় ২:১৭) মারডেক মামলায়, আদালত সাক্ষীদের সঙ্গে একমত হয়ে এই রায় দিয়েছিল যে ধর্মীয় সাহিত্যাদি বিতরণের পূর্বশর্ত হিসাবে অনুমতিপত্রের জন্য কোন প্রকার কর নেওয়া সংবিধান বিরুদ্ধ।b এই রায় এক গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছিল আর তখন থেকেই সাক্ষীরা অগণিত মামলার জন্য এটিকে এক প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করে সফলতার সঙ্গে আপীল করে এসেছেন। সুরক্ষার আইনগত প্রাচীরে মারডেক রায় একটি শক্ত ইট প্রমাণিত হয়েছে।
এইধরনের মামলাগুলি সমস্ত লোকের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুরক্ষা করতে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকারগুলির পক্ষ সমর্থনে সাক্ষীরা যে অবদান রেখেছে সেই সম্বন্ধে ইউনিভারসিটি অফ সিনসিন্নাটি ল রিভিউ বলেছিল: “সাংবিধানিক আইনের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাক্ ও ধর্মীয় সুরক্ষার সীমাকে সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে যিহোবার সাক্ষীদের এক জোরালো প্রভাব ছিল।”
প্রাচীরকে দৃঢ় করা
আইনের প্রতিটি বিজয়ে প্রাচীরটি আরও দৃঢ় হয়। ১৯৯০ দশকের কয়েকটি মামলার কথা বিবেচনা করুন, যেগুলি যিহোবার সাক্ষী আর সেইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রত্যেক স্বাধীনতার প্রেমিককে উপকৃত করেছে।
গ্রিস। ১৯৯৩ সালের ২৫শে মে, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত, একজন গ্রিক নাগরিককে তার ধর্মীয় বিশ্বাস অন্যদের শিক্ষা দেওয়ার অধিকারকে সমর্থন করেছিল। এই মামলায় ৮৪ বছর বয়স্ক মাইনস কোক্কিনাকিস জড়িত ছিলেন। একজন যিহোবার সাক্ষী হওয়ায় ১৯৩৮ সাল থেকে কোক্কিনাকিস ৬০ বারেরও বেশি গ্রেপ্তার হন, ১৮ বার গ্রিক আদালতে উপস্থিত হন এবং ছয় বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন। তাকে ১৯৩০ দশকের গ্রিক আইনবলে অপরাধী হিসাবে রায় দেওয়া হয়েছিল, যা ধর্মান্তরিতকরণকে নিষেধ করে—এই আইনবলেই ১৯৩৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০,০০০ জন যিহোবার সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ইউরোপীয় আদালত রায় দিয়েছিল যে গ্রিক সরকার কোক্কিনাকিসের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে আর ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাকে ১৪,৪০০ মার্কিন ডলার দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় আদালত রায় দিয়েছিল যে যিহোবার সাক্ষীরা প্রকৃতই একটি “স্বীকৃত ধর্ম।”—১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ সালের প্রহরীদুর্গ (ইংরাজি) এর ২৭-৩১ পৃষ্ঠা দেখুন।
মেক্সিকো। ১৯৯২ সালের ১৬ই জুলাই ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষসমর্থনের জন্য মেক্সিকোতে এক বিরাট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেদিন ধর্মীয় সংঘ ও প্রকাশ্যে উপাসনাসংক্রান্ত এক আইন পাস করা হয়েছিল। এই আইনের দ্বারা যে কোন ধর্মীয় দল প্রয়োজনীয় নিবন্ধীকরণের মাধ্যমে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আইনগত মর্যাদা লাভ করতে পারে। এর আগে, যিহোবার সাক্ষীরা দেশের অন্যান্য ধর্মগুলির মতো ছিলেন কিন্তু তাদের কোন আইনগত মর্যাদা ছিল না। ১৯৯৩ সালের ১৩ই এপ্রিল সাক্ষীরা নিবন্ধীকরণের জন্য আবেদন করেন। আনন্দের বিষয় যে ১৯৯৩ সালের ৭ই মে, তারা আইনগতভাবে লা টোরে ডেল ভিজিয়া, এ. আর. এবং লস টেসটিগস ডি যিহোভা এন মেক্সিকো, এ. আর. হিসাবে নিবন্ধভুক্ত হয়েছিল আর এই দুটিই ছিল ধর্মীয় সংঘ।—২২শে জুলাই, ১৯৯৪ সালের সচেতন থাক! (ইংরাজি) এর ১২-১৪ পৃষ্ঠা দেখুন।
ব্রাজিল। ১৯৯০ সালের নভেম্বর মাসে, ব্রাজিলের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান (আইএনএসএস) ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির শাখা দপ্তরকে এক বিজ্ঞপ্তি পাঠায় যে বেথেলের (যিহোবার সাক্ষীদের শাখা দপ্তরের নাম) স্বেচ্ছাসেবকেরা এখন থেকে আর ধর্মীয় পরিচারক হিসাবে গণ্য হবেন না কিন্তু তারা ব্রাজিলের শ্রমিক আইনের অধীন হিসাবে বিবেচিত হবেন। সাক্ষীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের ৭ই জুন, ব্রাসিলিয়া জুডিসিয়াল অ্যাডভাইসরি অফ দি অফিস অফ দি অ্যাটর্নি জেনারেল, বেথেলের পরিচারকদের পদমর্যাদাকে এক আইনগত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য হিসাবে সমর্থন করেছিল, কোন চাকরিজীবী হিসাবে নয়।
জাপান। ১৯৯৬ সালের ৮ই মার্চ, জাপানের সর্বোচ্চ আদালত, সকলের উপকারের জন্য শিক্ষা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে একটি রায় পেশ করে। আদালত সর্বসম্মত হয়ে রায় দিয়েছিল যে কুনিহিতো কোবায়েসি সামরিক কলাকৌশলের প্রশিক্ষণ নিতে অস্বীকার করায় তাকে বহিষ্কার করে কোবে মিউনিসিপল ইনডাসট্রিয়াল টেকনিক্যাল কলেজ, আইন লঙ্ঘন করেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়টিই ছিল প্রথম, যেটিকে জাপান সংবিধান অনুমোদন করেছিল। বাইবেল শিক্ষিত বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে এই যুবক সাক্ষী অনুভব করেছিল যে এই অনুশীলন যিশাইয় ২:৪ পদে পাওয়া বাইবেলের নীতিগুলির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, যেখানে বলা আছে: “তাহারা আপন আপন খড়্গ ভাঙ্গিয়া লাঙ্গলের ফাল গড়িবে, ও আপন আপন বড়শা ভাঙ্গিয়া কাস্তা গড়িবে; এক জাতি অন্য জাতির বিপরীতে আর খড়্গ তুলিবে না, তাহারা আর যুদ্ধ শিখিবে না।” ভবিষ্যতে অন্যান্য মামলার জন্য আদালতের এই রায় একটি নজির স্থাপন করেছিল।—১লা নভেম্বর, ১৯৯৬ সালের প্রহরীদুর্গ এর ১৯-২১ পৃষ্ঠা দেখুন।
১৯৯৮ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি, টোকিও উচ্চ আদালত মিসায়ে টাকেডা নামে একজন সাক্ষীর অধিকারকে সমর্থন করে আরেকটি লক্ষণীয় রায় পেশ করেছিল, যা প্রতিষ্ঠা করে যে চিকিৎসার পদ্ধতি মনোনয়নে রোগীর অধিকারকে সম্মান করা উচিত। মিসায়ে টাকেডা বাইবেলের ‘রক্ত হইতে পৃথক্ থাকার’ আদেশকে লঙ্ঘন করে এমন কোন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণে অস্বীকার করেছিলেন। (প্রেরিত ১৫:২৮, ২৯) এই মামলাটির বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায়কেই মেনে নেওয়া হয় কি না, তা দেখার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আপীল করা হয়েছিল।
ফিলিপাইনস্। ১৯৯৩ সালের ১লা মার্চ, একটি মামলায় ফিলিপাইনের সর্বোচ্চ আদালত সর্বসম্মতভাবে যিহোবার সাক্ষীদের পক্ষে রায় দিয়েছিল। এই মামলায় এমন কিছু সাক্ষী কিশোরকিশোরী জড়িত ছিল, যাদের বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল কারণ তারা সম্মানপূর্বক পতাকাকে অভিবাদন করতে অস্বীকার করেছিল।
আদালতের প্রত্যেকটি অনুকূল রায় প্রাচীরে জুড়ে দেওয়া পাথর বা ইটের মতো যা আইনগত প্রাচীরকে শক্তিশালী করে আর এটি কেবল যিহোবার সাক্ষীদেরই নয় কিন্তু সমস্ত লোকেদের অধিকারকে সুরক্ষা করে।
প্রাচীরকে রক্ষা করা
যিহোবার সাক্ষীদের কাজ ১৫৩টি দেশে আইনগতভাবে নিবন্ধভুক্ত এবং অন্যান্য স্বীকৃত ধর্মগুলির মতো তারাও অনেক স্বাধীনতা উপভোগ করেছেন। দশকের পর দশক ধরে পূর্ব ইউরোপ ও প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে তাড়না ও নিষেধাজ্ঞার পর, যিহোবার সাক্ষীরা এখন আলবেনিয়া, বেলারাস, চেক প্রজাতন্ত্র, জর্জিয়া, হাঙ্গেরি, কাজাকস্তান, কিরগিজস্তান, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলিতে আইনগতভাবে স্বীকৃত। কিন্তু, বর্তমানে পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত বিচার পদ্ধতি রয়েছে সেখানে সহ কিছু জায়গায় যিহোবার সাক্ষীদের অধিকার কঠিন চাপের সম্মুখীন কিংবা অবজ্ঞা করা হচ্ছে। বিরোধীরা সাক্ষীদের বিরুদ্ধে ‘বিধান দ্বারা উপদ্রব রচনা করার’ জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছেন। (গীতসংহিতা ৯৪:২০) তারা কিভাবে সাড়া দেন?c
যিহোবার সাক্ষীরা সমস্ত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চান, কিন্তু সেইসঙ্গে তারা তাদের উপাসনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আইনগত স্বাধীনতাও চান। তারা দৃঢ়বিশ্বাসী, যে কোন আইন কিংবা আদালতের রায় যা ঈশ্বরের আদেশ—সুসমাচার প্রচারে—নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তা ভিত্তিহীন। (মার্ক ১৩:১০) যদি শান্তিপূর্ণ মতৈক্যে পৌঁছানো না যায়, তবে সাক্ষীরা আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তাদের উপাসনা চালিয়ে যাওয়ার ঈশ্বর দত্ত অধিকারকে আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা সমস্ত ধরনের আপীল করে যাবেন। কারণ ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার উপর যিহোবার সাক্ষীদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে: “যে কোন অস্ত্র তোমার বিপরীতে গঠিত হয়, তাহা সার্থক হইবে না।”—যিশাইয় ৫৪:১৭.
[পাদটীকাগুলো]
a যিহোবার সাক্ষীদের আইনসংক্রান্ত নথি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনার জন্য, দয়া করে ওয়াচটাওয়ার বাইবেল অ্যান্ড ট্র্যাক্ট সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, যিহোবার সাক্ষীবৃন্দ—ঈশ্বরের রাজ্যের ঘোষণাকারী (ইংরাজি) বইয়ের ৩০ অধ্যায়টি দেখুন।
b মারডেক মামলায় সর্বোচ্চ আদালত জোনস বনাম সিটি অফ অপেলিকা মামলায় যে রায় দিয়েছিল সেটিকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করেছিল। রস্কো জোনস নামে একজন যিহোবার সাক্ষী অ্যালাবামার অপেলিকা শহরের রাস্তায় অনুমতি পত্রের কর না দিয়েই সাহিত্যাদি বিতরণ করছিলেন ফলে নিম্ন আদালত তাকে অপরাধী বলে রায় দেয় আর ১৯৪২ সালে জোনস মামলায় সর্বোচ্চ আদালত এই রায়কে সমর্থন করে।
c ৮-১৮ পৃষ্ঠায় “তারা তাদের বিশ্বাসের কারণে ঘৃণিত হয়েছিলেন” এবং “আমাদের বিশ্বাসের পক্ষ সমর্থন করা” প্রবন্ধগুলি দেখুন।
[২১ পৃষ্ঠার বাক্স]
যিহোবার সাক্ষীদের অধিকারগুলির পক্ষ সমর্থন করা
বিশ্বব্যাপী, যিহোবার সাক্ষীদের উপর যে তাড়না ঘটেছে তার ফলে তাদেরকে বিচারক ও সরকারি আধিকারিকদের সম্মুখে উপস্থিত হতে হয়েছে। (লূক ২১:১২, ১৩) যিহোবার সাক্ষীরা তাদের আইনগত অধিকারের পক্ষসমর্থনের চেষ্টার কোন ত্রুটি করেননি। বিভিন্ন দেশে মামলার জয় যিহোবার সাক্ষীদের আইনগত স্বাধীনতা ও অধিকারগুলি রক্ষা করতে সাহায্য করেছে, যার মধ্যে হল:
◻ বাণিজ্যিক বিক্রেতাদের উপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে তার মধ্যে ঘরে ঘরে প্রচার কাজ অন্তর্ভুক্ত নয়—মারডেক বনাম কমনওয়েলথ অফ পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত (১৯৪৩); কোক্বিনাকিস বনাম গ্রিস, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) (১৯৯৩).
◻ উপাসনার জন্য সমবেত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন—মানৌসসাকিস এবং অন্যান্য বনাম গ্রিস, ইসিএইচআর (১৯৯৬).
◻ জাতীয় পতাকা অথবা প্রতীককে বিবেকবুদ্ধিপূর্বক সম্মান দেখানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেট বোর্ড অফ এডুকেশন বনাম বারনেট, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত (১৯৪৩); ফিলিপাইনের সর্বোচ্চ আদালত (১৯৯৩); ভারতের সর্বোচ্চ আদালত (১৯৮৬).
◻ খ্রীষ্টীয় বিবেককে লঙ্ঘন করে এমন সামরিক কাজকে অস্বীকার করতে পারেন—জর্জিয়াডিস বনাম গ্রিস, ইসিএইচআর (১৯৯৭).
◻ তাদের বিবেককে জলাঞ্জলি না দিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ বাছাই করতে পারেন—মেলেট বনাম সালমান, ওন্টারিও, কানাডা, আপীল আদালত (১৯৯০); ওয়াচ টাওয়ার বনাম ই.এল.এ., উচ্চ আদালত, সান জুয়েন, পুয়ের্টো রিকো (১৯৯৫); ফোসমায়ার বনাম নিকোলিউ, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র আপীল আদালত (১৯৯০).
◻ তাদের সন্তানদের বাইবেল ভিত্তিক বিশ্বাস অনুযায়ী প্রতিপালন করতে পারেন, এমনকি এই বিশ্বাস সন্তানের নিরাপত্তায় বিতর্কের সম্মুখীন হলেও—সেন্ট লরেন বনাম সসি, কানাডার সর্বোচ্চ আদালত (১৯৯৭); হফ্ম্যান বনাম অস্ট্রিয়া, ইসিএইচআর (১৯৯৩).
◻ অন্যান্য স্বীকৃত ধর্মগুলির মতো তাদেরও বৈধ সংস্থা থাকতে পারে অথবা তারাও চালাতে পারেন যা কর মুক্ত—পিপল বনাম হ্যারিং, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র, আপীল আদালত (১৯৬০).
◻ যে কোন ধরনের বিশেষ পূর্ণসময়ের কাজে রত আছেন এমন ব্যক্তিরা অন্যান্য ধর্মীয় পূর্ণ সময়ের কর্মীদের মতো করসংক্রান্ত সুবিধা পাবেন—ব্রাজিলের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান, ব্রাসিলিয়া, (১৯৯৬).
[২০ পৃষ্ঠার চিত্র]
মাইনস কোক্কিনাকিস তার স্ত্রীর সঙ্গে
[২০ পৃষ্ঠার চিত্র]
কুনিহিতো কোবায়াসি
[১৯ পৃষ্ঠার চিত্র সৌজন্যে]
The Complete Encyclopedia of Illustration/J. G. Heck