অনেকে বিশ্বাস আছে বলে দাবি করেন
ব্রাজিলের একজন ধার্মিক মহিলা বলেন: “যীশুর কোন তুলনাই হয় না! তিনি একজন চমৎকার ব্যক্তি!” সত্যিই, যীশুর নামে অনেক শক্তি আছে। ইতিহাস আমাদের দেখায় যে লোকেরা স্বেচ্ছায় যীশুর নামের জন্য কষ্টভোগ করেছেন আর তাঁর জন্য এমনকি মৃত্যুবরণও করেছেন।
প্রেরিত পিতর ও যোহন যখন যিরূশালেমে ‘যীশুর নামে’ প্রচার করছিলেন তখন তাদের গ্রেপ্তার এবং প্রহার করা হয়েছিল। তাসত্ত্বেও, তারা “মহাসভার সম্মুখ হইতে চলিয়া গেলেন, আনন্দ করিতে করিতে গেলেন, কারণ তাঁহারা সেই নামের জন্য অপমানিত হইবার যোগ্যপাত্র গণিত হইয়াছিলেন।”—প্রেরিত ৫:২৮, ৪১.
প্রথম শতাব্দীতে আন্তিপা নামে আরেকজন খ্রীষ্টান ছিলেন যিনি যীশুর নামকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। বাইবেলের শেষ বই, প্রকাশিত বাক্যে যীশু তার সম্বন্ধে বলেছিলেন, “আমার সেই সাক্ষী, আমার সেই বিশ্বস্ত লোক . . . তোমাদের মধ্যে তথায় নিহত হইয়াছিল, যেখানে শয়তান বাস করে।” (প্রকাশিত বাক্য ২:১৩) পর্গামের অন্যান্য খ্রীষ্টানদের মতো আন্তিপাও খ্রীষ্টের প্রতি তার বিশ্বাসকে অস্বীকার করেননি। যীশুর প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য আন্তিপাকে তার নিজের জীবন বলি দিতে হয়েছিল!
প্রায় ৫০ বছর পর, সা.কা. ১৫৫ সালে, পলিকার্প নামে একজন খ্রীষ্টানকেও একই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যখন খ্রীষ্টকে অস্বীকার করার জন্য তাকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তার উত্তর ছিল: “ছিয়াশি বছর ধরে আমি তাঁর সেবা করছি আর তিনি আমার প্রতি কখনও কোন অবিচার করেননি। কিভাবে আমি আমার রাজার নিন্দা করতে পারি যিনি আমাকে পরিত্রাণ দিয়েছেন?” খ্রীষ্টকে অস্বীকার না করায় পলিকার্পকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।
প্রেরিতগণ, আন্তিপা এবং অন্যান্যেরা নিজেদের জীবন দিয়ে খ্রীষ্টের বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তৈরি ছিলেন! আজকে লোকেরা কি এইরকম করেন?
আজকে যীশুর নাম
যীশুর নাম আজও প্রচণ্ড আবেগ সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক দশকগুলিতে ল্যাটিন আমেরিকায়, যীশুকে বিশ্বাস করে বলে দাবি করে এমন গির্জার সংখ্যা এত বেশি বেড়ে গেছে যেরকম আগে কখনও হয়নি। এমনকি ছোট ছোট গ্রামেও পেন্টিকোস্টাল গির্জা গড়ে উঠেছে। আর সেইসঙ্গে এই গির্জাগুলির রাজনৈতিক প্রভাবও ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এর জলন্ত উদাহরণ হল, ব্রাজিলের কংগ্রেস এবং সিনেটের ৩১টি আসনে এই গির্জাগুলির সদস্যেরা রয়েছেন।
এছাড়াও, আমেরিকায় মূলত যীশুকে কেন্দ্র করে একটি নতুন ধর্মীয় আন্দোলন গড়ে উঠেছে। এই দলের অনুসারীরা নিজেদের প্রতিজ্ঞা রক্ষাকারী নামে ডাকেন। ১৯৯৭ সালে টাইম পত্রিকা বিবৃতি দেয় যে ১৯৯১ সালে যারা তাদের সভায় উপস্থিত হতেন তাদের সংখ্যা ছিল ৪,২০০ জন আর ১৯৯৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে এগার লক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে। এই দলের একটি গান এইরকম: “আমার অনন্তকালীন পরিত্রাতা, যীশুর জয় হোক।”
কিন্তু, যীশুর নামে জেগে ওঠা সমস্ত আবেগই মহৎ নয়। যীশুর নাম নিয়ে কতবার যুদ্ধ করা হয়েছে। যিহূদীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে, নখ্রীষ্টানদের বলি দেওয়া হয়েছে, ভিন্নমতাবলম্বী লোকেদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে, তাদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে এবং আগুনে পোড়ানো হয়েছে—আর এই সমস্তকিছুই যীশুর নামে করা হয়েছে। আর আজ, সুসমাচার প্রচারকে ব্যবসায় পরিণত করা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যীশুর নামের অর্থ তা ছিল না। এছাড়া, যীশুর নামকে এতই বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যে লোকেরা তাঁর নামকে ঘৃণা করতে শুরু করে!
তাই এটি কিছু জরুরি প্রশ্ন উত্থাপন করে: যীশুর নামে বিশ্বাস করার সঙ্গে কী জড়িত? আর এই বিষয়ে যিহোবার সাক্ষীদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? পরের প্রবন্ধটি এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেবে।