ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ২৫-২৯
  • যখন পাষাণ হৃদয় সাড়া দেয়

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যখন পাষাণ হৃদয় সাড়া দেয়
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • কাজটি শুরু করা
  • প্রভাবকারী শিক্ষামূলক কার্যক্রম
  • বিশেষ অধিবেশনগুলি আনন্দ নিয়ে আসে
  • বাইবেল হৃদয়কে পরিবর্তিত করে
  • পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে চাপগুলি
  • ঈশ্বরের উৎসর্গীকৃত সেবক হওয়া
  • জেলের কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ২৫-২৯

যখন পাষাণ হৃদয় সাড়া দেয়

১৯৮৯ সালে পোল্যান্ডে যিহোবার সাক্ষীদের আইনসম্মতভাবে একটি ধর্মীয় সংগঠন হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। খ্রীষ্টীয় নিরেপক্ষতার জন্য যে সাক্ষীদের জেলে যেতে হয়েছিল, অবশেষে তারা ছাড়া পেয়েছিলেন কিন্তু তাদের কাছ থেকে বাইবেল সম্বন্ধে আরও কিছু জানতে উৎসুক এমন অনেক বন্দিকে তারা জেলে ছেড়ে এসেছিলেন। এখানে এইরকম একটি জেলের বর্ণনা দেওয়া হল যেখানে যিহোবার সাক্ষীরা ঈশ্বরের বাক্য বাইবেলের ক্ষমতায় একসময়ের পাষাণ হৃদয়ের ব্যক্তিদের সাড়া দিতে সাহায্য করেছিলেন।

পোল্যান্ডের দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থিত ভয়ুফ শহরের জনসংখ্যা ১২,০০০ আর সেখানে ২০০ বছরের পুরনো একটি চরিত্র-সংশোধনমূলক জেল রয়েছে যেখানে পোল্যান্ডের কিছু কুখ্যাত অপরাধীকে রাখা হয়। যিহোবার সাক্ষীদের কাজ যেহেতু সরকারিভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল, তাই তারা সেখানে বন্দিদের কাছে সুসমাচার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আর তারা এটি অত্যন্ত উদ্যমের সঙ্গেই করেছেন।

১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিচার মন্ত্রণালয় থেকে পোল্যান্ডের জেলের সমস্ত পরিচালকবর্গের কাছে পাঠানো একটি চিঠি এই পথটি খুলে দিয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছিল যে কোন বন্দি যদি ওয়াচ টাওয়ার প্রকাশনাদি পেতে অথবা যিহোবার সাক্ষীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তাহলে তারা যেন কোনরকম “বাধা না দেন।” যে সাক্ষীরা ভয়ুফের জেলে অনেক বছর কাটিয়েছেন, তারা সেখানকার অনেক নির্মম অপরাধীর সঙ্গে ভালভাবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু পাষাণ হৃদয়ের এই বন্দিদের বাইবেলের সত্যের দ্বারা কোমল করার জন্য তাদের প্রচেষ্টাকে আশীর্বাদ করতে তারা যিহোবার উপর নির্ভর করেছিলেন।

কাজটি শুরু করা

“কাজটি শুরু করা বেশ কঠিন ছিল,” ভাই চেসওয়াফ বলেন, যিনি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে রোটস্লাফ শহরে থাকতেন। ভাই চেসওয়াফকে ভয়ুফের জেলে যাওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। “আমাদের ‘ধর্মীয় কাজ’ যে কয়েদিদের ভালোর জন্য তা জেলের আধিকারিকদের বোঝাতে দীর্ঘ আলোচনা করতে হয়েছিল।”

চেসওয়াফের সহকর্মী পাওয়েল স্মরণ করেন, বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়েছিল যখন “একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক জোর দিয়ে বলেছিলেন ধর্মীয় কাজের বাহানা করে কয়েদিরা বস্তুগত মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে।” কিন্তু এক সময়ের অত্যন্ত বিপজ্জনক তিনজন অপরাধী যখন ১৯৯১ সালে বাপ্তিস্মের জন্য নিজেদেরকে উপস্থিত করেছিলেন, তখন জেলের কর্তৃপক্ষ তাদের মনোভাব পরিবর্তন করেছিলেন এবং এর ফলে তাদের সহযোগিতাও বেড়েছিল।

“প্রথমদিকে আমরা অপরাধীদের কাছে, তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ও সেইসঙ্গে এই জেলের কর্মীদের কাছে সাক্ষ্য দিতাম,” চেসওয়াফ বলেন। “এরপর আমাদের জেলের কক্ষে কক্ষে সুসমাচার প্রচার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যেটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছিল। অবশেষে, আমরা যখন কিছু আগ্রহী ব্যক্তিদের পেয়েছিলাম, আমাদের ছোট্ট একটি হলে বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা এবং খ্রীষ্টীয় সভাগুলি করার অধিকার দেওয়া হয়েছিল।” হ্যাঁ, যিহোবা এই পাষাণ হৃদয়ের কয়েদিদের হৃদয়ে পৌঁছানোর জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছিলেন।

প্রভাবকারী শিক্ষামূলক কার্যক্রম

শীঘ্রই সেই হলটি খুবই ছোট বলে প্রমাণিত হয়েছিল। যেহেতু বাপ্তাইজিত কয়েদিরা এবং বাইরে থেকে আসা ভাইয়েরা প্রচার কাজে অংশ নিতেন তাই কমপক্ষে ৫০ জন অপরাধী সভাগুলিতে উপস্থিত হতে শুরু করেছিলেন। “তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা সেখানে সমস্ত সভাগুলি করেছিলাম আর কয়েদিরা সাপ্তাহিক সভাগুলিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন,” স্থানীয় একজন প্রাচীন বলেন। তাই ১৯৯৫ সালের মে মাসে তাদেরকে একটি বড় হল ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল।

জেলে অনুষ্ঠিত সভাগুলিতে কারা আসতে পারেন আর কারা পারেন না, দায়িত্বশীল ভাইয়েরা তা কিভাবে ঠিক করেন? “সত্যের প্রতি অকৃত্রিম আগ্রহ দেখিয়েছেন এমন কয়েদিদের একটি তালিকা আমাদের কাছে আছে,” ভাই চেসওয়াফ ও জিসওয়াফ বলেন। “কোন অপরাধী যদি অগ্রগতি না করেন অথবা যথার্থ কারণ ছাড়া সভাগুলিতে না আসেন আর এইভাবে এই ব্যবস্থার প্রতি উপলব্ধির অভাব দেখান, তাহলে আমরা এই তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিই আর জেলের পরিচালককে জানিয়ে দিই।”

বাইবেল অধ্যয়নের সময়, ভাইয়েরা কয়েদিদের শেখান যে কিভাবে সভাগুলির জন্য ভালভাবে প্রস্তুত হতে হয় এবং কিভাবে কার্যকারীভাবে আমাদের সাহিত্য ব্যবহার করতে হয়। তাই, বন্দিরা যখন সভাগুলিতে আসেন, তারা ভালভাবে প্রস্তুত হয়ে আসেন ও স্বচ্ছন্দে তাতে অংশ নেন। তারা গঠনমূলক মন্তব্যগুলি করেন, দক্ষতার সঙ্গে তাদের বাইবেল ব্যবহার করেন এবং নিজেদের জীবনে বাইবেলের উপদেশগুলি প্রয়োগ করেন আর প্রায়ই তাদের মন্তব্যগুলিতে এইধরনের কথাগুলি যুক্ত করেন যেমন, ‘আমি বুঝতে পারছি আমাকে এটি বা ওটি করতে হবে।’

“ভয়ুফ জেলে মোট ২০টি বাইবেল অধ্যয়ন পরিচালনা করা হয়। এগুলির মধ্যে ৮টি তিনজন কয়েদি প্রকাশক পরিচালনা করেন,” মণ্ডলীর সচিব বলেন। এছাড়াও কক্ষে কক্ষে এবং জেল চত্বরে হেঁটে বেড়ানোর সময় প্রচার করে তারা উত্তম ফল পেয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ১৯৯৪ সালের জুন মাসের মধ্যে এই দশ মাসে তারা, ২৩৫টি বই, প্রায় ৩০০টি ব্রোশার এবং ১,৭০০টি পত্রিকা বিতরণ করেছিলেন। সম্প্রতি, জেলের দুজন আধিকারিক বাইবেল অধ্যয়ন করতে চেয়েছেন।

বিশেষ অধিবেশনগুলি আনন্দ নিয়ে আসে

পরবর্তী সময়ে, জেলের এই শিক্ষামূলক কার্যক্রমটিতে আরেকটি উপকরণ যোগ করা হয়েছিল আর তা হল বিশেষ অধিবেশনগুলি। ভ্রমণ অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য যোগ্য ভাইয়েরা সীমা অধিবেশন এবং একদিনের বিশেষ অধিবেশন কার্যক্রমের মুখ্য বিষয়গুলি জেলের শরীর চর্চার কক্ষে উপস্থিত করতেন। প্রথম বিশেষ অধিবেশনটি ১৯৯৩ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পঞ্চাশ জন বন্দি সেখানে উপস্থিত ছিলেন “রোটস্লাফ শহর থেকে অনেক পরিবার এসেছিল আর স্ত্রী ও ছোট সন্তানদের নিয়ে সম্পূর্ণ পরিবার সমেত তারা এসেছিলেন,” সোভো পলস্কি সংবাদপত্রটি বিবৃতি দিয়েছিল, কারণ সেখানে মোট ১৩৯ জন উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন কার্যক্রমের বিরতিতে তারা বোনদের তৈরি খাবার খেয়েছিলেন এবং সেইসঙ্গে উত্তম খ্রীষ্টীয় মেলামেশার সুযোগ পেয়েছিলেন।

এরপর আরও সাতটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাই যারা জেলে আছেন কেবল তারাই নয় কিন্তু যারা বাইরে আছেন তারাও উপকৃত হয়েছেন। যখন একজন সাক্ষী বোন ভয়ুফের প্রাক্তন এক কয়েদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন যিনি এখন শহরে থাকেন, এই ব্যক্তি প্রথমে খুবই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু যখন তাকে একজন নির্দিষ্ট কয়েদির কথা বলা হয়েছিল যিনি সাক্ষী হয়েছেন, তিনি তার নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি বিস্ময়ে বলে ওঠেন: “ওই খুনিটি এখন একজন সাক্ষী?” ফলস্বরূপ, তিনি বাইবেল অধ্যয়ন করতে রাজি হয়েছিলেন।

বাইবেল হৃদয়কে পরিবর্তিত করে

বৃহৎমাত্রার এই শিক্ষামূলক কার্যক্রম কি বাস্তবিকই কয়েদিদের পাষাণ হৃদয়কে কোমল করেছে? তাদেরই তাদের নিজেদের ঘটনাগুলি বলতে দিন।

“কারা আমার বাবামা তা আমি কখনও জানতে পারিনি কারণ আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তারা আমাকে পরিত্যাগ করেছিলেন আর তার ফলে তাদের ভালবাসার অভাব আমি খুব গভীরভাবে অনুভব করি,” চিন্তাশীল ব্যক্তি, জিসওয়াফ স্বীকার করেন। “ছোটবেলাতেই আমি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছিলাম আর পরিশেষে একটি খুনও করি। এই অপরাধবোধ আমাকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দিয়েছিল কিন্তু আমি মরিয়া হয়ে প্রকৃত আশা খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। এরপর ১৯৮৭ সালে আমি প্রহরীদুর্গ পত্রিকার সংস্পর্শে আসি। এটি থেকে আমি পুনরুত্থান এবং অনন্ত জীবনের আশা সম্বন্ধে জানতে পেরেছিলাম। এখনও সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি এটি উপলব্ধি করে আমি আত্মহত্যা করার চিন্তা ত্যাগ করি এবং তারপর বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করি। এখন আমি যিহোবার ও আমাদের ভাইদের ভালবাসার অর্থ বুঝেছি।” ১৯৯৩ সাল থেকে এই প্রাক্তন খুনি একজন পরিচারক দাস ও একজন সহায়ক অগ্রগামী আর গত বছর তিনি একজন নিয়মিত অগ্রগামী হয়েছেন।

অপরদিকে টমাস সঙ্গে সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করতে রাজি হয়েছিলেন। “কিন্তু, সেটি একটি আন্তরিক পদক্ষেপ ছিল না,” তিনি স্বীকার করেন। “যিহোবার সাক্ষীদের বিশ্বাস সম্বন্ধে অন্যদের কাছে ব্যাখ্যা করার সময় আমি তাদেরকে কেবল আমার জ্ঞান দেখানোর জন্যই অধ্যয়ন করছিলাম। কিন্তু বাইবেলের সত্য সম্বন্ধে আমি যথেষ্ট করছিলাম না। একদিন, আমি মনস্থির করে একটি খ্রীষ্টীয় সভায় গিয়েছিলাম। বাপ্তাইজিত কয়েদিরা আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে অন্যদের জ্ঞান দেখানোর চেয়ে বরং আমার পাষাণ হৃদয়কে কোমল করার এবং আমার মন পরিবর্তন করার প্রয়োজন।” এরপর টমাস খ্রীষ্টীয় নতুন ব্যক্তিত্ব পরিধান করতে শুরু করেছিলেন। (ইফিষীয় ৪:২২-২৪) আজকে, তিনি একজন উৎসর্গীকৃত, বাপ্তিস্মিত সাক্ষী এবং কক্ষে কক্ষে প্রচার করে আনন্দ পান।

পুরনো বন্ধুদের কাছ থেকে চাপগুলি

জেলে যারা বাইবেলের সত্য জেনেছিলেন, তারা কক্ষের পুরনো বন্ধু এবং জেলের আধিকারিকদের কাছ থেকে খুব কষ্টকর চাপ ভোগ করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন স্মরণ করেন: “আমাকে সবসময়ে উপহাস ও বিদ্রূপ করা হতো। কিন্তু আমি ভাইদের উৎসাহজনক এই বাক্যগুলি মনে রেখেছিলাম। ‘যিহোবার কাছে প্রার্থনা করে চলুন,’ তারা আমাকে বলেছিলেন। ‘বাইবেল পড়ুন, আপনি অন্তরের শান্তি অনুভব করবেন।’ সেটি সত্যিই আমাকে সাহায্য করেছিল।”

“আমার সহকয়েদিরা আমার বিরুদ্ধে তিক্ত মন্তব্যগুলি করেই চলতেন,” স্বাস্থ্যবান বাপ্তিস্মিত ভাই রিশের্ড বলেন। “তারা আমাকে এই বলে শাসাতেন, ‘তুমি তোমার সভাগুলিতে যেতে পার কিন্তু তুমি অসাধারণ কিংবা ভাল হওয়ার ভান করবে না, বুঝেছো?’ বাইবেলের নীতিগুলি আমার জীবনে প্রয়োগ করার দরুন যখন আমি পরিবর্তিত হতে থাকি, আমাকে এর জন্য কষ্টভোগ করতে হয়েছিল। তারা আমার বিছানাপত্র উলটে ফেলে দিয়েছিলেন, আমার বাইবেলের সাহিত্যগুলি চারিদিকে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন এবং আমার কক্ষের সবকিছু এলোমেলো করে ফেলে রেখেছিলেন। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তির জন্য আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করেছিলাম এবং তারপর ধীরভাবে আমার কক্ষ গোছাতে শুরু করেছিলাম। এর কিছু সময় পর, সমস্ত আক্রমণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।”

“কিন্তু সহকয়েদিরা যখন দেখেন যে আমরা যিহোবাকে সেবা করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” অন্য কিছু বাপ্তিস্মিত কয়েদি বর্ণনা করেন, “তখন চাপ অন্য রূপ নেয়। তারা হয়ত বলতো, ‘মনে রেখ, তোমরা আর মদ্যপান বা ধূমপান করতে কিংবা মিথ্যাকথা বলতে পারবে না।’ আর এই চাপ একজনকে আত্ম-সংযম অভ্যাস করতে, যে কোন ধরনের মন্দ অভ্যাস অথবা আসক্তিগুলি তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে সাহায্য করেছিল। এছাড়াও এটি একজনকে আত্মার ফলগুলি উৎপাদন করতেও সাহায্য করেছিল।”—গালাতীয় ৫:২২, ২৩.

ঈশ্বরের উৎসর্গীকৃত সেবক হওয়া

জেলের কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে, ১৯৯১ সালের বসন্তকালে শরীর চর্চার কক্ষে প্রথম বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জিসওয়াফ ছিলেন একজন সুখী বাপ্তিস্মপ্রার্থী। ১২ জন বন্দি উপস্থিত হয়েছিলেন এবং এই উপলক্ষে বাইরে থেকে ২১ জন ভাইবোন এসেছিলেন। সভাটি কয়েদিদের উপর উৎসাহজনক প্রভাব ফেলেছিল। তাদের কিছুজন এমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিলেন যে অন্য দুজন অপরাধী পরে সেই বছরই অবগাহন নিয়েছিলেন। দুবছর পর ১৯৯৩ সালে দুবার বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং আরও সাতজন অপরাধী যিহোবার কাছে তাদের উৎসর্গীকরণকে প্রতীকরূপে চিহ্নিত করেছিলেন!

ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বাপ্তিস্ম সম্বন্ধে বিবৃতি দিতে গিয়ে স্থানীয় দৈনিক উইকোর্ড রথসোয়াইয়া মন্তব্য করেছিল: “লোকেরা স্রোতের মতো শরীর চর্চার হলে আসছেন, সকলকে সম্ভাষণ জানাচ্ছেন এবং তাদের সঙ্গে করমর্দন করছেন। এখানে কেউ অপরিচিত নন। তারা এমন এক বৃহৎ পরিবার গড়ে তুলেছেন যেটি তাদের চিন্তায়, তাদের জীবনধারায় এবং এক ঈশ্বর যিহোবার সেবায় একতাবদ্ধ।” এই “বৃহৎ পরিবার,” ৫০ জন অপরাধী সমেত ১৩৫ জন ব্যক্তিকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল। আসুন আমরা এদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।

ইয়ার্জি, যিনি জুন মাসে বাপ্তিস্মিত হয়েছিলেন, তিনি জানান: “যদিও কিছু বছর আগে বাইবেলের সত্যের সঙ্গে আমার কিছুটা যোগাযোগ ছিল কিন্তু আমার হৃদয় প্রকৃতই পাষাণ ছিল। প্রতারণা, আমার প্রথমা স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ, ক্রিস্টিনার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, বিবাহের বাইরে একটি সন্তান আর প্রায়ই জেলে ফিরে যাওয়া—এই ছিল আমার জীবন।” জেলে থাকার সময়ে অন্যান্য নির্মম অপরাধীদের সাক্ষী হতে দেখে তিনি নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেছিলেন, ‘আমিও কি একজন ভাল ব্যক্তি হতে পারি না?’ এরপর তিনি বাইবেল অধ্যয়নের জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং সভাগুলিতে আসতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু, এটি প্রকৃতই একটি সন্ধিক্ষণ ছিল যখন তিনি একজন সরকারি উকিলের কাছ থেকে জেনেছিলেন যে তিন বছর আগেই ক্রিস্টিনা একজন যিহোবার সাক্ষী হয়েছেন। “আমি একেবারে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম,” ইয়ার্জি বলেন। “আমি মনে মনে চিন্তা করেছিলাম, ‘আমার সম্বন্ধে কী? আমি কী করছি?’ আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে যিহোবার অনুমোদন লাভ করতে হলে আমাকে আমার জীবনধারার পরিবর্তন করতে হবে।” ফলস্বরূপ, জেলে এক সুখকর পুনর্মিলন ঘটেছিল—ক্রিস্টিনা ও তাদের ১১ বছর বয়সী কন্যা, মারজেনার সঙ্গে। দেরি না করে তারা তাদের বিবাহকে বৈধ করেছিলেন। যদিও এখনও জেলে আছেন ও উত্থানপতন রয়েছে, তবুও ইয়ার্জি নিজে সম্প্রতি সাংকেতিক ভাষা শিখেছেন এবং জেলের বধির কয়েদিদের সাহায্য করছেন।

মিরসওয়াফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকার সময়েই অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার বন্ধুরা যা করত সেগুলি তার খুব ভাল লাগত আর শীঘ্রই তিনিও তাই করতে শুরু করেছিলেন। তিনি অনেকের জিনিস ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ও তাদেরকে মেরেছিলেন। তারপর তিনি জেলে গিয়েছিলেন। “যখন আমি জেলে ছিলাম, আমি সাহায্যের জন্য যাজকের শরণাপন্ন হয়েছিলাম,” মিরসওয়াফ স্বীকার করে। “কিন্তু আমি প্রচণ্ডভাবে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তাই আমি স্থির করেছিলাম যে আমি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।” যে দিন তিনি আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেই দিন তাকে অন্য একটি কক্ষে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রহরীদুর্গ পত্রিকার একটি সংখ্যা দেখতে পেয়েছিলেন যেটি জীবনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আলোচনা করেছিল। “ঠিক আমার যা প্রয়োজন ছিল এই সহজ ও স্পষ্ট তথ্যটি তাই প্রমাণিত হয়েছিল,” তিনি আরও বলেছিলেন। “এখন আমি বেঁচে থাকতে চাই! তাই আমি যিহোবার কাছে প্রার্থনা করেছিলাম এবং আমার সঙ্গে বাইবেল অধ্যয়ন করার জন্য সাক্ষীদের বলেছিলাম।” তিনি তার বাইবেল অধ্যয়নে দ্রুত অগ্রগতি করেছিলেন এবং ১৯৯১ সালে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন। আর কক্ষে কক্ষে প্রচার করার সুযোগ পাওয়ায় এখন তিনি জেলে একজন সহায়ক অগ্রগামী হিসাবে কাজ করে চলেছেন।

ফলে এই পর্যন্ত মোট ১৫ জন কয়েদি বাপ্তিস্মিত হয়েছেন। তাদের সকলের একসঙ্গে মোট শাস্তি প্রায় ২৬০ বছর। কিছুজন তাদের শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছাড়া পেয়েছিলেন। একজন কয়েদির ২৫ বছরের শাস্তিদণ্ড কমিয়ে ১০ বছর করা হয়েছিল। আর কিছুজন যারা জেলে থাকার সময় আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তারা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাপ্তিস্মিত সাক্ষী হয়েছেন। এছাড়াও, জেলে আরও চারজন বন্দি রয়েছেন যারা বাপ্তিস্মের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জেলের কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি

“অপরাধীদের আচরণের পরিবর্তন বিশেষভাবে লক্ষণীয়,” জেলের একটি রিপোর্ট জানায়। “অনেকেই ধূমপান করা ছেড়ে দিয়েছেন আর তারা তাদের কক্ষগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। অনেক অপরাধীদের আচরণের মধ্যে এইধরনের পরিবর্তনগুলি স্পষ্ট।”

জেচ ভরসাভে সংবাদপত্র বিবৃতি দেয় যে ভয়ুফের চরিত্র-সংশোধনমূলক জেলের পরিচালক স্বীকার করেছিলেন যে “ধর্মান্তরিতেরা খুবই শৃঙ্খলাপরায়ণ; তারা জেলের রক্ষীদের জন্য কোন রকম সমস্যার কারণ হন না।” প্রবন্ধটি আরও জানায় যে যারা তাদের শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছাড়া পেয়েছিলেন তারা যিহোবার সাক্ষীদের দলের সঙ্গে ভালভাবেই একতাবদ্ধ এবং অপরাধের পথে আর ফেরেননি।

আর জেলের পরিচালকের অভিমত সম্বন্ধে কী বলা যায়? “এই চরিত্র-সংশোধনমূলক জেলে যিহোবার সাক্ষীদের কাজ খুবই কাম্য এবং সাহায্যকারী,” তিনি বলেন। জেলের পরিচালক স্বীকার করেছিলেন যে “[সাক্ষীদের সঙ্গে] বাইবেল অধ্যয়নের সময় অপরাধীদের ব্যক্তিগত নীতি এবং মানদণ্ডগুলি পরিবর্তিত হতে থাকে ও তা তাদের জীবনে এক নতুন প্রেরণাদায়ক শক্তি দান করে। তাদের আচরণ খুবই কৌশলী এবং বিনয়ী। তারা পরিশ্রমী, কখনও সমস্যার সৃষ্টি করে না।” অবশ্যই, কর্তৃপক্ষদের এইধরনের অনুকূল মন্তব্যগুলি ভয়ুপের জেলে যে সাক্ষীরা বন্দিদের সঙ্গে কাজ করেন তাদের খুশি করে।

পরিদর্শন করতে আসা সাক্ষীরা যীশুর এই বাক্যগুলিকে পূর্ণভাবে উপলব্ধি করেন: “আমার নিজের সকলকে আমি জানি, এবং আমার নিজের সকলে আমাকে জানে, . . . তাহারা আমার রব শুনিবে, তাহাতে এক পাল, ও এক পালক হইবে।” (যোহন ১০:১৪, ১৬) এমনকি জেলের দেওয়ালও মেষতুল্য ব্যক্তিদের একত্র করতে উত্তম মেষপালক, যীশু খ্রীষ্টকে রোধ করতে পারে না। ভয়ুফের সাক্ষীরা খুবই কৃতজ্ঞ যে এই আনন্দপূর্ণ পরিচর্যায় তাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর পাষাণ হৃদয়ের ব্যক্তিদের শেষ আসার আগে রাজ্যের সুসমাচারের প্রতি সাড়া দেওয়ায় সাহায্য করতে, তাঁর ক্রমাগত আশীর্বাদের জন্য তারা যিহোবার উপর নির্ভর করেন।—মথি ২৪:১৪.

[২৭ পৃষ্ঠার বাক্স]

“প্রাপ্তবয়স্কের শিশুসুলভ” সমস্যা

“যে সাক্ষীরা ভয়ুফে চরিত্র-সংশোধনমূলক জেলে কাজ করেছিলেন তারা লক্ষ্য করেন যে কিছুদিন জেলে থাকার পর, একজন বন্দি স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা অথবা একজনের নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অর্থ কী সে বিষয়ে প্রায়ই বোধশক্তি হারিয়ে ফেলতেন। প্রায়ই আমরা যে সমস্যাটির সম্মুখীন হয়েছি তা হল ‘প্রাপ্তবয়স্কের শিশুসুলভ সমস্যা,’ অর্থাৎ একজন ব্যক্তি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কিভাবে তার নিজের যত্ন নিতে হয় তা তিনি জানেন না। সেইকারণে মণ্ডলীর ভূমিকা শুধু বাইবেলের শিক্ষা দেওয়াতেই সীমিত রাখা যায়নি। আমাদের তাকে সমাজের অংশ হওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে হয়েছে, নতুন বিপদগুলি এবং যে প্রলোভনগুলির সম্মুখীন তাকে হতে হবে সে বিষয়ে সাবধান করতে হয়েছে। তাই খুব বেশি প্রতিরক্ষামূলক যেন না ইই সেই বিষয়ে মনোযোগী হওয়া সত্ত্বেও, আমরা অবশ্যই এক নতুন জীবন শুরু করতে তাদের সাহায্য করব।”

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার