ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ১৩-১৯
  • যিরূশালেম—এটি কি ‘আপনার পরমানন্দ হইতে অধিক ভালবাসার পাত্র’?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • যিরূশালেম—এটি কি ‘আপনার পরমানন্দ হইতে অধিক ভালবাসার পাত্র’?
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • আশীর্বাদ ও দায়িত্বাদি
  • ঈর্ষান্বিত প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিরোধিতা
  • অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলি
  • যিরূশালেমের প্রাচীর সম্পূর্ণ হয়েছিল
  • নহিমিয়ের পুস্তকের প্রধান বিষয়গুলো
    ২০০৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • “উত্তমের দ্বারা মন্দকে পরাজয় কর”
    ২০০৭ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিরূশালেম যেটি এর নামের উপযুক্ত
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • যিরূশালেমের প্রাচীর
    আমার বাইবেলের গল্পের বই
আরও দেখুন
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ১০/১৫ পৃষ্ঠা ১৩-১৯

যিরূশালেম—এটি কি ‘আপনার পরমানন্দ হইতে অধিক ভালবাসার পাত্র’?

“আমার জিহ্বা তালুতে সংলগ্ন হউক, . . . যদি আপন পরমানন্দ হইতে যিরূশালেমকে অধিক ভাল না বাসি।”—গীতসংহিতা ১৩৭:৬.

১. ঈশ্বরের মনোনীত শহরের প্রতি অনেক নির্বাসিত যিহূদীদের কেমন মনোভাব ছিল?

সাধারণ কাল পূর্ব ৫৩৭ সালে প্রথম যিহূদী নির্বাসিত ব্যক্তিরা ফিরে আসার পর প্রায় সাত দশক কেটে গিয়েছিল। ঈশ্বরের মন্দির পুনর্নির্মিত হয়েছিল কিন্তু শহরটি তখনও ধ্বংসাবস্থায় পড়ে ছিল। ইতিমধ্যে নির্বাসিতদের মধ্যে এক নতুন বংশ বেড়ে উঠেছিল। কোন সন্দেহ নেই যে তাদের মধ্যে অনেকেই গীতরচকের মতো অনুভব করেছিল যিনি গেয়েছিলেন: “যিরূশালেম, যদি আমি তোমাকে ভুলিয়া যাই, আমার দক্ষিণ হস্ত [কৌশল] ভুলিয়া যাউক।” (গীতসংহিতা ১৩৭:৫) কিছুজন যিরূশালেমকে কেবল মনে করার চেয়ে আরও বেশি কিছু করেছিল; তারা তাদের কাজের দ্বারা প্রমাণ করেছিল যে এটি ‘[তাদের] আপন পরমানন্দ হইতে অধিক ভালবাসার পাত্র’ ছিল।—গীতসংহিতা ১৩৭:৬.

২. ইষ্রা কে ছিলেন আর কিভাবে তিনি আশীর্বাদ পেয়েছিলেন?

২ উদাহরণ হিসাবে যাজক ইষ্রার কথা ভাবুন। তার বাসভূমিতে ফিরে আসার আগেই তিনি যিরূশালেমে সত্য উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। (ইষ্রা ৭:৬, ১০) ফলে ইষ্রা প্রচুর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন। যিহোবা ঈশ্বর পারস্য রাজের হৃদয়ে প্রেরণা দিয়েছিলেন যাতে তিনি বাবিলনে নির্বাসিত যিহূদীদের দ্বিতীয় দলটিকে যিরূশালেমে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য ইষ্রাকে অনুমতি দেন। এছাড়াও রাজা “সদাপ্রভুর . . . গৃহ শোভান্বিত করিতে” তাদের প্রচুর পরিমাণ সোনা ও রুপা উপহার দিয়েছিলেন।—ইষ্রা ৭:২১-২৭.

৩. কিভাবে নহিমিয় প্রমাণ দিয়েছিলেন যে যিরূশালেম ছিল তার চিন্তার মুখ্য বিষয়?

৩ প্রায় ১২ বছর পর আর একজন যিহূদী—নহিমিয়—বিচক্ষণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি শূশনে পারস্য রাজের প্রাসাদে কাজ করতেন। রাজা অর্তক্ষস্তের পানপাত্রবাহক হিসাবে তিনি এক উচ্চ পদাধিকারী ছিলেন কিন্তু তা নহিমিয়ের কাছে “পরমানন্দ” ছিল না। বরং তিনি যিরূশালেমে ফিরে যাওয়া ও তা পুনর্নির্মাণের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষী ছিলেন। মাসের পর মাস নহিমিয় তাই প্রার্থনা করেছিলেন আর তা করার জন্য যিহোবা ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। নহিমিয়ের ইচ্ছা জেনে পারস্য রাজ তার সঙ্গে রক্ষীবাহিনী ও যিরূশালেম পুনর্নির্মাণ করার জন্য অনুমতিপত্র দিয়েছিলেন।—নহিমিয় ১:১-২:৯.

৪. কিভাবে আমরা দেখাতে পারি যে যিহোবার উপাসনা আমাদের আনন্দ করার অন্য যে কোন কারণের চেয়েও ঊর্ধ্বে?

৪ কোন সন্দেহ নেই যে ইষ্রা, নহিমিয় ও তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল এমন অনেক যিহূদী প্রমাণ দিয়েছিল যে যিরূশালেমে যিহোবার উপাসনা তাদের জন্য অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল—আর এটি তাদের ‘আপন পরমানন্দ হইতে . . . অধিক ভালবাসার পাত্র’ ছিল অর্থাৎ তা ছিল তাদের আনন্দ করার মতো যে কোন বিষয়ের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। আজকে যারা যিহোবা, তাঁর উপাসনা ও তাঁর আত্মা-পরিচালিত সংগঠনকে একইভাবে দেখে থাকেন তাদের সকলের জন্য এটি কতই না উৎসাহজনক! আপনার জন্যও কি এটি সত্যি? ঈশ্বরীয় কাজে ধৈর্য ধরে আপনি কি দেখান যে যিহোবার উৎসর্গীকৃত লোকেদের সঙ্গে তাঁর উপাসনা করার সুযোগই আপনার জন্য আনন্দ করার সবচেয়ে বড় বিষয়? (২ পিতর ৩:১১) এই বিষয়ে আরও উৎসাহ পাওয়ার জন্য আসুন আমরা ইষ্রার যিরূশালেমে যাওয়ার উত্তম ফলগুলি দেখি।

আশীর্বাদ ও দায়িত্বাদি

৫. ইষ্রার দিনে যিহূদার অধিবাসীদের কাছে কোন্‌ প্রচুর আশীর্বাদ এসেছিল?

৫ ইষ্রার নেতৃত্বাধীনে ফিরে আসা ৬,০০০ নির্বাসিত যিহূদীদের দলটি যিহোবার মন্দিরের জন্য সোনা ও রুপা প্রভৃতি দান এনেছিল। এখনকার মূল্যে এটি প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। প্রথম নির্বাসিতরা যে পরিমাণ সোনা ও রুপা আনতে পেরেছিল এটি তার সাত গুণ ছিল। এই সমস্ত মনুষ্যবল ও বস্তুগত সাহায্য পেয়ে যিরূশালেম ও যিহূদার অধিবাসীরা যিহোবার প্রতি কতই না কৃতজ্ঞ হয়েছিল! কিন্তু ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা প্রচুর আশীর্বাদ সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বগুলিও নিয়ে এসেছিল।—লূক ১২:৪৮.

৬. তার বাসভূমিতে ইষ্রা কী দেখতে পেয়েছিলেন আর তিনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন?

৬ শীঘ্রই ইষ্রা দেখতে পেয়েছিলেন যে কিছু যিহূদীরা যাদের মধ্যে কিছু যাজক ও প্রাচীনেরাও ছিল, পৌত্তলিক স্ত্রীদের গ্রহণ করে ঈশ্বরের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করেছিল। (দ্বিতীয় বিবরণ ৭:৩, ৪) উপযুক্তভাবেই, ঈশ্বরের ব্যবস্থা চুক্তিকে এইভাবে অমান্য করায় তিনি খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন। “এই কথা শুনিয়া আমি আপন বস্ত্র ও পরিচ্ছদ ছিঁড়িলাম এবং . . . স্তম্ভিত হইয়া বসিয়া রহিলাম।” (ইষ্রা ৯:৩) তারপর উদ্বিগ্ন ইস্রায়েলীয়দের সামনে ইষ্রা যিহোবার কাছে প্রার্থনায় আন্তরিক মিনতি করেছিলেন। তাদের সকলের সামনে ইষ্রা অতীতে ইস্রায়েলের অবাধ্যতা ও যদি তারা দেশের পৌত্তলিক অধিবাসীদের কন্যাদের বিবাহ করে তাহলে তার পরিণতি কী হবে সেই বিষয়ে যিহোবার দেওয়া সাবধানবাণী পুনরালোচনা করেছিলেন। তাই তিনি উপসংহার করেছিলেন: “হে সদাপ্রভু, ইস্রায়েলের ঈশ্বর, তুমি ধর্ম্মময়, কেননা আমরা রক্ষিত হইয়া অদ্য পর্য্যন্ত কতকগুলি লোক অবশিষ্ট রহিয়াছি; দেখ, আমরা তোমার সাক্ষাতে দোষগ্রস্ত, তাই তোমার সাক্ষাতে আমাদের কেহই দাঁড়াইতে পারে না।”—ইষ্রা ৯:১৪, ১৫.

৭. (ক) অপরাধীদের সঙ্গে ব্যবহার করার সময় ইষ্রা কোন্‌ উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন? (খ) ইষ্রার দিনের দোষীরা কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল?

৭ ইষ্রা “আমরা” অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করেছিলেন। হ্যাঁ, তিনি নিজেকেও জড়িত করেছিলেন যদিও তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে কোন দোষ করেননি। ইষ্রার গভীর বেদনা ও সেইসঙ্গে তার বিনয়ী প্রার্থনা লোকেদের হৃদয় স্পর্শ করেছিল আর তা তাদের অনুতপ্ত হতে ও সেই অনুযায়ী কাজ করতে পরিচালিত করেছিল। তারা স্বেচ্ছায় এক দুঃখজনক মীমাংসা করেছিল—সকলে যারা ঈশ্বরের ব্যবস্থা অমান্য করেছিল তারা তাদের বিজাতীয়া স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের তাদের নিজেদের দেশে ফিরিয়ে দেবে। ইষ্রা তাদের এই পদক্ষেপের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন ও দোষীদের তা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। পারস্য রাজ ইষ্রাকে যে কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন, তাতে সমস্ত আইনভঙ্গকারীকে শাস্তি দেওয়া বা যিরূশালেম ও যিহূদা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অধিকার তার ছিল। (ইষ্রা ৭:১২, ২৬) কিন্তু দেখা গিয়েছিল যে তাকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়নি। কারণ “সমস্ত সমাজ” বলেছিল: “হাঁ; আপনি যেমন কহিলেন, আমাদিগকে তেমনি করিতেই হইবে।” তারা তাদের পাপ স্বীকার করে আরও বলেছিল: “আমরা এ বিষয়ে মহা অপরাধ করিয়াছি।” (ইষ্রা ১০:১১-১৩) ইষ্রা ১০ অধ্যায় এই লোকেদের ১১১ জনের নামের একটি তালিকা দেয় যারা তাদের বিজাতীয়া স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের ফেরত পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল।

৮. কেন বিজাতীয় স্ত্রীদের পাঠিয়ে দেওয়ার কাজ সমস্ত মানবজাতির জন্য উপকার নিয়ে আসে?

৮ তাদের এই পদক্ষেপ কেবল ইস্রায়েলের জন্যই নয় কিন্তু সমস্ত মানবজাতির জন্য উপকারী ছিল। যদি এই বিষয়টি সংশোধন করার জন্য কিছুই না করা হতো তাহলে ইস্রায়েলীয়রা আশেপাশের জাতিগুলির সঙ্গে মিশে যেতো। আর যদি তা হতো তাহলে প্রতিজ্ঞাত বীজের বংশধারা যেটির মাধ্যমে সমস্ত মানবজাতির উপর আশীর্বাদ আসবে সেটি কলুষিত হয়ে পড়ত। (আদিপুস্তক ৩:১৫; ২২:১৮) আর তখন যিহূদা বংশীয় রাজা দায়ূদের বংশধর হিসাবে প্রতিজ্ঞাত বীজের পরিচিতিকে প্রতিষ্ঠিত করা অসুবিধাজনক হয়ে পড়তো। প্রায় ১২ বছর পরে এই জরুরি বিষয়টির উপর আবার মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল যখন “ইস্রায়েল-বংশ সমস্ত বিজাতীয় লোক হইতে আপনাদিগকে পৃথক করিল।”—নহিমিয় ৯:১, ২; ১০:২৯, ৩০.

৯. যারা অবিশ্বাসীদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ সেইসমস্ত খ্রীষ্টানদের জন্য বাইবেল কোন্‌ উত্তম পরামর্শ দেয়?

৯ এই বিবরণ থেকে যিহোবার বর্তমান দিনের সেবকেরা কী শিখতে পারেন? অবশ্যই খ্রীষ্টানেরা ব্যবস্থাচুক্তির অধীন নন। (২ করিন্থীয় ৩:১৪) কিন্তু তারা “খ্রীষ্টের ব্যবস্থা” মেনে চলেন। (গালাতীয় ৬:২) তাই একজন খ্রীষ্টান যিনি এক অবিশ্বাসীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ তিনি পৌলের পরামর্শ মেনে চলেন: “যদি কোন ভ্রাতার অবিশ্বাসিনী স্ত্রী থাকে, আর সেই নারী তাহার সহিত বাস করিতে সম্মতা হয়, তবে সে তাহাকে পরিত্যাগ না করুক।” (১ করিন্থীয় ৭:১২) এছাড়াও এক অবিশ্বাসীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ একজন খ্রীষ্টান, তাদের বিবাহকে সফল করে তোলার জন্য কাজ করতে বাধ্য। (১ পিতর ৩:১, ২) এই উত্তম পরামর্শের বাধ্য হওয়া প্রায়ই এক আশীর্বাদজনক ফল নিয়ে আসে কারণ অবিশ্বাসী বিবাহ সাথি তার হৃদয় পরিবর্তিত করে সত্য উপাসনার প্রতি ঝোঁকেন। আর কিছুজন বিশ্বস্ত বাপ্তিস্মিত খ্রীষ্টানও হন।—১ করিন্থীয় ৭:১৬.

১০. সেই ১১১ জন ইস্রায়েলীয় পুরুষেরা যারা তাদের স্ত্রীদের ফেরত পাঠিয়েছিল তাদের কাছ থেকে খ্রীষ্টানেরা কী শিখতে পারেন?

১০ তবুও যে ইস্রায়েলীয়রা তাদের বিজাতীয়া স্ত্রীদের পাঠিয়ে দিয়েছিল, সেই ঘটনা অবিবাহিত খ্রীষ্টানদের এক চমৎকার শিক্ষা দেয়। তাদের অবিশ্বাসী বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে বিবাহের লক্ষ্য নিয়ে মেলামেশা শুরু করা উচিত নয়। এইধরনের এক সম্পর্ককে এড়ানো হয়ত কঠিন এমনকি দুঃখজনকও হতে পারে কিন্তু ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেয়ে চলতে হলে একজনের জন্য এটি সবচেয়ে জরুরি বিষয়। খ্রীষ্টানদের আদেশ দেওয়া হয়েছে: “তোমরা অবিশ্বাসীদের সহিত অসমভাবে যোঁয়ালিতে বদ্ধ হইও না।” (২ করিন্থীয় ৬:১৪) তাই বিবাহ করতে ইচ্ছুক যে কোন অবিবাহিত খ্রীষ্টানের কেবল একজন আন্তরিক সহ বিশ্বাসীর সঙ্গেই বিবাহ করার পরিকল্পনা করা উচিত।—১ করিন্থীয় ৭:৩৯.

১১. ইস্রায়েলীয় পুরুষদের মতো আমাদের পরমানন্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষয়ে আমরা কিভাবে পরীক্ষিত হতে পারি?

১১ আরও অন্যান্যভাবেও খ্রীষ্টানেরা তাদের জীবনে রদবদল করেছেন যখন তাদের জানানো হয়েছে যে তারা অশাস্ত্রীয় পথে চলছেন। (গালাতীয় ৬:১) প্রায়ই এই পত্রিকা অশাস্ত্রীয় আচরণগুলিকে চিনিয়ে দিয়েছে যেগুলি একজন ব্যক্তিকে যিহোবার সংগঠনের অংশ হওয়ার অযোগ্য করে তুলতে পারে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ১৯৭৩ সালে যিহোবার লোকেরা বুঝতে পারেন যে নেশাকর ওষুধের অপব্যবহার ও তামাকের ব্যবহার গুরুতর পাপ। ঈশ্বরীয় পথ অনুসরণ করার জন্য আমাদের অবশ্যই “মাংসের ও আত্মার সমস্ত মালিন্য হইতে আপনাদিগকে শুচি” রাখতে হবে। (২ করিন্থীয় ৭:১) অনেকে বাইবেলের এই পরামর্শকে তাদের হৃদয়ে গ্রহণ করেছেন; আর এগুলি ছেড়ে দেওয়ার ফলে যে প্রাথমিক কষ্টগুলি হয়ে থাকে সেগুলিকে সহ্য করার জন্য তারা ইচ্ছুক কারণ তারা ঈশ্বরের পরিচ্ছন্ন লোকেদের একজন হয়ে থাকতে চেয়েছেন। এছাড়াও যৌনতা, পোশাক, বেশভূষা এবং চাকরি, মনোরঞ্জন ও সংগীতের সঠিক নির্বাচন সম্বন্ধেও পরিষ্কার শাস্ত্রীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোন শাস্ত্রীয় নীতির প্রতিই আমাদের মনোযোগ নিয়ে আসা হোক না কেন আমরা যেন সেই ১১১ জন ইস্রায়েলীয় পুরুষের মতো ‘পরিপক্ব হওয়ার’ জন্য প্রস্তুত থাকি। (২ করিন্থীয় ১৩:১১) এটি দেখাবে যে যিহোবার পবিত্র লোকেদের সঙ্গে মিলে যিহোবার উপাসনা করার সুযোগকে আমরা ‘আপন পরমানন্দ হইতেও অধিক ভালবাসার পাত্র’ বলে মনে করি।

১২. সাধারণ কাল পূর্ব ৪৫৫ সালে কী ঘটেছিল?

১২ বিজাতীয় স্ত্রীদের সঙ্গে জড়িত পর্বটি উল্লেখ করার পর যিরূশালেমে পরবর্তী ১২ বছর কী ঘটেছিল তা বাইবেল আমাদের জানায় না। কোন সন্দেহ নেই যে অনেক বিবাহবন্ধন ভেঙে দেওয়ায় ইস্রায়েলীয়দের প্রতিবেশী দেশগুলি আরও শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠেছিল। সা.কা.পূ. ৪৫৫ সালে এক রক্ষীবাহিনী নিয়ে নহিমিয় যিরূশালেমে এসে পৌঁছান। তিনি যিহূদার দেশাধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং নগর পুনর্নির্মাণের জন্য তিনি পারস্য রাজের অনুমতিপত্র নিয়ে এসেছিলেন।—নহিমিয় ২:৯, ১০; ৫:১৪.

ঈর্ষান্বিত প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিরোধিতা

১৩. যিহূদী মিথ্যা ধর্মীয় প্রতিবেশীরা কোন্‌ মনোভাব দেখিয়েছিল আর নহিমিয় কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন?

১৩ মিথ্যা ধর্মীয় প্রতিবেশীরা নহিমিয়ের আসার উদ্দেশ্যের বিরোধিতা করেছিল। তাদের নেতারা তাকে ভয় দেখিয়েছিল এই কথাগুলি জিজ্ঞাসা করে: “তোমরা কি রাজদ্রোহ করিবে?” যিহোবার প্রতি বিশ্বাস দেখিয়ে নহিমিয় উত্তর দিয়েছিলেন: “যিনি স্বর্গের ঈশ্বর, তিনিই আমাদিগকে কৃতকার্য্য করিবেন; অতএব তাঁহার দাস আমরা উঠিয়া গাঁথিব; কিন্তু যিরূশালেমে তোমাদের কোন অংশ কি অধিকার কি স্মৃতিচিহ্ন নাই।” (নহিমিয় ২:১৯, ২০) যখন প্রাচীর মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল সেই শত্রুরা উপহাস করেছিল: ‘এই নিস্তেজ যিহূদীরা কি করিতেছে? কাঁথড়ার ঢিবি হইতে এই প্রস্তর সকল তুলিয়া কি সজীব করিবে? তাহার উপরে যদি শিয়াল উঠে, তবে তাহাদের সেই পাথরের প্রাচীর ভাঙ্গিয়া পড়িবে।’ এই কটুক্তির উত্তর না দিয়ে নহিমিয় প্রার্থনা করেছিলেন: “হে আমাদের ঈশ্বর, শ্রবণ কর, কেননা আমরা তুচ্ছীকৃত হইলাম; উহাদের টিট্‌কারি উহাদেরই মস্তকে বর্ত্তাও।” (নহিমিয় ৪:২-৪) নহিমিয় ক্রমাগতভাবে যিহোবার উপর নির্ভরতার এক উত্তম উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন!—নহিমিয় ৬:১৪; ১৩:১৪.

১৪, ১৫. (ক) শত্রুদের হিংসাত্মক কাজের ভয়কে নহিমিয় কিভাবে অতিক্রম করেছিলেন? (খ) প্রচণ্ড বিরোধিতা সত্ত্বেও কিভাবে যিহোবার সাক্ষীরা তাদের আধ্যাত্মিক নির্মাণ কাজ করে চলেছেন?

১৪ আজকেও যিহোবার সাক্ষীরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রচারের কার্যভার পূর্ণ করার জন্য ঈশ্বরের উপর নির্ভর করেন। বিরোধীরা উপহাস করে এই কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কখনও কখনও রাজ্যের বার্তার প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিরা এই উপহাস সহ্য করতে না পেরে হাল ছেড়ে দেন। যদি উপহাসে কাজ না হয়, বিরোধীরা হয়ত রেগে গিয়ে হিংসাত্মক কাজ করার ভয় দেখান। এটিই যিরূশালেমের প্রাচীর নির্মাণকারীরা অভিজ্ঞতা করেছিল। কিন্তু নহিমিয় ভয় পাননি। পরিবর্তে, তিনি শত্রুদের আক্রমণের বিরুদ্ধে নির্মাণকারীদের অস্ত্রে সজ্জিত করেছিলেন আর এই বলে তাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছিলেন: “তোমরা উহাদের হইতে ভীত হইও না; মহান্‌ ও ভয়ঙ্কর প্রভুকে স্মরণ কর, এবং আপন আপন ভ্রাতৃগণের, পুত্ত্র ও কন্যাগণের, স্ত্রীদিগের ও গৃহের জন্য যুদ্ধ কর।”—নহিমিয় ৪:১৩, ১৪.

১৫ নহিমিয়ের দিনের মতো যিহোবার সাক্ষীরা প্রচণ্ড বিরোধিতা সত্ত্বেও তাদের আধ্যাত্মিক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য খুব ভালভাবে সজ্জিত। “বিশ্বস্ত বুদ্ধিমান্‌ দাস” শক্তিবর্ধনকারী আধ্যাত্মিক খাদ্য সরবরাহ করে চলেছেন যা ঈশ্বরের লোকেদের কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা আছে এমন জায়গাতেও তাদের ফলপ্রসূ হতে সাহায্য করেছে। (মথি ২৪:৪৫) ফলস্বরূপ, যিহোবা পৃথিবীব্যাপী বৃদ্ধি দিয়ে তাঁর লোকেদের আশীর্বাদ করে চলেছেন।—যিশাইয় ৬০:২২.

অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলি

১৬. কোন্‌ অভ্যন্তরীণ সমস্যা যিরূশালেমের প্রাচীর নির্মাণকারীদের মনোবলকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল?

১৬ যখন যিরূশালেমের প্রাচীর নির্মাণ এগিয়ে চলেছিল আর প্রাচীর বেশ কিছুটা উঁচু হয়ে উঠেছিল, তখন নির্মাণ কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তখনই একটি সমস্যা খুব স্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছিল যা সেই সংগ্রামরত নির্মাণকারীদের মনোবলকে ভেঙে দিতে চাইছিল। খাদ্যাভাবের ফলে কিছু যিহূদীদের পক্ষে তাদের পরিবারের ভরণপোষণ করা ও পারস্য সরকারকে কর দেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। ধনী যিহূদীরা তাদের ভাইদের খাদ্য ও অর্থ ধার দিয়েছিল। কিন্তু ঈশ্বরের ব্যবস্থার বিপরীতে দরিদ্র ইস্রায়েলীয়দের জামিন হিসাবে তাদের জমি ও সন্তানদের বন্ধক রাখতে হয়েছিল যাতে করে তারা সুদসমেত সেই অর্থ শোধ করে। (যাত্রাপুস্তক ২২:২৫; লেবীয় পুস্তক ২৫:৩৫-৩৭; নহিমিয় ৪:৬, ১০; ৫:১-৫) এরপর ঋণদাতারা তাদের জমি দখল করে নেওয়ার ও তাদের সন্তানদের দাস হিসাবে বিক্রি করে দেওয়ার ভয় দেখিয়েছিল। নহিমিয় এই নিষ্ঠুর বস্তুবাদী মনোভাবের কারণে ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি যিরূশালেমের প্রাচীর পুনর্নির্মাণের কাজের উপর যিহোবার আশীর্বাদ যেন অবিরতভাবে থাকে তার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

১৭. নির্মাণ কাজের উপর যিহোবার আশীর্বাদ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য নহিমিয় কী করেছিলেন আর তার পরিণতি কী হয়েছিল?

১৭ এক “মহাসমাজ”-কে জড়ো করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল আর নহিমিয় ধনী যিহূদীদের পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যা করেছিল তা যিহোবাকে অসন্তুষ্ট করেছে। তারপর তিনি দোষীদের যাদের মধ্যে কিছু যাজকেরাও ছিল তাদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যে তারা যেন সমস্ত সুদ আর যারা সুদ দিতে পারেনি তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে নেওয়া সমস্ত জমি ফিরিয়ে দেয়। এটি সত্যিই প্রশংসাজনক ছিল যে দোষীরা বলেছিল: “আমরা তাহা ফিরাইয়া দিব, তাহাদের কাছে কিছুই চাহিব না; আপনি যাহা বলিবেন, তদনুসারে করিব।” এগুলি কেবল অনর্থক কথাই ছিল না কারণ বাইবেল জানায় যে, “লোকেরা [নহিমিয়ের] প্রতিজ্ঞানুসারে কর্ম্ম করিল।” আর সমস্ত মণ্ডলী যিহোবার প্রশংসা করল।—নহিমিয় ৫:৭-১৩.

১৮. যিহোবার সাক্ষীরা কোন্‌ মনোভাবের জন্য সুপরিচিত?

১৮ আমাদের দিন সম্বন্ধে কী বলা যায়? শোষণকারী হিসাবে নয় কিন্তু যিহোবার সাক্ষীরা সহবিশ্বাসীদের ও অন্যান্যেরা যারা দুর্দশা ভোগ করছেন তাদের প্রতি উদার মনোভাবের জন্য সবার কাছে পরিচিত। নহিমিয়ের দিনের মতো এটি যিহোবার অনেক প্রশংসা নিয়ে এসেছে। কিন্তু একই সময়ে “বিশ্বস্ত বুদ্ধিমান্‌ দাস” ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয়ে ও লোভের কারণে অন্যদের শোষণ করাকে এড়ানোর জন্য কিছু শাস্ত্রীয় পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন। কিছু দেশে অত্যধিক পণ নেওয়াটা সাধারণ বিষয় কিন্তু বাইবেল সহজভাবে সতর্ক করে যে লোভী ও পরধনগ্রাহী ব্যক্তিরা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার পাবে না। (১ করিন্থীয় ৬:৯, ১০) অধিকাংশ খ্রীষ্টানেরা এই পরামর্শের প্রতি ভালভাবে সাড়া দিয়েছেন আর তা মনে করিয়ে দেয় যে যিহূদীরা তাদের দরিদ্র ভাইদের শোষণ করার পাপকে কোন্‌ দৃষ্টিতে দেখেছিল।

যিরূশালেমের প্রাচীর সম্পূর্ণ হয়েছিল

১৯, ২০. (ক) যিরূশালেমের প্রাচীর সম্পূর্ণ হওয়ার ঘটনাটি ধর্মীয় শত্রুদের উপর কোন্‌ প্রভাব ফেলেছিল? (খ) অনেক দেশে যিহোবার সাক্ষীরা কোন্‌ বিজয় অভিজ্ঞতা করেছিলেন?

১৯ সমস্ত বিরোধিতা সত্ত্বেও ৫২ দিনে যিরূশালেমের প্রাচীর সম্পূর্ণ হয়েছিল। এই ঘটনাটি বিরোধীদের উপর কী প্রভাব ফেলেছিল? নহিমিয় বলেছিলেন: “আমাদের সমস্ত শত্রু যখন তাহা শুনিল, তখন আমাদের চারিদিকের জাতিগণ সকলে ভীত হইল, এবং আপনাদের দৃষ্টিতে নিতান্ত লঘু হইল, কেননা এই কার্য্য যে আমাদের ঈশ্বর হইতেই হইল, ইহা তাহারা বুঝিল।”—নহিমিয় ৬:১৬.

২০ আজকেও, বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন জায়গায় ঈশ্বরের কাজে শত্রুরা বিরোধিতা করেই চলেছে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ লোকেরা যিহোবার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে বিরোধিতা করার ব্যর্থতাও দেখেছেন। উদাহরণ হিসাবে অতীতে পূর্ব ইউরোপ ও আফ্রিকার অনেক দেশে নাৎসী জার্মানির দ্বারা প্রচার কাজকে একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টার কথা চিন্তা করুন। এইসমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে আর অনেক লোক এখন স্বীকার করেন যে ‘এই কার্য্য আমাদের ঈশ্বর হইতেই হইল।’ আমাদের অতীতের বিশ্বস্ত ভাইদের জন্য এটি কতই না পুরস্কারজনক হয়েছে যারা এইসমস্ত দেশে যিহোবার উপাসনাকে ‘আপন পরমানন্দ হইতে অধিক ভালবাসার পাত্র’ হিসাবে দেখেছিলেন!

২১. পরের প্রবন্ধে আমরা কোন্‌ তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সম্বন্ধে বিবেচনা করব?

২১ পরের প্রবন্ধে আমরা সেই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি পুনরালোচনা করব যা পুনর্নির্মিত যিরূশালেমের প্রাচীরের আনন্দপূর্ণ উৎসর্গীকরণের সময় হয়েছিল। আমরা এটিও দেখব যে কিভাবে সমস্ত মানবজাতির উপকারের জন্য এর চেয়েও আরও মহৎ এক নগরের নির্মাণ কাজের পূর্ণতা খুবই কাছে।

আপনি কি স্মরণ করতে পারেন?

◻ কিভাবে ইষ্রা ও অন্যান্যেরা যিরূশালেমের জন্য আনন্দ করেছিল?

◻ অনেক যিহূদীদের কোন্‌ ভুল সংশোধন করার জন্য ইষ্রা ও নহিমিয় তাদের সাহায্য করেছিলেন?

◻ ইষ্রা ও নহিমিয়ের বিবরণ থেকে আপনি কী শিখতে পারেন?

[১৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

শূশনে নহিমিয়ের উচ্চ পদ নয় কিন্তু যিরূশালেম ছিল নহিমিয়ের চিন্তার মুখ্য বিষয়

[১৬, ১৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

নহিমিয়ের মতো আমাদেরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচারের কার্যভার সম্পন্ন করার জন্য যিহোবার নির্দেশনা ও শক্তি চেয়ে প্রার্থনা করা প্রয়োজন

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার