ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৪-২৭
  • আমি সোনার চেয়েও মূল্যবান কিছু পেয়েছি

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আমি সোনার চেয়েও মূল্যবান কিছু পেয়েছি
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • আমেরিকায় হারিয়ে যাওয়া
  • ভাইবোনের মিলন
  • পরিবার এবং এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
  • সত্য জানা
  • আমার জন্মস্থান খুঁজে পাওয়া
  • সত্যকে প্রথম স্থানে রাখা
  • যৌবনকাল থেকেই আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করা
    ২০০০ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আট ছেলেমেয়েকে যিহোবার পথে মানুষ করে তোলা ছিল এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আনন্দ
    ২০০৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • আমি যিহোবাকে কী ফিরিয়ে দেব?
    ২০০৯ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি এবং হৃদয় নিবদ্ধ রাখা
    ১৯৯৬ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
আরও দেখুন
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ১০/১ পৃষ্ঠা ২৪-২৭

আমি সোনার চেয়েও মূল্যবান কিছু পেয়েছি

চার্লস মিলটন দ্বারা কথিত

বাবা একদিন বলেছিলেন: “চল আমরা চার্লিকে আমেরিকা পাঠাই, শুনেছি সেখানে টাকা নাকি গাছে ফলে। ও নিজেও পয়সা রোজগার করতে পারবে আর আমাদেরও কিছু পাঠাতে পারবে!”

লোকেরা ভাবতো, আমেরিকার রাস্তাগুলি বুঝি সোনা দিয়ে বাঁধানো। ওই সময়ে পূর্ব ইউরোপের জীবন ছিল খুবই কষ্টের। আমার বাবামার একটি ছোট্ট খামার ছিল আর সেখানে তারা কয়েকটি গরু ও কিছু মুরগি পালতেন। আমাদের ঘরে বিদ্যুৎ কিংবা ঘরের মধ্যে জলের কোন ব্যবস্থা ছিল না। শুধু আমাদেরই নয় কিন্তু আমাদের আশেপাশে কারোরই ছিল না।

আজ থেকে প্রায় ১০৬ বছর আগে, ১৮৯৩ সালের ১লা জানুয়ারি, হোসোচেক গ্রামে আমি জন্মগ্রহণ করি। আমাদের গ্রামটি ছিল গ্যালিসিয়ায়, যেটি তখন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ ছিল। হোসোচেক বর্তমানে পূর্ব পোল্যান্ডে অবস্থিত, যা স্লোভাকিয়া ও ইউক্রেন থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সেখানে শীতকালে খুব ঠাণ্ডা পড়ত এবং প্রচণ্ড তুষারপাত হত। আমার মনে পড়ে, সেই সময় আমার বয়স বছর সাতেক ছিল যখন আমাকে কুড়াল নিয়ে প্রায় আধ কিলোমিটার পথ হেঁটে জলাশয়ের কাছে যেতে হত আর জমে থাকা বরফ কেটে জল বের করতে হত। সেই জল আমি বাড়িতে নিয়ে আসতাম আর মা তা দিয়ে রান্না ও ধোয়ামোছার কাজ করতেন। তিনি জলাশয়ে গিয়ে কাপড় ধুতেন আর বরফের বড় টুকরোগুলিকে কাপড় কাচার তক্তা হিসাবে ব্যবহার করতেন।

হোসোচেক গ্রামে কোন বিদ্যালয় ছিল না কিন্তু আমি পোলিস, রাশিয়ান, স্লোভাক এবং ইউক্রেনীয় ভাষা শিখেছিলাম। আমরা গ্রীক অর্থোডক্স পরিবারে বড় হয়েছিলাম আর আমি যাজকের সঙ্গে কাজ করতাম। কিন্তু সেই ছোট বেলাতেই যাজকদের উপর আমার ভক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল কারণ তারা আমাদের বলেছিলেন যে শুক্রবারে মাংস খাওয়া উচিত নয় অথচ তারা নিজেরাই শুক্রবারে মাংস খেতেন।

আমাদের কিছু বন্ধুবান্ধব আমেরিকা থেকে পয়সা রোজগার করে নিয়ে এসেছিল যাতে তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারে এবং খামারের জন্য সরঞ্জামাদি কিনতে পারে। আর এটা দেখেই বাবা আমাকে আমেরিকায় পাঠানোর জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। আমাদের কয়েকজন প্রতিবেশী আবার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন আর বাবা তাদের সঙ্গে আমাকে পাঠাতে চান। সেটা ছিল ১৯০৭ সাল আর আমার বয়স ছিল ১৪ বছর।

আমেরিকায় হারিয়ে যাওয়া

আমি জাহাজে উঠি আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই আমরা আটলান্টিক মহাসাগর পার হই। সেই সময়ে যদি আপনার কাছে ২০ মার্কিন ডলার না থাকত, তা হলে তারা আপনাকে আপনার দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিত। আমার কাছে ২০ মার্কিন ডলারের একটি রৌপ্যমুদ্রা ছিল আর সেটুকু সম্বল করেই আমি লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিদের মত নিউ এলিস দ্বীপ পার হয়ে আমেরিকার প্রবেশদ্বার নিউ ইয়র্কে এসে পৌঁছাই। টাকা সেখানেও গাছে ফলত না আর রাস্তাগুলিও সোনা দিয়ে বাঁধানোও ছিল না। বাস্তবে, সেখানকার অনেক রাস্তা এমনকি বাঁধানোও ছিল না!

আমরা পেনসিলভানিয়ার জন্সটাওনে যাওয়ার জন্য একটি ট্রেন ধরেছিলাম। আমার সঙ্গে যে লোকটি ছিলেন তিনি আগে এখানে এসেছিলেন এবং একটি বোর্ডিংহাউস চিনতেন, যেখানে আমি থাকতে পারি। আমার এখানে থাকার কারণটা ছিল আমার দিদিকে খুঁজে বের করা যে পেনসিলভানিয়ার জেরোমে থাকত। পরে আমি জানতে পেরেছিলাম যে সেই জায়গাটি, আমি যেখানে থাকতাম সেখান থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে ছিল। জেরোম না বলে আমি ওই স্থানটিকে ইয়েরোম বলতাম কারণ আমার মাতৃভাষায় “জে”-কে “ওয়াই” এর মত উচ্চারণ করা হয়। ইয়েরোম নামটি কেউ কখনও শোনেননি। সুতরাং আমি একটি অপরিচিত দেশে ছিলাম, একেবারেই ইংরেজি বলতে পারতাম না আর আমার কাছে মাত্র অল্প কিছু টাকা ছিল।

প্রতিদিন সকালে আমি চাকরি খোঁজার জন্য বের হতাম। অফিসের বাইরে হাজার হাজার লোকেরা দাঁড়িয়ে থাকত কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র দুই বা তিনজনকে চাকরি দেওয়া হত। তাই প্রত্যেকদিন আমি বর্ডিংহাউসে ফিরে আসতাম আর কিছু আত্ম-সহায়ক বইয়ের সাহায্যে ইংরেজি পড়ার চেষ্টা করতাম। মাঝে মাঝে, আমি ছোটখাট কাজ পেতাম। কিন্তু সময় কেটে যাচ্ছিল আর সেইসঙ্গে আমার পয়সাও ফুরিয়ে আসছিল।

ভাইবোনের মিলন

একদিন আমি স্টেশনের কাছে একটি হোটেলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যার সঙ্গে একটি পানশালাও ছিল। খাবারের সুঘ্রাণ আসছিল! কেউ পাঁচ সেন্ট দিয়ে বড় এক গ্লাস বিয়ার কিনলে তার সঙ্গে বিনামূল্যে স্যান্ডউইচ, হট ডগ এবং অন্যান্য খাবার দেওয়া হতো। যদিও আমার বয়স কম ছিল তবুও পানশালার মালিকের আমার প্রতি মায়া হয়েছিল আর তিনি আমাকে বিয়ার দিয়েছিলেন।

আমি যখন খাচ্ছিলাম তখন কিছু লোক এসে বলতে লাগে: “বিয়ারটা তাড়াতাড়ি শেষ কর! জেরোমের ট্রেন আসছে!”

“আপনারা ইয়েরোমের কথা বলছেন?” আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম।

“না, জেরোম,” লোকগুলি বলেছিলেন। আমার দিদি কোথায় থাকেন তা আমি তখনই জানতে পেরেছিলাম। আসলে, পানশালায় আমি একজন লোককে পেয়েছিলাম, যিনি আমার দিদির বাড়ি থেকে মাত্র তিনটি ঘর পরেই থাকতেন! তাই আমি ট্রেনের টিকিট কাটি এবং অবশেষে আমার দিদিকে খুঁজে পাই।

আমার দিদি ও জামাইবাবু একটি বর্ডিংহাউস চালাতেন যেখানে কয়লা খনির শ্রমিকেরা থাকত আর আমি তাদের সঙ্গে থাকতে শুরু করি। তারা আমাকে খনি থেকে জল তোলার জন্য ব্যবহৃত পাম্প দেখাশোনার কাজ দিয়েছিলেন। এটি নষ্ট হয়ে গেলে আমাকে কারিগর ডাকতে হতো। আমার এই কাজের বেতন ছিল দিনে ১৫ সেন্ট। এরপর আমি রেলপথে, ইট ভাঁটায় এবং একজন বীমা প্রতিনিধি হিসাবেও কাজ করেছিলাম। তারপর আমি আমার দাদার কাছে পিটস্‌বার্গে চলে যাই। সেখানে আমরা একটি ইস্পাত কারখানায় কাজ করতাম। বাড়িতে পাঠানোর মত যথেষ্ট টাকা আমি কখনও রোজগার করতে পারিনি।

পরিবার এবং এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

একদিন আমার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় আমি এক যুবতীকে একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেতে দেখি যে সেই বাড়িতে কাজ করত। তাকে দেখেই আমি মনে মনে বলেছিলাম, ‘মেয়েটি তো খুব সুন্দরী।’ তিন সপ্তাহ পর, ১৯১৭ সালে হেলেন ও আমি বিয়ে করি। এর পরের দশ বছরে আমাদের ছয়টি ছেলেমেয়ে হয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন শিশু অবস্থাতেই মারা যায়।

১৯১৮ সালে পিটস্‌বার্গ রেলওয়ে কোম্পানি আমাকে ট্রামের চালক হিসাবে চাকরি দিয়েছিল। সেই ট্রাম ডিপোর কাছেই একটি কফিখানা ছিল যেখানে কফি পাওয়া যেত। দুজন গ্রীক ব্যক্তি সেটির মালিক ছিলেন আর তারা আপনার কাছে বাইবেল থেকে কিছু প্রচার না করা পর্যন্ত, আপনি কিছু আনার জন্য বলেছেন কি না সেই দিকে কোন মনোযোগই দিতেন না। আমি বলেছিলাম: “আপনারা কি বলতে চাচ্ছেন যে সমস্ত জগৎ ভুল আর আপনারা দুজনেই শুধু ঠিক?”

“বেশ, বাইবেল থেকেই দেখুন!” তারা বলতেন। কিন্তু তখন তারা আমাকে বিশ্বাস করাতে পারেননি।

দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে ১৯২৮ সালে আমার প্রিয়তমা স্ত্রী হেলেন অসুস্থ হয়ে পড়ে। ছেলেমেয়েদের আরও ভালভাবে যত্ন নেওয়ার জন্য আমি তাদেরকে দিদি, জামাইবাবুর কাছে জেরোমে রেখে এসেছিলাম। এর মধ্যে তারা একটি খামার কিনেছিলেন। আমি প্রায়ই বাচ্চাদের দেখতে যেতাম আর তাদের খাওয়া খরচ হিসাবে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতাম। তাদের জন্য কাপড়ও পাঠাতাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, হেলেনের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায় এবং ১৯৩০ সালের ২৭শে আগস্ট সে মারা যায়।

আমি একা ও অসহায় বোধ করি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করার জন্য যাজকের কাছে গেলে তিনি আমাকে বলেছিলেন: “আপনি আর এই গির্জার সদস্য নন। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আপনি চাঁদা দেননি।”

আমি বলেছিলাম যে আমার স্ত্রী অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিল আর জেরোমের গির্জায় দান করার জন্য আমি যখনই পেরেছি আমার ছেলেমেয়েদের কিছু বেশি পয়সা পাঠিয়েছি। কিন্তু, যাজক ততক্ষণ পর্যন্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য রাজি হননি যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি আমার চাঁদা শোধ করার জন্য ৫০ মার্কিন ডলার ধার করে এনে তাকে দিয়েছিলাম। এছাড়াও যাজক আরও ১৫ ডলার নিয়ে হেলেনের দিদির বাড়িতে মিশা দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছিলেন, সেখানে বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যেরা হেলেনের প্রতি শেষ সম্মান দেখানোর জন্য মিলিত হয়েছিলেন। আমি ১৫ ডলার জোগাড় করতে পারিনি কিন্তু যাজক এই শর্তে মিশা দিতে রাজি হয়েছিলেন যে আমি যেন মাইনে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই পয়সা তাকে দিয়ে দিই।

মাইনে পেয়ে ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ের জুতো ও কাপড় কিনতে আমার সব পয়সা খরচ হয়ে গিয়েছিল। তার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, একদিন সেই যাজক আমার ট্রামে উঠেছিলেন। “আমি তোমার কাছে এখনও ১৫ ডলার পাই,” তিনি বলেছিলেন। ট্রাম থেকে নেমে তিনি আমাকে এই বলে ভয় দেখিয়েছিলেন, “আমি তোমার বেতন থেকে আমার পাওনা নেওয়ার জন্য তোমার মালিকের কাছে যাচ্ছি।”

সেদিন কাজের শেষে আমি আমার কর্মকর্তার কাছে যাই এবং যা হয়েছে তা তাকে জানাই। তিনি যদিও একজন ক্যাথলিক ছিলেন, তিনি বলেছিলেন, “যাজক যদি এখানে আসেন, তবে আমি তাকে আচ্ছা করে দেব!” কিন্তু তখন থেকেই আমার মাথায় এই বিষয়টা ঘুরতে থাকে যে ‘যাজকেরা কেবল আমাদের কাছ থেকে টাকাই চান কিন্তু তারা কখনও বাইবেলের বিষয়ে আমাদের কোন শিক্ষা দেন না।’

সত্য জানা

পরে আমি যখন সেই দুই গ্রীক ব্যক্তির কফিখানায় যাই, তখন যাজকের ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতাটি আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। ফলে, আমি বাইবেল ছাত্রদের সঙ্গে অধ্যয়ন করতে শুরু করি, যিহোবার সাক্ষীদের তখন এই নামেই ডাকা হত। আমি সারারাত বাইবেল এবং বাইবেল সাহিত্যাদি পড়ে কাটিয়ে দিতাম। আমি জানতে পেরেছিলাম যে যাজকের শিক্ষানুযায়ী হেলেন পুরগাতরীতে কষ্ট পাচ্ছে না বরং সে মৃত্যুতে ঘুমিয়ে আছে। (ইয়োব ১৪:১৩, ১৪; যোহন ১১:১১-১৪) বাস্তবিকই, আমি সোনার চেয়ে মূল্যবান কিছু পেয়েছিলাম—সেটি ছিল সত্য!

কয়েক সপ্তাহ পর, পিটস্‌বার্গের গার্ডেন থিয়েটারে যখন প্রথমবারের মত আমি বাইবেল ছাত্রদের সভায় গিয়েছিলাম, আমি আমার হাত তুলে বলেছিলাম: “এতদিন ধরে ক্যাথলিক হিসাবে যতটুকু আমি শিখেছি তার চেয়ে, আজ রাতে আমি বাইবেল সম্বন্ধে অনেক বেশি কিছু শিখতে পেরেছি।” এরপর তারা যখন জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে পরের দিন কারা প্রচারের কাজে অংশ নিতে ইচ্ছুক, আমি আবার আমার হাত তুলেছিলাম।

এরপর, ১৯৩১ সালের ৪ঠা অক্টোবর, আমি যিহোবার প্রতি আমার উৎসর্গীকরণের প্রতীকস্বরূপ বাপ্তিস্ম নিয়েছিলাম। এই সময়ের মধ্যে আমি একটি ঘর ভাড়া নিই এবং ছেলেমেয়েদের আমার সঙ্গে থাকার জন্য তাদের এখানে নিয়ে আসি আর তাদের যত্ন নেওয়ার জন্য একজন পরিচারিকাও রাখি। আমার পারিবারিক দায়িত্বগুলি সত্ত্বেও, ১৯৩২ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৩৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত আমি বিশেষ পরিচর্যা, যেটিকে তখন সহায়ক পরিচর্যা বলা হত তা করি। সহায়ক পরিচর্যা করার সময় প্রতি মাসে আমি ৫০ থেকে ৬০ ঘন্টা করে অন্যদের কাছে বাইবেল সম্বন্ধে বলতাম।

সেই সময় আমি লক্ষ্য করি যে একজন সুন্দরী যুবতী প্রায়ই আমার ট্রামে করে তার কাজে যেত ও কাজ থেকে ফিরে আসত। আমার গাড়ির সামনের দিকে যে আয়না ছিল সেটি দিয়ে আমরা একে অপরকে দেখতাম। এভাবেই মেরির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। বিয়ের আগে আমরা কিছুদিন মেলামেশা করি এবং ১৯৩৬ সালের আগস্ট মাসে আমাদের বিয়ে হয়।

চাকরিতে আমি পুরনো কর্মী হওয়ায় ১৯৪৯ সালে আমি কাজের সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাই এবং তা আমাকে অগ্রগামীর কাজ করতে সাহায্য করে, পূর্ণ-সময়ের পরিচর্যাকে তখন এভাবে বলা হত। আমার সবচেয়ে ছোট মেয়ে জিন ১৯৪৫ সালে অগ্রগামীর কাজ করতে শুরু করে আর আমরা দুজনে একসঙ্গে অগ্রগামীর কাজ করেছিলাম। পরে, স্যাম ফ্রেন্ডের সঙ্গে জিনের পরিচয় হয়, যিনি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে যিহোবার সাক্ষীদের বিশ্বের প্রধান কার্যালয়ে একজন বেথেল কর্মী হিসাবে সেবা করছিলেন।a ১৯৫২ সালে তারা বিয়ে করে। আমি পিটস্‌বার্গে অগ্রগামীর কাজ চালিয়ে যাই এবং আমি অনেক বাইবেল অধ্যয়ন করতাম, একটা সময় ছিল যখন আমি প্রতি সপ্তাহে ১৪টি বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে অধ্যয়ন করতাম। ১৯৫৮ সালে আমি আমার ট্রাম চালকের কাজ থেকে অবসর নিই। এরপর অগ্রগামীর কাজ করা সহজ হয়ে পড়ে কারণ আমাকে আর দিনে আট ঘন্টা চাকরি করতে হত না।

১৯৮৩ সালে মেরি অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি তার যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করি কারণ প্রায় ৫০ বছর যাবৎ সে খুব ভালভাবে আমার যত্ন করেছিল। শেষে, ১৯৮৬ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর সে মারা যায়।

আমার জন্মস্থান খুঁজে পাওয়া

১৯৮৯ সালে, জিন এবং স্যাম আমাকে তাদের সঙ্গে পোল্যান্ডের সম্মেলনে নিয়ে যায়। আমি যেখানে বড় হয়েছিলাম সেই জায়গায়ও আমরা গিয়েছিলাম। রাশিয়ার অধিবাসীরা যখন বিশ্বের ওই অংশটিকে দখল করে নিয়েছিল, তখন তারা বিভিন্ন শহরের নাম পালটে দিয়েছিল আর লোকেদের অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে আমার এক দাদাকে ইস্তানবুলে এবং দিদিকে রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর আমরা যাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তাদের কাছে আমার গ্রামের নামটি অপরিচিত ছিল।

আমরা যখন যাচ্ছিলাম তখন দূর থেকে কিছু পাহাড় আমার চেনা চেনা লাগছিল। আমরা যতই কাছে আসছিলাম অন্যান্য জিনিসগুলিকেও পরিচিত বলে মনে হতে লাগে—একটা পাহাড়, একটি গলি, একটি গির্জা, নদীর উপর একটি সেতু। হঠাৎই, আমরা একটি দিকনির্দেশক পোস্ট দেখে আশ্চর্য হয়ে যাই, যেখানে লেখা ছিল “হোসোচেক”! এই সময় সাম্যবাদীরা তাদের ক্ষমতা হারিয়েছিল এবং গ্রামগুলিকে আবার পুরনো নাম দেওয়া হয়েছিল।

আমাদের ঘরের তো কোন চিহ্ন ছিল না কিন্তু কেবল একটি উনান ছিল যার কিছুটা মাটির নিচে ছিল ও তা বাইরে রান্নার জন্য ব্যবহার করা হত। তারপর আমি একটি বড় গাছ দেখতে পাই এবং বলি: “এই গাছটি দেখ। আমেরিকায় যাওয়ার আগে আমিই এটি লাগিয়েছিলাম। কত বড় হয়ে গেছে!” এরপর আমরা কবরস্থানে গিয়ে আমাদের পরিবারের সদস্যদের নাম খোঁজার চেষ্টা করি কিন্তু আমরা ভীষণ নিরাশ হয়ে ফিরে এসেছিলাম।

সত্যকে প্রথম স্থানে রাখা

১৯৯৩ সালে জিনের স্বামী মারা গেলে সে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে আমাকে দেখাশোনা করার জন্য সে বেথেল ছেড়ে দেবে কি না। আমি তাকে বলেছিলাম যে যদি তুমি তা কর তবে তা হবে সবচেয়ে খারাপ কাজ আর এখনও আমি একইরকমই মনে করি। ১০২ বছর বয়স পর্যন্ত আমি একাই ছিলাম কিন্তু এরপর আমাকে একটি সেবা কেন্দ্রে চলে আসতে হয়। পিটস্‌বার্গের বেলেভু মণ্ডলীতে আমি এখনও একজন প্রাচীন হিসাবে সেবা করছি আর প্রতি রবিবার ভাইরা এসে আমাকে কিংডম হলের সভাগুলিতে নিয়ে যান। যদিও আমি এখন আর বেশি প্রচার করতে পারি না, তবুও আমার নাম এখনও শারীরিকভাবে অক্ষম অগ্রগামীদের তালিকায় রয়েছে।

বিগত বছরগুলিতে আমি ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির দ্বারা ব্যবস্থাকৃত, অধ্যক্ষদের প্রশিক্ষণদানের বিশেষ বিদ্যালয়গুলিতে যোগ দিয়ে আনন্দ পেয়েছি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আমি মণ্ডলীর প্রাচীনদের জন্য রাজ্যের পরিচর্যা বিদ্যালয়ের কিছু কার্যক্রমে যোগ দিয়েছিলাম। আর এই বছরের ১১ই এপ্রিল জিন আমাকে খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মরণার্থক সভা উদ্‌যাপনে নিয়ে গিয়েছিল, যে অনুষ্ঠানটিতে আমি সেই ১৯৩১ সাল থেকে প্রতি বছর যোগদান করে আসছি। আর তাতে যোগদান করাকে আমি অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করি।

আমি যাদের সঙ্গে অধ্যয়ন করেছিলাম তাদের কেউ কেউ এখন প্রাচীন হিসাবে সেবা করছেন, অন্যেরা এখন দক্ষিণ আমেরিকায় মিশনারি হিসাবে সেবা করছেন আর কেউ কেউ দাদুদিদিমা হয়েছেন ও তাদের সন্তানদের নিয়ে একত্রে ঈশ্বরের সেবা করে চলেছেন। আমার তিন ছেলেমেয়ে—মেরি জেন, জন এবং জিন—আর তাদের ছেলেমেয়ে ও নাতিনাতনিরা বিশ্বস্তভাবে যিহোবা ঈশ্বরকে সেবা করে চলেছে। আমার প্রার্থনা এই যে, কোন একদিন আমার অন্য তিন মেয়ে ও নাতিনাতনি এবং তাদের সন্তানেরাও যেন একইরকম করে।

এখন এই ১০৫ বছর বয়সেও, আমি প্রত্যেককে বাইবেল অধ্যয়ন করতে এবং তারা যা শিখেছে তা অন্যদের জানাতে উৎসাহিত করি। হ্যাঁ, আমি দৃঢ় নিশ্চিত যে ঈশ্বরের সান্নিধ্যে থাকলে আপনি কখনও হতাশ হবেন না। তাহলে আপনিও, যে সোনা ক্ষয় হয়ে যায় তার চেয়ে মূল্যবান কিছু পাবেন—যা হল সত্য যেটি আমাদের জীবন-দাতা যিহোবা ঈশ্বরের সঙ্গে এক মূল্যবান সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

[পাদটীকাগুলো]

a স্যাম ফ্রেন্ডের জীবন কাহিনী, ১৯৮৬ সালের ১লা আগস্ট সংখ্যার প্রহরীদুর্গ (ইংরাজি) এর ২২-৬ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।

[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]

আমি যখন ট্রাম চালাতাম

[২৬ পৃষ্ঠার চিত্র]

যে সেবাকেন্দ্রে আমি এখন থাকি

[২৭ পৃষ্ঠার চিত্র]

যে দিকনির্দেশকটি আমরা ১৯৮৯ সালে খুঁজে পেয়েছিলাম

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার