ওয়াচটাওয়ার অনলাইন লাইব্রেরি
ওয়াচটাওয়ার
অনলাইন লাইব্রেরি
বাংলা
  • বাইবেল
  • প্রকাশনাদি
  • সভা
  • w৯৮ ৮/১৫ পৃষ্ঠা ৩-৪
  • আস্থার এত অভাব কেন?

এই বাছাইয়ের সঙ্গে কোনো ভিডিও প্রাপ্তিসাধ্য নেই।

দুঃখিত, ভিডিওটা চালানো সম্বভব হচ্ছে না।

  • আস্থার এত অভাব কেন?
  • ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • উপশিরোনাম
  • অনুরূপ বিষয়বস্ত‌ু
  • সময়ের এক চিহ্ন
  • আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব!
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • ঈশ্বরের ধার্মিকতার প্রতি আমাদের আস্থা দৃঢ় করা
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • অবশ্যই আমরা যিহোবার উপর আস্থা রাখব
    ১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
  • দৃঢ় দুর্গ তুমি ও বিশ্বাসভূমি
    আনন্দের সঙ্গে যিহোবার উদ্দেশে গান করুন
আরও দেখুন
১৯৯৮ প্রহরীদুর্গ যিহোবার রাজ্য ঘোষণা করে
w৯৮ ৮/১৫ পৃষ্ঠা ৩-৪

আস্থার এত অভাব কেন?

‘আজকের দিনে আপনি কি সত্যিই কারও উপর নির্ভর করতে পারেন?’ আপনি হয়ত কিছু বিমর্ষ ব্যক্তিকে এই প্রশ্নটি করতে শুনেছেন। অথবা আপনার জীবনে আকস্মিকভাবে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার কারণে মানসিকভাবে হতাশ হয়ে আপনি হয়ত নিজেকেই এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছেন।

এটি অস্বীকার করা যায় না যে, আজকে জগদ্ব্যাপী প্রতিষ্ঠান ও লোকেদের উপর সর্বাত্মকভাবে আস্থার অভাব রয়েছে। আর প্রায় ক্ষেত্রেই আস্থার এই অভাবকে সাধারণভাবে নেওয়া হয়। অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের উপর কি একজনও প্রকৃতই আশা রাখতে পারেন যে তারা তাদের নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখবেন? জার্মানিতে ১৯৯০ সালে ১০০০ জন ছাত্রের উপর নেওয়া এক সমীক্ষা দেখায় যে যদিও ১৬.৫ শতাংশ ছাত্র প্রত্যয়ী ছিল যে রাজনীতিবিদেরা জগতের সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারেন কিন্তু তার দ্বিগুণেরও বেশি সংখ্যক তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। আর এক বৃহৎ সংখ্যকেরা বলেছিল যে সমস্যার সমাধান করতে রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার উপর যেমন তাদের আস্থার অভাব রয়েছে তেমনই রয়েছে তা করার জন্য তাদের ইচ্ছার উপর।

সংবাদপত্র স্টাটগারটার নাকরিকটেন অভিযোগ করেছিল: “অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের চেষ্টা থাকে প্রথমে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করা, তারপর সম্ভব হলে জনসাধারণের দিকে তাকানো।” অন্যান্য দেশের লোকেরাও জানেন যে এটিই সত্য। সংবাদপত্র দি ইউরোপিয়ান একটি দেশ সম্বন্ধে বলে: “রাজনীতিবিদদের প্রতি এই অনীহা যুবকদের মধ্যে একেবারে বদ্ধমূল আর একইভাবে বয়স্করাও সেই মনোভাব দেখিয়ে থাকেন।” দেখা যায় যে ‘জনসাধারণ রোজই রাজনৈতিক দলগুলিকে পরিবর্তন করে চলেছে।’ সংবাদপত্রটি আরও বলে: “যে কোন ব্যক্তি [সেখানকার] যুবকদের সঙ্গে একটু সময় কাটালেই সঙ্গে সঙ্গে তাদের আস্থার অভাব ও তাদের অস্থির অবস্থা সম্বন্ধে জেনে যাবেন।” কিন্তু জনসাধারণের আস্থা ব্যতিরেকে গণতান্ত্রিক সরকার খুব কমই সাফল্য অর্জন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জন এফ. কেনেডি একবার বলেছিলেন: “কার্যকারী সরকারের মূল ভিত্তি হল গণ সমর্থন।”

আর্থিক জগতের উপর আস্থা রাখার ক্ষেত্রে বলা যায় যে হঠাৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সহজে ধনী হওয়ার প্রকল্পগুলির ব্যর্থতার জন্য অনেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে যখন শেয়ার বাজার একেবারে পড়ে গিয়েছিল তখন একটি সংবাদ পত্রিকা “আস্থার অত্যধিক ও কখনও কখনও যুক্তিহীন অভাব” এবং “আস্থার অভাবের সংক্রমণ” সম্বন্ধে বলেছিলেন। এটি আরও বলেছিল যে “[এশিয়ার একটি দেশে] আস্থা এতই হ্রাস পেয়েছিল যে মনে হয় যেন ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে টিকে থাকাই . . . মুশকিল।” পত্রিকাটি সংক্ষেপে এই সত্যকেই স্পষ্ট করেছে যে: “অর্থনীতি আস্থার উপর নির্ভর করে।”

ধর্মও আস্থা সঞ্চারিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। জার্মান ধর্মীয় পত্রিকা ক্রাইস্ট ইন ডা জীগেনওয়ার্ট দুঃখের সঙ্গে মন্তব্য করে: “গির্জার উপর জনসাধারণের যে আস্থা ছিল তা ক্রমাগত কমে আসছে।” ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে গির্জার উপর খুব বেশি বা অন্তত মোটামুটি ভাল পরিমাণ আস্থা রাখত, এমন জার্মানদের সংখ্যা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। আর বস্তুতপক্ষে, প্রাক্তন পূর্ব জার্মানিতে তা কমে ২০ শতাংশের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে যে লোকেদের গির্জার প্রতি অল্প অথবা একেবারেই আস্থা ছিল না তাদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রাক্তন পশ্চিম জার্মানিতে তা ৫৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে ও প্রাক্তন পূর্ব জার্মানিতে ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে।

রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্ম—মানব সমাজের এই তিনটি মূলভিত্তি ছাড়া, অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতেও আস্থার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আরেকটি উদাহরণ হল জোরপূর্বক আইন চাপিয়ে দেওয়া। ফৌজদারি আইনের ফাঁক, আইনকে ন্যায্যভাবে প্রয়োগ করার অসুবিধা আর সন্দেহজনক আদালতের রায় লোকেদের আস্থাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। টাইম পত্রিকা অনুসারে “নাগরিক ও পুলিশদের হতাশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা এই সমাজব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে যেটি গুরুতর অপরাধীদের বার বার ছেড়ে দেয়।” পুলিশী দুর্নীতি ও নৃশংসতার কারণে পুলিশদের উপরেও আস্থা শেষ হয়ে গিয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য বলা যায় যে যখন শান্তি বৈঠকগুলি ব্যর্থ হয় ও যুদ্ধ বিরতির জন্য আলোচনাসভাগুলি ভেঙে যায়, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই আস্থার অভাব উৎপন্ন করে। রাষ্ট্রসংঘের যুক্তরাষ্ট্রীয় পররাষ্ট্রদূত বিল রিচার্ডসন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধাকে ইঙ্গিত করেছিলেন সাধারণভাবে এই কথাগুলি বলে: “সেখানে আস্থার অভাব রয়েছে।”

সেইসঙ্গে আমরা যদি আরও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রগুলিতে দেখি, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুরা, সাধারণত সমস্যায় পড়ে মানুষ যাদের মুখের দিকে চায় যে তারা তাদের বুঝবে ও সান্ত্বনা দেবে, এমনকি তাদের উপরও আজ অনেকে আস্থা রাখতে পারেন না। পরিস্থিতিটি অনেকটা এইরকম যেমন ইব্রীয় ভাববাদী মীখা বর্ণনা করেছিলেন: “তোমরা সখাতে প্রত্যয় করিও না; আত্মীয়েতেও বিশ্বাস করিও না; তোমার বক্ষঃস্থলে শয়নকারিণী স্ত্রীর কাছেও আপন মুখের দ্বার রক্ষা কর।”—মীখা ৭:৫.

সময়ের এক চিহ্ন

জার্মান মনোবিজ্ঞানী আর্তুর ফিসার সম্প্রতি বলেন: “সমস্ত ক্ষেত্রে সমাজের বিকাশ ও একজনের ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের উপর আস্থা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের সাহায্য করতে পারবে কি না সেই বিষয়ে যুবকদের সন্দেহ আছে। রাজনীতি, ধর্মীয় অথবা অন্য যে কোন সংগঠনের উপর তাদের আস্থা একেবারেই নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে।” তাই আশ্চর্যের বিষয় নয় যে সমাজবিজ্ঞানী উলরিচ বেক দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষজ্ঞদের প্রতি আস্থার অভাবকে “সন্দেহপ্রবণ সংস্কৃতি” বলে উল্লেখ করেন।

এইধরনের এক সংস্কৃতিতে লোকেরা সমস্ত কর্তৃত্বকে অস্বীকার, প্রত্যাখ্যান করতে চান আর ব্যক্তিগত মান অনুযায়ী জীবনযাপন করতে চান। অন্যদের পরামর্শ বা নির্দেশনা না মেনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চান। কিছুজন অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করার সময় অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ, সম্ভবত সহানুভূতিহীনও হয়ে থাকেন যাদের উপর তারা আর আস্থা রাখতে পারেন না বলে মনে করেন। এই পরিস্থিতি এক ক্ষতিকর আবহাওয়া গড়ে তোলে যেমন বাইবেলে বর্ণিত রয়েছে: “শেষ কালে বিষম সময় উপস্থিত হইবে। কেননা মনুষ্যেরা আত্মপ্রিয়, অর্থপ্রিয়, আত্মশ্লাঘী, অভিমানী, ধর্ম্মনিন্দক, পিতামাতার অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ, অসাধু, স্নেহরহিত, ক্ষমাহীন, অপবাদক, অজিতেন্দ্রিয়, প্রচণ্ড, সদ্‌বিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ, ঈশ্বরপ্রিয় নয়, বরং বিলাসপ্রিয় হইবে; লোকে ভক্তির অবয়বধারী, কিন্তু তাহার শক্তি অস্বীকারকারী হইবে।” (২ তীমথিয় ৩:১-৫; হিতোপদেশ ১৮:১) সত্যই, আজকের আস্থার অভাব সময়ের এক চিহ্ন, ‘শেষ কালের’ এক চিহ্ন।

আস্থার অভাবে ভুগছে এমন এক জগৎ আর উপরে বর্ণিত এইধরনের প্রচুর লোকেদের মাঝে, জীবন প্রকৃতই সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করা অসম্ভব। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এটি চিন্তা করা কি যুক্তিযুক্ত? আজকের আস্থার এই অভাবকে কি অতিক্রম করা যেতে পারে? যদি করা যায় তবে কিভাবে ও কখন?

    বাংলা প্রকাশনা (১৯৮৯-২০২৬)
    লগ আউট
    লগ ইন
    • বাংলা
    • শেয়ার
    • পছন্দসমূহ
    • Copyright © 2026 Watch Tower Bible and Tract Society of Pennsylvania
    • ব্যবহারের শর্ত
    • গোপনীয়তার নীতি
    • গোপনীয়তার সেটিং
    • JW.ORG
    • লগ ইন
    শেয়ার