আপনার কথা আঘাতকারী অথবা আরোগ্যকর?
এই কঠিন সময়ে, অনেকেই যে ‘ভগ্নচিত্ত’ এবং ‘চূর্ণমনা,’ সেটি আশ্চর্যের বিষয় নয়। (গীতসংহিতা ৩৪:১৮) তাই প্রেরিত পৌলের কথানুযায়ী সবসময় “ক্ষীণসাহসদিগকে সান্ত্বনা” দেওয়া এবং “দুর্ব্বলদিগের সাহায্য” করা প্রয়োজনীয়। (১ থিষলনীকীয় ৫:১৪) কিন্তু কী হবে যদি কোন সহমানব আমাদের অসন্তুষ্ট করেন অথবা এমন কিছু করেন যা গুরুতরভাবে অন্যায়? এইধরনের পরিস্থিতিতে সেই ব্যক্তিবিশেষকে রূঢ়ভাবে সংশোধন করাকে আমরা হয়ত যথার্থ বলে মনে করতে পারি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া যথার্থ। পরামর্শ এমনকি যুক্তিসংগত হলেও ক্ষতিকর হতে পারে, যদি তা কর্কশভাবে প্রদান করা হয়। হিতোপদেশ ১২:১৮ পদ উল্লেখ করে: “কেহ কেহ অবিবেচনার কথা বলে, খড়্গাঘাতের মত।”
তাই, আমরা যখন কাউকে সংশোধিত করার জন্য মনস্থ করি অথবা কোন ভুলবোঝাবুঝির মীমাংসা করার চেষ্টা করি, তখন হিতোপদেশ ১২:১৮ পদের দ্বিতীয় অংশটি স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ: “জ্ঞানবানদের জিহ্বা স্বাস্থ্যস্বরূপ [“আরোগ্যকর,” “NW”]।” সর্বদা নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, ‘আমার যদি সংশোধনের প্রয়োজন হত, তা কিভাবে করা হোক বলে আমি চাইতাম?’ আমরা অধিকাংশই সমালোচনার চেয়ে উৎসাহের প্রতি অধিক সাড়া দিই। তাই প্রশংসা করার ক্ষেত্রে উদার হোন। এটি প্রায়ই অসন্তুষ্টকারীকে উন্নতি করার জন্য প্রেরণা দেবে আর সম্ভবত তাকে যে সাহায্য দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ হবেন।
আমাদের বাক্যগুলি সর্বদা মৃদুতার সঙ্গে সংযত করা কতই না গুরুত্বপূর্ণ! আরোগ্যকর বাক্যগুলি শ্রোতাকে গীতরচকের মত অনুভূতি প্রদান করবে, যিনি লিখেছিলেন: “ধার্ম্মিক লোক আমাকে প্রহার করুক, সেটী দয়া; সে আমাকে অনুযোগ করুক, তাহা মস্তকের তৈল; আমার মস্তক তাহা অগ্রাহ্য না করুক।”—গীতসংহিতা ১৪১:৫.