যিহোবা বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের প্রতি তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলি পরিপূর্ণ করেন
“যিনি প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন, তিনি বিশ্বস্ত।”—ইব্রীয় ১০:২৩.
১, ২. যিহোবার প্রতিজ্ঞাগুলির উপর কেন আমাদের পূর্ণ প্রত্যয় আছে?
যিহোবা চান যে তাঁর দাসেরা যেন তাঁর এবং তাঁর প্রতিজ্ঞার উপর এক অটল বিশ্বাস গড়ে তোলেন ও বজায় রাখেন। এইধরনের বিশ্বাস নিয়ে একজন, যিহোবা যা করার প্রতিজ্ঞা করেছেন তাঁর প্রতি সম্পূর্ণরূপে আস্থা রাখতে পারেন। তাঁর অনুপ্রাণিত বাক্য ঘোষণা করে: “বাহিনীগণের সদাপ্রভু শপথ করিয়া বলিয়াছেন, অবশ্যই, আমি যেরূপ সঙ্কল্প করিয়াছি, তদ্রূপ ঘটিবে; আমি যে মন্ত্রণা করিয়াছি, তাহা স্থির থাকিবে।”—যিশাইয় ১৪:২৪.
২ ‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু শপথ করিয়াছেন’ এই বিবৃতিটি দেখায় যে তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলি পরিপূর্ণ করার জন্য এক গাম্ভীর্যপূর্ণ শপথ করেন। এইজন্য তাঁর বাক্য বলতে পারে: “তুমি সমস্ত চিত্তে সদাপ্রভুতে বিশ্বাস কর; তোমার নিজ বিবেচনায় নির্ভর করিও না; তোমার সমস্ত পথে তাঁহাকে স্বীকার কর; তাহাতে তিনি তোমার পথ সকল সরল করিবেন।” (হিতোপদেশ ৩:৫, ৬) যখন আমরা যিহোবার উপর আস্থা রাখি ও নিজেদের তাঁর প্রজ্ঞা দ্বারা নির্দেশিত হতে দিই, আমাদের পথ নিশ্চিতভাবে অনন্ত জীবনের প্রতি পরিচালিত হবে কারণ ঈশ্বরের প্রজ্ঞা “যাহারা তাহাকে ধরিয়া রাখে, তাহাদের কাছে তাহা জীবনবৃক্ষ।”—হিতোপদেশ ৩:১৮; যোহন ১৭:৩.
প্রাচীন কালে প্রকৃত বিশ্বাস
৩. নোহ কিভাবে যিহোবার উপর বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন?
৩ প্রকৃত বিশ্বাসীদের প্রতি যিহোবার কাজের নথি সাক্ষ্য দেয় যে তিনি নির্ভরযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, ৪,৪০০ বছরেরও বেশি আগে ঈশ্বর নোহকে বলেছিলেন যে তার সময়ের জগৎ এক বিশ্বব্যাপী জলপ্লাবন দ্বারা ধ্বংস হবে। মানুষ ও প্রাণীদের জীবন সংরক্ষণের জন্য তিনি নোহকে এক প্রকাণ্ড জাহাজ নির্মাণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নোহ কী করেছিলেন? ইব্রীয় ১১:৭ পদ আমাদের বলে: “বিশ্বাসে নোহ, যাহা যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া ভক্তিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া আপন পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্ম্মাণ করিলেন।” যা আগে কখনও ঘটেনি, “যাহা যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না” এমন কিছুর উপর নোহের কেন বিশ্বাস ছিল? কারণ ঈশ্বর যা বলেন তা যে পূর্ণ হয়, তা উপলব্ধি করার মত মানব পরিবারের সাথে ঈশ্বরের পূর্ববর্তী আচরণ সম্বন্ধে তিনি যথেষ্ট জেনেছিলেন। তাই নোহ দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন যে জলপ্লাবনও ঘটবে।—আদিপুস্তক ৬:৯-২২.
৪, ৫. অব্রাহাম কেন সম্পূর্ণরূপে যিহোবাতে আস্থা রেখেছিলেন?
৪ প্রকৃত বিশ্বাসের আরেকটি উদাহরণ হল অব্রাহাম। প্রায় ৩,৯০০ বছর আগে তাকে তার স্ত্রী সারার দ্বারা জাত একমাত্র পুত্র ইস্হাককে ঈশ্বর উৎসর্গ করতে বলেছিলেন। (আদিপুস্তক ২২:১-১০) অব্রাহাম কিভাবে সাড়া দিয়েছিলেন? ইব্রীয় ১১:১৭ পদ উল্লেখ করে: “বিশ্বাসে অব্রাহাম পরীক্ষিত হইয়া ইস্হাককে উৎসর্গ করিয়াছিলেন।” যাইহোক, শেষ মুহূর্তে যিহোবার দূত অব্রাহামকে নিবৃত্ত করেছিলেন। (আদিপুস্তক ২২:১১, ১২) কিন্তু, কেন অব্রাহাম এইধরনের একটি কাজ করতে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন? কারণ ইব্রীয় ১১:১৯ পদ যেমন বলে: “তিনি মনে স্থির করিয়াছিলেন, ঈশ্বর মৃতগণের মধ্য হইতেও [ইস্হাককে] উত্থাপন করিতে সমর্থ।” কিন্তু অব্রাহাম কিভাবে পুনরুত্থানে বিশ্বাস করতে পেরেছিলেন, যদিও এর পূর্বে তিনি কারোর ক্ষেত্রে তা দেখেননি এবং এই সম্বন্ধে পূর্বের কোন নথিও ছিল না?
৫ স্মরণ করুন, ঈশ্বর যখন তাদের পুত্রের বিষয় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তখন সারার বয়স ছিল ৮৯ বছর। সারার গর্ভ সন্তানধারণে অক্ষম ছিল—বলতে গেলে মৃত। (আদিপুস্তক ১৮:৯-১৪) ঈশ্বর সারার গর্ভকে সক্রিয় করেছিলেন আর তিনি ইস্হাককে ধারণ করেছিলেন। (আদিপুস্তক ২১:১-৩) অব্রাহাম জানতেন যে যেহেতু ঈশ্বর সারার মৃত গর্ভকে সক্রিয় করেছিলেন তাই প্রয়োজনে তিনি ইস্হাককেও জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেন। অব্রাহাম সম্বন্ধে রোমীয় ৪:২০, ২১ পদ বলে: “তথাপি ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞার প্রতি লক্ষ্য করিয়া অবিশ্বাস বশতঃ সন্দেহ করিলেন না; কিন্তু বিশ্বাসে বলবান্ হইলেন, ঈশ্বরের গৌরব করিলেন, এবং নিশ্চয় জানিলেন, ঈশ্বর যাহা প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন, তাহা সফল করিতে সমর্থও আছেন।”
৬. যিহোশূয় কিভাবে যিহোবার উপর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন?
৬ ৩,৪০০ বছরেরও বেশি আগে যখন যিহোশূয়ের বয়স একশ বছরের বেশি ছিল আর সারা জীবনব্যাপী ঈশ্বর কতখানি আস্থাযোগ্য তা অভিজ্ঞতা করার পর তিনি তার দৃঢ়প্রত্যয়ের জন্য এই কারণ দিয়েছিলেন: “তোমরা সমস্ত অন্তঃকরণে ও সমস্ত প্রাণে ইহা জ্ঞাত হও যে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের বিষয়ে যত মঙ্গলবাক্য বলিয়াছিলেন, তাহার মধ্যে একটীও বিফল হয় নাই; তোমাদের পক্ষে সকলই সফল হইয়াছে, তাহার একটীও বিফল হয় নাই।”—যিহোশূয় ২৩:১৪.
৭, ৮. প্রথম শতাব্দীতে বিশ্বস্ত খ্রীষ্টানেরা কোন্ জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং কেন?
৭ প্রায় ১,৯০০ বছর আগে, অনেক নম্র লোকেরা প্রকৃত বিশ্বাস প্রদর্শন করেছিলেন। বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূর্ণতা থেকে তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে যীশুই ছিলেন মশীহ এবং তারা তাঁর শিক্ষাকে গ্রহণ করেছিলেন। প্রকৃত ঘটনা ও ইব্রীয় শাস্ত্রাবলীর উপর এক বলিষ্ঠ ভিত্তি থাকার দরুণ, যীশু যা শিখিয়েছিলেন তার উপর তারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন। তাই যখন যীশু বলেছিলেন যে অবিশ্বস্ততার কারণে যিহূদিয়া ও যিরূশালেমের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের বিচার আসতে চলেছে তখন তারা তাঁকে বিশ্বাস করেছিলেন। আর যখন তিনি তাদের জীবন রক্ষার্থে যে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল সে সম্বন্ধে বলেছিলেন, তারা সেটি গ্রহণ করেছিলেন।
৮ যীশু বিশ্বাসীদের বলেছিলেন যে যিরূশালেম যখন সৈন্যদের দ্বারা বেষ্টিত হবে, তাদের পলায়ন করতে হবে। সা.কা. ৬৬ সালে রোমীয় সৈন্যরা যিরূশালেমের বিরুদ্ধে এসেছিল। কিন্তু কিছু অব্যাখ্যনীয় কারণের জন্য রোমীয়রা চলে গিয়েছিল। সেই নগর পরিত্যাগ করার জন্য খ্রীষ্টানদের কাছে সেটি সংকেতস্বরূপ ছিল, কারণ যীশু বলেছিলেন: “যখন তোমরা যিরূশালেমকে সৈন্যসামন্ত দ্বারা বেষ্টিত দেখিবে, তখন জানিবে যে, তাহার ধ্বংস সন্নিকট। তখন যাহারা যিহূদিয়ায় থাকে, তাহারা পাহাড় অঞ্চলে পলায়ন করুক, এবং যাহারা নগরের মধ্যে থাকে, তাহারা বাহিরে যাউক; আর যাহারা পল্লীগ্রামে থাকে, তাহারা নগরে প্রবেশ না করুক।” (লূক ২১:২০, ২১) প্রকৃত বিশ্বাসীরা যিরূশালেম ও এর পরিবেষ্টিত অঞ্চল পরিত্যাগ এবং নিরাপদ স্থানে পলায়ন করেছিলেন।
বিশ্বাসের অভাবের পরিণতিগুলি
৯, ১০. (ক) ধর্মীয় নেতারা কিভাবে যীশুর প্রতি তাদের বিশ্বাসের অভাব দেখিয়েছিলেন? (খ) বিশ্বাসের অভাবের পরিণতিগুলি কী হয়েছিল?
৯ যাদের প্রকৃত বিশ্বাস ছিল না তারা কী করেছিলেন? যখন তাদের সুযোগ এসেছিল তারা পলায়ন করেননি। তারা ভেবেছিলেন যে তাদের নেতারা তাদের রক্ষা করতে পারবেন। কিন্তু সেই নেতা ও তাদের অনুগামীদের কাছেও যীশুর মশীহপদ সম্বন্ধে প্রমাণ ছিল। তাহলে তিনি যা বলেছিলেন কেন তারা তা গ্রহণ করেননি? তাদের দুষ্ট অন্তঃকরণের জন্য। এটি পূর্বেই প্রকাশ পেয়েছিল যখন তারা দেখেছিলেন যে যীশু লাসারকে পুনরুত্থিত করার পর, সাধারণ লোকেদের অনেকে যীশুর কাছে এসে একত্রিত হয়েছিলেন। যোহন ১১:৪৭, ৪৮ পদ বলে: “প্রধান যাজকগণ ও ফরীশীরা [যিহূদী উচ্চ আদালত] সভা করিয়া বলিতে লাগিল আমরা কি করি? এ ব্যক্তি [যীশু] ত অনেক চিহ্ন-কার্য্য করিতেছে। আমরা যদি ইহাকে এইরূপ চলিতে দিই, তবে সকলে ইহাতে বিশ্বাস করিবে; আর রোমীয়েরা আসিয়া আমাদের স্থান ও জাতি উভয়ই কাড়িয়া লইবে।” ৫৩ পদ বলে: “অতএব সেই দিন অবধি তাহারা তাঁহাকে বধ করিবার মন্ত্রণা করিতে লাগিল।”
১০ কী এক চমৎকার অলৌকিক কাজই না যীশু সম্পাদন করেছিলেন—তিনি লাসারকে মৃত্যু থেকে জীবনে ফিরিয়ে এনেছিলেন! কিন্তু ধর্মীয় নেতারা এটি করার জন্য যীশুকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাদের জঘন্য দুষ্টতা আরও উন্মোচিত হয়েছিল যখন “প্রধান যাজকেরা মন্ত্রণা করিল, যেন লাসারকেও বধ করিতে পারে; কেননা তাঁহারই নিমিত্ত যিহূদীদের মধ্যে অনেকে গিয়া যীশুতে বিশ্বাস করিতে লাগিল।” (যোহন ১২:১০, ১১) লাসার সবেমাত্র মৃত্যু থেকে উত্থিত হয়েছিলেন আর সেই যাজকেরা তাকে আবার মৃত দেখতে চেয়েছিলেন! তারা ঈশ্বরের ইচ্ছা অথবা লোকেদের মঙ্গলের প্রতি উদ্বিগ্ন ছিলেন না। তারা স্বার্থপর ছিলেন আর নিজেদের পদমর্যাদা ও সুবিধাগুলির জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। “ঈশ্বরের কাছে গৌরব অপেক্ষা তাহারা বরং মনুষ্যদের কাছে গৌরব অধিক ভাল বাসিত।” (যোহন ১২:৪৩) কিন্তু তারা তাদের বিশ্বাসের অভাবের মূল্য দিয়েছিলেন। সা.কা. ৭০ সালে রোমীয় সৈন্যরা পুনরায় এসেছিল এবং তাদের স্থান ও জাতি এবং সেই সাথে তাদের অনেককে ধ্বংস করেছিল।
আমাদের সময়ে প্রদর্শিত বিশ্বাস
১১. এই শতাব্দীর প্রারম্ভে, প্রকৃত বিশ্বাস কিভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল?
১১ এই শতাব্দীতেও প্রকৃত বিশ্বাসী অনেক পুরুষ ও নারীরা রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, বিগত ১৯০০ সালের প্রারম্ভে সাধারণ লোকেরা এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। সেই একই সময়ে যারা যিহোবার উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, তারা ঘোষণা করছিলেন যে মানবজাতি সমস্যার সবচেয়ে মন্দ সময়ে প্রবেশ করতে চলেছে। ঈশ্বরের বাক্যে মথি ২৪ অধ্যায়, ২ তীমথিয় ৩ অধ্যায় এবং অন্যান্য স্থানে এই বিষয়টি সম্বন্ধেই ভাববাণী করা ছিল। সেই বিশ্বাসী লোকেরা যা বলেছিলেন, ১৯১৪ সালে ১ম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে প্রকৃতই তা ঘটেছিল। বাস্তবিকই জগৎ ভাববাণীকৃত ‘শেষকালের বিষম সময়ে’ প্রবেশ করেছিল। (২ তীমথিয় ৩:১) সেই সময়ে যিহোবার দাসেরা কেন জগৎ পরিস্থিতি সম্বন্ধীয় সেই সত্যটি জেনেছিলেন যখন অন্যান্যেরা জানতে পারেননি? কারণ যিহোশূয়ের মত তাদের বিশ্বাস ছিল যে যিহোবার একটি বাক্যও বিফল হবে না।
১২. আজকে, যিহোবার কোন্ প্রতিজ্ঞায় তাঁর দাসেরা পূর্ণ আস্থা রাখেন?
১২ আজকে যিহোবার দাসেরা যারা তাঁর উপর তাদের আস্থা রাখেন, বিশ্বব্যাপী তাদের সংখ্যা প্রায় ষাট লাখ। ঈশ্বরের ভবিষ্যদ্বাণীকৃত বাক্যের পরিপূর্ণতার প্রমাণ থেকে তারা জানেন যে তিনি শীঘ্রই এই দৌরাত্ম্যপূর্ণ, অনৈতিক বিধিব্যবস্থার এক শেষ নিয়ে আসবেন। তাই তারা দৃঢ়প্রত্যয়ী যে সেই সময় সন্নিকট যখন তারা ১ যোহন ২:১৭ পদের পরিপূর্ণতা দেখবেন, যেখানে বলে: “জগৎ ও তাহার অভিলাষ বহিয়া যাইতেছে; কিন্তু যে ব্যক্তি ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করে, সে অনন্তকালস্থায়ী।” তাঁর দাসেরা সম্পূর্ণরূপে আস্থা রাখেন যে যিহোবা এই প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করবেন।
১৩. কতদূর পর্যন্ত আপনি যিহোবাতে আস্থা রাখতে পারেন?
১৩ কতদূর পর্যন্ত আপনি যিহোবাতে আস্থা রাখতে পারেন? আপনি সম্পূর্ণরূপে আপনার জীবনকে তাঁর সাথে আবদ্ধ রাখতে পারেন! এমনকি এখন তাঁকে সেবা করতে গিয়ে আপনি যদি আপনার জীবন হারানও, পুনরুত্থানে তিনি আপনাকে আরও মহত্তর এক জীবন দান করবেন। যীশু আমাদের আশ্বাস দেন: “এমন সময় আসিতেছে, যখন কবরস্থ [অর্থাৎ, ঈশ্বরের স্মরণে] সকলে তাঁহার রব শুনিবে, এবং . . . বাহির হইয়া আসিবে।” (যোহন ৫:২৮, ২৯) আপনি কি এমন কোন চিকিৎসক, রাজনৈতিক নেতা, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী অথবা অন্য কোন মানুষকে জানেন যারা তা করতে পারেন? তাদের অতীত নথি দেখায় যে তারা পারেন না। যিহোবাই পারেন আর তিনি তা করবেন!
বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের জন্য এক চমৎকার ভবিষ্যৎ
১৪. বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের জন্য ঈশ্বরের বাক্য কোন্ চমৎকার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে প্রতিজ্ঞা করে?
১৪ ঈশ্বরের স্বর্গীয় রাজ্যের অধীনে একটি নতুন জগতের নিশ্চয়তা সম্বন্ধে ইঙ্গিত করে যীশু বলেছিলেন: “ধন্য যাহারা মৃদুশীল, কারণ তাহারা দেশের অধিকারী হইবে।” (মথি ৫:৫) গীতসংহিতা ৩৭:২৯ পদে প্রাপ্ত ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাকে সেটি পুনরুজ্জীবিত করেছিল: “ধার্ম্মিকেরা দেশের অধিকারী হইবে, তাহারা নিয়ত তথায় বাস করিবে।” আর যীশুর মৃত্যুর ঠিক আগে একজন দুষ্কর্মকারী যখন তাঁর প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন, যীশু সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন: “তুমি পরমদেশে আমার সঙ্গে উপস্থিত হইবে।” (লূক ২৩:৪৩) হ্যাঁ, ঈশ্বরের রাজ্যের রাজা হিসাবে, যীশু দেখবেন যে এই ব্যক্তি পরমদেশে অনন্ত জীবন বাস করার সুযোগসহ পুনরুত্থিত হয়েছেন কি না। আজকে, যারা যিহোবার রাজ্যের উপর তাদের বিশ্বাস স্থাপন করেন, তারাও এক পরমদেশে বাস করার জন্য সানন্দে প্রতীক্ষা করতে পারেন যখন “[ঈশ্বর] তাহাদের সমস্ত নেত্রজল মুছাইয়া দিবেন; এবং মৃত্যু আর হইবে না; শোক বা আর্ত্তনাদ বা ব্যথাও আর হইবে না।”—প্রকাশিত বাক্য ২১:৪.
১৫, ১৬. নতুন জগতে জীবন খুবই শান্তিপূর্ণ হবে কেন?
১৫ আসুন আমরা সেই নতুন জগতের প্রতি আমাদের মন নিবদ্ধ করি। কল্পনা করুন আমরা ইতিমধ্যেই সেখানে বাস করছি। প্রত্যক্ষভাবে আমরা কেবল সুখী লোকেদেরই দেখছি যারা পূর্ণ সুখে ঐক্যবদ্ধভাবে বাস করছেন। তারা যিশাইয় ১৪:৭ পদে বর্ণিত অনুরূপ অবস্থা উপভোগ করছেন: “সমস্ত পৃথিবী শান্ত ও সুস্থির হইয়াছে, সকলে উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান করিতেছে।” কেন তারা এটি করছেন? একটি কারণ হল, লক্ষ্য করুন যে গৃহের দরজায় কোন তালা নেই। তাদের সেটির প্রয়োজন নেই, কারণ কোন অপরাধ অথবা দৌরাত্ম্য সেখানে নেই। এটি যেমন হবে বলে ঈশ্বরের বাক্য যা বলেছিল, এটি ঠিক সেইরকম: “প্রত্যেকে আপন আপন দ্রাক্ষালতার ও আপন আপন ডুমুরবৃক্ষের তলে বসিবে; কেহ তাহাদিগকে ভয় দেখাইবে না।”—মীখা ৪:৪.
১৬ এমনকি কোন যুদ্ধও নেই, কারণ এই নতুন জগতে যুদ্ধ আইন বহির্ভূত। সমস্ত অস্ত্র শান্তি সম্পাদনের সরঞ্জামে পরিবর্তিত হয়েছে। যিশাইয় ২:৪ পদ সম্পূর্ণ অর্থে পরিপূর্ণ হয়েছে: “তাহারা আপন আপন খড়্গ ভাঙ্গিয়া লাঙ্গলের ফাল গড়িবে, ও আপন আপন বড়শা ভাঙ্গিয়া কাস্তা গড়িবে; এক জাতি অন্য জাতির বিপরীতে আর খড়্গ তুলিবে না, তাহারা আর যুদ্ধ শিখিবে না।” অর্থাৎ আমরা যা প্রত্যাশা করেছিলাম এটি তাই! কেন? কারণ পুরনো জগতে যিহোবাকে সেবা করার সময় নতুন জগতের অনেক অধিবাসীরা আগে থেকেই তা করতে শিখেছিলেন।
১৭. ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে জীবন ব্যবস্থা কেমন হবে?
১৭ আপনি আরও কিছু লক্ষ্য করবেন আর তা হল সেখানে কোন দরিদ্রতা নেই। কেউ জীর্ণ কুটিরে বাস করে না বা ছেঁড়া বস্ত্র পরে না অথবা গৃহহীন নয়। প্রত্যেকের একটি আরামদায়ক গৃহ এবং সুন্দর বৃক্ষ ও ফুল সহ উত্তমভাবে সংরক্ষিত জমি রয়েছে। (যিশাইয় ৩৫:১, ২; ৬৫:২১, ২২; যিহিষ্কেল ৩৪:২৭) আর সেখানে কোন ক্ষুধা নেই কারণ ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞা পরিপূর্ণ করেছেন যে সকলের জন্য প্রচুর খাদ্য থাকবে: “দেশমধ্যে পর্ব্বত-শিখরে প্রচুর শস্য হইবে।” (গীতসংহিতা ৭২:১৬) বাস্তবিকই, ঈশ্বরের রাজ্যের পরিচালনার অধীনে পৃথিবীব্যাপী এক মহিমাময় পরমদেশ প্রসারিত হবে ঠিক যেমন অতীতে ঈশ্বর এদনে স্থির করেছিলেন।—আদিপুস্তক ২:৮.
১৮. নতুন জগতে কোন্ বিষয়গুলি লোকেদের আর ভয় দেখাবে না?
১৮ এছাড়াও আপনি আশ্চর্য হবেন যে প্রত্যকের প্রচুর শক্তি রয়েছে। এর কারণ হল এখন তাদের সিদ্ধ দেহ ও মন রয়েছে। অসুস্থতা, ব্যথা অথবা মৃত্যু আর নেই। হুইলচেয়ার অথবা হাসপাতালের বিছানায় কেউ আর নেই। সেগুলি চিরকালের জন্য বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। (যিশাইয় ৩৩:২৪; ৩৫:৫, ৬) কোন জীবজন্তুও আর মানুষকে ভয় দেখাবে না কারণ সেগুলি ঈশ্বরের ক্ষমতায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে!—যিশাইয় ১১:৬-৮; ৬৫:২৫; যিহিষ্কেল ৩৪:২৫.
১৯. নতুন জগতে প্রতিটি দিন কেন ‘আমোদপূর্ণ’ হবে?
১৯ এই নতুন জগতের বিশ্বস্ত অধিবাসীদের দ্বারা কী এক চমৎকার সভ্যতাই না গড়ে উঠেছে! তাদের শক্তি ও দক্ষতা এবং পৃথিবীর সম্পদ উপকারী বিষয়গুলির জন্য নিয়োজিত, ক্ষতিকর বিষয়গুলির জন্য নয়; অন্যদের সাথে সহযোগিতা করার জন্য, তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করার জন্য নয়। আর প্রত্যেকজন যাদের সাক্ষাৎ আপনি পাবেন তাদের সকলের উপর আস্থা রাখতে পারেন, যেমন ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সকলে “সদাপ্রভুর কাছে শিক্ষা পাইবে।” (যিশাইয় ৫৪:১৩) যেহেতু সকলে ঈশ্বরের ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত, তাই পৃথিবী “সমুদ্র যেমন জলে আচ্ছন্ন, তেমনি . . . সদাপ্রভু-বিষয়ক জ্ঞানে পরিপূর্ণ হইবে।” (যিশাইয় ১১:৯) প্রকৃতই, এই নতুন জগতে প্রতিটি দিন সেইরকমই হবে, যেমন গীতসংহিতা ৩৭:১১ পদ বলে—‘আমোদপূর্ণ।’
এক সুখী ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে
২০. এক শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ উপভোগ করার জন্য আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে?
২০ সেই সুখী ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে? যিশাইয় ৫৫:৬ পদ আমাদের বলে: “সদাপ্রভুর অন্বেষণ কর, যাবৎ তাঁহাকে পাওয়া যায়, তাঁহাকে ডাক, যাবৎ তিনি নিকটে থাকেন।” আর আমরা যখন অনুসন্ধান করি, আমাদের মনোভাব গীতসংহিতা ১৪৩:১০ পদে যেভাবে বর্ণিত রয়েছে তেমন হবে: “তোমার ইষ্ট সাধন করিতে আমাকে শিক্ষা দেও; কেননা তুমিই আমার ঈশ্বর।” যারা এটি করেন তারা এই শেষকালেও নির্দোষভাবে যিহোবার পথে চলতে পারেন ও এক উত্তম ভবিষ্যতের জন্য সানন্দে প্রতীক্ষা করতে পারেন। “সিদ্ধকে অবধারণ কর, সরলকে নিরীক্ষণ কর; শান্তিপ্রিয় ব্যক্তির শেষ ফল আছে। অধর্ম্মাচারিগণ সকলেই বিনষ্ট হইবে; দুষ্টদের শেষ ফল উচ্ছিন্ন হইবে।”—গীতসংহিতা ৩৭:৩৭, ৩৮.
২১, ২২. আজকে ঈশ্বর কী সংগঠিত করছেন আর সেই প্রশিক্ষণ কিভাবে সম্পাদিত হচ্ছে?
২১ প্রত্যেক জাতির মধ্যে থেকে যারা তাঁর ইচ্ছা পালন করতে চায়, তাদের যিহোবা এখনই আহ্বান করছেন। তাঁর নতুন পার্থিব সমাজের ভিত্তিমূল হিসাবে তিনি তাদের সংগঠিত করছেন, ঠিক বাইবেলের ভাববাণীর মত: “শেষকালে [আমরা এখন যে সময়ে বাস করছি] এইরূপ ঘটিবে . . . অনেক দেশের লোক যাইবে, বলিবে, চল, আমরা সদাপ্রভুর পর্ব্বতে [তাঁর উচ্চীকৃত সত্য উপাসনা] . . . গিয়া উঠি; তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয়ে শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাঁহার মার্গে গমন করিব।”—যিশাইয় ২:২, ৩.
২২ প্রকাশিত বাক্য ৭:৯ পদ এদের “প্রত্যেক জাতির ও বংশের ও প্রজাবৃন্দের ও ভাষার বিস্তর লোক” হিসাবে বর্ণনা করে। ১৪ পদ উল্লেখ করে: “ইহারা সেই লোক, যাহারা সেই মহাক্লেশের মধ্য হইতে আসিয়াছে,” অর্থাৎ বর্তমান বিধিব্যবস্থার ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়েছে। নতুন জগতের এই ভিত্তিমূল এখন প্রায় ষাট লক্ষ, প্রতি বছর আরও অনেক নতুন ব্যক্তিরা এর অংশী হচ্ছেন। যিহোবার এই বিশ্বস্ত দাসেদের সকলে তাঁর নতুন জগতে জীবনের জন্য প্রশিক্ষিত হচ্ছেন। তারা এই পৃথিবীকে এক পরমদেশে রূপান্তরিত করার জন্য আধ্যাত্মিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলি শিখছেন। আর তারা সম্পূর্ণভাবে আস্থা রাখেন যে পরমদেশ এক বাস্তব বিষয়ে পরিণত হবে কারণ “যিনি প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন, তিনি বিশ্বস্ত।”—ইব্রীয় ১০:২৩.
পুনরালোচনার বিষয়গুলি
◻ বিশ্বাসের অভাব প্রথম শতাব্দীতে কোন্ পরিণতিগুলি এনেছিল?
◻ ঈশ্বরের দাসেরা কতদূর পর্যন্ত তাঁর উপর আস্থা রাখতে পারেন?
◻ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের জন্য কোন্ ভবিষ্যৎ সঞ্চিত রয়েছে?
◻ ঈশ্বরের নতুন জগতে এক সুখী ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের অবশ্যই কী করতে হবে?
[১৮ পৃষ্ঠার চিত্র]
এখনই যিহোবা এক নতুন পার্থিব সমাজের ভিত্তিমূল সংগঠিত করছেন