ঈশ্বরের বাক্যে আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করা
অধিকাংশ লোকেরা অন্য যে কোন বইয়ের চেয়ে বাইবেলই বেশি পড়েছেন। কিন্তু কতজন এর বার্তার প্রতি বিশ্বাস প্রদর্শন করেছেন? বাইবেল স্বয়ং ব্যাখ্যা করে যে “সকলের বিশ্বাস নাই।” (২ থিষলনীকীয় ৩:২) স্পষ্টতই, আমরা বিশ্বাস নিয়ে জন্মাই না। এটি অবশ্যই গড়ে তুলতে হবে। এমনকি যাদের কিছু পরিমাণ বিশ্বাস আছে তাদেরও এর গুরুত্বকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশ্বাস নষ্ট ও শেষ হয়ে যেতে পারে। সুতরাং, “বিশ্বাসে . . . নিরাময়” থাকার জন্য প্রচেষ্টার প্রয়োজন।—তীত ২:২.
অতএব, উত্তম কারণেই, যিহোবার সাক্ষীদের পরিচালক গোষ্ঠী তাদের ১৯৯৭/৯৮ সালের ধারাবাহিক জেলা সম্মেলনগুলির জন্য “ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস” এই বিষয়বস্তুটি বেছে নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ সাক্ষীরা ও অন্যান্যেরা ঈশ্বরের বাক্যে তাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য একত্রে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ঈশ্বরের বাক্য সত্যস্বরূপ—আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তি
এটিই ছিল সম্মেলনের প্রথম দিনের বিষয়বস্তু। উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে প্রশংসাবাক্যগুলি দ্বারা তা শুরু হয়েছিল। সম্মেলনে উপস্থিতিই বাইবেলের প্রতি সম্মানের প্রমাণ দিয়েছিল। তবুও, আমাদের বিশ্বাসের গুণগত মান সম্বন্ধে চিন্তা-উদ্দীপক প্রশ্নগুলি উত্থাপন করা হয়েছিল: ‘কর্তৃত্বস্বরূপ ঈশ্বরের বাক্যকে ব্যবহার করে আমরা কি আমাদের বিশ্বাসকে রক্ষা করতে পারি? বাইবেল, মণ্ডলীর সভা ও বাইবেল-ভিত্তিক প্রকাশনাগুলির গুরুত্বকে কখনও হালকাভাবে না নিয়ে আমরা কি আধ্যাত্মিক খাদ্যের প্রতি উপলব্ধি দেখাই? আমরা কি প্রেমে, যথার্থ জ্ঞানে ও বিচক্ষণতায় বেড়ে উঠছি?’ বক্তা সবাইকে মনোযোগের সাথে শ্রবণ করতে উৎসাহিত করেছিলেন, এটি বলার দ্বারা যে “‘ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস’ এই জেলা সম্মেলনটি, আমাদের নিজেদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমীক্ষা আর ব্যক্তিগতভাবে আমাদের যতটুকু বিশ্বাস রয়েছে তা ও তার গুণগত মান পরীক্ষা করতে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।”
মুখ্য বক্তৃতাটির শিরোনাম ছিল ‘বিশ্বাস দ্বারা চলা, বাহ্য দৃশ্য দ্বারা নয়।’ (২ করিন্থীয় ৫:৭) “যারা যিহোবার সাক্ষী হয়েছেন তাদের বিশ্বাস অপ্রামাণিক নয়” বক্তা বলেছিলেন। এটি কতই না সত্য! প্রকৃত বিশ্বাস অন্ধ নয়। এটি বাস্তবতার উপর ভিত্তিশীল। ইব্রীয় ১১:১ পদ বলে: “বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চয়জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণপ্রাপ্তি।” বক্তা মন্তব্য করেছিলেন: “আমরা যদি প্রকৃতই বিশ্বাস দ্বারা চলতে চাই তাহলে আমাদের সেই বিশ্বাসের প্রয়োজন যা সুপ্রতিষ্ঠিত।” যেহেতু আমরা বিশ্বাস দ্বারা চলি, বাহ্য দৃশ্য দ্বারা নয় তাই যিহোবা তাঁর উদ্দেশ্যের সমস্ত কিছু কিভাবে ও কখন সম্পাদন করবেন সেইগুলি বিস্তারিত জানার আমাদের কোনও প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যেই তাঁর সম্বন্ধে আমরা যা কিছু জেনেছি সেইগুলিই প্রেম ও ধার্মিকতার সাথে প্রতিজ্ঞাগুলি পরিপূর্ণ করা সম্বন্ধীয় তাঁর ক্ষমতার উপর আমাদের সম্পূর্ণ প্রত্যয় প্রদান করে।
“খ্রীষ্টীয় যুবক-যুবতীরা—মণ্ডলীর এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ” এই বক্তৃতাটি যুবক-যুবতীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল যে তারা যিহোবার কাছে কতটা মূল্যবান। তাদের সম্পূর্ণ বাইবেলটি পড়া আর উৎসর্গ ও বাপ্তিস্ম গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকভাবে গড়ে ওঠা এইধরনের লক্ষ্যগুলি অনুধাবন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল। অতিরিক্ত শিক্ষা লাভ করা পিতামাতার সাথে আলোচনা করে একজনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় হলেও, যদি তা গ্রহণ করা হয় তবে সর্বদা এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আরও কার্যকরভাবে ঈশ্বরের সেবা করার জন্য সুসজ্জিভূত হওয়া। যখন আমরা আমাদের বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কযুক্ত ‘যাহা যাহা ভিন্ন প্রকার, তাহা পরীক্ষা করিয়া চিনিতে পারি,’ জাগতিক শিক্ষা এক উপকারজনক উদ্দেশ্য সম্পন্ন করতে পারে।—ফিলিপীয় ১:৯, ১০.
এরপর, “আপনি কার মানগুলি পালন করেন?” এই বিষয়বস্তুর উপর তিনটি বক্তৃতার একটি সিম্পোজিয়াম হয়েছিল। বাইবেলের মানগুলির প্রতি অনুগত থাকতে ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস আমাদের পরিচালিত করে। খ্রীষ্টানেরা যিহোবার ব্যবস্থা ও নীতিগুলি মেনে চলেন। উদাহরণস্বরূপ, শাস্ত্র আমাদের অশ্লীল ও নোংরা ভাষা ব্যবহার না করতে পরামর্শ দেয়। (ইফিষীয় ৪:৩১, ৩২) বক্তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “যখন ক্রুদ্ধ বা বিরক্ত হন তখন আপনি কি আপনার সঙ্গী কিংবা সন্তানের সাথে চিৎকার করে গালিগালাজ করেন?” অবশ্যই তা অখ্রীষ্টীয় হবে। আমাদের ব্যক্তিগত বেশভূষা সম্পর্কেও ঈশ্বরের মানসমূহ রয়েছে। খ্রীষ্টানদের তাদের নিজেদেরকে “সলজ্জ ও সুবুদ্ধিভাবে পরিপাটী বেশে” রাখা উচিত। (১ তীমথিয় ২:৯, ১০) “সলজ্জ” শব্দটি আত্ম-সম্মানের ধারণাকে প্রকাশ করে যা শ্রদ্ধাবোধ, মর্যাদাবোধ ও মিতাচারকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা অন্যদের প্রতি প্রেমের দ্বারা পরিচালিত হয়েছি আর বাইবেলের নীতিগুলি ও যা সঠিক সেই বোধশক্তির দ্বারা নির্দেশিত হয়েছি।
পরবর্তী দুটি বক্তৃতা ইব্রীয় ৩:৭-১৫ ও ৪:১-১৬ পদগুলির প্রতিটি পদ বিবেচনা করাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। বাইবেলের এই বাক্যাংশগুলি “পাপের প্রতারণায় কঠিনীভূত” হওয়ার বিপদগুলির বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক করে। (ইব্রীয় ৩:১৩) পাপের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আমরা কিভাবে সফল হতে পারি? যিহোবা তাঁর বাক্যের মাধ্যমে আমাদের সাহায্য করেন। বস্তুতপক্ষে, “ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত ও কার্য্যসাধক, এবং . . . হৃদয়ের চিন্তা ও বিবেচনার সূক্ষ্ম বিচারক।”—ইব্রীয় ৪:১২.
সম্মেলনের প্রথম দিনের শেষ বক্তৃতাটি ছিল “সমস্ত লোকের জন্য একটি পুস্তক।” এতে বাইবেলের প্রামাণিকতা, যথার্থতা ও ব্যবহারিক মূল্য তুলে ধরা হয়েছিল। বক্তার, সমস্ত লোকের জন্য একটি পুস্তক (ইংরাজি) নামক ৩২-পৃষ্ঠার একটি নতুন ব্রোশার প্রকাশের ঘোষণাটি শোনা কতই না রোমাঞ্চকর ছিল! এই নতুন ব্রোশারটি বিশেষভাবে সেই লোকেদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যারা হয়ত শিক্ষিত কিন্তু বাইবেল সম্বন্ধে অল্পই জানেন। বক্তৃতাটি এই কথাগুলি দিয়ে শেষ হয়েছিল: “লোকেদের ব্যক্তিগতভাবে ঈশ্বরের বাক্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আমরা নিশ্চিত যে যদি তারা সরাসরি পরীক্ষা করেন তাহলে তারা উপলব্ধি করতে পারবেন যে এই অদ্বিতীয় পুস্তক, বাইবেল প্রকৃতপক্ষেই সমস্ত লোকের জন্য একটি পুস্তক!”
“বিশ্বাসের . . . সিদ্ধিকর্ত্তা”-কে অনুকরণ করুন
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের এই বিষয়বস্তুটি “বিশ্বাসের . . . সিদ্ধিকর্ত্তা” যীশু খ্রীষ্টের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করিয়েছিল। আমাদের ‘তাঁর পদচিহ্নের অনুগমন করা’ প্রয়োজন। (ইব্রীয় ১২:২; ১ পিতর ২:২১) খ্রীষ্টীয় জগতের অনেকে বলে থাকেন: ‘প্রভু যীশুকে বিশ্বাস করলেই আপনি রক্ষা পাবেন!’ কিন্তু বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে এটিই কি সব? বাইবেল ঘোষণা করে যে ‘কর্ম্মবিহীন বিশ্বাস মৃত।’ (যাকোব ২:২৬) অতএব, যীশুকে বিশ্বাস করার পাশাপাশি আমাদের অবশ্যই তিনি যা করেছিলেন তা করতে হবে, বিশেষভাবে ঈশ্বরের রাজ্যের সুসমাচার প্রচার।
সকালের কার্যক্রম সুসমাচার প্রচার কাজের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছিল। পৌলের মত আমাদের পরিত্রাণের সুসমাচার ঘোষণা করতে আকুল আকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত। (রোমীয় ১:১৪-১৬) যীশু সর্বত্র লোকেদের কাছে প্রচার করেছিলেন। যদিও আমাদের নিয়মিত গৃহ থেকে গৃহে পরিচর্যা ফল উৎপন্ন করে, তবুও আরও অনেক লোক রয়েছেন যাদের আমরা আমাদের সাক্ষাৎ করার সময় ঘরে পাই না। (প্রেরিত ২০:২০) কারণ অনেকে বিদ্যালয়ে, কাজে, কেনাকাটায় কিংবা যাত্রাপথে থাকেন। সুতরাং, আমাদের জনসাধারণের স্থানগুলিতে ও যেখানেই লোকেদের পাওয়া যায় সেখানেই প্রচার করা প্রয়োজন।
“সত্যে বদ্ধমূল এবং দৃঢ়ীভূত হোন” এই বক্তৃতাটি আমাদের বিরাট সংখ্যক নতুন শিষ্যদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল যারা বাপ্তিস্মিত হচ্ছেন—প্রতি দিন গড়ে ১০০০ জনেরও বেশি! এটি গুরুত্বপূর্ণ যে এই নতুন ব্যক্তিরা বিশ্বাসে বদ্ধমূল ও সুদৃঢ়ীভূত হবেন। (কলসীয় ২:৬, ৭) বক্তা ব্যাখ্যা করেছিলেন যে আক্ষরিক মূল যথারীতি জল শোষণ ও খাদ্য সঞ্চয় করার সাথে সাথে উদ্ভিদকে অবলম্বন বা সহয়তাও প্রদান করে থাকে। অনুরূপভাবে, উত্তম অধ্যয়নের অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর মেলামেশার মাধ্যমে নতুন শিষ্যেরা সত্যে বদ্ধমূল হতে পারেন।
এই পরামর্শটি বাপ্তিস্ম প্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত ছিল। হ্যাঁ, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বৃহৎ সংখ্যক নতুন শিষ্যেরা যীশুর উদাহরণ অনুসরণ করে বাপ্তাইজিত হয়েছিলেন। “ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস বাপ্তিস্মে পরিচালিত করে” এই বক্তৃতাটি প্রার্থীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল যে জলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হওয়া তাদের পূর্বতন স্বার্থান্বেষী জীবনধারার মৃত্যুর এক উপযুক্ত প্রতীক। জল থেকে ওঠা ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করার জন্য তাদের সজীবতাকে চিত্রিত করে।
“বিশ্বাসের জন্য প্রাণপণ লড়াই করুন,” বক্তৃতাটি বাইবেলের যিহূদা পুস্তকের উপর ভিত্তি করে হয়েছিল। ক্ষতিকর প্রভাবগুলি যেমন নীতিহীনতা, বিদ্রোহ ও ধর্মভ্রষ্টতা প্রতিহত করার দ্বারা আমাদের বিশ্বাসকে সুরক্ষিত করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল। এরপর, “আপনার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তু সরবরাহ করুন,” এই বক্তৃতায় পিতামাতা, বিশেষভাবে পিতারা—বিশেষ মনোযোগ লাভ করেছিলেন। পরিবারের আধ্যাত্মিক, শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনীয়তাগুলি সরবরাহ করা শাস্ত্রসংগত বাধ্যবাধকতা। (১ তীমথিয় ৫:৮) এরজন্য সময়, ভাববিনিময় ও ঘনিষ্ঠতার প্রয়োজন। খ্রীষ্টীয় পিতামাতারা তাদের সন্তানদের সত্যে বড় করে তুলতে যে সমস্ত কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন তাতে যিহোবা ঈশ্বর অবশ্যই আনন্দিত হন।
“আসুন আমরা যিহোবার গৃহে যাই” পরবর্তী সিম্পোজিয়ামটি খ্রীষ্টীয় সভাগুলির জন্য উপলব্ধিবোধ গড়ে তুলেছিল। সেইগুলি এই জগতের উদ্বিগ্নতা থেকে অব্যাহতি দেয়। সভাগুলিতে আমাদের পারস্পরিক উৎসাহ বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে ও আমরা সহবিশ্বাসীদের প্রতি আমাদের প্রেম প্রদর্শন করতে পারি। (ইব্রীয় ১০:২৪, ২৫) এছাড়াও সভাগুলি শিক্ষক হিসাবে আমাদের দক্ষতাকে তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে ও সেইগুলি ঈশ্বরের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আমাদের বোধগম্যতাকে গভীরতর করে। (হিতোপদেশ ২৭:১৭) আমরা যেন কখনও মণ্ডলী থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন না করি আর আসুন আমরা যীশুর কথাগুলি স্মরণ করি: “যেখানে দুই কি তিন জন আমার নামে একত্র হয়, সেইখানে আমি তাহাদের মধ্যে আছি।”—মথি ১৮:২০.
দিনের শেষ বক্তৃতাটি ছিল “আপনার বিশ্বাসের গুণগত মান—এখন পরীক্ষিত।” যে বিশ্বাস অপরীক্ষিত তার কোন প্রামাণিক মূল্য নেই আর এর গুণগত মান অজ্ঞাত থাকে। এটি একটি চেকের মত যা এখনও ভাঙ্গান হয়নি। এটির মূল্য কি প্রকৃতই ততখানি যা এর উপর লিখিত আছে? অনুরূপভাবে, এর যে সত্তা ও গুণগত মান রয়েছে তা প্রমাণ করার জন্য আমাদের বিশ্বাসকে অবশ্যই পরীক্ষিত হতে হবে। (১ পিতর ১:৬, ৭) বক্তা বলেছিলেন: “কখনও কখনও সংবাদ মাধ্যম আর সেই সাথে কর্তৃপক্ষেরা আমাদের উপর মিথ্যা দোষারোপ এবং আমাদের খ্রীষ্টীয় বিশ্বাস ও জীবনধারা ভুলভাবে উপস্থাপিত করার ক্ষেত্রে পাদ্রিবর্গ ও ধর্মভ্রষ্টদের দ্বারা প্রতারিত হন। . . . আমরা কি শয়তানের দ্বারা অন্ধ সেই ব্যক্তিদের, আমাদের ভীরু ও নিরুৎসাহিত করতে এবং সুসমাচার সম্বন্ধে লজ্জিত বোধ করাতে অনুমোদন করব? আমরা কি সত্য সম্বন্ধীয় মিথ্যাগুলিকে আমাদের নিয়মিত সভায় উপস্থিতি ও প্রচার কর্মতৎপরতাকে প্রভাবিত করতে দেব? অথবা যিহোবা ও তাঁর রাজ্য সম্বন্ধীয় সত্যটি ক্রমাগত ঘোষণা করে চলার জন্য আমরা যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি অটল ও সাহসী এবং আরও দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হব?”
বিশ্বাস হেতু জীবনযাপন করুন
তৃতীয় দিনের সম্মেলনের বিষয়বস্তু পৌলের বাক্যগুলির ওপর ভিত্তি করে ছিল: “ব্যবস্থার দ্বারা কেহই ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্ম্মিক গণিত হয় না, ইহা সুস্পষ্ট, কারণ ‘ধাম্মিক ব্যক্তি বিশ্বাস হেতু বাঁচিবে।’” (গালাতীয় ৩:১১) “আমাদের দিনের জন্য যোয়েলের ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাক্যগুলি,” সিম্পোজিয়ামটি সকালের মূল বিষয়বস্তুগুলির মধ্যে একটি ছিল। যোয়েলের পুস্তকটি আমাদের সময়ের প্রতি নির্দেশ করে ও তৎপরতার মনোভাব সহকারে বলে: “হায় হায়, কেমন দিন! সদাপ্রভুর [“যিহোবার,” “NW”] দিন ত সন্নিকট; উহা সর্ব্বশক্তিমানের নিকট হইতে প্রলয়ের ন্যায় আসিতেছে!” (যোয়েল ১:১৫) সেই অদম্য পঙ্গপালদের ন্যায়, অভিষিক্ত খ্রীষ্টানেরা এই শেষের সময়ে কোন কিছুকেই বাধাস্বরূপ হতে দেননি যা তাদের রাজ্য ঘোষণা করা থেকে ব্যাহত করবে।
যোয়েলের পুস্তক এই বলে আশাও প্রদান করে: “যে কেহ সদাপ্রভুর [“যিহোবার,” NW] নামে ডাকিবে, সেই রক্ষা পাইবে।” (যোয়েল ২:৩২) এটি শুধু যিহোবার নাম ব্যবহার করার চেয়ে আরও বেশি কিছু বোঝায়। হৃদয় থেকে প্রকৃত অনুতাপের প্রয়োজন আর তা অন্যায় করা থেকে আমাদের ফিরে আসাকে অন্তর্ভুক্ত করে। (যোয়েল ২:১২, ১৩) বিলম্ব করার আর কোন সময় নেই কারণ যিহোবা শীঘ্রই জাতিগুলির উপর বিচার নিষ্পন্ন করবেন, যেমন তিনি মোয়াব, অম্মোন ও যিহূদার রাজা যিহোশাফটের দিনে সেয়ীর পর্ব্বতীয় লোকেদের উপর করেছিলেন।—২ বংশাবলি ২০:১-৩০; যোয়েল ৩:২, ১২.
“যিহোবার অপেক্ষা করার দ্বারা বিশ্বাস প্রদর্শন করুন,” এই বক্তৃতাটি দ্বারা সকলে উৎসাহিত হয়েছিলেন। এখন শেষের এই চরম সময়ে, আমরা যিহোবার অনেক প্রতিজ্ঞাগুলির পরিপূর্ণতার দিকে তাকাতে পারি আর আমরা সেই অন্যান্য বিষয়গুলি যা এখনও বাকি রয়েছে তার জন্য সাগ্রহে প্রতীক্ষা করে আছি। যিহোবার লোকেদের অবশ্যই ক্রমাগত ধৈর্য বজায় রাখতে হবে এটি স্মরণে রেখে যে ঈশ্বরের প্রতিজ্ঞাত সমস্ত কিছুই সম্পন্ন হবে।—তীত ২:১৩; ২ পিতর ৩:৯, ১০.
“আপনার চোখ সরল রাখুন” নাটকটি দিয়ে সকালের কার্যক্রমের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল। এই বাস্তবধর্মী নাটকটি বস্তুগত লক্ষ্যের প্রতি আমাদের মনোভাবকে পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করেছিল। আমরা যে স্থানেই থাকি না কেন, যদি আমরা আমাদের জীবনকে উদ্বেগশূন্য করতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের চোখ সরল রাখার বিষয়ে যীশুর উপদেশের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে যা সুস্পষ্টভাবে ঈশ্বরের রাজ্যের উপর কেন্দ্রীভূত।—মথি ৬:২২.
জনসাধারণের বক্তৃতার সাড়া জাগানো শিরোনামটি ছিল “বিশ্বাস এবং আপনার ভবিষ্যৎ।” এটি জগতের সমস্যাগুলি সমাধানের ক্ষেত্রে মানব নেতাদের অক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছিল। (যিরমিয় ১০:২৩) মানবজাতির ইতিহাস স্বয়ং পুনরাবৃত্ত হয়ে চলেছে—এক বৃহৎ ও অধিক ক্ষতিকর মাত্রায়। ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে যিহোবার সক্ষীরা কেমন অনুভব করেন? আমরা বিশ্বাস করি যে ঈশ্বরের রাজ্যের অধীনে, বিশ্বস্ত মানবজাতির এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। (মথি ৫:৫) ঈশ্বর তাঁর প্রতিজ্ঞাগুলি তাদের সকলের উপকারের জন্য পরিপূর্ণ করবেন, যাদের তাঁর বাক্যে বিশ্বাস আছে যেটি আহ্বান জানায়: “সদাপ্রভুর অন্বেষণ কর, যাবৎ তাঁহাকে পাওয়া যায়, তাঁহাকে ডাক, যাবৎ তিনি নিকটে থাকেন।”—যিশাইয় ৫৫:৬.
যীশু আমাদের দিনের সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন: “মনুষ্যপুত্ত্র যখন আসিবেন, তখন কি পৃথিবীতে বিশ্বাস পাইবেন?” (লূক ১৮:৮) সর্বশেষ বক্তৃতাটি সম্মেলনের কার্যক্রম পুনরালোচনা করেছিল আর দেখিয়েছিল, কিভাবে এটি সন্দেহাতীত প্রমাণ প্রদান করে যে যদিও আমরা এক বিশ্বাসহীন ও অনাধ্যাত্মিক জগতে বাস করছি, ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস অস্তিত্বমান।
তৎসত্ত্বেও, আমরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে পারি, ‘আমি কি তাদের মাঝে আছি যাদের ঈশ্বর ও তাঁর বাক্যে অনড় বিশ্বাস রয়েছে?’ আমাদের এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দিতে, “ঈশ্বরের বাক্যে বিশ্বাস” জেলা সম্মেলন আমাদের সাহায্য করবে। আর তাঁর ও তাঁর অনুপ্রাণিত বাক্য, বাইবেলের প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য যিহোবার কাছে আমরা কতই না কৃতজ্ঞ!
[২৪ পৃষ্ঠার চিত্র]
হাজার হাজার প্রতিনিধির থাকার ব্যবস্থা করার জন্য অনেক স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রফুল্লভাবে কাজ করেছিলেন
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
বিশ্বের চতুর্দিকে এইটির মত বৃহৎ স্টেডিয়ামগুলি ব্যবহৃত হয়েছিল
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
পরিচালক গোষ্ঠীর এল. এ. সুইঙ্গেল নতুন ব্রোশারটি প্রকাশ করছেন
[২৬ পৃষ্ঠার চিত্র]
অনেকে যিহোবার কাছে তাদের উৎসর্গীকরণের প্রতীকস্বরূপ বাপ্তিস্মিত হয়েছিলেন
[২৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
সম্মেলনকারীরা আনন্দের সাথে রাজ্যের গানগুলি গেয়েছিলেন। ভিতরে: নাটকটি ‘আপনার চোখ সরল রাখুন’