‘গভীর জল’ টেনে তোলা
বাইবেলের একটি প্রবাদবাক্য বলে: “মনুষ্যের হৃদয়ের পরামর্শ গভীর জলের ন্যায়; কিন্তু বুদ্ধিমান তাহা তুলিয়া আনিবে।” (হিতোপদেশ ২০:৫) আজকে বহু দেশে যেমন দেখা যায় তার চাইতে বাইবেলের সময়ে, জল তোলা খুবই পরিশ্রমসাধ্য কাজ ছিল। যখন যীশু শমরীয় নারীর সাথে কথা বলেছিলেন, তখন সে যাকোবের ঝরনা, এমন একটি কূয়ো যা প্রায় ২৩ মিটার গভীর ছিল সেখান থেকে জল টেনে তুলছিল।—যোহন ৪:৫-১৫.
হিতোপদেশ ২০:৫ পদ যেমন ইঙ্গিত করে, একজন ব্যক্তির হৃদয়ে পোষিত গভীর চিন্তা এবং অনুভূতিগুলিকে টেনে বের করে আনার জন্য যে বিচক্ষণতার প্রয়োজন তা অনেকাংশে একটি কূয়ো থেকে জল তুলে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার তুল্য। এটি জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্য বলে প্রতিপন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, খুব সম্ভবত আপনি সেই ব্যক্তিবিশেষদের জানেন যারা বহু বছর ধরে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার এক প্রাচুর্য সঞ্চয় করেছেন। এই ব্যক্তিবিশেষেরা যদি অপ্রার্থিত উপদেশ স্বেচ্ছায় প্রদান করতে প্রবৃত্ত না হন, তাহলে আপনার হয়ত সেগুলি বের করে আনার প্রয়োজন। আগ্রহ দেখানো, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা এবং কৌশলে পরীক্ষা করার দ্বারা ঠিক যেন আপনি প্রজ্ঞার গভীর কূয়োর মধ্যে আপনার বালতি নিমজ্জিত করবেন।
হিতোপদেশ ২০:৫ পদের উপদেশটি পরিবারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রায়ই, স্ত্রীদের বলতে শোনা যায়: “আমার স্বামী তার অনুভূতি সম্বন্ধে আমাকে বলে না!” একজন স্বামী হয়ত বলতে পারে: “আমার স্ত্রী আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়!” এইধরনের পরিস্থিতিগুলিতে, একজন স্বামী বা স্ত্রীর হৃদয়ের গভীর চিন্তাধারাকে বের করে আনার জন্য বিচক্ষণতা প্রয়োজনীয়। এইধরনের কৌশলী প্রশ্নগুলি (আজকের দিনটা কি তুমি খুব ঝামেলার মধ্যে কাটিয়েছ? তোমার কী হয়েছে? আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি?) প্রায়ই প্রাণ খোলা ভাববিনিময়ের পথ খুলে দিতে পারে। এইধরনের বিচক্ষণতা দেখানো বিবাহ বন্ধনকে শক্তিশালী করবে, যা স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের জন্যই উপকারজনক।