তাহিতিতে—পরমদেশ সম্বন্ধীয় সুসমাচার
তাহিতি! মনে হয় যেন নামটিই এক অদ্ভুত মুগ্ধতা বহন করে। এটি পল গোঁগা, রবার্ট লুইস স্টিভেনসন এবং হার্ম্যান মেলভিলের মত চিত্রকর ও লেখকদের দ্বারা বিখ্যাত হয়েছিল, ক্রান্তীয় সৌন্দর্য ও দক্ষিণ সমুদ্র দ্বীপগুলির প্রশান্তি সম্বন্ধে যাদের চিত্রাঙ্কন ও লেখনী অনেকের হৃদয় জয় করেছিল।
তাহিতি, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ফ্রেঞ্চ পোলিনেসিয়ার ১২০টিরও বেশি দ্বীপগুলির মধ্যে বৃহত্তম দ্বীপ। যদিও অধিকাংশ লোকেদের মনে এই দক্ষিণ সাগরীয় দ্বীপটি পরমদেশের সমার্থক, তবুও তাহিতির লোকেদের অন্য এক পরমদেশ যেটি শীঘ্রই আসবে সে সম্বন্ধে শোনার প্রয়োজন। (লূক ২৩:৪৩) আজকে তাহিতিতে সর্বমোট ১,৯১৮ জন যিহোবার সাক্ষী এখানকার ২,২০,০০০ জন লোকেদের এই সুসমাচার সম্বন্ধে জানাতে ব্যস্ত যে ঈশ্বরের রাজ্য শীঘ্রই, কেবলমাত্র তাহিতিতেই নয় কিন্তু সম্পূর্ণ পৃথিবীতে এক প্রকৃত পরমদেশীয় অবস্থা নিয়ে আসবে।—মথি ২৪:১৪; প্রকাশিত বাক্য ২১:৩, ৪.
অনেক বছর ধরে তাহিতিতে প্রচার কাজ, প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির ফিজি শাখা দপ্তর দ্বারা পরিচালিত হত। এই বিশাল দূরত্ব বিষয়গুলিকে কঠিন করে তুলেছিল আর তাই অগ্রগতি ছিল মন্থর। তাই, ১৯৭৫ সালের ১লা এপ্রিল তাহিতিতে একটি শাখা দপ্তর স্থাপিত হয়েছিল আর সেটি ওই অঞ্চলের সত্য খ্রীষ্টানদের কার্যকলাপের ক্ষেত্রে একটি সন্ধিক্ষণ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল। কিভাবে এই বিকাশ সম্ভব হয়েছিল আর কিভাবে তাহিতিতে প্রচার কাজ শুরু হয়েছিল?
এক ক্ষুদ্র আরম্ভ
তাহিতিতে প্রথম রাজ্যের সুসমাচার শোনা গিয়েছিল ১৯৩০ এর দশকে আর অনেক দ্বীপবাসী যাদের বাইবেলের প্রতি বেশ কিছু শ্রদ্ধা ছিল, অত্যন্ত আগ্রহের সাথে সাড়া দিয়েছিল। কিন্তু, সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে ১৯৫০ এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত এই দ্বীপে কোন সাক্ষী ছিল না। সেই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অ্যানেস সেন্ক নামক তাহিতির এক মূল অধিবাসী তার স্বামী ও পুত্রের সাথে তাহিতিতে ফিরে আসা মনস্থ করেন। এই সমস্ত কিছু কিভাবে ঘটেছিল তিনি তা বর্ণনা করেন।
“লস এঞ্জেলসের জেলা অধিবেশনে ভাই নর [ওয়াচ টাওয়ার সোসাইটির তৎকালীন সভাপতি] বর্ণনা করেছিলেন যে তাহিতিতে রাজ্য প্রচারকদের এক বৃহৎ প্রয়োজন আছে। আমি তার এক বছর আগে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলাম আর আমি বিস্ময়ে বলে উঠেছিলাম ‘চল আমরা তাহিতিতে যাই!’ নীল পরিবার ও কারানো পরিবার যারা আমাদের খুব ভাল বন্ধু ছিল, আমাদের কথা শুনতে পেয়েছিল। তারা আমাদের বলেছিল যে তারা আমাদের সাথে আসতে চায় কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন আর আমার পুত্র খুবই ছোট ছিল। সুতরাং আমাদের জন্য ঘর ছাড়া কঠিন ছিল। প্রতিবেশী মণ্ডলীগুলির বন্ধুরা আমাদের লক্ষ্য সম্বন্ধে শুনেছিল আর তারা আমাদের অর্থ ও গৃহস্থালীর জিনিসপত্র পাঠিয়েছিল। আর তারপর ১৯৫৮ সালের মে মাসে আমরা তাহিতির উদ্দেশ্যে জাহাজে করে যাত্রা করি, আমাদের সঙ্গে অন্যান্য জিনিসের সাথে ৩৬টি বিছানার চাদর ছিল!
“যখন আমরা তাহিতিতে পৌঁছাই, আমি সম্পূর্ণভাবে এক অপরিচিতের মত অনুভব করি, কারণ কুড়ি বছর আমি এই দ্বীপে ছিলাম না। আমরা প্রচার কাজ শুরু করি কিন্তু আমাদের সতর্ক থাকতে হত কারণ আমাদের খ্রীষ্টীয় কাজের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমাদের পত্রিকাগুলিকে লুকিয়ে রাখতে হত আর আমরা কেবলমাত্র বাইবেল ব্যবহার করতাম। প্রথমে আমরা কেবলমাত্র সেই সমস্ত লোকেদের কাছে সাক্ষ্য দিতাম যারা ইতিমধ্যেই প্রহরীদুর্গ ও সচেতন থাক! পত্রিকার গ্রাহক ছিল।
“ক্লাইড নীল ও ডেভিড কারানো তাদের পরিবারসহ ১৯৫৮ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিল। আমরা একসাথে প্রচার করতাম ও লোকেদের ভাইদের ঘরে অনুষ্ঠিত বক্তৃতাগুলি শোনার জন্য আমন্ত্রণ জানাতাম। একটু একটু করে বিষয়গুলি সংগঠিত হতে শুরু করে আর আমরা ১৫ জন লোকেদের নিয়ে একটি বাইবেল অধ্যয়ন দল শুরু করি। তিন মাস পরে নীল ও কারানো পরিবারকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল কারণ তাদের পর্যটক ভিসা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই ভাইরা স্থির করেছিলেন যে তাদের চলে যাওয়ার আগে সমস্ত যোগ্য আগ্রহী ব্যক্তিদের তারা বাপ্তিস্ম দেবেন। প্রথম বাপ্তিস্ম বক্তৃতার অনুবাদক হওয়ার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম। এই অনুষ্ঠানে আটজন স্বদেশী দ্বীপবাসী যিহোবার কাছে তাদের উৎসর্গীকরণকে বাপ্তিস্ম নেওয়ার দ্বারা চিত্রিত করেছিল। তারপর নীল ও কারানো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যায়।
“প্রচার কাজ চলতে থাকে। আমরা নিজেদের ছোট ছোট দলে সংগঠিত করি আর সন্ধ্যাবেলায় লোকেদের সাথে সাক্ষাৎ করি। প্রায়ই আগ্রহী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা মধ্যরাত পর্যন্ত স্থায়ী হত। কখনও কখনও এমনকি প্রটেস্ট্যান্ট পরিচারকেরা আলোচনায় যোগ দিতেন। ১৯৫৯ সালের মধ্যে প্রথম মণ্ডলীটি স্থাপিত হয়েছিল। তারপর, আমাদের জন্য মহান আনন্দের বিষয়টি ছিল যে ১৯৬০ সালে সরকার যিহোবার সাক্ষীদের সমাবেশকে আধিকারিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই প্রাথমিক বছরগুলি আনন্দ ও আধ্যাত্মিক শীর্ষতা দ্বারা পূর্ণ ছিল। যিহোবা প্রকৃতই যেখানে বৃহত্তর প্রয়োজন ছিল সেই স্থানে যাওয়ার জন্য আমাদের সিদ্ধান্তকে আশীর্বাদযুক্ত করেছিলেন।” এখন বোন সেন্ক ৮৭ বছর বয়স্কা আর এখনও তিনি তার মণ্ডলীতে বিশ্বস্তভাবে যিহোবার সেবা করে চলেছেন।
কাজ এগিয়ে চলে
১৯৬৯ সালে ফ্রান্স থেকে দুইজন সাক্ষী জ্যাক ও পোলেট ইনোডি তাহিতিতে বিশেষ অগ্রগামী হিসাবে কার্যভারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। জ্যাক স্মরণ করেন: “যখন আমরা তাহিতিতে পৌঁছাই সেখানে মাত্র ১২৪ জন প্রকাশক, পাপিটিতে একটি মণ্ডলী ও পেনিনসুলার ভাইরোতে মাত্র দুইজন বিশেষ অগ্রগামী ছিল।” পেনিনসুলা একটি যোজক দ্বারা তাহিতির সাথে যুক্ত। “পৃথিবীতে শান্তি” আন্তর্জাতিক অধিবেশনটি শীঘ্রই হওয়ার ছিল। “একটি সম্মেলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সেটিই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা,” জ্যাক আরও বলেন। “অভ্যাগতদের জন্য আমাদের একটি ইংরাজি অধিবেশনের পরিকল্পনা করতে হয়েছিল, রাজ্য গানগুলির জন্য যন্ত্রসংগীতের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল আর দুটি নাটকের জন্য মহড়া দিতে হয়েছিল। মাত্র ১২৬ জন প্রকাশকদের সাহায্যে এই সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। আমি নিশ্চিত যে এর বৃহত্তম অংশটি যিহোবা করেছিলেন।” দ্বীপবাসীদের জন্য ৪৮৮ জনের উপস্থিতি এক রোমাঞ্চকর বিষয় ছিল। তাদের অনেকের জন্য এটি ছিল প্রথমবার যখন তারা অন্য দেশের সহসাক্ষীদের সাথে মিলিত হয়েছিলেন।
এর অল্প কিছু পরেই, জ্যাক ইনোডি ভ্রমণ অধ্যক্ষ হিসাবে কার্যভারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। যখন তিনি বিভিন্ন দ্বীপগুলি পরিদর্শন করেছিলেন, তিনি দেখেছিলেন যে সেখানে প্রচুর আগ্রহ ছিল কিন্তু তা কর্ষণ করার জন্য খুব অল্পই রাজ্য প্রচারক ছিলেন। “সেই কারণে আমি অনেক পরিবারকে এই দ্বীপগুলিতে গিয়ে সেবা করার জন্য উৎসাহিত করেছিলাম, যেখানে বৃহত্তর প্রয়োজন ছিল,” জ্যাক ব্যাখ্যা করেন। “তাই একটু একটু করে সুসমাচার এই দ্বীপপুঞ্জবাসীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।” ভাই ইনোডি ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ভ্রমণ অধ্যক্ষ হিসাবে কাজ করেছিলেন আর আজকে তিনি তাহিতির একটি মণ্ডলীর প্রাচীন।
ভাই ইনোডির উৎসাহে যারা সাড়া দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অগস্ট টীমানাহ ছিলেন একজন যিনি ১৯৫৮ সালে বাপ্তিস্মিত আটজন ব্যক্তির মধ্যে একজন ছিলেন। কী ঘটেছিল সে সম্বন্ধে তিনি স্মরণ করেন। “১৯৭২ সালে সীমা অধ্যক্ষ জ্যাক ইনোডি আমাদের ওহিনিতে গিয়ে সেবা করার বিষয়টি বিবেচনা করতে উৎসাহিত করেছিলেন যেটি ছিল সোসাইটি দ্বীপসমূহের অন্তর্গত লীওয়ার্ড দ্বীপের একটি। আমি ইতস্ততবোধ করেছিলাম কারণ সেই সময় মণ্ডলীতে আমাকে কেবলমাত্র বাইবেল পাঠ করতে দেওয়া হত আর এইধরনের একটি গুরুদায়িত্ব গ্রহণের মত যোগ্যতা আমার আছে বলে আমি মনে করতাম না। তৎসত্ত্বেও, ভাই ইনোডি আমাকে বলতে থাকেন ‘কিছু চিন্তা করো না, তুমি এটি করতে পারবে!’ এর কিছু সময় পরে আমরা আমাদের মন প্রস্তুত করেছিলাম। তাই, ১৯৭৩ সালে আমরা আমাদের সমস্ত কিছু বিক্রি করেছিলাম ও আমাদের তিনটি অল্পবয়স্ক সন্তানসহ ওহিনিতে এসেছিলাম।
“আমাদের পৌঁছানোর পর আমি দেখি যে আমাকেই সবকিছু শুরু করতে হয়েছিল—প্রহরীদুর্গ অধ্যয়ন, ঐশিক পরিচর্যা বিদ্যালয় এবং আরও অন্যান্য বিষয়গুলি। এটি সহজ ছিল না কিন্তু আমরা যিহোবার সুরক্ষা ও সাহায্য অভিজ্ঞতা করেছিলাম। বিভিন্ন পরিস্থিতিগুলিতে তিনি আমাদের বসবাসের জন্য একটি স্থান খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিলেন। তারপর যখন বিরোধীদের একটি দল সাক্ষীদের দ্বীপ থেকে তাড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল একজন স্থানীয় রাজনীতিবিদ্ আমাদের সমর্থন করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সত্যই, যিহোবা সেই সময় আমাদের উপরে লক্ষ্য রেখেছিলেন।” ওহিনিতে এখন দুটি মণ্ডলী আছে—২৩ জন প্রকাশকসহ একটি ফ্রেঞ্চ মণ্ডলী ও ৫৫ জন প্রকাশকসহ একটি তাহিতীয় মণ্ডলী।
১৯৬৯ সালে অ্যালেন মাপু পেনিনসুলায় কাজ করার জন্য বিশেষ অগ্রগামী হিসাবে কার্যভারপ্রাপ্ত হন। “পেনিনসুলায় বৃহৎ পরিমাণ আগ্রহ ছিল আর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি অনেক বাইবেল অধ্যয়ন শুরু করেছিলাম,” অ্যালেন বলেন। ভাইরোতে শীঘ্রই একটি ছোট মণ্ডলী স্থাপিত হয়েছিল কিন্তু সেখানে প্রাচীনের প্রয়োজন ছিল। কালক্রমে, কলসন ডেন সাহায্য প্রদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন যিনি সেই সময়ে পাপারা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাস করতেন। “ভাইরোতে সেবা করার জন্য আমাদের উত্তমভাবে সংগঠিত হতে হয়েছিল,” ভাই ডেন স্মরণ করেন। “আমি ফা শহরে যেটি ভাইরো থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে, দ্বীপের অন্য প্রান্তে অবস্থিত ছিল সেখানে কাজ করতাম। কাজের পরে আমাকে তাড়াহুড়ো করে ঘরে ফিরতে হত, পরিবারকে সাথে নিতে হত আর তারপর ভাইরোতে যেতে হত। পরে আমার কাজের কারণে আমাদের ফা শহরে যেতে হয়েছিল। আমরা কি এখনও ভাইরো মণ্ডলীকে সমর্থন করে চলতে পারব? আমরা প্রকৃতই সেখানকার ভাইদের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম তাই আমরা এটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সভার রাতগুলিতে খুব কমই আমরা মধ্যরাতের আগে ঘরে পৌঁছাতাম কারণ যাদের গাড়ি ছিল না তাদের ঘরে পৌঁছানোর জন্য আমাদের বেশ কয়েকবার যাতাযাত করতে হত। আমরা পাঁচ বছর ধরে এটি করেছিলাম। দ্বীপের এই অংশে চারটি মণ্ডলী দেখা এখন কতই না আনন্দের বিষয় আর ওই দিনগুলি সম্বন্ধে মধুর স্মৃতি আমাদের আছে।”
তাহিতি এক শাখায় পরিণত হয়
১৯৭৪ সালের মধ্যে তাহিতিতে রাজ্য প্রকাশকের সংখ্যা ১৯৯তে বৃদ্ধি পেয়েছিল। পরের বছর যখন এন. এইচ. নর ও এফ. ডব্লু. ফ্রানজ্ ওয়াচটাওয়ার সোসাইটির তৎকালীন সভাপতি ও সহ সভাপতি ফ্রেঞ্চ পোলিনেসিয়া পরিদর্শনে আসেন তারা দেখেছিলেন যে ফ্রেঞ্চ পোলিনেসিয়ায় প্রচার কাজ ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফিজি থেকে পরিচালনা করার চেয়ে, তাহিতি থেকে তা করা আরও বেশি ব্যবহারিক হবে। তাই ১৯৭৫ সালের ১লা এপ্রিল, তাহিতি শাখা স্থাপিত হয় এবং সীমা অধ্যক্ষ অ্যালেন জেমেট শাখা অধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত হন।
বেশ কিছু বছর আগে ভাই জেমেট যিহোবার কাছ থেকে পাওয়া অপূর্ব আশীর্বাদগুলির বিষয় স্মরণ করতে পেরেছিলেন। “১৯৭৫ সাল থেকে আমাদের এলাকার সমস্ত দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জগুলিতে সুসমাচার নিয়ে যাওয়ার জন্য এক বৃহৎ প্রচেষ্টা করা হয়েছে যেটি পশ্চিম ইউরোপের মত একটি বৃহৎ এলাকার সমান। পরিণাম আনন্দদায়ক হয়েছে। ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রকাশকদের সংখ্যা ৫৩৮ জনে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই বছর শাখা দপ্তর ও বেথেল গৃহের জন্য পাইয়াতে এক অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন সোসাইটি দ্বীপগুলির ৩০টি বিভিন্ন মণ্ডলীতে প্রায় ১,৯০০ জন প্রকাশক আছেন, ওসট্রেল দ্বীপে একটি মণ্ডলী ও একটি বিচ্ছিন্ন দল, মারকুইসাসে একটি মণ্ডলী ও দুটি বিচ্ছিন্ন দল আর টুয়ামোটু ও জামবিয়ার দ্বীপগুলিতে বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন দলগুলি ছড়িয়ে রয়েছে। সভাগুলিতে আগত চিরবর্ধিত সংখ্যক নতুন ব্যক্তিদের প্রতি যত্ন নেওয়ার জন্য—অনেক নতুন রাজ্য গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে—মারকুইসাসে তিনটি ও তাহিতিতে সাতটি। গত ২০ বছরে তাহিতীয় ক্ষেত্রকে কর্ষণ করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে যিহোবা সত্যিই আশীর্বাদযুক্ত করেছেন।”
এখনও অনেক কিছু করার আছে
ফ্রেঞ্চ পোলিনেসিয়ায় বৃদ্ধির সম্ভাবনা চমৎকার। ১৯৯৭ সালের ২৩শে মার্চ, যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যুর স্মরণার্থক উদ্যাপনে সমগ্র ফ্রেঞ্চ পোলিনেসিয়ার প্রায় ৫,৩৭৬ জন ব্যক্তি যিহোবার সাক্ষীদের সাথে একত্রিত হয়েছিল। এই আগ্রহী ব্যক্তিদের আধ্যাত্মিক চাহিদা পূরণ করার জন্য আমাদের বাইবেল প্রকাশনাদি বেশ কিছু স্থানীয় ভাষাগুলিতে প্রাপ্তিসাধ্য করা হয়েছে। তাহিতীয় ভাষায় ছাড়াও পুয়ামোটু ভাষায় প্রকাশনা প্রস্তুত করা হয়েছে যেটি টুয়ামোটু দ্বীপপুঞ্জগুলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ মারকুসীয়ের কথ্য ভাষা।
অদম্য বৃদ্ধি ও উত্তম অভিজ্ঞতাগুলি তাহিতির রাজ্য প্রকাশকদের আরও অধিকভাবে যিহোবার প্রেম ও ধৈর্যকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে যে “তাঁহার ইচ্ছা এই, যেন সমুদয় মনুষ্য পরিত্রাণ পায়, ও সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্য্যন্ত পঁহুছিতে পারে,” এমনকি দক্ষিণ সমুদ্রের বহূ দূরবর্তী দ্বীপগুলিতেও। (১ তীমথিয় ২:৪) তাহিতি ও ফ্রেঞ্চ পোলিনেসিয়ার অন্যান্য দ্বীপগুলির যিহোবার সাক্ষীরা যিহোবার এই প্রতিজ্ঞার উপর পূর্ণরূপে বিশ্বাসী: “উপকূল সকল আমারই অপেক্ষায় থাকিবে, ও আমার বাহুতে প্রত্যাশা রাখিবে।”—যিশাইয় ৫:১৫.
[২৬ পৃষ্ঠার মানচিত্র]
তাহিতি শাখা ফ্রেঞ্চ পোলিনেসিয়ার চাহিদার প্রতি যত্ন নেয়
অস্ট্রেলিয়া
[২৫ পৃষ্ঠার চিত্র]
বাম থেকে ডান দিকে: ভাই অ্যালেন জেমেট, বোন মেরী-অ্যান জেমেট, বোন অ্যানেস সেন্ক, পোলেট ইনোডি এবং জ্যাক ইনোডি
[২৭ পৃষ্ঠার চিত্র]
তাহিতি শাখা দপ্তর